অনিয়ম-দুর্নীতিতে লোকসান বাড়ছে, ডুবছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অনিয়ম-দুর্নীতিতে লোকসান বাড়ছে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের

অনিয়ম-দুর্নীতিতে লোকসান বাড়ছে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের

  • Font increase
  • Font Decrease

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে। প্রতিষ্ঠানটির বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। এই ঋণের অর্ধেকের  বেশিই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে সংস্থান ও মূলধন ঘাটতি। সম্পদের গুণগত মান দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় পুঞ্জীভূত লোকসান দিন দিন বাড়ছে। ফিনিক্স ফাইন্যান্সের প্রতি ব্যপক আস্থার সংকট থাকায় নতুন করে আমানতও পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। তীব্র তারল্য সংকটে পড়তে হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে। অবস্থা এমন পর্যায়ে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত নগদ জমার হার (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি দিন দিন প্রতিষ্ঠানটির লোকসান বেড়েই চলছে। এজন্য গত কয়েকবছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দিচ্ছে না কোম্পানিটির। সার্বিক আর্থিক অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের এমন দুর্দশার চিত্র উঠে এসেছে।

ব্যাংক বহির্ভূত এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির এমন দুর্দশার জন্য অযোগ্য নেতৃত্বকে দায়ী করছে খাতসংশ্লিষ্টরা। অযোগ্য নেতৃত্বের ফলে প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছর ধরে লোকসানে রয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের দেয়া তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের পর ফিনিক্স ফাইন্যান্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ২০২০ সালে আয় করেও লভ্যাংশ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে কোম্পানিটি লোকসানে রয়েছে, যা ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে। সর্বশেষ চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও প্রায় ১৬০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফিনিক্স ফাইন্যান্সের বর্তমান দুরবস্থার জন্য  ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এসএম ইন্তেখাব আলমের অযোগ্য নেতৃত্বই দায়ী। কারণ শীর্ষ পদটিতে ২০০৮ সাল থেকে টানা ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। গত দুই বছর টানা লোকসানে থাকলেও তাকে প্রতিষ্ঠানটির পর্ষদ কর্তৃক এমডি হিসেবে আরও এক মেয়াদে রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আর এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনাপত্তির জন্য পাঠানোও হয়েছিল। তবে এ দফায় তার মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনাপত্তি দিতে রাজি হয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিনিক্স ফাইন্যান্সের ক্রমাগত লোকসানের অন্যতম কারণ হচ্ছে নামে-বেনামে ঋণ দেয়া। কোম্পানিটি বিভিন্ন সময় ঋণ দিলেও সেটি পরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে একসময় নতুন মূলধন জোগান ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক খাতের যত অনিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে, তার বেশির ভাগের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন করে জামানতবিহীন কিংবা ভুয়া জামানতের বিপরীতে ঋণ দেওয়ার তথ্য মিলেছে। অনেক ক্ষেত্রে জামানত নিলেও তা অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুয়া গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে ঋণ আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না অনেক প্রতিষ্ঠান। আর এ তালিকার প্রথম দিকেই আছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশদ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ফিনিক্স ফাইন্যান্সের আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই ব্যতীত ও ডিউ ডিলিজেন্সের (ঋণ নিয়মাচার) ব্যত্যয় ঘটিয়ে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়া ঋণ বিতরণ করায় সময়মতো ফেরত পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। আবার ঋণ আদায়ে যথাযথ তদারকির অভাবও রয়েছে। ফলে বাড়ছে খেলাপি ঋণ, যা ইতোমধ্যেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। এ ছাড়া অন্যান্য আর্থিক সূচকেও ক্রমশ অবনতি হচ্ছে।

