উপাচার্য-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে অর্ধমাস অচল কুবি, শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা



অনন মজুমদার, কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
উপাচার্য-শিক্ষক সমিতি দ্বন্দ্বে অর্ধমাস অচল কুবি

উপাচার্য-শিক্ষক সমিতি দ্বন্দ্বে অর্ধমাস অচল কুবি

  • Font increase
  • Font Decrease

উপাচার্য ও শিক্ষক সমিতির মধ্যকার দ্বন্দ্বে ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সকল অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। গত ২৯ এপ্রিলে শিক্ষক সমিতির অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং ৩০ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে সাতটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তাবিত রুটিন প্রকাশ এবং পাঁচটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার পর থেকে অর্থনীতি বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং মার্কেটিং বিভাগের আটটি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। যে সাতটি বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার লক্ষে রুটিন হাতে এসেছিল, সেগুলোও ইতোমধ্যেই শুরু হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই থেকে যায়। কেউ কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া বাসে করে ফিরে যান বাড়ি। দফায় দফায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য - শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। তারা চান, দ্রুত সময়ের মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসুক।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহীদ হোসেন সানি বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে আমাদের শিক্ষা জীবন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার উপর শিক্ষকদের ক্লাস পরীক্ষা বয়কটের সিদ্ধান্ত আর এরপর প্রশাসনের অনির্দিষ্টকালের বন্ধ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। ঈদের পর আমাদের স্নাতকোত্তর ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের ইনকোর্সই শেষ হয়নি। কবে নাগাদ সবকিছু স্বাভাবিক হবে, এসবের কিছুই জানি না। আমরা খুবই হতাশ। শিক্ষকদের এই দ্বন্দ্বে আমরা সাত হাজার শিক্ষার্থী কেন ভুক্তভোগী হবো?'

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কুবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের দিনই। ঐদিন বিকালে উপাচার্যকে ঘেরাও করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এছাড়া উপাচার্যকে ‘নব্য আলী জিন্নাহ’ বলেন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান৷ ৬ মার্চ উপাচার্যকে সবার সামনে পদত্যাগ করতে বলেন ও ‘ডাস্টবিন’ বলেও সম্বোধন করেন।

গত ১৩ মার্চ শিক্ষক সমিতি সাত দফা দাবি জানিয়ে কর্মসূচি শুরু করে। এরপর ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পর ২৫ এপ্রিল উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল দুপুরে উপাচার্য প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের সময় উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি ও শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রিমুখী ধাক্কাধাক্কির পর শিক্ষক সমিতি তাদের সাত দফা দাবি থেকে সরে এসে উপাচার্য ও ট্রেজারারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর ২৯ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরেরদিনই সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও হলসমূহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

২৮ এপ্রিলের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে কুবি শিক্ষক সমিতি ও প্রশাসন৷ শিক্ষক সমিতি উপাচার্য, ট্রেজারারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে এবং প্রশাসন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শিক্ষক সমিতির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ জানায়।

এদিকে কুবি শিক্ষক সমিতির সাত দফা দাবির পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ১৯ জন শিক্ষক। তবে বর্তমান এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি উপাচার্য কিংবা শিক্ষক সমিতিকে। বরং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে কুবি শিক্ষক সমিতি। ২৪ এপ্রিল ৯২তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং সিন্ডিকেট থেকে চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত চারটি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি অবিহিত করে দিক নির্দেশনা চাইবে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য দফতরে হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, আগামী ১৬ মে অধ্যাপক গ্রেড-১ ও অধ্যাপক গ্রেড-২ পর্যায়ে উন্নীতকরণের জন্য সভা আহ্বান করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. সাদেকা হালিমকে শিক্ষক সমিতির দাবিগুলো নিয়ে শিক্ষক সমিতির সাথে আলোচনা করে দাবিসমূহ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্ব প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সিন্ডিকেটের চার সিদ্ধান্তকে উপাচার্যের 'সমস্যা সমাধানের দৃশ্যমান উদ্যোগ নয়' দাবি করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং তারা তাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানায়।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের উপর যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিলো তার প্রতিবাদে আমরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য সে সমস্যার সমাধান না করে যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আমরা শিক্ষক সমিতি সেটার সাথে একমত নই। আমরা চাই দ্রুত ভিসির অপসারণ হোক এবং এই সমস্যার সমাধান হোক। আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হোক চাই না। পাশাপাশি, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে ক্লাস পরীক্ষা দিতে পারুক।’

