চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও বাংলাদেশ



মামুন হাসান বিদ্যুৎ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত  বিষয়ের মধ্যে চতুর্থ  শিল্পবিপ্লব অন্যতম একটি বিষয়। "চতুর্থ শিল্প বিপ্লব  হলো আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচলিত উৎপাদন এবং শিল্প ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়করণের একটি চলমান প্রক্রিয়া।"

আজকের যুগের ডিজিটাল বিপ্লব, যাকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শব্দটির উৎপত্তি ২০১১ সালে, জার্মান সরকারের একটি হাই টেক প্রকল্প থেকে। একে সর্বপ্রথম বৃহৎ পরিসরে তুলে নিয়ে আসেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ক্লস শোয়াব।

ইন্টারনেটের আর্বিভাবে তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের পর তথ্যপ্রযুক্তির বাধাহীন ব্যবহার ও দ্রুত তথ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের জীবন প্রবাহের গতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইন্টারনেট অব থিংকিং (আইওটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়বে যেটি কিনা মানব সম্পদের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এই ডিজিটাল বিপ্লবের ছোয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থার ঘটবে অকল্পনীয় পরিবর্তন। যেখানে উৎপাদনের জন্য মানুষকে যন্ত্র চালাতে হবেনা, বরং যন্ত্র সয়ংক্রীয়ভাবে কর্ম সম্পাদন করবে এবং এর কাজ হবে আরও নিখুঁত ও নির্ভূল।চিকিৎসা, যোগাযোগ, প্রকাশনা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও এর প্রভাব হবে অত্যন্ত জোরালো।

বাংলাদেশে এই বিপ্লবের সুযোগ গ্রহন করতে হলে আগাম ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আইওটি,ব্লকচেইন ও রোবটিক্স ইত্যাদির ব্যবহার করতে দ্রুত কৌশলগত পরিকল্পনা করতে হবে। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের প্রধানতম লক্ষ্য হতে হবে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী সুদক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, আর এজন্য প্রয়োজন হবে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন।

বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৬ লাখ যা মোট জনসংখ্যার ৩০%। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আগামী ৩০ বছর জুড়ে তরুণ বা উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল ভোগ করার এটাই সব থেকে বড় হাতিয়ার। জ্ঞানভিত্তিক এই শিল্প বিপ্লবে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে দক্ষ মানবসম্পদই হবে বেশি মূল্যবান। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষ চাকরি হারালেও এর বিপরীতে সৃষ্টি হবে নতুন ধারার নানাবিধ কর্মক্ষেত্র।

এই বিপ্লবের ফলে দেশের মানুষের আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির সাথে সাথে জীবন মান বাড়বে। এছাড়া মানুষ তার জীবনকে বেশি মাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভর করবে।আমদানি - রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ থেকে সহজতর হবে। ফলে বর্হিবিশ্বের আধুনিক জীবন ও জীবিকার উপকরণ দ্রুত পৌঁছে যাবে মানুষের হাতে। দেশে বর্তমানে সাড়ে ছয় লাখের বেশি তরুণ তরুণী অনলাইনে কাজ করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। দেশিয় হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার রপ্তানির হার দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং এর বাজার সামনে আরো বিস্তৃত হবে। অনলাইন প্লাটফর্মকে পুঁজি করে কর্মসংস্থানকারীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গী করতে দেশের সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতাকে আরও বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশের নির্মিত ও নির্মাণাধীন হাইটেক পার্কগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

তবে এই বিপ্লবের ফলে গোটা দুনিয়ার একটি বিশাল অঙ্কের মানুষের কাজ হারানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এর প্রভাব আমাদের দেশেও অতি মাত্রায় লক্ষণীয় হতে পারে। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয়গুলোও হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সমাজে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। যেমন ‘কম-দক্ষতা স্বল্প-বেতন’ বনাম ‘উচ্চ-দক্ষতা উন্নত-বেতন’ কাঠামো অর্থনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেজ্ঞ মোকাবেলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ,  ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মধ্যে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি যন্ত্রগুলো আপডেট  করার পাশাপাশি প্রযুক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি আপডেটের মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পুরো জীবনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষ, প্রকৃতি এবং সমাজের সর্ম্পক বৃহত্তর রূপান্তর হতে পারে।

লেখক: মামুন হাসান বিদ্যুৎ, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

হিরোর প্রতিবাদী অভিযোগের স্মার্ট প্রতিকার কি?



