নিরাপত্তাশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা বুয়েট শিক্ষার্থীদের একাংশের



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) চলমান ইস্যুতে একদল শিক্ষার্থী উগ্রবাদী ও নিষিদ্ধ সংঠনের বিরুদ্ধে কথা বলায় নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শঙ্কিত ওই শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ শঙ্কার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এক খোলা চিঠিতে তারা দাবি করেন, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতিকে এক ধরনের নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রগতিশীল রাজনৈতিক চিন্তাধারণায় বিশ্বাসী এবং স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমরা অংশ নিতে চাই দেখে আমাদের ক্যাম্পাসে দীর্ঘ একটি সময় ধরে মানসিক নিপীড়ন চলে আসছে, যা বর্তমানে আমাদের জীবনের হুমকিস্বরূপ।

আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আমরা বলতে চাই, শুধুমাত্র স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য যে পরিমাণ বুলিং করা হয়েছে, আমাদের ওপর তা অকথ্য। এই নিপীড়নের কারণ শুনতে হলে আমাদের ২০১৯ পরবর্তী বেশ কিছু ঘটনা জানতে হবে। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (ইইই ১৭) ভাইয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু এরপরে র‍্যাগিং বা এর সঙ্গে জড়িত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আইন ভঙ্গের অভিযোগ না থাকলেও সংখ্যালঘু ছাত্রদের ওপর শুরু হয় 'পাবলিক হিউমিলিয়েশন' এবং 'ডিফেমেশন', যা হয় শুধুমাত্র স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হওয়ার কারণে।

পরবর্তীতে আমরা বুয়েটে ভর্তি হলে আমরাও আমাদের জাতির জনকের আদর্শকে পালন করতে চাইলেই আমাদের সঙ্গে বুলিং ও নানাভাবে আমাদের হ্যারাস (হয়রানি) করা হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই সুনামগঞ্জের তাহেরপুর টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন এলাকায় বুয়েটের ২৪ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৪ জনকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনার অভিযোগে শিবির সন্দেহে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনায় আমরা মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে দাঁড়াই এই শিরোনামে- 'Rise Above Extremists, Protest Fundamentalism'। এই মানববন্ধনে আমাদের দাবি ছিল দোষীদের শাস্তি প্রদান এবং নির্দোষদের নিঃশর্ত মুক্তি। কিন্তু এমন একটা সচেতনতামূলক কাজ করার পরেও আমাদের মানববন্ধনে দাঁড়ানো সব সাধারণ শিক্ষার্থী বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে শুরু হয় জবাবদিহিতার পর্ব। সেখানে মানববন্ধনে দাঁড়ানো সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও সামাজিকভাবে বয়কটের ভয় দেখিয়ে মানববন্ধনের প্রথম ছাত্র হওয়ার কারণে আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়।

তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মনন চর্চার মুক্তমঞ্চ। বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলবাদবিরোধী অবস্থান রাখাকে কীভাবে অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়, তা আজও জবাবদিহিতা চাওয়া প্রত্যেক ছাত্রের প্রশ্ন। মানববন্ধনের প্রথম ব্যক্তিবর্গ হিসেবে আমাদের নিয়ে শুরু হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় বুলিং এবং জবাবদিহিতার ঘটনা। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের দুইজন সহপাঠীকে আহসান উল্লাহ হলে রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত জবাবদিহিতার নামে যে প্রহসনমূলক র‍্যাগিং বা বুলিং এবং কমনরুম ও মাঠে একটানা অপমান করা হয়। এই ঘটনা আমাদের মানসিক স্থিতির ওপর বিরাট প্রভাব ফেলে। আমাদের নিচু দেখিয়ে কথা বলাও শুরু হয় এবং হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই আমাদের চিহ্নিত করে বারবার বুলিং এবং আমাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা হয়। আমরা কখন কোথায় যাচ্ছি তাও সরাসরি অনুসরণ করে চিহ্নিত করা হয়।

অভিযোগ করে তারা জানান, আমরা শুধুমাত্র মত প্রকাশ করেছিলাম। স্বাধীন এই বাংলায় এই অধিকার কি আমাদের নেই? পরবর্তীকালে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্ররা একরাতে একসঙ্গে বসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা ও খাওয়া-দাওয়া করলে আবারও ছুটে আসে সোশ্যাল ডিফেমেশনের  কালোছায়া। এতে প্রমাণবিহীনভাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিত থাকার বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের ক্লাব থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকী ক্লাস শিডিউল ও পরীক্ষার রুটিন সঠিক সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রদের না জানানোর আদেশ দেওয়া হয়। পরিষ্কারভাবে আমাদের লালিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী অন্য শিক্ষার্থীদের সামাজিক বয়কটের পক্ষে ঘটা করে জানান দেওয়া হয়। দেশমাতার বুকে মাকে ভালোবাসার জন্য এ যেন এক ঘটা করে ডেকে অপমান করা। আমরা এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও কোনো মীমাংসা আজও পাইনি।

