বহুত্ববাদ দেখতে চাইলে জগন্নাথ এলাকায় আসুন: জবি উপাচার্য



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, বাংলাদেশে বহুত্ববাদ দেখতে চাইলে জগন্নাথ এলাকায় আসুন। এখানে আসলে আপনারা বহুত্ববাদ দেখতে পাবেন। এখানে চার্চও আছে, মন্দির আছে, মসজিদও আছে।

রোববার (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ যোহর দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় অবন্তিকার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেও দোয়া করা হয়।

উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু হিন্দু-মুসলিম সকলের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন। কারণ, তিনি ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করতেন। একটি দাঙ্গায় হিন্দু-মুসলিম উভয়পক্ষেরই সমান সংখ্যক মানুষ আহত হয় তখন বঙ্গবন্ধু সবার দেখাশোনা করেছেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতা সবসময়ই বলতেন বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। অর্থাৎ ধর্ম নিয়ে আমরা রাজনীতি করবো না। আপনারা বার বার প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে আপনারা ধর্মান্ধতার রাজনীতি করেন না। সেটার বড় প্রমাণ করোনা কালীন সময়ে পুরো দেশ দেখেছে। তখন হিন্দুরা মুসলিমদের দাফনে সাহায্য করেছেন এবং মুসলিমরা হিন্দুদের সৎকারে সাহায্য করেছেন।

আবেগঘন হয়ে উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময়ই বলতেন আমি আমার জনগণকে ভালোবাসি। সমস্যাটা হলো আমি তাদেরকে একটু বেশিই ভালোবাসি। কিন্তু তাদেরকে বেশি ভালোবাসার ফলে তাদের মধ্যেই কাফের সৃষ্টি হলো। তারাই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করলো, ছোট্ট রাসেলকেও তারা ছাড় দিলো না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য সাদেকা হালিম বলেন, তোমরা যেকোনো সময় তোমাদের অভিযোগ আমাকে জানাতে পারো। আমাকে ম্যাসেজ করে রাখবে। আমি তোমাদের অভিযোগ পড়ে যেভাবে হেল্প করা যায় সেটা করবো।

উপাচার্য আরো বলেন, আমাকে তো তুই বলে স্লোগান দেয়া হয়। জীবনের প্রথম আমাকে তুইতোকারি শুনতে হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পঁয়ত্রিশ বছর শিক্ষকতা করেছি। অনেক উপাচার্যের ক্রাইসিসের মধ্যে আমি দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু কোনোদিনও কোনো উপাচার্যকে তুইতোকারি করতে শুনি নি। কেউ না কেউ ওদের শিখিয়েছে। আমি ওই শিক্ষার্থীদেরকে দোষ দিবো না। কেউ কখনো আমাকে তুইতোকারি করে কথা বলে নাই। অথচ জগন্নাথে এসে আমার তুইতোকারি শুনতে হচ্ছে।

দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

এর আগে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

এরপর বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, বিভিন্ন সংগঠন, কর্মচারী সমিতি এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে একাডেমিক ভবনের নিচতলায় পুরানো ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুদের অংশগ্রহণে ‘বঙ্গবন্ধু ও আগামীর শিশু’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।

এছাড়াও সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

   

সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে জাবিতে ব্যাচ ডে'র অনুমতি প্রক্টরের



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে জাবিতে ব্যাচ ডে'র অনুমতি

সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে জাবিতে ব্যাচ ডে'র অনুমতি

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একাডেমিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গত বছরের অক্টোবরে ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পালনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা থাকায় এর আগে কয়েকটি ব্যাচ তাদের ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেনি।

এদিকে, গত ২৫ মে (রোববার) সিন্ডিকেটের নির্দেশ অমান্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা ২য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে অবাধে মাদক সেবন ও সময়সীমার তোয়াক্কা না করে রাত পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটের বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে মুক্তমঞ্চে ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী আয়োজনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর প্রেক্ষিতে ৯ অক্টোবর রেজিস্ট্রার আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মুক্তমঞ্চে ব্যাচ ডে ও পুনর্মিলনী আয়োজনে নিষেধাজ্ঞাসহ সকল প্রকার অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ।

অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠান প্রতি তিন বছরে একবার আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া সাবেক ও বর্তমান ব্যাচগুলোর বর্ষপূর্তি (ব্যাচ ডে) কিংবা রিইউনিয়ন (পুনর্মিলনী) অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। রাত দশটার পর কোনো অনুষ্ঠান করলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি উক্ত সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করে ভবিষ্যতে কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

সিন্ডিকেটের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এসব অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ থাকলেও গত ২৫ মে (রোববার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম ব্যাচের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ২য় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির। এদিকে বর্ষপূর্তির এই অনুষ্ঠানে অবাধে মাদক সেবন ও সময়সীমার তোয়াক্কা না করে রাত পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা ঘটেছে।

ব্যাচ ডে আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য কেনা হয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের জন্য কেনা হয় ২০ হাজার টাকার মদ। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তমঞ্চ, টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় অবাধে মাদকদ্রব্য সেবন করতে দেখা যায়।

জানা যায়, গত ১২ মে ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ব্যাচ ডে পালনের জন্য প্রক্টরের কাছে অনুমতির আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রক্টর শিক্ষার্থীদের মৌখিক অনুমতি দেন এবং উপাচার্যের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত অনুমোদনের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে ১৩ মে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রক্টর।

গত ২৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষপূর্তির অংশ হিসেবে মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তবে অনুষ্ঠানের সময়সীমা রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত দেওয়া থাকলেও ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আয়োজক কমিটি।

এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির বলেন,আমি অনেক শর্ত সাপেক্ষে ওদের অনুমতি দিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিকশিত হওয়ার জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দরকার আছে। তবে ওদের আমি নয়টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলেছিলাম৷ কিন্তু ওরা প্রায় এগারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। আমরা আর এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিব না।

অবাধে মাদক সেবনের বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো অনুষ্ঠান হলে এটা (মাদক) কমন। আমরা একটা কমিটি করব মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য।

;

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জবি অধ্যাপক



জবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জবি অধ্যাপক

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন জবি অধ্যাপক

  • Font increase
  • Font Decrease

বোন ম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শিল্পী খানম।

রোববার (২৬ মে) বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহ মো. আরিফুল আবেদ।

অধ্যাপক শিল্পী খানমের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আবেগঘন পোস্ট দিতে দেখায় যায় শিক্ষার্থী, সহকর্মীদের।

বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লগ্ন এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এই তো ক'দিন আগের কথা, ম্যাম বিভাগে এলেন। Shibli Noman ভাই, Alomgir Kabir ভাই আর আমার সামনে সুস্থ হয়ে পরিবার, সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার তীব্র বাসনার সরল প্রকাশ করলেন। মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন আমাদের।

প্রসঙ্গত, আড়াই বছর আগে ক্যান্সার ধরা পড়ে অধ্যাপক শিল্পী খানমের। দেশে কিছুদিন চিকিৎসার পর তাকে নেয়া হয় ভারতে। সেখানে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা শেষে ফিরে আসেন তিনি।

এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার রাতে অধ্যাপক শিল্পী খানমকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল।

;

সর্বজনীন পেনশন বাতিল

স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি চবি শিক্ষক সমিতির



চবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ, প্রতিশ্রুত সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের আহ্বানে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের এ সংগঠনটি।