এসব বিষয়ে জানার জন্য ফিনিক্স  ফাইন্যান্সের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ সায়েদুজ্জামানকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, তারল্য সমস্যা, সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সংস্থান ঘাটতি, ঘাটতি সংস্থান সংরক্ষণের ডেফারেল সুবিধা গ্রহণ, গ্রাহকদের আমানতের টাকা মেয়াদপূর্তিতে ফেরত না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর ফিনিক্স ফাইন্যান্সসহ ছয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বৈঠকে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের বর্তমান আর্থিক অবস্থার জন্য করোনার প্রাদুর্ভাবের প্রভাবকে দায়ী করে প্রতিষ্ঠানটির এমডি বলেন, দ্বিতীয় দফায় কোভিড ১৯-এর প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আর্থিক সমস্যায় পতিত হয়। ফিনিক্স ফাইন্যান্সের প্রায় ৪০ শতাংশ ঋণ মামলায় আটকে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বৈঠকে আরও জানান, ব্যবস্থাপনা পর্ষদ খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কিছু ঋণ পুনঃতফসিলের পরিকল্পনা করেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মূলধন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ফিনিক্স ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ বেড়েই চলছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাটির মোট বিতরণ করা ঋণের মাত্র ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ ছিল। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬০৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর চলতি বছরের মার্চে তা আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯৬৭ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা তখনই উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছে। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, যাচাই-বাছাই, ডিউ ডিলিজেন্স এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর ১৪ ধারার নির্দেশনার ব্যত্যয়ে ঘটিয়ে পর্যাপ্ত জামানত দ্বারা আচ্ছাদিতকরণ ব্যতিরেকে ঋণ বিতরণ করা এবং ঋণ আদায়ে তদারকির অভাবের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মার্চ পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পর্যবেক্ষণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর আরও দুই প্রান্তিকের খেলাপি ঋণের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত জুন প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি। আর সর্বশেষ সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের হিসাবে খেলাপি ঋণ দেড় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের হার উঠেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি ফিনিক্স ফাইন্যান্সের প্রভিশন ঘাটতিও বাড়ছে। এ ঘাটতিপূরণে গত কয়েক বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টানা ডেফারেল সুবিধাও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারপরও প্রতি প্রান্তিকে সংস্থান ঘাটতি থাকছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির সংস্থান ঘাটতি ছিল ৮৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ফিনিক্স ফাইন্যান্সের মূলধন উদ্বৃত্তের পরিমাণ ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থাকলেও গত বছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৯১ কোটি টাকা। বর্তমানে এই ঘাটতি শত কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ থাকলেও গত বছর শেষে তা হ্রাস পেয়ে ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশে নেমেছে। এক্ষেত্রেও পতনের ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সার্বিক অব্যবস্থাপনার ফলে প্রতিষ্ঠানের সম্পদের গুণগত মান হ্রাস ও ক্রমাগত লোকসান বৃদ্ধির কারণে মূলধন ঘাটতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এছাড়াও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না লোকসানে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকে ক্রমাবনতিসহ ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রমে বিবিধ অনিয়মের কারণে আস্থা সংকটে পড়ে তীব্র তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স। অবস্থা এমন পর্যায়ে যে, আমানতকারীদের অর্থ মেয়াদপূর্তিতে ফেরত প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত প্রদান না করা সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চরম অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সংকটের পরিচায়ক।

ক্রমাগত লোকসান বাড়তে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে। গ্রাহকদের টাকার সুরক্ষায় বর্তমানে মেয়াদি আমানত গ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বি-সাপ্তাহিক ভিত্তিতে গড়ে দৈনিক ১ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে সিআরআর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। তবে যে কোনো দিনই এ সংরক্ষণের পরিমাণ ১ শতাংশের কম হবে না। অপরদিকে মেয়াদি আমানত গ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসএলআর হিসেবে ৫ শতাংশ এবং আমানত গ্রহণ করে না এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসএলআর হিসেবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়।

