দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত কর্ণফুলী গ্যাসের এমডিকে শোকজ করেছে পেট্রোবাংলা



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত কর্ণফুলী গ্যাসের এমডিকে শোকজ করেছে পেট্রোবাংলা

দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত কর্ণফুলী গ্যাসের এমডিকে শোকজ করেছে পেট্রোবাংলা

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে কেজিডিসিএল’র (কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মাজেদকে শোকজ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলা গঠিত উচ্চ পর‌্যায়ের তদন্ত কমিটি দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ওই শোকজ করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার একজন পদস্থ কর্মকর্তা এম এ মাজেদসহ দুর্নীতিবাজ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শোকজ করার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি তার নাম প্রকাশ করতে আপত্তি জানিয়েছেন।

পে্ট্রোবাংলার পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ আলতাফ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক করণীয় গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত এর বেশি বলতে পারবো না। কি ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সময় হলেই সবকিছু জানানো হবে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস বিতরণের দায়িত্বে থাকা কেজিডিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ঘুষ দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়েছেন এমএ মাজেদ। আইনকানুনের কোন বালাই নেই তার কাছে। টাকা ঢাললেই সবকিছু মেলে, রাতকে দিন আর দিনকে রাত বানাতে সিদ্ধহস্ত তিনি। কোন কোম্পানির আবেদন কয়েক বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। কেউ কেউ কর্ণফুলীতে ঘুরতে ঘুরতে জুতার তলা ক্ষয় করে ফেলেছেন তবুও সংযোগ পাননি। আবার ঘুষ ঢালায় একদিনেই সংযোগ পাওয়ার নজির তৈরি করেছেন।

মেসার্স মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত শিল্প-৫১৫১) আবেদন করেছেন ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর। পর দিনেই (২০ ডিসেম্বর) তাকে সংযোগ প্রদান করা হয়। সব ধরনের আইন অমান্য করে মাত্র সেই সংযোগটিও প্রদান করা হয়েছে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্যাপটিভ পাওয়ারে। মেসার্স মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড ৯০০কিলোওয়ার্ট ক্ষমতার ক্যাপটিভের আবেদনটি বোর্ডে তোলার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু সেই বিধি নিষেধ না মেনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদ মোটা অংকের বিনিময়ে নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন।

পেট্রোবাংলা গঠিত উচ্চ পর‌্যায়ের কমিটি তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ড সভার অনুমোদন না নিয়ে নিজেই অনুমোদন করেছেন। যা আইনগতভাবে যথাযথ হয় নি।

একই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আরও একটি জালিয়াতির তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে কোম্পানিটি মিটার টেম্পারিং করে বিপুল পরিমাণ গ্যাস চুরির ঘটনা ঘটলেও ধামাচাপা দিয়েছেন এমএ মাজেদ সিন্ডিকেট। কোম্পানিটিতে পরীক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিভাগ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মার্কেটিং বিভাগকে দিয়ে ত্রুটিপুর্ণ মিটার পর‌্যবেক্ষণ কমিটি গঠনও রহস্যজনক। ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার আস্থাভাজনদের রেখেছেন ওই কমিটিতে। যাতে সুবিধামতো রিপোর্ট দিয়ে টুপাইস হাতানো যায়।

৫ কোটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বকেয়ার কারণে মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্সের একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। নিয়ম রয়েছে ৫০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ এবং অবশিষ্ট টাকা কিস্তিতে আদায়ের শর্তে পুনঃসংযোগ দিতে পারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কিন্তু কোন টাকা আদায় না করেই পুনঃসংযোগ প্রদান করেছেন।

