জালিয়াতির নিয়োগে বিপিসিতে এটিএম সেলিম ও মণি লাল



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জালিয়াতির নিয়োগে বিপিসিতে এটিএম সেলিম ও মণি লাল

জালিয়াতির নিয়োগে বিপিসিতে এটিএম সেলিম ও মণি লাল

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এটিএম সেলিম ও মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মণি লাল দাশের নিয়োগ জালিয়াতির প্রশ্নে নিরব কর্তারা। অনেক দিন ধরেই বিষয়টি আলোচিত হলেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিপিসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এর সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর জালিয়াতির তথ্য মুছে ফেলতে ফাইলগুলোই সম্ভবত গায়েব করে ফেলা হয়েছে। এখন আর এগুলোর হদিস মিলছে না। সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজনও এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পরীক্ষা ছাড়াই বিপিসিতে চাকরি পান এটিএম সেলিম ও মণি লাল দাশ। বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, ৪টি পদের বিপরীতে ১৯৯৬ সালে ….দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ বোর্ড সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে হিসাব বিভাগে কাজী শহীদুর রহমান, বাণিজ্য বিভাগে আবুল কালাম আজাদ, এমআইএস বিভাগে মোঃ সোয়েব আহমেদ ও পরিকল্পনা বিভাগে মোঃ মনিরুল ইসলাম নিয়োগ দেয়। নিয়োগ পাওয়ার ৩ মাসের মাথায় সোয়েব আহমেদ চাকরি ছেড়ে পূর্বের কর্মস্থল সিলেট গ্যাস ফিল্ডে ফিরে যান। এতে একটি সহকারী ব্যবস্থাপক পদ শূন্য হয়ে পড়ে।  অন্যদিকে মোঃ মনিরুল ইসলাম বিসিএস (পুলিশ) এ নিয়োগ পেলে বিপিসি ছেড়ে গেলে দু’টি পদ শূন্য হয়ে পড়ে।

আর সেই শূন্যপদে এটিএম সেলিম ও মণি লাল দাশকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মহাজালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা কোন পরীক্ষার আয়োজনের কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। আবার পুর্বের নিয়োগের সময়ও কোন প্যানেল ছিল না। তাহলে কি করে এই নিয়োগ দেওয়া হলো সেই নিয়ে রয়েছে ধুম্রজাল।

বিপিসি সূত্র জানিয়েছেন, এটিএম সেলিমের চাচা কামাল উদ্দিন ছিলেন বিপিসির প্রভাবশালী কর্মকর্তা। যাকে স্থানীয়রা ডিসি কামাল বলেই জানেন। কামাল উদ্দিন প্রথমে বিপিসি সচিব ও পরে পরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। তার আর্শীবাদে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ পেয়ে যান এটিএম সেলিম। সোয়েব আহমেদ যোগদান করেছিলেন ১৯৯৯ সালের ১ আগস্টে আর এটিএম সেলিম বিপিসিতে যোগদান করেন ৪ নভেম্বরে। অর্থাৎ পুরোপুরি ৩ মাসের ব্যবধান রয়েছে।

বিপিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, দেখেন নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয় নির্দিষ্ট একটি তারিখ দিয়ে। ৪ মাস সময় দিয়ে নিয়োগপত্র ইস্যু করার নজীর খুঁজে পাওয়া যাবে না। কখনও কি দেখেছেন কয়েকমাস লম্বা সময় দিয়ে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে। এতেই তো প্রমাণ হয়ে যায় এটিএম সেলিমের নিয়োগে জালিয়াতির ইস্যুটি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক এটিএম সেলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমার নিয়োগে কোন জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। সঠিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়েছি। অন্যরা যখন যোগদান করেন, তখন কেনো যোগদান করলেন না, এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন বিষয়টি বিপিসির কাছে জানতে চান। আমি কিছু বলতে পারবো না।