প্রফেসর ড. মো: ফখরুল ইসলাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উপনির্বাচনে হেরে গিয়ে হিরো আলম ফলাফল জালিয়াতির ব্যাপারে জোড়ালো প্রতিবাদ করেছেন। ভোট প্রদানকারীরা তাঁর পক্ষে এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে সমর্থন ও সহযোগিতা দিচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনে বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের উপনির্বাচনে একতারা প্রতীকের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম নির্বাচনের ফল পাল্টানোর অভিযোগ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২ ফ্রেরুয়ারি ২০২৩ সিইসি টেলিফোনে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেন। সেই দিনেই গণমাধ্যমকে একথা জানানো হয়।

এই আসনে উপনির্বাচনে ১০ কেন্দ্রে ফলাফল পাল্টানোর অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নজরে আসার পর বেশ হৈ-চৈ পড়ে গিয়েছিল। এই আসনের উপনির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীর কাছে মাত্র ৮৩৪ ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন। কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলার মোট ১১২টি কেন্দ্রে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৭৮ হাজার ৫২৪টি। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন মশাল প্রতীকধারী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একতারা প্রতীকধারী পেয়েছেন ১৯ হাজার ৫৭১ ভোট, তিনি এই ফলাফলের প্রতিবাদকারী হিরো আলম। তিনি সে রাতে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘ভোট চুরি হয়নি, ফলাফল ছিনতাই হয়েছে।’ এজন্য ন্যায়বিচার পেতে তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও বলেন।

তিনি কষ্টের সুরে করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্টে নিজেকে গড়ে তুলেছি। আমি একমাত্র প্রার্থী ৪-৫ জন কর্মী, একটি পিকআপ, দুটি মাইক নিয়ে দুটি আসনের মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। তাদের নানাভাবে সম্বোধন করেছি। ফলে জনগণ আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ভোটার হলেও অনেক বলেছেন, তারা ‘একতারা’ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। সবাই বলেছেন, আপনি পাশ করেছেন। ভোটাররাও ভোট দিয়েছেন, তাহলে ওই সব ভোট কোথায় গেলো? আওয়ামী লীগের লোকজনও তানসেনকে (বিজয়ী) ভোট দেয়নি। অথচ তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।’ .. “সারা বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল... আমার বিজয় ছিনতাই হয়েছে। উচ্চ আদালতে রিট করবো।”

জনাব হিরো আলম আরো বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ ভালো ছিল। তবে নন্দীগ্রামের ফলাফল ঘোষণা করার সময় তাঁর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ৪৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯টির ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পরে বাকী ১০ কেন্দ্রের ফলাফল আলাদা ঘোষণা না করে মোট ফলাফল ঘোষণা করেছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, কেন ওই ১০ কেন্দ্রের ফলাফল একসঙ্গে ঘোষণা করা হলো? এখানেই কারচুপি করা হয়েছে। সব বুথে এজেন্ট থাকলেও প্রিসাইডিং অফিসার তাদের ফলাফলের কপি দেয়নি।”

হিরো আলম আরো বলেন, “আমি অশিক্ষিত, আমি এমপি নির্বাচিত হলে আমাকে স্যার ডাকতে হবে। দেশের সম্মান যেত; তাই ওই সব সাহেবরা আমার ফলাফল পাল্টে দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ওই সাহেবদের দেখিয়ে দিতাম আমিও পারি।”

নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আমাদের দেশে হেরে যাওয়া প্রার্থীরা নানা ভাবে নিজেদের মনের কষ্টকে কাটানোর জন্য নানা বক্তব্য দিয়ে থাকেন বলে একজন নির্বাচন কমিশনার গণমাধ্যমে আলাদা সময়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন। এটা আমরাও জানি। কিন্তু অবস্থাভেদে নির্বাচনী এলাকার ভোটারগণও সেকথা অনুধাবন করে থাকেন। ভোটের পরিস্থিতি ভাল হলে সাধারণত: ঘটনার বাস্তবতায় এসব নিয়ে পরবর্তীতে তেমন কোন প্রতিবাদ দেখা যায় না। কিন্তু হিরো আলমের এই আসনের ভোটারগণ বলেছেন উল্টো কথা। তারা বলেছেন আমরা ভোট দিয়েছি যাকে তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি। এমন আশ্বাসে তাদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থী হতাশ। তাই সেই বিজিত প্রার্থী আদালতে যাবেন এর সুরাহা খুঁজতে।