মেসার্স ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত ৮০৬৫) নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সংযোগ প্রদানে অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সংযোগের জন্য আবেদন জমা দিলে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর বোর্ডে তুলেছিলেন তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সেই বোর্ড সংযোগটি অনুমোদন করেন নি। এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় জানার পরও বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ডায়মন্ড সিমেন্টকে সংযোগ প্রদান করেছেন এমএ মাজেদ। এতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পরিপত্র অমান্য করা হয়েছে বলে তদন্ত কমিটি উল্লেখ করেছে।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত জালিয়াতির প্রমান পেয়েছে কমিটি। দেখা গেছে বোর্ডে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে এক রকম, আর কার‌্যপত্রে লেখা হয়েছে ভিন্নভাবে। ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ১৭৫তম বোর্ড সভায় ওঠে মেসার্স সায়মা সামিরা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড (সাদ মুছা গ্রুপ) নতুন সংযোগের আবেদন। পর্ষদের সভার পুর্বেই ওই গ্রাহকের অনুকূলে চাহিদাপত্র ইস্যু করার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মেসার্স ইয়ং ইন্টারন্যাশনাল (বিডি) লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত-৮৫৪) জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। কেজিডিসিএল বোর্ডসভা মাসে ১ লাখ ৭২ হাজার ২২৪ ঘনমিটার লোড অনুমোদন করে। আর সেই ইয়ং ইন্টারন্যাশনালকে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে (২ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৭ ঘনমিটার) লোড বাড়িয়ে দেন দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত এমএ মাজেদ।

কেজিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দুর্নীতির রামরাজত্ব তৈরি করেছেন। সামান্য কিছু উদাহরণ সামনে এলেও আরও পুকুর চুরির ঘটনা থেকে গেছে অন্তরালে। শুধু সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে জালিয়াতি করে থেমে থাকেনি এম এ মাজেদ। কোম্পানির সিনিয়র সিলেকশন কমিটির (২০২১ সালের ২১ ও ২২ ডিসেম্বর) সভায় ১৭ পদের বিপরীতে ১৩ জনকে সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে উপব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতির সুপারিশ দেয়। তারপর সেই পদোন্নতি আটকে রাখেন এম এ মাজেদ। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

কেজিডিসিএল’র দুর্নীতির বিষয়ে সর্বশেষ কমিটি গঠন (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২) করা হয় পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ এর নেতৃত্বে। ৪ সদস্যের ওই কমিটি গঠনই করা হয় পরিচালকের (অপারেশন এন্ড মাইন্স) নেতৃত্বে গঠিত কমিটির রিপোর্টের ‍উপর ভিত্তি করে। আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয় আগের কমিটির রিপোর্টের অধিকতর তদন্ত করতে।

আলী ইকবাল মোঃ নুরুল্লাহ কমিটি তদন্তে অসংখ্য অনিয়মের পাশাপাশি কেজিডিসিএল’এ একটি সিন্ডিকেটের প্রমাণ পেয়েছেন। কমিটি তার ৩১ পৃষ্ঠার রিপোর্টে অসংখ্যা দুর্নীতির তথ্য তুলে এনেছেন। কমিটি বলেছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে পাশ কাটিয়ে নতুন সংযোগ ও পুনঃসংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এতে একদিকে নিয়মকানুন লঙ্ঘিত হয়েছে, অপরদিকে কোম্পানি তথা রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তদন্ত কমিটি সুপারিশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মাজেদ, বিপণন উত্তর ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক (চ.দা) প্রকৌশলী সফিউল আজম খান, বিপণন দক্ষিণ ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান, জিএম (প্রশাসন) ফিরোজ খানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মাজেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও সরকারি নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এসএমএস দিলেও সাড়া দেন নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কেজিডিসিএল অফিসে গেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাওয়া যায় নি। তার দপ্তরে বার্তা দিয়ে এলেও কোন সাড়া দেন নি।

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগ্রহী ওয়েলস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তুলার মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং যোগান কমে আসায় নন-কটন গার্মেন্টস পণ্যের দিকে ঝুঁকেছে বিশ্ব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, ম্যান-মেড-ফাইবারের চাহিদা বাড়ছে স্থানীয় তৈরি পোশাক শিল্পে। এমন তথ্য তুলে ধরে, ঢাকায় সফররত ওয়েলসের ব্যবসায়ীদের বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন(এফবিসিসিআই)।