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধ করার আগেই ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আসছিল শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় সিন্ডিকেটের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- ক্যাম্পাস ও হল বন্ধের। আশা করছি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।’

   

মুস্তাকিম-ইকবালের নেতৃত্বে ইবি’র আই-ইইই



ইবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার্স (আই-ইইই) ইবি ব্রাঞ্চের ২০২৪ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুস্তাকিম মুসল্লী পিয়াস ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন ইকবাল হোসেন।

বুধবার (১২ জুন) আই-ইইই এর ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গতকাল অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

৩২ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ সভাপতি ফারুক আহমেদ, শফিকুল ইসলাম ও মারুফা ইয়াসমিন মিশু এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রনক হাসান এবং সহকারী সম্পাদক হিসেবে সাজ্জাদ হোসেন সৈকত পদপ্রাপ্ত হয়েছেন।

কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মো. বুরহান মিয়া, ওয়েবমাস্টার আব্দুল্লাহ আল নোমান ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ওয়েবমাস্টার ইব্রাহিম চৌধুরী এবং সাদমান সাকিব। এছাড়াও প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ মো. হেমায়েত হোসেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম এক্সিকিউটিভ জুবায়ের আনজুম রনি এবং ভিজুয়াল অ্যান্ড গ্রাফিক্স কো-অর্ডিনেটর হজরত শাহ শয়ন ও সাকীফ মাহমুদ ফয়সাল। পাবলিক রিলেশনস কোঅর্ডিনেটর মুবাশশির আমিন। তাছাড়া লজিস্টিকস কো-অর্ডিনেটর শাহজাদা সাজিদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট লজিস্টিকস কো-অর্ডিনেটর মাহবুব হাসান উল্লাস ও আশিকুর রহমান সম্পদ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অপারেশন কো-অর্ডিনেটর নাঈমুল ফারাবী ও মো. জুলফিকার আলী। কন্টেন্ট রাইটার কোঅর্ডিনেটর কে এম জুবায়ের আহমদ, পাবলিকেশন কোঅর্ডিনেটর ওমর ফারুক, স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটি কোঅর্ডিনেটর মো. ইয়াকুব আলী ও সরকার তুহাসসিনুল আর্নব রয়েছেন। 

সাজিয়াতুন জান্নাত ছোঁয়া ও জীবন আলী উক্ত কমিটিতে আছেন পাবলিসিটি কোঅর্ডিনেটর হিসেবে। বিভিন্ন বিভাগের মেম্বারশিপ ডেভলপমেন্ট কোঅর্ডিনেটর হিসেবে আছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নাবিলা, এ আর রাফি অয়ন, তৌহিদ হাসান নীরব ও তাহমিদ ইসলাম আকিব। ফটোগ্রাফি কোঅর্ডিনেটর মিনহাজ তাজনিম হিমেল ৩২ সদস্যের এই কমিটিতে পদায়ন হয়েছেন।

এছাড়াও আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের কাউন্সিলর হিসেবে সংযুক্ত আছেন আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মমতাজুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. মনজারুল আলম ও অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন।

সদ্য গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন ‘আমরা প্রযুক্তির উন্নতি ও উদ্ভাবনের প্রতি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নতুন ধারণা ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের শাখাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। সকল সদস্যের সহযোগিতায় আমরা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য নিরলস পরিশ্রম করবো।’

নবনির্বাচিত সভাপতি মুস্তকিম মুসল্লী পিয়াস বলেন ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের সদস্যদের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারে।’