সমসময়িক ইস্যুতে তারা জানান, চলতি বছরের ২৭ মার্চ দিনগত রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি হুসাইন সাদ্দাম বুয়েট প্রাঙ্গণে রাতে উপস্থিত হলে তার সঙ্গে বুয়েটে অধ্যয়নরত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বি সৌজন্য বিনিময়ের কারণকে অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরে একটি প্রদর্শনীর ছাত্র আন্দোলন সৃষ্টি হয়। পরে তারা ইমতিয়াজ রাহিম রাব্বির হল বহিষ্কার দাবি করে এবং উপাচার্য মহোদয় কর্তৃক কোনোরকম তদন্ত ছাড়া তাই গৃহীত হয়। পরবর্তীতে তাকে স্থায়ীভাবে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়, যা আসলে একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার একাডেমিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের শামিল। এই আন্দোলন ক্যাম্পাসে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করে যা পরীক্ষা বয়কটের মতো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এরই সঙ্গে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোশ্যাল হ্যারাসমেন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের জীবন হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরো জানান, আমাদের উক্তিতে উঠে আসা ঘটনাগুলোতে সবসময়ই হোতা কিছু নির্দিষ্ট মানুষ যাদের সঙ্গে শিবির সন্দেহে আটককৃতদের সম্পৃক্ততা এবং মৌলবাদী চিন্তা পালনের দৃষ্টান্ত মেলে। অনেক ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক মতামত প্রতিষ্ঠার জোরও চালানো হয় তাদের দ্বারা। কিন্তু এই অন্ধকার রাজনীতি আড়ালে নেয় আবরার ফাহাদ ভাইকে হারানোর বেদনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে। সম্প্রতি, ক্যাম্পাসে ইসিই ভবনের লিস্টেও হিজবুত তাহরীর পোস্টারে কিউআর কোডের মাধ্যমে "পাশ্চাত্য সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে খিলাফত প্রতিষ্ঠা" করার আহ্বান করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত এডুকেশনাল মেইলেও পাঠানো হয়। হে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের রক্ষক, আপনি সহযোগিতা করুন, আমাদের আবেদন শুনুন।

তারা আরো অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্টাফদের মধ্যে ইফতার বিতরণের জন্য তাদের সহযোগী জুনিয়র ও ব্যাচমেটদের প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় এবং জবাবদিহিতা চাওয়া হয়। এমনকী সবাইকে সামাজিক বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে তারা জানান, হলের রুমে বঙ্গবন্ধু ও আপনার ছবি রাখতে চাইলেও আমাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে "বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ চেতনা" বিষয়ক ক্লাব প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও তার বিরোধিতা করে সমালোচনা করা হয়, যার কারণে এই ক্লাব প্রতিষ্ঠায় আমাদের পিছপা হতে হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চেয়ে তারা জানান, বর্তমানে এই সবধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় আমাদের জীবন হুমকিসহ নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হচ্ছে। শিবির দ্বারা পরিচালিত বাঁশেরকেল্লার পক্ষ থেকে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, শিক্ষার্থী নম্বর থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ম্যাসেজিং অ্যাপসগুলো ব্যবহার করে। এর প্রমাণ, এরই মধ্যে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। আমরা ২১ জন এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।

হে দেশরত্ন, বঙ্গবন্ধু তনয়া, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা বিশ্বাস করি, ভিন্ন-অভিন্ন সব মতের সাধারণ বুয়েট শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে স্বাভাবিক ও নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা চাই। আমরা চাই না, আমাদের ক্যাম্পাস জঙ্গি তৈরির কারখানা হোক। আমরা চাই না, দেশে দ্বীপভাই, সনিআপু ও আবরার ফাহাদ ভাইয়ের মতো নির্মম ঘটনা ঘটুক। আমরা দ্বিতীয় কোনো হলি আর্টিজান ঘটনাও চাই না। আমরা চাই না তন্ময়ভাইয়ের মতো কেউ শিবিরের নৃশংস হামলার ক্ষতচিহ্ন নিয়ে জীবনযাপন করুক। আমরা সবাই-ই জানি, বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত মুক্তবুদ্ধি চর্চার মুক্ত মাঠের মতো। আমাদেরও সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আপনার কাছে এই আকুল আবেদন।