শনিবার (২৬ নভেম্বর) অল ওয়েলস ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন মিশন, ইউকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৩ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর ইউরোপের বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে রফতানি পণ্যের সিংহভাগ ভ্যালু অ্যাডিশন হতে হবে দেশেই। এক্ষেত্রে বস্ত্র শিল্প, বিশেষ করে ম্যান-মেড-ফাইবার অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হবে।

পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সিরামিক, আসবাবপত্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়ণে বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথাও জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। এসব খাতে ওয়েলসের ব্যবসায়ীদের একক কিংবা যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। আশ্বাস দেন বিনিয়োগে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা প্রদানের।

বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে ওয়েলসের আগ্রহের কথা জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং চেম্বার ওয়েলসের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মি. পল স্লেভিন। তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে ওয়েলস এবং বাংলাদেশের। সব ধরণের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বেসরকারি খাতকে অংশীজন করতে উভয় সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ইন্সটিটিউটগুলোর সঙ্গে ওয়েলসের ইন্সটিটিউটগুলোর কারিগরি সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালকবৃন্দ, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, অল ওয়েলস ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন মিশিন, ইউকের অন্যান্য সদস্যরা।

;

ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী

ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাংকক হসপিটাল অফিস বাংলাদেশ আয়োজিত "ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে অগ্রগামী" বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ২৬ নভেম্বর ২০২২ শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ)-এর নেতৃত্বে থাইল্যান্ড এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে সম্মিলিতভাবে ৪৯টি নেটওয়ার্ক হসপিটাল পরিচালিত হয়। ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ)-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে, যা গুরুতর এবং জটিল অসুস্থতার জন্য বিশ্বমানের চিকিৎসা পরিষেবা দেয়। বিএইচকিউ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) কর্তৃক প্রত্যয়িত এবং নিউজউইক পরিচালিত ওয়ার্ল্ডস বেস্ট হসপিটাল-২০২০ জরিপে ব্যাংকক হসপিটাল থাইল্যান্ডের শ্রেষ্ঠতম হসপিটাল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি থাই রাষ্ট্রদূত মিসেস ‘মাখওয়াদি সুমিতমোর’ তাঁর বক্তৃতায় থাইল্যান্ডে মেডিকেল ট্যুরিজমের সুযোগ সুবিধাসমূহ তুলে ধরেন। মেডিকেল ট্যুরিজমে ২২ বছরের বেশী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ইঐছ-এর একমাত্র প্রতিনিধি ‘ব্যাংকক হসপিটাল অফিস বাংলাদেশ’ ধানমন্ডি, বনানী এবং চট্টগ্রামে ৩টি অফিসের মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের সৌজন্যমূলক ওয়ান-স্টপ পরিষেবা প্রদান করে চলেছে।

ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টা‌রনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা ডাঃ শক্তি রঞ্জন পাল, এবং ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের পরিচালক ডাঃ ক্রিয়েংক্রাই হেংরুসামি ব্যাংকক হসপিটালের বিভিন্ন পরিষেবাসহ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে ব্যাংকক হসপিটালের অবদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ) অত্যাধুনিক কার্যকরি ওষুধ, উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ ও প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ এবং থাই আতিথেয়তার সমন্বয়ে স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবার ধারায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে ।ইঐছ ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকক হার্ট হসপিটাল, ওয়াটানোসোথ ক্যান্সার হসপিটাল, ব্যাংকক ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল (নিউরোলজি এবং অর্থোপেডিকস)। স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ক্ষেত্রের বিপুল সংখ্যক বিশেষজ্ঞগণ এখানে কর্মরত রয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম নেটওয়ার্ক হসপিটালের প্রধান কার্যালয় হওয়ায়, ইঐছ প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে উন্নত হসপিটাল এবং এতে এমন কিছু অনন্য চিকিৎসা-প্রযুক্তি রয়েছে যা থাইল্যান্ডের অন্য বেসরকারি হসপিটালে পাওয়া যায় না। বছরের পর বছর ধরে থাই এবং

