বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও বীমা খাত একই সূত্রে গাঁথা



ফরিদুন্নাহার লাইলী
-লেখক

-লেখক

  • Font increase
  • Font Decrease

যুদ্ধ বিধস্ত দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে আর্থিক খাতের প্রায় প্রতিটি সেক্টরে অভাবনীয় মহাযজ্ঞ শুরু করেন। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও বীমা খাতের অবদান রয়েছে। বীমা পেশার সুবাদে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের যে কাজ করে গেছেন তা সত্যিই অকল্পনীয়৷ প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার কারণে তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন একটি দেশের বীমা খাত যতো শক্তিশালী সে দেশের অর্থনীতিও ততো বেশি শক্তিশালী৷ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ভঙ্গুর অর্থনীতি বুভুক্ষমানুষের হাহাকার এবং ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশ পুর্নগঠনের পাশাপাশি তিনি বীমা শিল্পেও মনোযোগ দেন।

পাকিস্তান আমলের অর্থনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একটা সত্য স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, পাকিস্তান সরকার বেসরকারি খাতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি বলে বিবেচনা করত। পূর্ববাংলার বেলায় এই কথাটি ছিলো আরও বেশি প্রযোজ্য৷ বাস্তবতা উপলব্ধি করে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সা‌লের ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপ‌তির আদেশ নং(৯৫) অনুযায়ী দে‌শের বীমা প্রতিষ্ঠা‌নগুলো‌কে জাতীয়করণ করেন৷ এর মাধ্যমে বীমা পেশার সকল কর্মচারীকে সরকারি চাকরির আওতায় আনা হয়৷ এই আদেশে দে‌শের ৭৫টি বীমা প্রতিষ্ঠানকে প্রথ‌মে ৫টি সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অতপর ১৯৭৩ সা‌লের ১৪ মে বীমা ক‌র্পো‌রেশন অধ‌্যা‌দেশ ১৯৭৩ (Insurance Corporation Ordinance 1973) মাধ্যমে উক্ত পাঁচ‌টি বীমা সংস্থা‌কে দু‌টি সংস্থার অধী‌নে আনা হয়। এক‌টি হ‌লো জীবন বীমা কর্পো‌রেশন এবং অন্যটি হ‌লো সাধারণ বীমা ক‌র্পোরেশন।

বঙ্গবন্ধু রাজনীতির পাশাপাশি জীবিকার জন্য বীমা পেশা বেছে নিয়েছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে কেন বঙ্গবন্ধু বীমা পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন? ১৯৫৯ সা‌লের ৭ আগস্ট প্রেসি‌ডেন্ট আইয়ুব খান (EBDO) জা‌রি ক‌রে রাজনী‌তি নিষিদ্ধ ক‌রেছিলো। সেই সময় ১৯৫৯ সা‌লের ৭ ডি‌সেম্বর বঙ্গবন্ধু জা‌মি‌নে মু‌ক্তি পান৷ শর্ত আরোপ করা হয় যে ঢাকার বাইরে গে‌লে তিনি স্থানীয় পু‌লিশ‌কে অব‌হিত কর‌বেন। মার্শাল ‘ল এ‌ড়ি‌য়ে রাজনৈ‌তিক কর্মকাণ্ড চা‌লি‌য়ে যাবার পথ খুঁজ‌তে থাকেন তিনি। অব‌শে‌ষে ১৯৬০ সালের ১মার্চ তৎকালীন আলফা ইনস্যুরেন্সের বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি কৌশলগতভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির চাকা সচল রাখার স্বার্থে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সাথে বেছে নিয়েছিলেন বীমা পেশাকে। এই পেশার কার্যক্রম সংগঠন ভিত্তিক হওয়ার কারণে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। বীমা কোম্পানীর কাজের পাশাপাশি জনগনের অধিকার আদায় ও তাদেরকে সংঘবদ্ধ করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন তিনি। বিভিন্ন অঞ্চলে কোম্পানির কাজের জন্য ভ্রমনের আড়ালে তিনি নিরবে নিভৃতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে সংহত ও বেগবান করে তোলেন৷ এর মাধ্যমে তিনি মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে মানুষকে সংগঠিত করেন এবং স্বাধীনতার চেতনাকে ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে জাগরুক করারও একটা সুযোগ পান। জাতীয় বীমা দিবস-২০২৩ উদ্বোধনকালে দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা আলফা ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে বসেই ছয় দফা প্রণয়ন করেছিলেন। পুরো বিষয়টা টাইপ করেছিলেন মোহাম্মদ হানিফ (ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র)। পরে এটা একজন বিজ্ঞজন, তৎকালিন ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপাল জালালু্িদ্দন সাহেবকে দিয়ে অনুবাদ করানো হয়। আমাদের যে স্বাধীনতা অর্জন বা ছয় দফা প্রণয়ন, ছয় দফার ভিত্তিতে ৭০ এর নির্বাচন-সবই কিন্তু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে বসেই করা হয়। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে ইন্স্যুরেন্সের একটা যোগসূত্র রয়ে গেছে, এটাই বাস্তবতা। (ইনকিলাব ৩ মার্চ, ২০২৩)

বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ার কারনে তিনি যে শুধু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনই করে গেছেন তা নয়। সেবাধর্মী এই পেশার মাধ্যমে মানুষকে সঞ্চয়মুখী করার প্রয়াসে পুজি সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার ব্যাপারেও অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন। নিজ দলীয় নেতা কর্মীদেরও এই বীমা পেশার সাথে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থনের সুব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়াও তৎকালীন সময়কার বীমা ব্যক্তিত্ব খোদা বকশ, গোলাম মাওলা, গাজী গোলাম মোস্তফা, সামছুল আলম, নুরুল ইসলাম প্রমূখ ব্যক্তিবর্গসহ বীমা শিল্পের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে ছিল তার গভীর সম্পর্ক। তাই জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর আহবানে বীমা শিল্পের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সবার আগে ঝাপিয়ে পড়তেন। এভাবেই বীমাকে তিনি রাজনীতি ও আন্দোলন সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। এই কথা দৃঢ় ভাবে বলা যায় বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের বীমা খাত একই সূত্রে গাঁথা হয়ে আছে৷

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বীমা খাতের উন্নয়নে দেশরত্ন শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সরকার গঠনের পর থেকে বীমা ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘বীমা আইন-২০১০’ এবং ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন-২০১০’ প্রণয়ন করেন। এর আওতায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। এই সংস্থার মাধ্যমে বীমা শি‌ল্পের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যা ধা‌পে ধা‌পে বাস্তবা‌য়িত হচ্ছে৷ সরকার ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অ্যাক্ট-১৯৭৩ রহিত করে বীমা কর্পোরেশন আইন-২০১৯ এবং জাতীয় বীমা নীতি-২০১৪ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি বীমা খাতে ‘একচুয়ারি’ নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বীমা পেশা৷ ১মার্চ ১৯৬০ সালে তার বীমা পেশায় যোগদানের তারিখ৷ দিনটিকে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য দেশরত্ন শেখ হাসিনা ১লা মার্চকে জাতীয়-বীমা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন৷ যা বীমা শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। এটা আমাদের বীমা খাতের সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য গর্বের। কেননা এই দিনে বঙ্গবন্ধু রাজনীতির পাশাপাশি বীমা শিল্পে পেশাজীবনে জড়িত হয়েছিলেন। সুতরাং সংশ্লিষ্টরা বীমা খাতের সুশাসনের জন্য এই গভীর আবেগকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগুতে পারবে সহজেই। এজন্য আমরা গর্বিত, আমাদের কাছে বঙ্গবন্ধু বড় অনুপ্রেরণা। যত দিন স্বাধীন দে‌শে লাল সবু‌জের পতাকা থাক‌বে তত দিন বাংলার মানু‌ষের অন্ত‌রে বেঁচে থাক‌বে জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান ও তার বীমার কর্মকাণ্ডের উজ্জল স্মৃ‌তি।

লেখক: কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

   

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভরিতে ২ হাজার ৬৫ টাকা বাড়িয়ে একভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৮ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

;

শসা চাষিদের পাশে ‘স্বপ্ন’



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রমজানের মধ্যে শসার বাজার চড়া দাম থাকলেও বর্তমানে শসা চাষিরা শসার দাম নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন। তবে এমন দুঃসময়ে শসা চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের সেরা রিটেইল চেইন সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ ।

সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয় যে, ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার শসা চাষিরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৪ টাকায়। ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। এমন সময় সেই শসা চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ন্যায্যমূল্যে শসা কিনেন ‘স্বপ্ন’ কর্তৃপক্ষ। সেই শসা এখন খোলা বাজারের চেয়ে কম দামে স্বপ্ন আউটলেটে পাওয়া যাচ্ছে ।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) খোলা বাজারে ৪০ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি করতে দেখা গেলেও স্বপ্ন আউটলেটে তা ১২টাকা কেজিতে অর্থাৎ সাশ্রয়ী মূল্যে খোলা বাজারের চেয়ে কম দামে গ্রাহকরা কিনতে পারছেন ।

এরইমধ্যে দিনাজপুরের খানসামার ওই এলাকা থেকে ২ টন এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকা থেকে ৬ টন শসা কিনেছে স্বপ্ন প্রতিনিধি।