জনাব হিরো আলমের করা এই অভিযোগ শুনতে শুধু খারাপই নয়- খুব গুরুত্বপূর্ণ ও নেতিবাচক অর্থ বহন করে। এটা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট রিটানিং কর্মকতা ও দায়িত্বরত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের বিরুদ্ধে যায়, যারা সেদিন ভোট পরিচালনা করেছিলেন ও ফলাফল তৈরী ও প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া বড় রাজনৈতিক নেতারা হিরো আলমের এই অভিযোগ শোনার পরও তাকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে না এসে অনেকে তাচ্ছিল্য করেছেন যেগুলো অনেকটা অগণতান্ত্রিক আচরণ। এজন্য সিপিডি সেসব নেতাদের কঠিণ সমালোচনা করতে ছাড়েনি। অপরদিকে সুশীল সমাজের অনেকেই জনাব হিরো আলমকে প্রান্তিকজনের প্রতিনিধি ও ‘আইকন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।

জাতীয় সংসদে একই সময়ে ভিন্ন আরেকটি গুরুতর অভিযোগের কথা শোনা গেছে একজন আইন প্রণেতার বক্তব্য থেকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, “জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা অনেক এলাকায় রাজত্ব চালাচ্ছেন। এসব সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবটা এমন যেন তাদের কথায় যুদ্ধ করে দেশটা স্বাধীন হয়েছে এবং জনপ্রতিনিধিরা অবাঞ্চিত ব্যক্তি। আমরা ইউএনও ও সরকারি কর্মকর্তাদের দয়ায় চলছি। বর্তমানে আমাদের এলাকায় যে সরকারি কর্মকর্তা আছেন ইউএনও, ডিসি, তারাই মনে হয় দেশটার মালিক। তারা যা করে সেটাই চলে।”উক্ত সাংসদ আরও বলেন, “আমরা কিছু চাইলে, কোন কাজ করতে বললে, কোন লোক পাঠালে আমাদের কথা শোনা হয় না। শুধু আমি না, এই সংসদে অনেকই আছেন যাদের এলাকায় সরকারি কর্মকর্তারা রাজত্ব চালাচ্ছেন। আমরা নামমাত্র নির্বাচিত হয়েছি। বাস্তবে প্রকৃত ক্ষমতার মালিক তারাই।”

এসব অভিযোগ হয়তো সংশ্লিষ্ট জনেরা মামুলী হিসেবে মনে করে মোটেও আমলে নিতে চাইবেন না। কেউ হয়তো হেসে উড়িয়ে দেবেন। নয়তো এর পাল্টা প্রতিবাদে নানা ডকুমেন্ট যোগাড় করে পার পেতে চেষ্টা করবেন। হয়তোবা এজন্য তারা কর্তৃপক্ষের বিশেষ আনুকূল্য পেয়ে পার পেয়ে যাবেন। সহজে পার পেয়ে যেতে পারেন এই সম্ভাবনার জন্য তারা হয়তো এরুপ নাজুক পরিস্থিতি হোক তা নিয়ে আগে মোটেও চিন্তা করেননি।

তবে একটি দেশের প্রধান বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ছাড়া এসব উপ-নির্বাচনে কোন সাধারণ স্বতন্ত্র বিজিত প্রার্থী এমন কড়া প্রতিবাদ করতে পারে সেটাই এই মুহূর্তে মূখ্য বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। গতিশীল ও অবাধ অন্তর্জাল তথ্যপ্রাবাহ সঞ্চালনের এই যুগে গণমাধ্যমের কল্যানে কোন কিছুই মানুষের অজানা নয়। জনগণের সাথে সামান্য চালাকি আজকাল অতিদ্রুত অনুভব করা যায়, বোঝা যায়। জনাব হিরো আলমের অভিযোগের ভিত্তি ততটা নড়বড়ে নয় বলে মনে হয়। কারণ, একজন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে তিনি যে আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন তা আমলে নেবার গ্রহণযোগ্য যুক্তি রয়েছে।

সেটা হলো আমাদের দেশে ‘হোয়াইট কলার ক্রাইমের’ব্যাপক উপস্থিতি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করার সরকারী -বেসরকারী ভুর ভুরি নজির। যা প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন পত্রিকার শিরোনাম হয়ে থাকে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় ক্ষুদ্র সংগঠনের সদস্যরা এই ঘটনার সংবাদ করার জন্য স্থানীয় দুজন সাংবাদিককে নাজেহাল করেছেন বলেও সংবাদ হয়েছে।

অর্থাৎ, হিরো আলমের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বিষয়টিকে সবাই একটি ছেলেখেলা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে জেতার জন্য অতি কাছাকাছি চলে আসবেন সেটা তাদের ধারণাতেও ছিল না। আর এখানেই ঘটেছে যত বিপত্তি। এই বিপত্তি ঠেকাতে সর্বশেষ দশটি কেন্দ্রের ফলাফল আটকে রেখে সেগুলো পরে প্রকাশ করা হয়েছিল এবং সেই ফলাফলের কপি হিরো আলমের এজেন্টদের নিকট আগে দেয়া হয়নি বলে তিনি সংবাদ সম্মেলণ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