বিদেশী রোগীরা তাদের চিকিৎসার জন্য ধারাবাহিকভাবে ব্যাংকক হসপিটালকে বেছে নিচ্ছে, কারণ এখানে একই ছাদের নীচে সমস্ত নির্ভরযোগ্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পাওয়া যায়।

ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাম - ২৫৬ স্লাইস, এমআরআই ৩.০ টেসলা, কার্ডিয়াক এমআরআই ৩.০ টেসলা, ওপেন এমআরআই ১.০ টেসলা, জটিল অ্যারিথমিয়ার জন্য কার্টোসাউন্ড, ইত্যাদি। এখানে স্মার্ট সার্জারির জন্য একটি হাইব্রিড ওটি-ও রয়েছে। (ইঐছ অল-আর্টারি বা ডাবল লাইফ সিএবিজি, দ্বিতীয় সিএবিজি অথবা রিডু সিএবিজি -এর মত সার্জারির ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয়।)

ব্যাংকক ক্যান্সার হসপিটালে সঠিকভাবে ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য রয়েছে ৪র্থ প্রজন্মের এমসিটি ফ্লো পেট-সিটি, রেডিওথেরাপি এবং রেডিওসার্জারির নতুন যুগান্তকারী চিকিৎসায় ভ্যারিয়ান এজ ১ থেকে ৩দিনের মধ্যেই সার্জারি ছাড়াই (কোনও কাঁটা ছেঁড়া, রক্তপাত এবং সংক্রমণ ছাড়া) মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসা সম্ভব করে তোলে। একই সাথে বিএইচকিউ ইমিউনোথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি ও টার্গেট থেরাপির মত অত্যাধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার নেতৃস্থানীয় হসপিটাল। ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ)-এ টিউমার বোর্ড (মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞদের সমন্বযয়ে গঠিত একটি দল)-ও রয়েছে, যা প্রতিটি ক্যান্সার রোগীর সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা পর্যালোচনা এবং পথ প্রদর্শন করে।

ব্যাংকক ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল (নিউরোলজি এবং অর্থোপেডিকস) মেরদন্ডের অস্ত্রোপচারে নির্ভুলতার জন্য ও-আর্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে। গুরতরভাবে আহত রোগীদের সর্বোত্তম পরিষেবার জন্য এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিভাগীয় বিশেষজ্ঞদের একটি নিবেদিত "ট্রমা কেয়ার টিম"।

এছাড়া এখানে রয়েছে জটিল ও মুমূর্ষু রোগীদের স্থানান্তরের জন্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, যা সর্বোচ্চ সুরক্ষা রেকর্ডধারী স্কাই আইসিইউ, দক্ষ এভিয়েশন ডাক্তার এবং নার্স দিয়ে সুসজ্জিত।

ব্যাংকক একাডেমি অফ স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেডিসিন (ইঅঝঊগ) হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র ফিফা স্বীকৃত সেন্টার এবং ক্রীড়াজনিত ইনজুরির আদর্শ চিকিৎসাকেন্দ্র। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত কৌশলগুলির মাধ্যমে স্বল্প সময়ে রিকভারি এবং আরও ভাল অস্ত্রোপচারের ফলাফল অর্জনের জন্য রয়েছে মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারি (গওঝ), যা ক্রীড়াবিদদের উন্নত পারফরম্যান্সের সাথে পেশাদারী ক্রীড়াঙ্গনে দ্রুত ফিরে আসার সুযোগ করে দেয়।

ইঐছ তে সম্প্রতি যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) সম্পন্ন স্বাস্থ্যপরিষেবা, যা মেডিক্যাল ইমেজ স্ক্রিনিংয়ে সূক্ষ্মতা বজায় রাখতে চমৎকারভাবে কাজ করে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি, ইঐছ সকল

ডিপার্টমেন্টের রোগীদের টেলিমেডিসিন পরিষেবাও প্রদান করে, যার মাধ্যমে কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সময়ে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী রোগী সুলভে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন, এবং এখনও পাচ্ছেন।