প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্সটিটিউট অব ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স (আই-ইইই) বিশ্বের ইঞ্জিনিয়ারদের সর্ববৃহৎ সংগঠন। সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী প্রকৌশল ও প্রযুক্তির উন্নতি সাধনে নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ২০১৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আই-ইইই স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ যাত্রা শুরু করে। একই বছর দেশসেরা উদীয়মান ব্রাঞ্চ হওয়ার গৌরব অর্জন করে আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ।

;

পার্বত্য অঞ্চলে কিছু গোষ্ঠী বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে: চবি উপাচার্য



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো আমাদের সংবিধানে বিস্তারিত বলা আছে। বঙ্গবন্ধু এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা রাখতেন বলেই সংবিধানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার সমানভাবে যুক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (১১ জুন) বেলা ২টায় চবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশের (সিসিআরএসবিডি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত "সশস্ত্র সংঘাত ও তথ্যবিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা" শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

চবি অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, বিশেষ অতিথি চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ, সিসিআরএসবিডির পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু খুব দ্রুত পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করেছিলেন। ইতোমধ্যে নৃগোষ্ঠীর ভাষাগুলো সংগ্রহের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো মূলত তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই। যুবসমাজের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, আমাদের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু ভালো করে জানতে হবে প্রকৃত ঘটনা কী? প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে, আলোচনায় বসতে হবে, যুক্তিতর্কের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের চেয়ে জলভাগে সম্পদ বেশি থাকে। আমাদের সমুদ্রে যে সম্পদ আছে, সেটা আহরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও ব্লু ইকোনোমির দিকে নজর দিচ্ছেন। খুব দ্রুতই কক্সবাজার আন্তর্জাতিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হয়ে উঠবে। মূলত সব সংঘাতের পেছনে এগুলোই কারণ। সাম্রাজ্যবাদ বিভিন্নভাবে আপনার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাইবে, সেগুলো আমাদের বুঝতে হবে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। মনে রাখবেন আমাদের দেশে দুর্নীতিও হয়, উন্নতিও হয়। এটাকে অনেক অর্থনীতিবিদ মিস্ট্রিয়াস ইকোনমিও বলছে।’

অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। অস্ত্রের মুখে কোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। পাহাড়ে যেভাবে সন্ত্রাস-০জঙ্গিবাদ চলছে, তা কারও অজানা নয়। আমাদের সচেতনভাবে সেগুলো মোকাবিলা করতে হবে।’

সিসিআরএসবিডির পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু বলেন, ‘দুঃখের বিষয় এ অঞ্চলে সংঘাতের কারণে আমাদের মানুষের মাঝে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমাদের সংঘাতের কারণগুলো উদঘাটন করতে হবে। তথ্য বিভ্রান্তি আমাদের এ সংঘাতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মারমা সম্প্রদায় শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতি ঐতিহ্যগতভাবে একমত। বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আমরা শিখতে পারি শান্তি স্থাপনে যুবসমাজ অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আপনাদের সচেতনতা এবং সহযোগিতাই কাম্য।’

সভাপতির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের সঙ্গে যে শান্তিচুক্তি, সেখানের ৭৫টি দাবির মধ্যে ৫০টির বেশি ইতোমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। অথচ আমরা দেখছি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সংঘাত সৃষ্টি করছে। ফলে শান্তিচুক্তি ভঙ্গ হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। সেটা একবার পার্বত্য অঞ্চল ঘুরে এলেই উপলব্ধি করা যায়।’

;

চবিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সংঘাতের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার



চবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্রগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি) এর উদ্যোগে 'শান্তি ও উন্নয়নের পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম: সশস্ত্র সংঘাত ও তথ্য বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবসমাজের ভূমিকা ' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।

এতে চবি উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময়ী হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. আবু তাহের, বিশেষ অতিথি উপ উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক বেনু কুমার দে।

এসময় ধারণাপত্র পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিসিআরবিডি'র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ, প্যানেল আলোচক ছিলেন, সিসিআরবিডি'র পরিচালক রাজকুমার সুই চিং প্রু, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

