রাবিতে শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র নামিয়ে দিলো ছাত্রলীগ



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবাসিক হল থেকে এক শিক্ষার্থীর বিছানাপত্র নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৮ মে) দিনগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রোববার (১৯ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে ফেসবুকের একটি গ্রুপে ঘটনাটি বিবরণ জানিয়ে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. কুদ্দুস আলী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, অভিযুক্তরা হলেন- বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. ফজলে রাব্বি ও তার অন্তত ৮/১০ জন অনুসারী। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারী।

ফেসবুক পোস্টে ভুক্তভোগী কুদ্দুস আলী উল্লেখ করেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের একজন অনাবাসিক ছাত্র। বিভাগের বড় ভাইয়ের নামে বরাদ্দ করা ৪০২ নম্বর কক্ষে তিনি অবস্থান করছিলেন।

তিনি আবাসিক হওয়ার জন্য হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেন। প্রাধ্যক্ষ আবেদন গ্রহণ করে তাকে ওই সিটে থাকতে বলেন। আগামী মাসে বিভাগের ওই বড় ভাই ক্যাম্পাসে এলে তার সিট বাতিল করলে তিনি ওই সিটে স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এরই মধ্যে শনিবার দিনগত রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে তাকে জোর করে সিট থেকে নামিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে উঠিয়ে দেন।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী কুদ্দুস আলী বলেন, আমি ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করে দিয়েছি। বিভাগের শিক্ষকেরা এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, এই ব্যাপারে দ্রুতই সমাধান করা হবে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ফজলে রাব্বি বলেন, কুদ্দুস আলী যে সিটে উঠতে চেয়েছিল, সেই সিটে সে-সহ আরো একজন থাকতো। তারা আমার কাছে সমাধান চাইতে এলে আমি তাদের বলি, এ ব্যাপারে হল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের এই ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। এরপর তারা দুইজনই চলে যায়।

বিছানাপত্র নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রাব্বি বলেন, এর সঙ্গে ছাত্রলীগ বা আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শায়খুল ইসলাম মামুন জিয়াদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে এ বিষয়ে কিছু বলবেন না জানিয়ে বলেন, আমি এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তারপর কথা বলবো। আর ফোনে আমি কোনো কথা বলবো না। দেখা করার জন্য সময় চাইলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সিট থেকে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত নই। দ্রুত এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসা হবে।

শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: জাবিতে মশাল মিছিল

ছবি: জাবিতে মশাল মিছিল

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে চলমান 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷ এছাড়া মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের সাথে সমর্থন জানিয়ে সাভারের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন৷

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ৮টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বসে 'বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন' -এর ব্যানারে একটি মশাল মিছিল বের করে ছাত্রদের হল হয়ে নতুন রেজিস্ট্রার ভবন, চৌরঙ্গী দিয়ে ছাত্রী হল হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে রাত সোয়া ৯টায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়৷

এসময় মশাল মিছিলে শিক্ষার্থীরা- ‘কুবি/চবি/শেকৃবিতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘পুলিশ/হামলা/মামলা করে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না-যাবে না’, '৭১ এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই', '১৮ এর হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার', 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে', লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লোগেছে', ‘সংবিধানের মূলকথা, সুযোগের সমতা’,'মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, 'আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি কোটা সংস্কারপন্থী স্লোগান দেন।

মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা কোনো অন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য দাঁড়াইনি৷ তবুও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সহযোদ্ধা ভাই-বোনদেরকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর যথাযথ বিচার দাবি করছি৷ আমরা আমাদের এক দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পড়ার টেবিলে ফিরে যাব না।

এসময় সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে সকল ধরনের অযৌক্তিক কোটা বাতিলের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছে।এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়৷ আমাদের যৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ হামলা করেছে। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই হামলা-মামলা করে আমাদের আন্দোলনকে থামানো যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। পুলিশ আমাদের দমন করতে চেয়েছিল কিন্তু পারেনি। শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যূনতম কোটা রেখে সংসদে অবিলম্বে আইন পাশ না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, গতকালকের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় গুণ্ডা বাহিনীর হামলার নিন্দার প্রতিবাদে আমাদের এই মশাল মিছিল। আমাদের যে ভাইদের ধরে নেওয়া হয়েছে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে শুরু থেকেই কোটা বিরোধী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আমরা চাই কোটার সংস্কার। যৌক্তিক সংস্কার করে সংসদে আইন পাশ করতে হবে। সরকারের কাছে আহ্বান আমাদের দাবি মেনে নিন এবং দ্রুত পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে দিন।