তার কাছে প্রশ্ন ছিল আপনি নিয়োগ পেয়েছেন, বিপিসির কাছে যেতে বলার কারণ কি! নিয়োগপত্রের যোগদানের সময় কি কয়েকমাস রাখা হয়েছিল? এটিএম সেলিম এবারও বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই, বিপিসি ভালো বলতে পারবে।

জনকণ্ঠ পত্রিকার ওই বিজ্ঞপ্তির পর নতুন কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল কিনা। তিনি কোন সময় আবেদন করেছিলেন। এসব প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে রাজি হননি এটিএম সেলিম।

অন্যদিকে মণি লাল দাশের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সহকারি ম্যানেজার পদের জন্য অভিজ্ঞতাসহ ন্যুনতম দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাশ চাওয়া হয়। কিন্তু মণি লাল দাশের স্নাতকের রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি। এ কারণে বিপিসির ওই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তার আবেদন করার যোগ্যতাই ছিল না। সেই মণি লাল নিয়োগ পেয়েছেন, আবার সময়ে অসময়ে প্রমোশন পেয়ে মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) পদে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এমন কোন বছর নেই ভারত সফর করেন নি। কখনও একাধিক দফায় সফরের রেকর্ড রয়েছে। তদন্ত করা হলের পিকে হালদারের মতো থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে পারে।

পরিকল্পনা বিভাগে নিয়োগ পাওয়া মোঃ মনিরুল ইসলাম চাকরি ছেড়ে দিলে কপাল খুলে যায় মণি লালের। অভিযোগ উঠেছে তিনিও এটিএম সেলিমের মতো পেছনের দরজা দিয়ে আসীন হয়েছেন বিপিসিতে।

এ বিষয়ে একাধিক দফায় ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি মণি লাল দাশ। এমনকি এসএমএস দিলেও সাড়া দেন নি।

এটিএম সেলিম যোগদানের পর থেকে বেপরোয়া দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগের সূত্র ধরে এটিএম সেলিমের বেপরোয়া  দুর্নীতির তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সংস্থার হিসাব ও স্বার্থ রক্ষার কথা থাকলেও বরাবরই ব্যক্তিগত হিসেবটাই এটিএম সেলিমের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে।

চান্দগাঁও থানার খালাসী লেকের বিপরীত দিতে ৪ ইউনিটের ৬ তলা বিশিষ্ট বিশাল একটি ভবনের মালিক। নগরীর চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে নামে বেনামে একাধিক দোকান। শুধু চট্টগ্রাম নয় দুর্নীতির টাকায় এটি এম সেলিমের সম্পদের সম্রাজ্য গড়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকাতেও।

বিপিসির রন্ধে রন্ধে থাকা দুর্নীতি বন্ধে অটোমেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে এটিএম সেলিম চক্র। অটোমেশন হলে দুনীর্তি লুটপাট অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যেতো। বিশেষ করে তেল বিক্রি ও মজুদ এক ক্লিকেই দেখা যেতো। তাতে করে অধীনস্থ কম্পানিগুলো (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) ব্যাংকে টাকা ফেলে রেখে ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে পারত না। যেভাবে বিপিসি খ্যাত, অখ্যাত (ক্রেডিট রেটিংয়ের নিচে থাকা) ব্যাংকে কয়েক হাজার কোটি টাকা জামানত রেখে কমিশন পেয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানের সদরদপ্তর চট্টগ্রামে আর তহবিল রাখা হয়েছে একটি ব্যাংকের উত্তরা শাখায়, কেনো কিসের জন্য সে প্রশ্নের উত্তর সবার জানা।

সরকার যখন জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলছে, তখনও বেপরোয়া এটিএম সেলিম। অফিসের গাড়িটি সারাদিন পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সকালে তাকে অফিসে নামিয়ে দিয়ে চলে যায় ছেলে- মেয়েকে স্কুলে আনা নেওয়ার জন্য। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি কখনও চট্টগ্রাম ক্লাবে, কখনও র‌্যাডিসন হোটেলে সাঁতার কাটতে যায়। বিগত কয়েকমাস মাস ধরে চলছে সেই রুটিন। মেয়ের সাতার শেখার ফাঁকে স্ত্রীকে দোকানে আনা নেওয়া করে এ গাড়ি। গাড়ির মাইল মিটার এবং অফিসের সিসি ক্যামেরার রেকর্ড যাচাই করলেই এসব ধরা পড়বে।