অন্যায়ভাবে আনুকূল্য পাবার জন্য দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে তোয়াজ-তোষণের মচ্ছবের কথা বেশ আগেই চালু হয়েছিল। কিন্তু সেই মচ্ছব এখন অতি নোংরাভাবে প্রকাশিত হবার ক্ষেত্র তৈরী করেছে। ‘হোয়াইট কলার হিরোইজমের’ নিকট জনাব হিরো আলমের সিনেমায় হিরোগিরি তেমন কোন বিষয় মনে না হলেও সংসদে গেলে তাকে স্যার বলে সম্বোধন করলে তাদের মান-ইজ্জত ধূলোয় মিশে যেতে পারে একথা তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন অকপটে। এখানেই আসল গণতন্ত্রের সাথে দুষ্ট গণতন্ত্রের আমলাতান্ত্রিক ভাবধারার নেতিবাচক চরিত্রটি পরিস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। সেরকম একটি সমাজে আমরা বাস করছি। আগেকার দিনে সমাজে অপরাধ করতো কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি। এখন পুঁজি ও পদ দখলের লোভে সব সেক্টরে অগণিত কেতাদুরস্ত অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়েছে। যারা অন্যের পাকা ধানে মই দিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা পাবার আশায় সবসময় ওঁৎ পেতে থাকছে।

আর এজন্যই একজন আইন প্রণেতা অত্যন্ত ত্যাক্ত-বিরক্ত হয়ে মহান জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর বক্তব্য দেবার সময় প্রচলিত দুষ্ট গণতন্ত্রের আমলাতান্ত্রিক ভাবধারার দুষ্ট চরিত্রগুলা সম্পর্কে ক্ষেদোক্তি করতে মোটেও কুন্ঠিত হননি। এই বাস্তব সময়ে তার মূল্যবান বক্তব্য হতাশ জাতিকে আশার আলো দেখাতে পারে বলে মনে করা যায়।

এই সৎসাহস সব সাংসদগণের হোক, সব ভোটপ্রার্থীদের হোক, বঞ্চিত, নির্যাতিত, নিপিড়ীত মানুষের কন্ঠে ধ্বণিত হোক। মূল কথা হলো- শুধু বক্তব্য ও প্রতিবাদী অভিযোগের বেড়ায় বন্দী না থেকে এসব অভিযোগের যেন অতিদ্রুত যথার্থ আইনী সমাধান লাভ করা সম্ভব হয় সেজন্য আদালত-ইসি-দেশের সর্বচ্চো কর্ণধার সবার ঐকান্তিক সহযোগিতা দরকার। আমরা শুধু উপ-নির্বাচন নিয়ে নয়, ছোট-বড় গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে স্মার্ট তস্করদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আর কোন ব্যাপারেই এ ধরণের প্রতিবাদী অভিযোগ শুনতে চাই না।

*লেখক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডীন। E-mail: [email protected]

 

;

মিয়ানমার -  সেনাশাসনের দুই বছর: হতাশাপ্রাপ্তি ও প্রত্যাশা



ব্রি. জে. (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দীন
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হল। ২০২০ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি)বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।দায়িত্ব গ্রহনের আগেই ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে এবংঅং সান সু চিসহ এনএলডি’র জ্যেষ্ঠ নেতাদের গ্রেফতার করে।মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের দুই বছর পূর্তিতে গণতন্ত্রপন্থী সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরা নীরব ধর্মঘট পালন করেছে।মিয়ানমারের এস্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল (এসএসি) ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি শাসন করছে। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সেনাবাহিনী দেশজুড়ে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে পড়েছে যা এর আগে দেখা যায় নাই। সামরিক শাসনের সময়কালের হতাশা, প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার কিছু দিক এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