এ সময় ব্যাংকক হসপিটাল হেডকোয়ার্টার্স (বিএইচকিউ) -এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর - মিঃ রাল্ফ ক্রেওয়ার, মার্কেটিং কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট মিসেস প্যাচারিন তালানন, এবং আন্তর্জাতিক বিপণন কর্মকর্তা মিসেস শিরং গুয়ান সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। এছাড়াও ব্যাংকক হসপিটাল অফিস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ নীলাঞ্জন সেন, নির্বাহী পরিচালক জনাব কাজী শারহান সাইফ, এবং অপারেশন্স পরিচালক জনাব মোহাম্মদ শহিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।

;

বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংকের স্বীকৃতি পেল ইসলামী ব্যাংক



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্য এশিয়ান ব্যাংকার কর্তৃক ২০২২ সালের ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। একই সাথে ইসলামী ব্যাংককে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক’ হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।

২৪ নভেম্বর ২০২২, বৃহ¯পতিবার ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার ঘোষণা করেন দ্য এশিয়ান ব্যাংকারের ম্যানেজিং এডিটর ফু বুন পিং।

পুরস্কারগ্রহীতা হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টও ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্লাটফর্ম দ্য এশিয়ান ব্যাংকার চীন, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, ভারত ও নিউজিল্যান্ডসহ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ৫ শত ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২২ সালের জন্য শক্তিশালী ২২টি ব্যাংক নির্বাচিত করে।

সম্প্রসারণ সক্ষমতা, ব্যালেন্স শিট প্রবৃদ্ধি, ঝুঁকিগত অবস্থান, মুনাফাযোগ্যতা, সম্পদ মান ও তারল্য -এই ছয়টি সূচকের ভিত্তিতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে আসছে।

;

বাংলাদেশ ও ব্রুনাই জ্বালানি সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ও ব্রুনাই জ্বালানি সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ও ব্রুনাই জ্বালানি সহযোগিতা সভা অনুষ্ঠিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রুনাই-এ বাংলাদেশ ও ব্রুনাই দারুসসালামের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে দ্বি-পাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ব্রুনাই-এর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্বালানি উপমন্ত্রী ইয়ং মুলিয়া দাতো সেরি পাদুকা আয়ং হাজী মাতসাটেজা বিন সোকাইয়া নিজ নিজ দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। ব্রুনাই দারুসসালাম হতে বার্ষিক ১ থেকে ১.৫ মেট্রিকটন এলএনজি ২০২৩ সালের প্রথম থেকেই পেতে চাচ্ছি। ১০-১৫ বছর মেয়াদী চুক্তি হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্রুনাই হতে গড়ে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ডেফার্ড পেমেন্টে আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। ব্রুনাই জ্বালানি সহযোগিতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে ২০১৪,২০১৫ ও ২০১৬ সালে মোট ৩লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করেছে। ১০০ ভাগ নিজস্ব রিফাইনারি থাকার শর্তের জন্য ব্রুনাই-এর পিবি ট্রেডিং সিন্ডিয়ান বারহাড থেকে ২০১৬ সালের পরে আমদানি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ব্রুনাই দারুসসালামের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম সরবরাহে সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাধ্যে অংশ নেন ব্রুনাই-এর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি বিষয়ক স্থায়ী সচিব ইয়ং মুলিয়া আযহার বিন হাজী ইয়ায়া জ্বালানি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নিজাম বিন ইজমি, পেট্টোলিয়াম অথরিটির পরিচালক আড্রিয়াম ওয়াং কাই মিং, জ্বালানি বিভাগের জ্বালানি অংশীদারিত্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাজী মোঃ জাকি বিন হাজী হাসানুল আস’সারি ছিলেন।

প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশের পক্ষে জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আযাদ, পেট্টোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যাবেদ চৌধুরী ও ব্রুনাই –এ নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা উপস্থিত ছিলেন।

;