রোববার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সামনে বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজকে আমরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণ জাতি গঠনের ভূমিকা রাখে কিন্তু তাদের ওপরেই যদি বৈষম্যের আঘাত করা হয়, তাহলে তারা কী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারবে? সুতরাং আমরা এই বৈষম্য ও নিপীড়ন মূলক প্রজ্ঞাপন বন্ধের জোর দাবি জানায়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অবনমন করে সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তারা সুযোগসুবিধা নিয়েছিল, তখন আমাদেরকে বঞ্চিত করা হয়। পরে সুপার স্কেমের কথা বললেও সেটা কার্যকর করা হয়নি। যখনই আমরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোরের জন্য কথা বলতে যায়, তখন আমাদেরকে বলা হয়, আপনারা কেন সবার সাথে তুলনা করেন? আপনারা তো অতুলনীয়। আমরা তখনই কথা বলতে যাই যখন আমাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ আমাদেরকে সর্বজনীন পেনশন স্কেলে নামে আমাদের বৈষম্যমূলক পেনশন স্কেল করার প্রজ্ঞাপন করা হয়েছে। আপনারা জানেন, সর্বজনীন হয় তখনই যখন একটি রাষ্ট্রের সকল পেশার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু যারা এ প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছেন তারা বলছেন এটা সর্বজনীন কিন্তু তারা এটাতে যুক্ত হতে চান না। তারা বলছেন এটাতে যুক্ত হন, এটা খুবই ভালো কিন্তু আমরা যুক্ত হবো না।

চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুব রহমান বলেন, সর্বজনীন বেতন স্কেল প্রত্যাহার, সুপার স্কেল চালু এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল। এই তিনটি আমাদের হৃদয়ের দাবি। আপনারা জানেন, একটি জাতি যখন এগিয়ে যায় এর পেছনে শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্মার্ট বাংলাদেশ করার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে কিন্তু শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করে কি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ, ২০২৪ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কতৃর্ক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, যে সকল শিক্ষক/কর্মকর্তা/কর্মচারী ১জুলাই, ২০২৪ তারিখের পর যোগদান করবেন তাদের জন্য সার্বজনীন পেনশন স্কিমের 'প্রত্যয় স্কিম' বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না।

;

বি.এম. কলেজে সিলিং ফ্যান ভেঙে শিক্ষার্থী আহত



ক্যাম্পাস ডেস্ক, বার্তা২৪
সিলিং ফ্যান ভেঙে টেবিলে পড়ে / ছবি: বার্তা২৪

সিলিং ফ্যান ভেঙে টেবিলে পড়ে / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালের প্রখ্যাত সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ক্লাস চলাকালে হুক ভেঙে সিলিং ফ্যান পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে তৌসিফ ফাহিম এক শিক্ষার্থী। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেই শিক্ষার্থী উক্ত প্রতিষ্ঠানে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষে পড়াশোনা করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে পাওয়া তথ্যমতে, প্র্যাকটিকাল ক্লাস চলাকালে সকাল ৯ টায় সকল শিক্ষার্থী ক্লাসে আসে। দুপুর দেড়টার কিছুক্ষণ আগে ক্লাস যখন প্রায় শেষ, তখন হঠাৎ সিলিং ফ্যান অকার্যকর হয়ে চলন্ত অবস্থাতেই খুলে পড়ে। ফ্যানের পাখার অংশটি ফাহিম নামক সেই শিক্ষার্থীর মাথায় লাগে। এরপর শিক্ষক সহ বাকি শিক্ষার্থীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করা হয় ফাহিমকে। বর্তমানে সেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা-নিরিক্ষা চলছে এবং তিনি বিপদমুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সকল খরচ বহন করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।  

হুক ভেঙে সিলিংফ্যান পড়ে যায়

শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল থেকেই ফ্যানে অস্বাভাবিকভাবে শব্দ করছিল। তারা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে রাখলেও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে আবার চালাতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই ফ্যানটি সরাসরি টেবিলের উপর পড়ে কাচ ভেঙে যায়। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফ্যান লাগানো হুকটি মাঝ থেকে ক্ষয় হয়ে গিয়েছিল।

ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তাদের বক্তব্য একটু উনিশ-বিশ হলেই গুরুতর কিছু হতে পারতো। স্থপতিতে খচিত রয়েছে ভবনটি ১৯১৭ সালে নির্মিত। অন্যান্য ফ্যান এবং ব্যবহৃত কলকব্জা বেশ পুরানো হয়ে গেছে। এগুলো সংস্কার করা না হলে যে কোনো মুহূর্তেই বড় বিপদ হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত তাদের নিরাপত্তার খাতিরে কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করুক। এই ঘটনার পর, এই ধরনের ঘটনা এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।  

;