হরতাল-অবরোধে ক্রেতার খরা, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা!



অভিজিত রায় কৌশিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হরতাল-অবরোধে ক্রেতার খরা, ব্যবসা নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা!

হরতাল-অবরোধে ক্রেতার খরা, ব্যবসা নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা!

  • Font increase
  • Font Decrease

‘ভাই, কি আর বলব! এক মাসের বেশি সময় ধরে হরতাল-অবরোধ চলছে; কোন বেচা-বিক্রি নেই। দোকানের ভাড়া-বিদ্যুৎ বিল উঠছে না। খুব কষ্টে আছি। সংসার চলবে কী করে। ধার-দেনার পথও বন্ধ। এমন চলতে থাকলে পথে বসতে হবে।’

দেশজুড়ে বিএনপি জামায়াতসহ সমমনা দলের ডাকা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা হরতাল-অবরোধে ফাঁদে পড়েছে দেশের অর্থনৈতিক খাত। রাজনৈতিক এই অস্থিরতা পরিবহন খাত থেকে শুরু করে অর্থনীতির সব খাতেই সংকট তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসার দৈন্যদশার কথা জানাচ্ছিলেন রাজধানীর ফার্মগেটের কাপড় ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন।

আজিম উদ্দিনের মতো চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবচেয়ে আগে নাকাল হয়ে পড়ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ক্রেতা সংকটে ভুগছেন তারা। বেচা-বিক্রির ভাটা পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

এদিকে রাজনৈতিক অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে ভয়ানক বিপদ নেমে আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, হরতাল-অবরোধের কারণে দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে। সেই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা ছিল; তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র তথ্য মতে, দেশে এক দিনের হরতালে দেশে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। চলমান হরতাল অবরোধের কারণে দেশে অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।


রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, হরতাল-অবরোধেও খোলা রয়েছে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ক্রেতার অভাবে মালিক ও কর্মচারীরা অবসর সময় কাটাচ্ছেন। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা আসলেই তাকে নিয়ে হাঁকডাক শুরু হচ্ছে। প্রতিযোগিতা করে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা।

কাপড় ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, যে দিনগুলোতে হরতাল অবরোধ থাকে সেই দিনগুলোতে কোন ক্রেতা আসে না। যে দু-একজন আসেন তারা ঘুরে চলে যান। এত বড় মার্কেটে দু-একজন ক্রেতা আসলে কি তাতে বেচাকেনা হয়?

অপর এক ব্যবসায়ী মানিক হোসেন বলেন, এই যে এক মাস ধরে অবরোধ হরতাল চলছে। এই এক মাসে যে টাকা বেচাকেনা করেছি সেই টাকায় বিদ্যুৎ বিলও হয় না। এরপর আবার দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতনসহ কত টাকা খরচ আছে- একটা দোকান চালাতে।

শ্যামলী স্কয়ারের এক ব্যবসায়ী বলেন, করোনার সময় একবার দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতন অবস্থা হয়েছিল। তারপর করোনা শেষ হলে আস্তে আস্তে আবার নতুন করে ব্যবসা গুছিয়ে নিচ্ছি। আর আবার হরতাল-অবরোধ শুরু হলো। এই হরতাল অবরোধে দোকান বন্ধও থাকছে না, তবে বিক্রিও নেই। কিন্তু একদিন দোকান খুললেও অনেকগুলো টাকা খরচ হয়। দোকান খুলে যদি ক্রেতা না আসে দোকানের খরচই না ওঠে তইলে দোকান খুলেই লাভ কি বলেন? এর থেকে তো বন্ধ রাখায় ভালো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড সালেহ উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, যেকোন দেশেই যদি পলিটিক্যাল স্ট্যাবল না থাকে, যদি অস্থিরতা থাকে তাহলে সেই দেশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে- এটাই স্বাভাবিক। আমরা দেখতেই পাচ্ছি সব ধরনের ওয়ার্কাররা (কর্মীরা) টেনশনে আছেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা টেনশনে আছেন, মালিকরা টেনশনে আছে। সব থেকে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। আর যারা খেটে খাওয়া মানুষ তারা যথাসময়ে যথাস্থানে কাজে যেতে পারছে না। ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রান্সপোর্ট খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলে এই হরতাল অবরোধে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ প্রায়।