বর্তমানে তাদের উৎপাদিত শসা পৌঁছে গেছে স্বপ্ন’র আউটলেটে, স্টক থাকা অবধি এই অফার গ্রাহকরা পাবেন। স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির জানান, আমরা শসা চাষিদের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরেছি নিউজের মাধ্যমে। আমরা দিনাজপুর, ময়মনসিংহসহ বেশকিছু এলাকার কৃষকের দুর্ভোগের কথা জানার পর তাঁদের কাছ থেকে শসা কিনেছি ন্যায্যমূল্যে। অনান্য ব্যবসায়ীদেরও কৃষকদের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান থাকবে । মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভবান না করে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি সেতুবন্ধনের চেষ্টা করে আসছে স্বপ্ন। এই চেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে স্বপ্ন’র হেড অফ পার্চেজ সাজ্জাদুল হক বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে শসা চাষিদের সংকটের খবর দেখার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, এই কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়াবো। দিনাজপুর, ময়মনসিংহসহ বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে এরইমধ্যে ৮ টন শসা আমরা কিনেছি। দুঃসময়ে কষ্টে থাকা অনেক কৃষকদের পাশে ‘স্বপ্ন’ এর আগেও দাঁড়িয়েছে। সামনেও পাশে থাকবে।

দিনাজপুরের খানসামা এলাকার কৃষক সাকিব হোসেন জানান, প্রায় এক বিঘা জমিতে শসা চাষ করেছিলাম এবার। শসার বীজ, সারসহ নানা কাজে লাখ টাকা খরচ হয় আমার। কিন্তু ১০ রমজান অবধি কিছু শসা বিক্রি করার পর বাজারে শসার দাম কমে যায় । প্রতি কেজি ১০ টাকা, এরপর পর ৫ টাকা এবং সবশেষে আরও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। অনেক শসা নষ্টও হয়ে যায়। অনেক লোকসান হচ্ছিল। আমার এলাকার এক সাংবাদিক নিউজ করার পর এসিআই কোম্পানীর ‘স্বপ্ন’ থেকে যোগাযোগ করে আমার অনেকগুলো শসা কিনে নিয়েছেন উনারা। এতে করে লোকসানের অনেক ঘাটতি পূরণ হয়েছে আমার । তাঁদেরকে অশেষ ধন্যবাদ ।

;

বিকাশ অ্যাপে ‘সেন্ড মানি’ এখন আরও সুরক্ষিত, নির্ভুল



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রাহকের লেনদেন আরও নির্ভুল ও সুরক্ষিত করতে বিকাশ অ্যাপের ‘সেন্ড মানি’ সেবায় যুক্ত হলো আরও একটি সতর্কীকরণ ধাপ বা ‘ডিসক্লেইমার’। সেভ করা নাম্বারের বাইরে অন্য কোনো নাম্বারে তাড়াহুড়ো করে সেন্ড মানি করার সময় ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানোর বিড়ম্বনা এড়াতেই বিকাশ অ্যাপে এই সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে বিকাশ অ্যাপে সেভ করা নাম্বার ছাড়া অন্য কোনো নাম্বারে ‘সেন্ড মানি’ করার সময় একটি ‘ডিসক্লেইমার প্রম্পট’ বা সতর্কীকরণ বার্তা দেখা যাবে, যেখানে বলা আছে “নাম্বারটি সঠিক কি না তা অনুগ্রহ করে আবার চেক করুন”। সে অনুযায়ী নাম্বারটি নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী ধাপে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে সেন্ড মানি করলেই ভুল নাম্বারে টাকা পাঠনোর কোনো বিড়ম্বনা থাকেনা। ‘সেন্ড মানি অটো পে’ সেট করার সময় এবং ‘গ্রুপ সেন্ড মানি’ -তে সেভ করা নাম্বারের বাইরে অন্য কোনো নাম্বার যোগ করার সময়েও এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে নজর রাখলে ভুল নাম্বারে টাকা পাঠানোর কোনো বিড়ম্বনাই থাকেনা –

• নতুন কোনো নাম্বারে সেন্ড মানি করার আগে প্রাপকের সাথে কথা বলে নাম্বারটি নিশ্চিত করে নেয়া যেতে পারে
• সেভ করা নাম্বার ছাড়া অন্য কোনো নাম্বারে সেন্ড মানি করার সময় নাম্বারটি কয়েকবার মিলিয়ে নেয়া ভালো
• টাকার পরিমাণ প্রবেশ করার পর টাকার অংক ঠিক আছে কি না তা দেখে নেয়া দরকার
• ভুল নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে ফেললে দ্রুত বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭, অফিশিয়াল ওয়েবসাইট/লাইভ চ্যাট অথবা ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করতে হবে