নিজের পকেট ভারি করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিপিসিকে ঠেলে দিয়েছেন লোকসানের দিকে। ব্যাংকে কয়েক হাজার কোটি টাকা আমানত থাকা অবস্থায় (এসএনডি ও এফডিআর) প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন ব্যাংক ঋণ নিয়ে। এতে দেখা গেছে, আমানতের বিপরীতে প্রাপ্ত সুদের চেয়ে ঋণের বিপরীতে পরিশোধিত সুদের পরিমাণ ২৭৮ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ ঋণ না নিয়ে নিজেদের আমানত থেকে বিপিসির একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ২৭৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হতো। সবকিছু জেনেও শুধু নিজের মুনাফার ধান্দায় সেই কাজটি করে বিপিসিকে ডুবিয়েছেন এটি এম সেলিম।  এই দুর্নীতির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি। ২৩আগস্ট বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আসম ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, বিপিসিতে অনেক ঘাটতি রয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কম। তাদের অনিয়মের চিত্র দেখে কমিটি ‘শকড’ (স্তম্ভিত)। বিভিন্ন কেনাকাটা ও নিরীক্ষায় যেসব আপত্তি এসেছে, তাদের সেগুলো সমন্বয় করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিপিসি চেয়ারম্যানকে ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি।

দেশের প্রতিটা জেলায় জুনিয়র চেম্বার নেতৃত্ব দিবে: এলিট



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
দেশের প্রতিটা জেলায় জুনিয়র চেম্বার নেতৃত্ব দিবে: এলিট

দেশের প্রতিটা জেলায় জুনিয়র চেম্বার নেতৃত্ব দিবে: এলিট

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের (জেসিআই) ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেছেন, ‘তরুণদের জন্য আমরা একটি সংগঠন তৈরি করে দেখিয়েছি। আজ সে সংগঠনের দশ বছর পূর্তি। এই সংগঠনের জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছি। বাংলাদেশের প্রতিটা জেলায় জুনিয়র চেম্বার নেতৃত্ব দিবে। এটাই আমার স্বপ্ন।’

শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) চট্টগ্রামের দশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কোভিডের পর আজ প্রথম আমরা তরুণদের সাথে নিয়ে মিলিত হয়েছি। তবে গত দশ বছর আমরা সুন্দর একটা জার্নি করেছি। জুনিয়র চেম্বার ১৮ থেকে ৪০ বছরের তরুণদের নিয়ে কাজ করছে। আমাদের এখন ৩০টি ইউনিট ও ৫ হাজার সদস্য রয়েছে। সারাদেশের তরুণদের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তাদের জন্য আমরা প্রশিক্ষণের আয়োজন করছি। এ আয়োজন করতে গিয়ে আমরা ১০ কোটি টাকা খরচ করেছি। এগুলো সব আমাদের সদস্যদের টাকা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা এগিয়ে যাবে, সেটা আমরা চাই।’

চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি এলিট আরও বলেন, ‘আমরা যখন জুনিয়র চেম্বার করতে যাই তখন আমরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে অনেক কষ্টে এ সংগঠন দাঁড় করিয়েছি। চট্টগ্রামে আমাদের প্রায় ৩শ সদস্য রয়েছে। আমরা তরুণদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছি। তরুণদের জন্য আমাদের সাংগঠনিক কিছু নীতিমালা আছে। তবে তরুণদের জন্য সহজ শর্তে লোন সংক্রান্ত একটা নীতিমালা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কথা বলেছি।’

বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হল জুনিয়র চেম্বার চট্টগ্রামের দশ বছর পূর্তি
‘নগদ’র এ নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘তরুণ জনগোষ্ঠীকে আমরা যদি তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর যে পরিকল্পনা আছে তা বাধাপ্রাপ্ত হবে। কাজেই তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’

জেসিআই চট্টগ্রামের সভাপতি শান শাহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন— চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, শেঠ গ্রুপের এমডি সোলায়মান আলম শেঠ, জেসিআইর সাবেক সভাপতি রাইসুল উদ্দিন সৈকত, জসিম আহমেদ, মো. গিয়াস উদ্দিন, মাশফিক আহমেদ রুশাদ, অসীম কুমার দাশ, শহীদুল মোস্তফা চৌধুরী, টিপু সুলতান সিকদার প্রমুখ।

দশক পূর্তির এ আয়োজনে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের মিলন মেলা বসেছিল এদিন রাতে। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রথমে ১০ বছর পূর্তির লোগো উন্মোচন করা হয়। প্রদর্শিত হয় জেসিআইর দশ বছর ও ইয়ুথ সামিটের ওপর তথ্যচিত্র। পরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

;

২৫ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩৫ কোটি ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে নভেম্বরের ২৫ দিনে প্রবাসীরা ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১০৮ টাকা ধরে)।

রোববার (২৭ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনে ১৩৪ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৬০ কোটি ডলার ছাড়াবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধপথে প্রবাসী আয় ধারাবাহিক কমছে। অর্থনীতির অন্যতম এ সূচকটির নেতিবাচক গতি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈধপথে রেমিট্যান্স আনতে বিভিন্ন শর্ত শিথিল, চার্জ ফি মওকুফসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু তারপরও ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

নভেম্বরের প্রথম ২৫ দিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৭ কোটি ৯৮ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার, আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে ৩২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার এসেছে। এরপর অগ্রণী ব্যাংকে এসেছে ৯ কোটি ৬ লাখ, ডাচ্ বাংলা ব্যাংকে ৮ কোটি ৫৫ লাখ, সোনালী ব্যাংক ৮ কোটি ১৪ লাখ এবং আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকের এসেছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

রেমিট্যান্স বাড়া‌তে উদ্যোগ

বিদেশি এক্সচেঞ্জের হাউজের মতো সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালেও প্রতি ডলারে ১০৭ টাকা পাবেন প্রবাসীরা। আগে যা ছিল ৯৯ টাকা ৫০ পয়সা। এ ছাড়া এখন থেকে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স আহরণ বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুলও নেবে না। সব‌শেষ গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাফেদার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ছাড়া এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। আবার প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। প্রণোদনা বাড়ার পরও সর্বশেষ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে বড় পতন হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক তিন বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

;

নতুন ড্যাপে এফএআরকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পরিকল্পিত আবাসন ও উন্নত রাজধানী গড়তে নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ অনুমোদন পেয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন এই পরিকল্পনায় টেকসই নগরায়ন বান্ধব উদ্যোগ থাকলেও, আবাসন শিল্পের জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে দাবি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব)।

রোববার (২৭ নভেম্বর) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিয়েল এস্টেট অন্ড হাউজিংয়ের দ্বিতীয় সভায় আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা জানান, নতুন ড্যাপে রাস্তার প্রশস্ততার অনুপাতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগে যেখানে প্রশস্ত রাস্তা না থাকলেও ৮ থেকে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা যেত, এখন সেখানে অনুমোদন পাওয়া যাবে ৪ থেকে ৫ তলার। এ কারণে স্বল্প প্রস্থের রাস্তার পাশের জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বৈষম্যের শিকার হবেন আবাসন ব্যবসায়ীরাও। এমন অবস্থায়, শিল্পটি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি তাদের।