'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' -এর জাবি শাখার সদস্য সচিব মাহফুজুল ইসলাম মেঘ বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের রক্তের বিনিময়ে হলেও আমরা দাবি আদায় করে নিব। আমাদের যে ভাইদের রক্ত ঝরেছে তার বিচার করতে হবে। একজনকে আঘাত করা হলে লাখোজন দাঁড়াবে। আন্দোলনকারী ভাইরা আমরা আমাদের সফলতার দ্বারপ্রান্তে। আপনাদের নিরাশ হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, এছাড়া গত ৭ জুলাই থেকে সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ৫ শতাংশে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা৷


'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাধা প্রদানসহ হামলা ও মামলা করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আহত হয়েছেন অনেকেই৷

;

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাকৃবিতে বিক্ষোভ



বাকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে ওই সমাবেশের আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মিছিলটি বাকৃবির কে.আর মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শহীদ মতিউল-কাদের স্মৃতিসম্ভের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। 'আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবার চাই। নায্য আন্দোলনে হামলা কেন? প্রশাসন জবাব চাই। হামলা করে আন্দোলন,বন্ধ করা যাবে না' সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা তাদের এক দফা দাবি আদায়ে অনড় রয়েছেন বলে জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বাকৃবির জব্বারের মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ময়মনসিংহ-গফরগাঁও আঞ্চলিক যোগাযোগ।

;

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা

কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল, প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল/বার্তা২৪.কম

ছবি: কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সকল চাকরির সকল গ্রেডে ও সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক কোটা নিরসনের দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চম দিনের মত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) পুলিশি হামলার শিকার হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এই হামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি প্রশাসনিক অদক্ষতার কারনে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাংলো হয়ে আনসার ক্যাম্প ঘুরে গোল চত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল আনসার ক্যাম্প পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা সেখানে এক যোগে জাতীয় সংগীত গায় এবং পুলিশি হামলার শিকার আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করে। নীরবতা পালন শেষে শিক্ষার্থীরা আনসার ক্যাম্প মোড়কে 'ছাত্র আন্দোলন চত্বর' ঘোষণা করা হয়। এরপর চত্বরটিতে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে আহত দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাভেদ রায়হান ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মিলে নামফলক লাগান।

এরপর এই চত্বরের স্মৃতিস্বরূপ দুইটি গাছ লাগান শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীরা সদ্য নাম দেয়া 'ছাত্র আন্দোলন চত্বরে বক্তব্য রাখেন। তারা সেখানে এই হামলায় জড়িতদের বিচার চান এবং সেদিনের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এছাড়া ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার পদত্যাগও চান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে গোলচত্বরে স্লোগান দিতে থাকেন।

এই পুরোটা সময় আন্দোলনকারীরা 'লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই, আমার সোনার বাংলায়, বৈষ্যমের ঠাই নাই, লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন।

এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাকিব হোসাইন বলেন, "আমাদের এ আন্দোলন যৌক্তিক ছিল, আমরা বিশ্বরোডের দিকে যাচ্ছিলাম অবরোধ করতে। তখন আমাদের ওপর হামলা করা হয়, লাঠিচার্জ করা হয় এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। আজকে আমরা দেখিয়ে দিবো শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে। আমরা এই আন্দোলন আরো জোরদার করবো।"

উল্লেখ্য, গতকাল (১১ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এর জবাবে শিক্ষার্থীরাও ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস, টিয়ারশেল, ফাঁকা গুলি ছুড়েন। ফলে তিন সাংবাদিক সহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা৷

;

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শেকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল



শেকৃবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: শেকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা

ছবি: শেকৃবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তারা। এদিন গত কয়েকদিনের চেয়ে বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বেলা ৫টায় লাইব্রেরি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের ২য় গেট হয়ে বিভিন্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংযোগ সড়ক, আগারগাঁও, শিশুমেলা, কলেজগেট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল মোড়ে অবস্থান নেন। এ সময় ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।

এসময় 'জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে; লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে; শেকৃবিতে হামলা কেন, জবাব চাই, জবাব চাই; টোকাই দিয়ে হামলা কেন, জবাব চাই জবাব চাই; গুণ্ডা দিয়ে হামলা কেন, জবাব চাই-জবাব চাই; আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দিবো না ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন শিক্ষার্থী বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ করার প্রতিবাদে আজ আমাদের এই বিক্ষোভ মিছিল। তবে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আমাদের অবরোধ, বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি অব্যহত থাকবে। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না। একইসাথে শিক্ষার্থীদের উপর যারা হামলা ও আক্রমণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

;