জানা গেছে, সব আর্থিক সূচকে অবনতি ও প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে ক্যামেলস রেটিংয়েও হতাশা বিরাজ করছে। ২০১৮ সালে ক্যামেলস রেটিং ‘সন্তোষজনক’ মান পেলেও সর্বশেষ ২০২১ সালে তা ‘মোটামুটি’ মানে নেমে গেছে। আগের দুই বছর এই রেটিংয়ের মান ছিল ‘ফেয়ার বা ভালো’। ক্যামেলস রেটিং হচ্ছে ব্যাংকগুলোর পারফরমেন্সের একটি নির্দেশক। সাধারণত ব্যাংকের মূলধনের অবস্থা, আয়-ব্যয়, ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় এতে প্রতিফলিত হয়।

   

রংপুরের বাজারে কমছে না পেঁয়াজের দাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রংপুরের বাজারে কমছে না পেঁয়াজের দাম

রংপুরের বাজারে কমছে না পেঁয়াজের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের বাজারে গরুর মাংস এবং ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। অপরিবর্তিত দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি, চাল, চিনি, মাছ ও ডিম। তবে পেঁয়াজের দাম চড়া। কমতে শুরু করছে আটার দাম।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন- পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি। এ কারণেই পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তারা প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।

তারা বাজার মনিটরিং জোরদারের আহবান জানিয়ে বলেছেন- এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজও রয়েছে। তবুও পেঁয়াজ কিনতে দামে হয়রানি হতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

চালের বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৫-৪৮ টাকা, মোটা (স্বর্ণা) ৫০ টাকা, মিনিকেট চাল ৭২-৭৫ টাকা, পাইজাম ৫৫ টাকা, বিআর২৮ এবং ২৯ চাল ৬৩- ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে রুই, কাতলা, মৃগেল, সাটি, তেলাপিয়া, মাগুর শিং, চিংড়ি, পাঙ্গাস আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকায়। আদার কেজি ২০০-২৪০ টাকা। বাজারে গরুর মাংস ৬৮০-৭২০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কোন কোন ব্যবসায়ী আরো বেশি দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করছেন ক্রেতাসাধারণ।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু আকারভেদে ৩০-৬০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, কচুর লতা ৬০-৭০ টাকা, মুলা ২০-২৫ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিচ ২০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিচ ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৩০-৬০ টাকা, পেপে ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়িরা প্রতি আটি শাক বিক্রি করছেন ১০-১৫ টাকায়।

এদিকে রংপুরের বিভিন্ন বাজারে আসছে গ্রীষ্মকালীন সবজি। গ্রীষ্মের সবজি সজনে, করলা ও পটল ওঠেছে বাজারে। যদিও এসব পণ্যের দাম আকাশ ছোঁয়া।

;

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বনানীতে শনিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বনানীতে শনিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ও বনানীতে শনিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, বনানী ডিওএইচএস, আরজতপাড়া, শাহীনবাগ এলাকার সকল শ্রেণির গ্রাহকের আগামীকাল শনিবার (২ মার্চ) ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য বেলা ১টা ৩০ টা থেকে রাত ৯টা ৩০ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার (১ মার্চ) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, উক্ত সময়ে আশেপাশে এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকবৃন্দের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

;

‘বিমা’ গ্রাহকদের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী বলেছেন, বিমা সেবা মানুষের জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং আর্থিক ঝুঁকির সময়ে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। এটি ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য একটি নিরাপত্তা জাল তৈরি করে, যাতে তারা অর্থনৈতিক সংকটের সময় স্থির ও সামর্থ্যবান থাকতে পারে। বিমা নিতে গেলে এটি ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য, গাড়ি, বাড়ি, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