বৈঠকে জানানো হয়, আগে রাজধানীতে জমির নিবন্ধন ফি নির্ধারণ হতো মৌজার দর অনুযায়ী। নতুন ড্যাপে সেটিকে পরিবর্তন করে বাজার মূল্য অনুযায়ী নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। যেটিকেও আবাসন শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, আবাসন খাতের সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়ের সাথে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এ সময়, নিজেদের ধারণা সমৃদ্ধ করতে- আবাসন ব্যবসায়ীদের ড্যাপ বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন তিনি। অন্যদিকে টেকসই নগরায়ন নিশ্চিতে- ড্যাপকে বাস্তবতার আলোকে সমন্বয় করতে রাজউকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে কমিটির ডিরেক্টর ইন চার্জ এবং রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ড্যাপে বেশকিছু ভালো দিক রয়েছে। তবে আবাসন খাতের জন্য কিছু জটিলতা থেকে গেছে। এসব বিষয়ে সমাধানে আসতে রাজউক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিহ্যাব।

তিনি বলেন, আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, সহযোগী হয়ে কাজ করতে চাই।

বৈঠকে এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি আমিন হেলালী বলেন, এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা আমাদের কাজ। আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমিতির সাথে বসে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করুন। একই সঙ্গে আবাসন খাতের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে রিহ্যাবের প্রতি আহ্বান তার।

বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্যের কারণে এমনিতেই সংকটে রয়েছে আবাসন খাত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ড্যাপ নিয়ে শঙ্কা। এমন সংকট থেকে উত্তরণে নীতিনির্ধারক এবং অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মিলন।

তিনি বলেন, আবাসন ব্যবসায়ীরা ড্যাপের বিরুদ্ধে নয়। তাদের আপত্তি কেবল টেকসই নগরায়ন এবং আবাসন খাতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে।

এফবিসিসিআই’র পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদার, শফিকুল ইসলাম ভরসা, বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, হাফেজ হারুন, আবু মোতালেব, আক্কাস মাহমুদ, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, কমিটির কো-চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জিটু, মোহাম্মদ আলী দ্বীন, কামাল মাহমুদ, এ.এফ.এম ওবায়দুল্লাহসহ অন্যান্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

;

কৃষকদের মাঝে ৪% মুনাফায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কৃষি বিনিয়োগ বিতরণ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কৃষকদের মাঝে ৪% মুনাফায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কৃষি বিনিয়োগ বিতরণ

কৃষকদের মাঝে ৪% মুনাফায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের কৃষি বিনিয়োগ বিতরণ

  • Font increase
  • Font Decrease

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড- এর উদ্যোগে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চার শতাধিক সয়াবিন ও মরিচ চাষির মাঝে ৪% মুনাফায় কৃষি বিনিয়োগ বিতরণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলা কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিনিয়োগ বিতরণ করা হয়। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জনাব জাফর আলম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মুহাম্মদ ফোরকানুল্লাহ, চীফ রেমিট্যান্স কর্মকর্তা জনাব মো: মোশাররফ হোসাইন, নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব ইসরাত সাদমীন, সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব চৈতী সর্ববিদ্যা, সলিডারিড্যাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইন্দু ভূষণ রায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (নোয়াখালী)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মুহাম্মদ মহীউদ্দিন চৌধুরী, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মার্কেটিং এন্ড ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান জনাব মো: মনিরুজ্জামান, এসএমই এন্ড এগ্রিকালচারাল ফাইন্যান্স ডিভিশনের প্রধান জনাব সাদাত আহমাদ খান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কৃষক-কৃষাণীরা।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী জনাব জাফর আলম বলেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক নোয়াখালীর সুবর্ণচর অঞ্চলে ৪% মুনাফায় এবার চার শতাধিক কৃষকের মাঝে কৃষি বিনিয়োগ বিতরণ করেছে। খুব শীঘ্রই আরও শতাধিক কৃষককে বিনিয়োগ প্রদান করা হবে। পর্যায়ক্রমে নোয়াখালী সহ সারাদেশের কৃষকের মাঝে স্বল্প মুনাফায় বিনিয়োগ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

;