হতাশাঃসামরিক অভ্যুত্থান মিয়ানমারকে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে সামরিকশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী, প্রতিবাদী সাধারণ মানুষ, জাতীয় ঐক্যের সরকার(এনইউজি)এবং তাদের সশস্ত্র সংগঠন পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) সদস্যরা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছে।সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখলের পর ‘মিয়ানমারে প্রতিদিন যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে গত দুই বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত,১৫ লক্ষ মানুষ গৃহহীন, ৪০ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং৮০ লক্ষ শিশু স্কুলে যেতে পারছে না। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, দেড় কোটি লোক চরম খাদ্য সংকটে ভুগছে।মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখনো দেশটির বেশীরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি। তারা বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও পিডিএফের আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছে।জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুসারে অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনীর সাথে চলমান সংঘর্ষে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রতি মাসে এই সংখ্যা কয়েক হাজার করে বাড়ছে। সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি’র বিভিন্ন মামলায় মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।সু চি ও তার দলের অন্তত ১৬ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি লোক জান্তার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ও এদের মধ্যে ১৩ হাজার সদস্য কারাগারে আছে।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরি করছে। মিয়ানমারের অস্ত্র তৈরির উপকরণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করছেজার্মানি, জাপান, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ফ্রান্স সহ প্রায় ১৩টি দেশ থেকে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর বিভিন্ন রকম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরও তাদের অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ হয়নি।পশ্চিমাদের সরবরাহ করা উপকরণ ও প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা এসব অস্ত্র মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটিতে চলমান সেনা–সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করছে।মিয়ানমার ইস্যুতে নিরপেক্ষতার নীতি নেয়া অনেক দেশ সামরিক শাসকের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করেনি।চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইসরায়েল, ইউক্রেনের বিভিন্ন অস্ত্র কোম্পানি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবহার্য ক্ষুদ্র অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাপাসাকে কাঁচামাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করছে।ক্ষুদ্র অস্ত্র তৈরিতে মিয়ানমার সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়ে থাকেচীন, রাশিয়া ও ভারত থেকে। সামরিক বাহিনীকে অস্ত্রসহায়তা দেয়াবন্ধ করলে পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে বলে অনেকে মনে করে।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় উৎস তেল ও গ্যাস।মিয়ানমারে কাজ করা তেল কোম্পানিগুলো তেল ও গ্যাস শিল্প খাতে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এ থেকে সামরিক সরকার উপকৃত হচ্ছে। এসব কোম্পানি সেনাবাহিনীর নৃশংস কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছে। দেশের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস প্রকল্পের বেশির ভাগ মালিকানা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের(এমওজিই)।২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত এ খাত থেকে আয় হয়েছিল১৭২ কোটি ডলার।বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় যে অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের ঠিকাদারের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের।

মিয়ানমারে আফিমের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এটি গত নয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।মিয়ানমারের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেছে। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে আফিম চাষে যুক্ত হয়েছে।জীবিকার জন্য আফিম চাষের বদলে অন্য শস্য উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা দিতে হবে।

ক্ষমতা দখলের দুই বছর পূর্তিতে সেনাসরকার চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৩ সালের আগস্টের মধ্যে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জরুরি অবস্থার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, হলেও তা হবে একতরফা এবং সেই নির্বাচনের লক্ষ্য হবে সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট দলকে ক্ষমতায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়া।নির্বাচনের জন্য যোগ্য হতে রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, সেনা সরকার যেসব নিয়মের কথা বলেছে তার প্রায় সবই ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টিকেই গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে, এনএলডি২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে এই দলকে হারিয়েই ক্ষমতায় গিয়েছিল।সেনা শাসকদের নির্বাচন পরিকল্পনা থেকে বোঝা যায় যে তারা এন এল ডি কে এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে দেবে না। সে জন্য এন এল ডি জনগণকে সামরিক শাসকের আয়োজিত এই নির্বাচন বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রাপ্তিঃ ২০২৩ সালের৩১ জানুয়ারি,ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় এমওজিইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালকআছে।২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)এমওজিই’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মিয়ানমারে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এসব দমন–পীড়নে এমওজিইজান্তার অর্থের উৎস হওয়ার কারনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।অন্যান্য দেশের পাশাপাশি, ব্রিটেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে জ্বালানি সরবরাহ করে এমন সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেনাবাহিনীর অর্থ, জ্বালানি, অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে আনাএই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য।অস্ট্রেলিয়া সামরিক সরকার-নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা দুটি প্রধান ব্যবসায়িক সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন, খনির উদ্যোক্তা, জ্বালানি কর্মকর্তা এবং বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সাবেক এবং বর্তমান সামরিক কর্মকর্তাদের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগবেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার তৈরি বিমান ব্যবহার করে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।৩১ জানুয়ারীকানাডা মিয়ানমারের ছয় ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং বিমানের জ্বালানি রফতানি, বিক্রয় ওসরবরাহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ব্রিটেন মিয়ানমারের বিমান বাহিনীকে তার নিজস্ব নাগরিকদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত বিমানের জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করার জন্য দুটি কোম্পানি এবং দুই ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবটিতে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সুচিসহ সব রাজবন্দীর মুক্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। পাস হওয়া প্রস্তাবটিতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবটিতে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিমিত্ত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায় এবং সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ২০২১ সালে গৃহীত পাঁচ দফা ঐকমত্যের দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।মিয়ানমারের প্রায় অর্ধেক অংশএখন এনইউজির দখলে।সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ চলমান রয়েছে যা এনইউজি’র একটা বড় অর্জন।অনেক সেনাসদস্য ও প্রশাসনে কর্মরত বেসামরিক সদস্য জান্তা সরকারের পক্ষ ত্যাগ করেছে। মিয়ানমারের ইতিহাসে এধরনের ঐক্য আগে দেখা যায়নি। এনইউজি মিয়ানমারকে ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে সেখানে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করার কথা জানানোর পর আরাকান আর্মি(এএ) প্রথমবারের মতো এনইউজি’র সাথেও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ‘বার্মা অ্যাক্ট ২০২২-এর কারণে এনইউজি এখন পুনরুজ্জীবিত। বার্মা অ্যাক্টে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মিয়ানমারসহ এ অঞ্চলে গণতন্ত্রায়ণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এনইউজি মনে করে, বার্মা অ্যাক্টের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম স্বীকৃতি পেয়েছে।কয়েকটি দেশ এন ইউ জি'রসাথে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এনইউজি’র মুখপাত্র জানিয়েছে যে রোহিঙ্গারা তাদেরই জনগণ এবং তাদের ওপর যে নৃশংসতা হয়েছে তার বিচার তারা নিশ্চিত করবে।দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে। তারা রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দিয়েছে।