সুরক্ষিত এই সেন্ড মানি সেবার পাশাপাশি এই মুহূর্তে বিকাশ গ্রাহকরা মোবাইল রিচার্জ, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, মার্চেন্ট পেমেন্ট, অ্যাড মানি, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধ, ই-টিকেটিং, ডোনেশন, বিদেশ থেকে রেমিটেন্স গ্রহণ, ইন্স্যুরেন্স ও মাইক্রোফাইন্যান্স এর পেমেন্ট, ডিজিটাল ন্যানো লোন ও সেভিংস সহ নানান সেবা ব্যবহার করছেন। এভাবেই নতুন নতুন উদ্ভাবনী সেবা আনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল লাইফস্টাইল অ্যাপে পরিণত হয়ে বিকাশ, গ্রাহকের প্রতিদিনকার লেনদেনে আরও স্বাধীনতা ও সক্ষমতা আনার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

;

নারীর অধিকার আদায়ে ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা মোহর সঞ্চয়ী হিসাব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মোহর ইসলামে নারীর প্রতি সম্মান আর অধিকার প্রদর্শনের একটি নিদর্শন। বিবাহের সময় কনের দাবিকৃত অর্থ মোহর, আর বরের পক্ষ থেকে কনেকে এই মোহর আদায় করা অত্যবশকীয় কর্তব্য।

পবিত্র কোরানের সুরা নিসায় আল্লাহ বলেন “আর তোমরা আনন্দের সাথে স্ত্রীদের মোহর আদায় করে দাও। তবে যদি তারা স্বেচ্ছায় মাফ করে দেয়, তাহলে তা সানন্দে ভোগ করতে পার”।

মোহর যে স্ত্রীর অপরিহার্য অধিকার এবং স্বামীকে যে অবশ্যই পালন করতে হবে এমন চিন্তা বেশিরভাগ মানুষের থাকে না। ফলে সমাজে মোহর আদায়ের সংস্কৃতি কিছুটা কম। বিয়েতে মোটা অংকের মোহর নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে এই মোহর আদায় কারো কারো পক্ষে কঠিন হয়ে উঠে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি মোহর আদায়ের সংস্কৃতি চালু রাখতে ও আরো সহজ করতে মুদারাবা মোহর সেভিংস একাউন্ট চালু করেছে।

সমাজের সর্বস্তরের মুসলিম জনসাধারণ বিশেষত পেশাজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী তাদের সামর্থ অনুযায়ী মাসিক কিস্তিতে টাকা জমা দিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় একাউন্ট খুলতে পারবেন। মাসিক কিস্তি ৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকার কিস্তিতে ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদী এ হিসাব পরিচালনাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করবে স্বামী বা বিবাহেচ্ছুক পুরুষ। কাবিননামায় উল্লেখিত মোট টাকার পরিমাণ, আদায়কৃত টাকা এবং আদায়যোগ্য টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে আদায়যোগ্য টাকার উপর মাসিক হার নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকে মোহর একাউন্ট খুলেছেন।

বাংলাদেশের যে কোন বৈধ নাগরিক তার জাতীয় পরিচয় পত্র/পাসপোর্ট/ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, নিজের ২ কপি ছবি, স্ত্রীর ২ কপি ছবি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও নমিনির এক কপি ছবি নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের যে কোন শাখা, উপশাখা কিংবা এজেন্টে মোহর একাউন্ট খুলতে পারবে, এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ডিজিটাল অ্যাপস সেলফিনের মাধ্যমেও এই একাউন্ট খোলা যায়। অন্য শাখা, উপ-শাখা কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে কিস্তির টাকা জমা দেওয়া যায়। মোবাইল ভিক্তিক ব্যাংকিং আ্যাপস সেলফিনের মাধ্যমে মাসের যে কোন দিন যে কোন স্থান থেকে খুব সহজে মাসিক কিস্তি দেওয়া যায় অথবা শাখায় স্পেশাল ইনস্ট্রাকশন দিয়ে রাখলে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অটোমেটিক সংশ্লিষ্ট সেভিংস হিসাব থেকে মোহর একাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও এমক্যাশের মাধ্যমেও মাসিক কিস্তি পরিশোধ করা যায়। গ্রাহক চাইলে কিস্তির টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে পারেন। উক্ত একাউন্টের মূল টাকা ও প্রদত্ত মুনাফা সবই স্ত্রীর প্রাপ্য। হিসাব খোলার সময় কিস্তির হার ও মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে। পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা যাবে না।

মুদারাবা মোহর হিসাবে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একজন স্বামী তার স্ত্রীর মোহরের ঋণ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেন। মোহর পরিশোধের মাধ্যমে নারীর জীবনে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসে। এবং সম্মান প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বোপরি সমাজে নারীর অধিকার আদায়ের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন হয়। মোহর আদায়ের সংস্কৃতি চালু করতে ইসলামী ব্যাংকের এ উদ্যোগ কৃতিত্বের দাবিদার।

;