শুক্রবার (১ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় বিমা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় বিমার অপরিহার্য ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করে কল্যাণ চৌধুরী বলেন, বিমা গ্রাহকদের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এ উপলক্ষে তিনি বিমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিমা কোম্পানিগুলোকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেশি সংখ্যক মানুষকে বিমায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্রাহকের বিমার অর্থগুলো সঠিক সময়ে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিমা কোম্পানিগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বিমা দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৬০ সালের ১ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আলফা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগদানের দিনটিকে স্মরণ করে ১ মার্চকে জাতীয় বিমা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিমা শিল্পের স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের প্রতি জোর দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, বিমা খাতের উন্নতি ও গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সরকার অসীম কুমার, বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর উপ-আঞ্চলিক পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল হাসান, মেট লাইফের প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান, মেট লাইফ রাজশাহী শাখার ম্যানেজার মো. চঞ্চল মাহমুদ, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স লি. রাজশাহীর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সাধারণ বিমা করপোরেশন রাজশাহী শাখা ম্যানেজার জি. এইচ মোহাম্মদ আলী, জীবন বিমা করপোরেশন রাজশাহী শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ ইয়াফিস আলী প্রমুখ।

;

বাজার গরম: আসছে রোজা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ  



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাজার গরম: আসছে রোজা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ  

বাজার গরম: আসছে রোজা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ  

  • Font increase
  • Font Decrease

শুরু হচ্ছে পবিত্র রোজা মাস। আর এই রমজান মাস এলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভে প্রতি বছর পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে চিন্তার ভাঁজ পড়ে ক্রেতাদের কপালে। কিন্তু সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। তবে চিনি ছোলা, বেগুন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চিন্তিত মানুষ।

শুক্রবার ( ১ মার্চ ) রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৪৯ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে প্রতি ১৬০-১৬৫ টাকায়। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৬৩ টাকার পরিবর্তে ১৭০ টাকায় প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বোতলজাত ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮০০ টাকা বেধে দিলেও বিক্রি হচ্ছে  ৮২০-৮৩০ টাকা দরে। তবে দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে।

এদিকে মাছ মাংসের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রতি কেজি গরুর মাংস সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে ১০০ টাকা বেশি দামে ৭৫০-৭৮০ টাকায় বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। আর খাসি বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ টাকায়। পাকিস্তানি কক মুরগি ৩০০ টাকা, ব্রয়লার ২০০ টাকা, লাল লেয়ার ৩১০ টাকা কেজি। মাছের দামেও দে গেছে একই চিত্র সব ধরনের মাছে বেড়েছে অন্তত ২০-৫০ টাকা কেজি প্রতি।

বাজার ঘুরে দেখা যায় রুই মাছ ২৮০-৩৪০, কৈ ২৬০-৩০০ টাকা, পাঙাশ ২০০-২৬০টাকা, বাটা মাছ ৩০০টাকা কেজি, সিলভার কার্প ৩২০ টাকা কেজি, গ্লাস কাপ ২৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, বড় চিংড়ি ৮২০ টাকা আর ছোট চিংড়ি ৬৫০ টাকা। পাবদা ৩২০, বাইলা ৩০০ টাকা কেজি।

তবে শাক সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় তেমন একটা বাড়েনি বলে জানায় ব্যবসায়ী আবুল কালাম। তিনি বলেন, শাক সবজি আগের সপ্তাহের মতোই আছে। শিম ৪০-৬০টাকা কেজি, লাউ প্রকারভেদে ৪০-৮০ গাজর ৪০, ফুল কপি ২০-৩০ বাধাকপি ৩০-৪০ টমেটো ৪০ মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০ পেঁপে ৫০, বেগুন ৬০ টাকা কেজি।

প্রতি সপ্তাহের মতো বাজারে এসেছেন আলাউদ্দিন সিকদার। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। তিনি বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম এমনিতেই তো বেশি তার উপর রমজানের বাজারের একটা প্রভাব পড়ছে এখনই। যদিও তেলের দাম কিছু কমছে। তবে বিদ্যুৎ এর দাম আবারও বাড়ানোর খবরে চিন্তা আবারও বাড়ছে। এখন তো আবারও সবকিছুর দাম বাড়বে।

বাজারে আসা আরেক ক্রেতা জানান, সবচেয়ে বড় বিষয় মাছের দামটা এত বেড়েছে- হাত দেওয়া যায় না। অতিরিক্ত দামের কারণে চাষের মাছ কিনেই ঘরে ফিরতে হয়।

;