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, সার্বিকভাবে বলা যায় যে- দেশের উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থিতিশীলতা থাকতে হবে। রাজনৈতিক কোন ঝামেলা না থাকলে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। চলমান এই হরতাল অবরোধের কারণে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে প্রচেষ্টা তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, দেশে এক দিনের হরতালে দেশে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এই হিসেবে বিগত মাস থেকে চলমান হরতাল অবরোধের কারণে দেশে অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের ইকোনমিক (অর্থনীতির) সাইজ অনেক বড়। আগে আমাদের মাত্র ৭০ বিলিয়ন ইকোনমিক সাইজ ছিল কিন্তু এখন সেটা ৪৭০ থেকে ৪৮০ বিলিয়ন। এখন আমাদের ইকোনমিক সাইজ বড় হয়েছে; আমাদের ইকোনমিকে ক্ষতিও বেশি লাভও বেশি। দেশের অর্থনীতিকে এই ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে হলে হরতাল-অবরোধ দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

আমরা উদ্বিগ্ন, দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান: আমিন হেলালী



আশরাফুল ইসলাম পরিকল্পনা সম্পাদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে চলমান কর্মসূচিতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, যান চলাচলে বাধা প্রদানসহ নাশকতায় উদ্বেগ জানিয়ে আন্দোলনকারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব চেম্বার কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিন হেলালী।

বৃৃহস্পতিবার দুপুরে কোটা আন্দোলনে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা২৪.কম এর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় একদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির থাকলে দেড় থেকে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির আশাঙ্কা আছে জানিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ২-৩ মাসেও এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।

আমিন হেলালীর কাছে প্রশ্ন ছিল, চলমান কোটা আন্দোলন সহিংসহ কর্মকাণ্ডকে ব্যবসায়ীরা কিভাবে দেখছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গেল কয়েক দিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ যেটা দেখছি তাতে আমরা ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। মিটিং-মিছিল, আন্দোলন, দাবি-দাওয়া থাকবে। বিগত ১৫ বছরে আমাদের যে কালচার ক্রিয়েট হয়েছে তার জন্য আমাদের অর্থনীতি এগিয়ে গেছে।’

‘সরকারের মাত্র ১৪ লক্ষ এমপ্লয়ী। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রতি বছর ২৭ লক্ষ ছেলে-মেয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করে। এই বিপুল সংখ্যক তরুণদের যদি কর্মসংস্থান দিতে হয় তবে অর্থনীতিকে বন্ধ রেখে তো চলবে না। আমি মনেকরি দায়িত্বশীল নাগরিক আমাদের সবাইকে হতে হবে’-বলেন এফবিসিসিআই’র এই নেতা।

চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে আমিন হেলালী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেসব দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে, সে বিষয়েও আমরা মনে করি এর একটা যৌক্তিকতা আছে। তবে বিষয়টি এখন আইন-আদালতে রয়েছে। সমাধান পর্যন্ত তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। নট এ বিগ ডিল। তবে এ নিশ্চয়ই একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হবে।’

তিনি মনে করেন, এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই যে আজকেই করতে হবে। আমরা সরকার, ছাত্র-ছাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে বলব, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন করতে হবে। নিয়ম তো প্রতিপালন করতেই হবে। কিন্তু অবস্থা এমন হয়েছে যে আমরা কোর্ট মানি না। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানকেই শ্রদ্ধা করতে হবে।

সহিংস কর্মসূচিতে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আমিন হেলালী বলেন, ‘রাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি সম্বৃদ্ধ না হয়, কোষাগারে যদি রাজস্ব জমা না হয়, তাহলে কর্মসংস্থান কোথা থেকে হবে। রাজস্ব আসতে হলে বেসরকারি খাত বা অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য যেখানে আছে সেগুলোকে নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। এখানে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এখানে প্রত্যেকেরই এজেন্ডা আছে। আমরা বলতে চাই, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের ইন্টারেস্টে সবাইকে এক থাকতে হবে।’

বৈশ্বিক আর্থিক মন্দাদশায় সহিংস কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হলে কি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, এমন প্রশ্নে আমিন হেলালী বলেন, ‘যদি আমরা হিসাব করি, একদিনের অর্থনীতি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিন মাসেও তা পূরণ করা যায় না। পুরো পৃথিবীতে এখন এডভার্স সিচুয়েশন। প্রতিদ্বন্ধিতামূলক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। তার মধ্যেও যদি আবার অস্থিতিশীল অবস্থা ফিরে আসে তবে সেই ক্ষতি কাটানো কঠিন।’