তারা জানান, হিজবুত তাহারীর বা শিবিরের সন্ত্রাসী আক্রমণ থেকে কতটা নিরাপদ বুয়েটের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি! রাষ্ট্রযন্ত্র মেধাবীদের এই ক্যাম্পাসকে কতটা নজরদারিতে রেখেছে বা এর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করছে, আমরা জানি না। যেকোনো বড় ধরনের নাশকতার ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলে হলি আর্টিজানের মতো কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি, আমরা ক্যাম্পাসের প্রগতিশীল ছাত্র সমাজ। এ বিষয়ে বুয়েট ক্যাম্পাসে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা কতটুকু, তাও আমরা জানি না। অতিসত্বর বুয়েট নিয়ে তাদের কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তারা বলেন, আপনার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমরা আমাদের আকুল আর্জি রাখলাম যে, নিরাপদ ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্যাম্পাস উপহার দিন। দেশ ও দশের প্রতি ভালোবাসা রেখে সবার কল্যাণকে মাথায় রেখে আমরা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি চাই এবং জীবনের নিরাপত্তা চাই। আমরা বুয়েট ক্যাম্পাসে নিরাপদে এবং সৎ সাহসের সঙ্গে প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চা করতে চাই।

   

সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে জাবিতে ব্যাচ ডে'র অনুমতি প্রক্টরের



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে জাবিতে ব্যাচ ডে'র অনুমতি

সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে জাবিতে ব্যাচ ডে'র অনুমতি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একাডেমিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গত বছরের অক্টোবরে ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা থাকায় এর আগে কয়েকটি ব্যাচ তাদের ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেনি।

এদিকে, গত ২৫ মে (রোববার) সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা ২য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে অবাধে মাদক সেবন ও সময়সীমার তোয়াক্কা না করে রাত পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে মুক্তমঞ্চে ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী আয়োজনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর প্রেক্ষিতে ৯ অক্টোবর রেজিস্ট্রার আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মুক্তমঞ্চে ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী আয়োজনে নিষেধাজ্ঞাসহ সকল প্রকার অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ।

অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠান প্রতি তিন বছরে একবার আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া সাবেক ও বর্তমান ব্যাচগুলোর বর্ষপূর্তি (ব্যাচ ডে) কিংবা রিইউনিয়ন (পুনর্মিলনী) অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। রাত দশটার পর কোনো অনুষ্ঠান করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি উক্ত সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করে ভবিষ্যতে কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

সিন্ডিকেটের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এসব অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকলেও গত ২৫ মে (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ২য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির। এদিকে বর্ষপূর্তির এই অনুষ্ঠানে অবাধে মাদক সেবন ও সময়সীমার তোয়াক্কা না করে রাত পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা ঘটেছে।

ব্যাচ ডে আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য কেনা হয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের জন্য কেনা হয় ২০ হাজার টাকার মদ। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তমঞ্চ, টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় অবাধে মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায়।

জানা যায়, গত ১২ মে ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ব্যাচ ডে পালনের জন্য প্রক্টরের কাছে অনুমতির আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রক্টর শিক্ষার্থীদের মৌখিক অনুমতি দেন এবং উপাচার্যের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে ১৩ মে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রক্টর।

গত ২৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষপূর্তির অংশ হিসেবে মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তবে অনুষ্ঠানের সময়সীমা রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দেওয়া থাকলেও ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আয়োজক কমিটি।

এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির বলেন,আমি অনেক শর্ত সাপেক্ষে ওদের অনুমতি দিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দরকার আছে। তবে ওদের আমি নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলেছিলাম৷ কিন্তু ওরা প্রায় এগারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। আমরা আর এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিব না।

অবাধে মাদক সেবনের বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো অনুষ্ঠান হলে এটা (মাদক) কমন। আমরা একটা কমিটি করব মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য।

;

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জবি অধ্যাপক



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জবি অধ্যাপক

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জবি অধ্যাপক

  • Font increase
  • Font Decrease

বোন ম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শিল্পী খানম।

রোববার (২৬ মে) বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহ মো. আরিফুল আবেদ।

অধ্যাপক শিল্পী খানমের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আবেগঘন পোস্ট দিতে দেখায় যায় শিক্ষার্থী, সহকর্মীদের।

বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লগ্ন এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এই তো ক'দিন আগের কথা, ম্যাম বিভাগে এলেন। Shibli Noman ভাই, Alomgir Kabir ভাই আর আমার সামনে সুস্থ হয়ে পরিবার, সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার তীব্র বাসনার সরল প্রকাশ করলেন। মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন আমাদের।

প্রসঙ্গত, আড়াই বছর আগে ক্যান্সার ধরা পড়ে অধ্যাপক শিল্পী খানমের। দেশে কিছুদিন চিকিৎসার পর তাকে নেয়া হয় ভারতে। সেখানে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন তিনি।

এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার রাতে অধ্যাপক শিল্পী খানমকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল।

;

সর্বজনীন পেনশন বাতিল

স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি চবি শিক্ষক সমিতির



চবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এ সংগঠনটি।

রোববার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সামনে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজকে আমরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ জাতি গঠনের ভূমিকা রাখে কিন্তু তাদের ওপরেই যদি বৈষম্যের আঘাত করা হয়, তাহলে তারা কী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে? সুতরাং আমরা এই বৈষম্য ও নিপীড়ন মূলক প্রজ্ঞাপন বন্ধের জোর দাবি জানায়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবনমন করে সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তারা সুযোগসুবিধা নিয়েছিল, তখন আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়। পরে সুপার স্কেমের কথা বললেও সেটা কার্যকর করা হয়নি। যখনই আমরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোরের জন্য কথা বলতে যায়, তখন আমাদেরকে বলা হয়, আপনারা কেন সবার সাথে তুলনা করেন? আপনারা তো অতুলনীয়। আমরা তখনই কথা বলতে যাই যখন আমাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ আমাদেরকে সর্বজনীন পেনশন স্কেলে নামে আমাদের বৈষম্যমূলক পেনশন স্কেল করার প্রজ্ঞাপন করা হয়েছে। আপনারা জানেন, সর্বজনীন হয় তখনই যখন একটি রাষ্ট্রের সকল পেশার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু যারা এ প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন তারা বলছেন এটা সর্বজনীন কিন্তু তারা এটাতে যুক্ত হতে চান না। তারা বলছেন এটাতে যুক্ত হন, এটা খুবই ভালো কিন্তু আমরা যুক্ত হবো না।

চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব রহমান বলেন, সর্বজনীন বেতন স্কেল প্রত্যাহার, সুপার স্কেল চালু এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল। এই তিনটি আমাদের হৃদয়ের দাবি। আপনারা জানেন, একটি জাতি যখন এগিয়ে যায় এর পেছনে শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্মার্ট বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে কিন্তু শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করে কি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ, ২০২৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কতৃর্ক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যে সকল শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী ১জুলাই, ২০২৪ তারিখের পর যোগদান করবেন তাদের জন্য সার্বজনীন পেনশন স্কিমের 'প্রত্যয় স্কিম' বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না।

;

বি.এম. কলেজে সিলিং ফ্যান ভেঙে শিক্ষার্থী আহত



ক্যাম্পাস ডেস্ক, বার্তা২৪
সিলিং ফ্যান ভেঙে টেবিলে পড়ে / ছবি: বার্তা২৪

সিলিং ফ্যান ভেঙে টেবিলে পড়ে / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের প্রখ্যাত সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ক্লাস চলাকালে হুক ভেঙে সিলিং ফ্যান পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে তৌসিফ ফাহিম এক শিক্ষার্থী। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই শিক্ষার্থী উক্ত প্রতিষ্ঠানে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্র্যাকটিকাল ক্লাস চলাকালে সকাল ৯ টায় সকল শিক্ষার্থী ক্লাসে আসে। দুপুর দেড়টার কিছুক্ষণ আগে ক্লাস যখন প্রায় শেষ, তখন হঠাৎ সিলিং ফ্যান অকার্যকর হয়ে চলন্ত অবস্থাতেই খুলে পড়ে। ফ্যানের পাখার অংশটি ফাহিম নামক সেই শিক্ষার্থীর মাথায় লাগে। এরপর শিক্ষক সহ বাকি শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করা হয় ফাহিমকে। বর্তমানে সেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা-নিরিক্ষা চলছে এবং তিনি বিপদমুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সকল খরচ বহন করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।  

হুক ভেঙে সিলিংফ্যান পড়ে যায়

শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল থেকেই ফ্যানে অস্বাভাবিকভাবে শব্দ করছিল। তারা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে রাখলেও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আবার চালাতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই ফ্যানটি সরাসরি টেবিলের উপর পড়ে কাচ ভেঙে যায়। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফ্যান লাগানো হুকটি মাঝ থেকে ক্ষয় হয়ে গিয়েছিল।

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তাদের বক্তব্য একটু উনিশ-বিশ হলেই গুরুতর কিছু হতে পারতো। স্থপতিতে খচিত রয়েছে ভবনটি ১৯১৭ সালে নির্মিত। অন্যান্য ফ্যান এবং ব্যবহৃত কলকব্জা বেশ পুরানো হয়ে গেছে। এগুলো সংস্কার করা না হলে যে কোনো মুহূর্তেই বড় বিপদ হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত তাদের নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করুক। এই ঘটনার পর, এই ধরনের ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।  

;