ধারণাপত্রে সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে হবে। শান্তি একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত করতে হবে। পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া তরুণ সমাজকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। ইতিহাস ও অধিকার সম্পর্কে তাদেরকে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের মুখে কোনো সমস্যার সমাধান করা কখনোই সম্ভব নয়। তাই আমরা চাই আমাদের জ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অভিমতকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্ষদে পৌঁছে দিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে দেশি বিদেশি তথ্য বিভ্রান্তির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য গোপন করে মিথ্যা ও গুজব প্রচারের দ্বারা অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা নস্যাৎ করতে হবে।

সেমিনারে মানিকছড়ি মং রাজবাড়ির রাজকুমার সুই চিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির পরিবর্তে বিভিন্ন অশান্তি বিরাজমান। তাই প্রথমে অশান্তির কারণ গুলো চিহ্নিত করতে করে সেগুলো সমাধান করতে হবে। ভূমি বিরোধ ও জাতিগত বৈষম্য এবং বিদ্বেষ এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেমন সিয়েরালিওন ও নেপালের গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যুবসমাজের ভুমিকা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

এছাড়াও তিনি বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ম্রৌ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ রয়েছে। আমরা চাই এই অঞ্চলের শান্তি এবং উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক৷ এই লক্ষ্যে তরুণ ছাত্র ও যুবসমাজকে তথ্য বিভ্রান্তি থেকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানাই।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, শান্তিচুক্তির ফলে এই অঞ্চলের স্থিরতা ও উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। সরকার নৃগোষ্ঠীদের ভাষাকে সংরক্ষণের জন্য উদ্যােগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে। নৃগোষ্ঠীদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সব জাতি গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সমস্যাগুলোর পেছনে রয়েছে এই অঞ্চলের তথা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং এর সম্পদ। এই সমস্যাকে প্রথমে বুঝতে হবে। এর সমাধান খুঁজতে হবে আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত থেকে। আমরা দেখেছি সিয়েরা লিওনে, রুয়ান্ডায় এবং নেপালের গৃহযুদ্ধে তাদের যুব ও তরুণ সমাজ কিভাবে ভুমিকা রেখেছে। আমাদেরও তা করতে হবে।

;

চবিতে কবি নজরুলের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন



চবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আলোচনাসভা ও৷ সংগীত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে পালিত হয় এই আয়োজন।

এতে পার্থ প্রতিম মহাজন ও নাজরাতুন নাঈম তিভার সঞ্চালনায় ও চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিশিষ্ট নজরুল গবেষক ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর।

আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, চবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শেখ সাদী।

চবি উপাচার্য তার বক্তব্যে বলেন, “কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরিচিতি বহুমাত্রিক। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তার জীবনাদর্শন যেন এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। বহুমাত্রিক প্রতিভাধর এ কবির কবিতা, গল্প, সাহিত্য, নাটক, সংগীত, প্রবন্ধ জয় করেছে বাঙালির হৃদয়। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য, শোষণ-বঞ্চনা, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সর্বদা সোচ্চার। লেখনীর মাধ্যমে কবি নজরুল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং সত্য ও সুন্দরের পক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন।”

উপাচার্য আরও বলেন, ‘তারুণ্য, উদ্যম, প্রেম, ভালবাসা, সাম্য ও বিদ্রোহ নজরুলের জীবনে যেন নিবিড়ভাবে জড়িত। দ্রোহ, ভালোবাসা ও মানবতার কবি তার জীবনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে গেছেন।’ প্রসঙ্গক্রমে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “কবি নজরুলের বিদ্রোহী, প্রতিবাদী, চেতনামূলক গান, কবিতা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।” তিনি তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের জীবনাদর্শ ধারণ, লালন ও চর্চার মাধ্যমে মানবতাবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার আহ্বান জানান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন, ছায়ানটের (কোলকাতা) সভাপতি ও নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সোমঋতা মল্লিক।

;