‘বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে গেছে। করোনা, ইউক্রেন যুদ্ধ-নানা মেরুকরণে পুরো পৃথিবীতে এখন একটা সংকটজনক অবস্থা। এর প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিও আক্রান্ত। সেই সংকট পেরিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রয়োজন। এখন যদি অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় তা হলে তাহলে আমরা আরও সংকটে পড়ব’-যোগ করেন তিনি।

কোটা সংস্কার দাবিতে চলমান আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এখন যা হচ্ছে...আমরা মনেকরি এটি স্পষ্ট যে এখানে শুধু ছাত্র না। এখানে অনেক ইন্ধনদাতা ইনভলব হয়ে গেছে। সরকারের দায়িত্ব আছে এদের চিহ্নিত করা এবং ছাত্রদের যে দাবি আছে সেটাকে ডেকে নিয়ে কিভাবে সুষ্টু সমাধান করা যায়।’

আমিন হেলালী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘নাগরিক হিসাবে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু সেটা নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে। অনিয়ম আমরা চাই না এবং আমরা সেটাকে নিরুৎসাহিত করি। এবং ছাত্ররা তাদের ক্যাম্পাসে আন্দোলন করবে...আন্দোলনটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজকে যে সহিংসতাটা এটা তাদের পক্ষে করা সম্ভব না। আমি মনে করি এখানে মুরুব্বি ঢুকে গেছে। যারা মুরুব্বীয়ানা করছে, ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে ছাত্রদেরকে।’

;

২৪টি এয়ারক্রাফট দিয়ে ২০ গন্তব্যে ফ্লাইট, দশম বর্ষে ইউএস-বাংলা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

ছবি: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারী বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা অতিক্রম করেছে সাফল্যগাঁথা দশটি বছর। ১৭ জুলাই ২০২৪ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ১১তম বর্ষে পদার্পণ করছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দশম বর্ষপূর্তিতে সকল শুভানূধ্যায়ীদের জানাচ্ছে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

১৭ জুলাই ২০১৪ ইউএস-বাংলা ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রা শুরু করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সকল বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা করে স্বল্পতম সময়ে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সূদৃঢ় করেছে ইউএস-বাংলা।

অভ্যন্তরীণ রুট ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহীতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা যাত্রা শুরুর দু’বছরের মধ্যে ১৫ মে ২০১৬ তারিখে ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলে। ইউএস-বাংলার আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে কলকাতা, চেন্নাই, মালে, মাস্কাট, দোহা, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও গুয়াংজু।

নিকট ভবিষ্যতে দিল্লী, রিয়াদ, দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এছাড়া ২০২৫ সালের মধ্যে লন্ডন, রোম সহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্য ও ২০২৭ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক ও টরেন্টোতে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

বর্তমানে ইউএস-বাংলার বিমান বহরে মোট চব্বিশটি এয়ারক্রাফট রয়েছে, যার মধ্যে দুইটি এয়ারবাস ৩৩০-৩০০, নয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০, দশটি এটিআর ৭২-৬০০ এবং তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট আছে। যাত্রা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯০% এর অধিক অন-টাইম ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ড রয়েছে ইউএস-বাংলার।

যাত্রীসেবায় অনন্য নজির স্থাপন করায় ইউএস-বাংলা দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে যাত্রীদের কাছে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে-বিদেশে বর্তমানে প্রায় ৩০০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে ইউএস-বাংলার। যা দেশের বেকার সমস্যা সমাধানেও কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত ট্যাক্স-সারচার্জ পরিশোধ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করে চলেছে। বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে করছে আরো সূদৃঢ়।

ইউএস-বাংলার টিকেট সংগ্রহ করার জন্য রয়েছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপস সুবিধা। দেশে এবং দেশের বাহিরে নিজস্ব ৪০টির অধিক সেলস্ অফিস রয়েছে। ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লাইয়ারদের জন্য রয়েছে ‘স্কাইস্টার’ প্রোগ্রাম।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স খুব শীঘ্রই নিজস্ব এমআরও (মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার এন্ড অপারেশনস্) প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী করতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইং স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাধীনতার পর ইউএস-বাংলা-ই প্রথম কোনো দেশীয় বিমান সংস্থা যা, চীনের কোনো গন্তব্যে বা ভারতের চেন্নাই কিংবা মালদ্বীপের রাজধানী মালে-তে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যাত্রীদেরকে বেশ কয়েকটি স্পেশাল সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা, যা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এভিয়েশন শিল্পে। উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরনের পর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ডেলিভারী। “আপনি লাগেজের জন্য অপেক্ষা করবেন না বরং লাগেজ আপনার জন্য অপেক্ষা করবে”- এই ধারনাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই ইউএস-বাংলা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