প্রত্যাশাঃ মিয়ানমারের বিপর্যয়কর এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এখনও অনিশ্চিত।চলমান পরিস্থিতিতে সঙ্কট সমাধানের জন্য অবিলম্বে অং সান সু চি সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি দেয়া দরকার।গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেবেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা বন্ধ চলমান সহিংসতার জন্য দায়ীদেরকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। এসব নিশ্চিতে পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন করতে হবে।আসিয়ান ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো একত্রে মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ও তাদের স্বাভাবিক জীবিকা নিশ্চিত করতে কার্যকরী সহায়তা প্রদানে তৎপর হতে হবে।

মিয়ানমারে সামরিক সরকার ও ১৯৮২-এর নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন না করলেরোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা কম, এনইউজি ক্ষমতায় আসলে এই আইন পরিবর্তন করবে বলে জানিয়েছে।এএ প্রথম দিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধাচরণ করলেও তাদের রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড লিগ অব আরাকানের (ইউএলএ) প্রতিনিধি জানিয়েছে যেতারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ও তারা বাংলাদেশের সহযোগিতা চায়।রোহিঙ্গাদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করার জন্য গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সকে (এআরএনএ) এএ এবং এনউজির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে এবং এই কার্যক্রমের সাথে জাতিসংঘকে যুক্ত করতে হবে।রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জটিলতা সৃষ্টি করছেএবংবাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিরতা পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করেছে। চলমানপ্রেক্ষাপটেমিয়ানমারে শান্তি ফিরে আসবে এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাবে এটাই হোক সবার প্রত্যাশা।

ব্রি. জে.(অব.) হাসান মো. শামসুদ্দীন, এন ডি সি, এফ ডব্লিউ সি, পি এস সি

মিয়ানমার রোহিঙ্গা বিষয়ক গবেষক

;

বই হোক নিত্যসঙ্গী



সোহেল মিয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অন্তহীন জ্ঞানের উৎস বই। আধুনিক সভ্যতায় মানব জীবনে বইয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব। মানুষের অনন্ত জিজ্ঞাসা, অসীম কৌতুহল তার এই সকল প্রশ্নের সমাধান আর অন্তহীন জ্ঞান ধরে রাখে বই। শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে মানুষের সকল জ্ঞান জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের ভেতর। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার এই যুগে বই যেন রঙিন মোলাটে কাঠের চার দেওয়ালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

আমাদের প্রিয় স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য কি ছিল সেটা আমরা বেমালুল ভুলে যেতে বসেছি। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় ছিল আমাদের স্বাধীনতার মূলমন্ত্র। কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন। স্বাধীনতার এতো বছর পরেও আজ জ্ঞান-বিজ্ঞান উৎকর্ষে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। প্রযুক্তির অপব্যবহার আজ আমাদের গ্রাস করেছে তরুণ প্রজন্মকে। যাদের হাতে নির্ভর করছে বঙ্গবন্ধুর আগামীর সোনার বাংলা। আমাদের প্রজন্মকে আমরা যদি জ্ঞান অর্জনের অন্যতম বাহন বইয়ের প্রতি মনোনিবেশ করাতে না পারি তাহলে আমাদের অদূর ভবিষ্যৎ খুব একটা সুখকর হবে না।