ইউএস-বাংলা শুধু যাত্রীই পরিবহন করে না, সাথে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে কার্গোও পরিবহন করে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউএস-বাংলা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ খেলাধূলার উন্নয়নের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা যেকোন ধরনের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বে যাত্রীদের সঠিক সেবা প্রদান করার জন্য ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফটের কোনো বিকল্প নেই। ইউএস-বাংলা যাত্রীদের আরামদায়ক সেবাকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করে চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে ইউএস-বাংলা পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”
এছাড়া দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তিনি আরো বলেন, “ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সাফল্যে ভরা দশ বছর এর সাথে যে সকল সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যূর অপারেটর, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন কর্পোরেট অফিস, বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে তাদের সকলের প্রতি ইউএস-বাংলা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।”

;

বেসিসের ফিনটেক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ার হলেন নগদের ইডি এলিট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নগদের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট

নগদের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম সেরা এমএফএস ও ফাস্টেট ইউনিকর্ন নগদের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ফিনটেক ও ডিজিটাল পেমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের এই নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফিনটেক ও ডিজিটাল পেমেন্টে নগদের ভূমিকার একটি বহিঃপ্রকাশ ঘটল। বিস্তৃত উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গীসম্পন্ন নিয়াজ মোর্শেদ এলিটের এই নিয়োগের মাধ্যমে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বেসিস-এর ফিনটেক ও ডিজিটাল পেমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট উদ্ভাবনী চিন্তা ও ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবেন। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কমিটির সদস্যদের অনুপ্রাণিত করতেও তিনি ভূমিকা রাখবেন।

এই স্ট্যান্ডিং কমিটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলতে গুরুত্ব দেবে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সল্যুশনকে আরও বেশি জনপ্রিয় করতে ও ফিনটেক স্টার্টআপের সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

নগদের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট নতুন এই দায়িত্বের বিষয়ে বলেন, ‘বেসিস-এর ফিনটেক ও ডিজিটাল পেমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও আরো বেশি অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থিক অবকাঠামো তৈরিতে এই ইন্ডাস্ট্রির নেতা ও অংশীজনদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই।’

একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বিভিন্ন ধরনের সফল ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি পেশাজীবী, ক্রীড়া এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি বড়তাকিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক,

পাশাপাশি জেসিআই চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেসিআই বাংলাদেশের দুইবারের সফল সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া জেসিআই বাংলাদেশ ট্রাস্টের চেয়ারপারসন ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পরিচালক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন এলিট।

;

ওয়ালটন পণ্য অনলাইনে কিনে বিকাশ পেমেন্টে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ওয়ালটন পণ্য অনলাইনে কিনে বিকাশ পেমেন্টে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট

ওয়ালটন পণ্য অনলাইনে কিনে বিকাশ পেমেন্টে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইনে ওয়ালটনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ওয়ালটন প্লাজা থেকে নির্দিষ্ট এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ফ্যান, হোম অ্যান্ড কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেস, টিভি, কম্পিউটার অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ কিনে পেমেন্ট বিকাশ করলেই গ্রাহকরা পাচ্ছেন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট।

waltonplaza.com.bd অথবা eplaza.waltonbd.com থেকে প্রোডাক্ট ক্যাটাগরির ভিত্তিতে একজন গ্রাহক একটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ২১,৫৯৯ টাকা ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। ৩১ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত অফার চলাকালীন একজন গ্রাহক যতবার প্রয়োজন ততবার লেনদেন করতে পারবেন।

ডিসকাউন্ট পেতে হলে গ্রাহককে পেমেন্ট গেটওয়ে, বিকাশ অ্যাপ, *২৪৭# ডায়াল করে কিংবা পেমেন্ট লিংকে ক্লিক করে উল্লেখ্য মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে সফলভাবে পেমেন্ট করতে হবে। অফারটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে - https://www.bkash.com/campaign/walton-online-offer – লিংকে।

;