বর্তমানে জাতিকে উন্নত করার লক্ষ্যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে আলোর মুখ দেখতে হলে অবশ্যই বইকেই প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে নিতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্বের ইতিহাস, দেশের ইতিহাস, নিজ দেশের মক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামাজিক, রাজনৈতিক, দর্শন, বিজ্ঞান, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য সম্পর্কিত জ্ঞান যত বেশি অর্জিত হবে তত মনন জগত সমৃদ্ধ হবে। একটি ভালোমানের বই পারে সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে। আর সামাজিক ও মানসিকভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই মূল লক্ষ্য তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

আমাদের মধ্যে এখনো ধারণা রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে- মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহার আর ইন্টারনেট। বর্তমান সরকার ৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং খুবই প্রশংসনীয় উদ্যােগ। তবে শুধুমাত্র জাতীয় দিবস ঘোষণা করলেই হবে না। এক্ষেত্রে সবাইকে গ্রন্থাগারমুখী করে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে গ্রন্থাগারের সার্বিক উন্নয়ন তথা ডিজিটালাইজেশন এবং পেশাজীবী গ্রন্থাগারিক সৃষ্টি ও তাদের জীবন মানোন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবী গ্রন্থাগারিক সৃষ্টি করতে পারলে তবেই স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস ২০২৩ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। যা আশার আলো দেখায়।

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বই পড়ার চর্চা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কালের পরিক্রমায় সভ্যতার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে গ্রন্থাগার। তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষে বই সংরক্ষণ ও পড়ার অভ্যাস ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। সে- প্রেক্ষিতে মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ পালন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গ্রন্থাগার হলো তথ্যের অফুরন্ত ভান্ডার। সরকার সর্বসাধারণের জন্য আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন গ্রন্থাগার নির্মাণে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ফলে পাঠক, গবেষক ও তথ্য সংগ্রহকারীদের কাছে গ্রন্থাগারের ভূমিকা আরো আকর্ষণীয় ও কর্মপোযোগী হয়ে উঠবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, গ্রন্থ ও গ্রন্থাগার হয়ে উঠুক সকলের পথ চলার পাথেয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের গ্রন্থাগারগুলো তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আন্তর্জাতিকমানের গ্রন্থাগারের মতো উন্নত এবং সমৃদ্ধ হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলোকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গণগ্রন্থাগার অধিদফতরসহ সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-সম্বলিত এবং অত্যাধুনিক ও নান্দনিক গণগ্রন্থাগার ভবনে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের বহুতল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকারপ্রধান বিশ্বাস করেন, ‘জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস’ পালন গ্রন্থাগার ব্যবহারে দেশের মানুষকে আরো উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সহযোগী ভূমিকা রাখবে।

আমরাও বিশ্বাস রাখি- সমাজ পরিবর্তনে বই হবে হাতিয়ার। বই হবে সবার জীবনের নিত্য সঙ্গী। বইয়ে বইয়ে ভরে উঠবে আমাদের আগামি প্রজন্মের সম্ভাবনাময় কোমল হাত। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তৈরি হবে স্মাট গ্রন্থাগার ও স্মার্ট পাঠক।

লেখক: সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম ও সহকারি শিক্ষক, বালিয়াকান্দি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী

;

স্বপ্নযাত্রায় স্বপ্নের বিস্তৃতি আকাশ সমান



মো. কামরুল ইসলাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা সবাই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি, ঘুম ভাঙলে চিমটি কেটে দেখি ঘুমিয়ে আছি নাকি জেগে আছে। ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্ন ক্ষণিকের মধ্যে বাতাসে ভেসে ভেসে দূর আকাশে হারিয়ে যায়। বাংলাদেশ এভিয়েশনে একজন স্বপ্নবাজ ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখায় অভ্যস্ত। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আজ থেকে ১০ বছর পূর্বে কোনো এক নিরব নিস্তব্ধ শব্দহীন আবহে বাংলাদেশ এভিয়েশন, কন্টকাকীর্ণ আকাশ ভ্রমণ, প্রায় ১০ মিলিয়ন প্রবাসী শ্রমিক ভাই বোন, শত সহস্র ছাত্র-ছাত্রীদের আকাশ পরিবহনের যাত্রা, আর সারা বছরের পর্যটন পিপাসু পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সব কিছু নিয়ে যখন অসামঞ্জস্যতা, তখনই স্বপ্নযাত্রায় এয়ারলাইন্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। শুধু সিদ্ধান্ত নয়, বাংলাদেশ এভিয়েশনে নতুন সূর্য হয়ে উদিত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এক বছরের মধ্যেই ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে ঢাকা-যশোর রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেন।

প্রতি মুহূর্তে স্বপ্নের ভেলায় ভাসতে থাকেন ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। দুইটি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট দিয়ে শুরু, বছর ঘোরার আগেই তিনটিতে রূপান্তর। এক বছরের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে সকল চালু বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। যে স্বপ্ন জেগে দেখা হয় তা কি করে থেমে থাকবে। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পূ্র্বেই দেশের গন্ডি ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে ডানা মেলেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

সময় পেরিয়ে যায় স্বপ্ন বড় হতে থাকে। স্বপ্নের ডালপালা বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। স্বল্প আসনের এয়ারক্রাফটে স্বপ্নগুলোর পূর্ণতা দিতে পারছে না। তাই তিন বছরের মধ্যেই নিয়ে আসে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে অসংখ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দেশীয় এয়ারলাইন্স এর স্বল্পতা তাদের আকাশ ভ্রমণকে করে তুলেছে দূর্বিষহ। সেই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য জাগ্রত স্বপ্নবাজ ইউএস-বাংলাকে ধারাবাহিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত করে মাস্কাট, দোহা, দুবাই. শারজাহ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

বাংলাদেশী কমিউনিটি পৃথিবীর যেসব দেশে অবস্থান করছে, তাদেরকে সেবা দেয়ার মানসে সেসব দেশে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ় চিত্তে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে মানবিক এয়ারলাইন্স এর রূপ দিতে গিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরে প্রথমবারের মতো চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য গমণকারী যাত্রীদের জন্য ভারতের কলকাতার পাশাপাশি চেন্নাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে।

বাংলাদেশে প্রাইভেট এয়ারলাইন্স এর শুরুর পর থেকে চালু কিংবা বন্ধ হওয়া সকল এয়ারলাইন্স এর উড়োজাহাজগুলোর গড় বয়স প্রায় ১৯ বছর কিংবা তার চেয়েও পুরাতন। যা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে। সেখানে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক দৃঢ়ভাবে সংকল্পবদ্ধ ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজগুলোর গড় বয়স হবে ১০ বছরের নিচে। যার ফলে বাংলাদেশী এয়ারলাইন্স হিসেবে ইউএস-বাংলা আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে। স্বপ্ন ছিলো অভ্যন্তরীণ রুটে ব্র্যান্ডনিউ এয়ারক্রাফট দিয়ে যাত্রীদের সেবা দেয়া। আর সেই স্বপ্ন পূরণে ইউএস-বাংলায় যোগ করেছে ৭টি ব্র্যান্ডনিউ এটিআর ৭২-৬০০ এয়ারক্রাফট।

২টি ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ এয়ারক্রাফট নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ১৮টি এয়ারক্রাফট। যার মধ্যে তিনটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০, ৭টি এটিআর৭২-৬০০ এবং ৮টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফট। অনিন্দ্য সুন্দর মায়াবী মালদ্বীপে প্রায় লক্ষাধিক বাংলাদেশী বাস করে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সই প্রথম দেশীয় এয়ারলাইন্স হিসেবে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে।

থাইল্যান্ডের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে ব্যাংকক ফ্লাইট পরিচালনা করছে পর্যটকদের ভ্রমণকে আনন্দময় করার জন্য। আর চীনের গুয়াংজুতে ফ্লাইট পরিচালনা ছিলো অনেকটা স্বপ্নযাত্রার পথে একধাপ নিজেকে এগিয়ে রাখার জন্য। সেই যাত্রাকে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ঢাকা থেকে গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে।

স্বপ্ন দেখার বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন আকাশ সমান পরিধি নিয়ে। পবিত্র মক্কা-মদিনাতে হজ্জ্ব ওমরাহ পালন করার সুবিধার্থে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার স্বপ্ন বুনছে। সেই স্ব্প্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আগামী মে মাসে ইউএস-বাংলার বহরে দুইটি এয়ারবাস ৩৩০ যোগ করতে যাচ্ছে। যা দিয়ে ঢাকা থেকে জেদ্দা, রিয়াদ, দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা।

স্বপ্ন আর বাস্তব, পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন যেন একটি আরেকটির পরিপূরক হয়ে উঠছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের স্বপ্নযাত্রায়।

দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে, এশিয়ার গন্ডি পেরিয়ে, প্রত্যাশার পাহাড়ে বিশ্বময় দ্যূতি ছড়িয়ে দিক ইউএস-বাংলার অগ্রযাত্রা।

লেখক: মো. কামরুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

;