রাবি'র ভর্তি পরীক্ষা: আবাসন ও চিকিৎসাসহ প্রশাসনের নানা পদক্ষেপ



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী মঙ্গলবার (৫ মার্চ) থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 'এ', 'বি', এবং 'সি' তিনটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত এই ভর্তি পরীক্ষা ৫ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে ৭ মার্চ পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সীমিত আবাসন ও চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার (১ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান রাবি উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, এবছর বিশেষ কোটাসহ মোট আসন সংখ্যা ৪ হাজার ৪৩৮টি এবং কোটা বাদে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৯০৪টি। এই আসনের বিপরীতে মোট ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৮০টি চূড়ান্ত আবেদন জমা হয়েছে। 'এ' ইউনিটে ৭৪ হাজার ৭৮৫টি, 'বি' ইউনিটে ৩৪ হাজার ৫৪১টি এবং 'সি' ইউনিটে ৭৬ হাজার ৩৫৪টি চূড়ান্ত আবেদন সম্পন্ন হয়েছে। এবার একক আবেদনকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৯৭৭ টি। এর মধ্যে পুরুষ আবেদনকারীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৪৫৬টি এবং নারী আবেদনকারীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৫২১টি। কোটা বাদে আবেদনকারীর সংখ্যা 'এ' ইউনিটে ৬৯ হাজার ৫২৭টি, 'বি' ইউনিটে ৩২ হাজার ৬১৪টি এবং 'সি' ইউনিটে ৭০ হাজার ৯৭৬টি।

গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ১১টি অভিভাবক টেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি টেন্টে অভিভাবকদের বসার জন্য ২০০টি করে চেয়ার থাকবে। পরীক্ষা চলাকালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে রাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের ৪টি অ্যাম্বুলেন্স ও ১টি মেডিকেল টিম, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ২ সদস্যের ১টি মেডিকেল টিম ও ১টি অ্যাম্বুলেন্স এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১টি অ্যাম্বুলেন্স ও ২ সদস্যের মেডিকেল টিম কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণভাবে ব্যবহারের জন্য ১১টি স্থানে ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকবে। বিএনসিসি/রোভার স্কাউট/রেঞ্জারগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ১২টি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতা প্রদান করবে। এসব হেল্পডেস্কে খাবার পানির ব্যবস্থা থাকবে।

আবাসনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন আবাসিক হলে ও বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়ামে সীমিত আকারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারী অভিভাবকদের অবস্থানের জন্য রাবির মহিলা জিমনেসিয়াম ও পশ্চিম ৯০ নম্বর বাসায় সীমিত ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ফটোকপি ও নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমাদান সাপেক্ষে পরীক্ষার্থীর অভিভাবক সীমিত আকারে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবে। পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে লিফলেট বিতরণ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো গুজব, অসাধুচক্রের খপ্পর থেকে সকলকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও পরীক্ষা চলাকালে খাবারের দাম ও মান নিয়ে এবং অটোরিকশা, মেসমালিকদের অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মতবিনিময় করেছেন বলে জানান তিনি।

ভর্তি পরীক্ষার নিয়মাবলি প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, এবারে এক ঘণ্টাব্যাপী ভর্তি-পরীক্ষা MCQ পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কক্ষের বাইরে যেতে পারবে না। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ও ক্যালকুলেটরসহ মেমোরিযুক্ত অন্য কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা যাবে না। পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা আগে পরীক্ষা ভবনের গেট ও ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কক্ষের প্রবেশগেট খুলে দেয়া হবে।

বিভাগীয় শহরে কেন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না? সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে উপাচার্য বলেন, আমাদের দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় জনবল কম। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে সামনের বছর থেকেই বিকেন্দ্রীকরণের দিকে আগাবে রাবি প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাঊদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে, ভর্তি পরীক্ষার তিন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক, বিভিন্ন হল প্রাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরীক্ষা চলাকালে যান চলাচলের নির্দেশনা

ভর্তি-পরীক্ষা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে আছে ৫ থেকে ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো শহরের নির্ধারিত স্থান থেকে সকাল সোয়া সাতটায় ক্যাম্পাস অভিমুখে ছেড়ে আসবে। ৫ ও ৬ মার্চ ক্যাম্পাস থেকে বিকেল সোয়া পাঁচটায় এবং ৭ মার্চ বেলা পোনে তিনটায় ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাবে। সকাল সাড়ে সাতটার পর ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া ৫ থেকে ৭ মার্চ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ তাদের ব্যক্তিগত গাড়িসমূহ পার্কিং এর জন্য সাবাস বাংলাদেশ মাঠ ব্যবহার করবেন। তবে তাদেরকে অবশ্যই সাড়ে সাতটার মধ্যে গাড়িসমূহ পার্কিং করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন কাজলা ও বিনোদপুর গেট দিয়ে প্রবেশ করে মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে যাবে।

   

মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করলো কুবি



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

'ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল বৈশাখীর ঝড়। তোরা সব জয়ধ্বনি কর' প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) পরিবার।

রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মূল ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী, প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী, আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশিদুল ইসলাম শেখ, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস লতাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বলেন, 'সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। বাঙালির যে ঐতিহ্য, আমাদের যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা, সেই প্রচেষ্টার লক্ষ্যেই আমরা পহেলা বৈশাখ পালন করি। বাঙালির ঐতিহ্য ফিরে আসুক, অসাম্প্রদায়িকতা ফিরে আসুক। শান্তির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হোক এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আমরা পহেলা বৈশাখ পালন করি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আজকে যারা র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেছে তাদের শুভেচ্ছা জানাই।'

;

মধ্যরাতে ঢাবির জহুরুল হক হলে আগুন, শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে



ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের মূল ভবনের (মেইন বিল্ডিং) দ্বিতীয় তলায় ২৫০ নাম্বার রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে, আগুন লাগার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সোমবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া দুইটা নাগাদ এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বলে জানা যায়। ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে ২৫০ নাম্বার রুমটির সব শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যাওয়ায় কেউই ছিলো না রুমে। তবে আগুনে পুড়ে গেছে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট,বই, তিনটি ট্রাঙ্ক, টেবিল চেয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র।

এ বিষয়ে নিকটস্থ রুমে থাকা হলটির প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী ছাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাত সোয়া দুইটার দিকে ২৫০ নাম্বার রুমটিতে আগুন লাগে। এ সময় রুমটি তালাবদ্ধ ছিল। রুমের সবাই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেছে। আগুন লাগার সাথে সাথেই রুমটির তালা ভেঙ্গে ভেতরে পানি আর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণে আনি। এর মধ্যেই তিনটি ট্রাঙ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বই, খাতা, কাপড় পুড়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, রুমটিতে চারজন থাকতো। এর মধ্যে দুইজনের সার্টিফিকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে।

এ রুমটির আবাসিক শিক্ষার্থী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ আইয়ুব মোড়ল এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রুমের সবাই বাড়িতে ছিলাম। জেনেছি আগুন লেগে রুমের বেশ ক্ষতি হয়েছে। আমাদের লাগেজ, ট্রাঙ্ক, বিছানা সব নষ্ট হয়েছে।’

এ বিষয়ে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি তৎক্ষণাৎ সেখানে গিয়েছি। ফায়ার সার্ভিসকেও বলা হয়েছিল এবং তারা এসেছিল। তবে তার আগেই শিক্ষার্থীরা আগুন নিভিয়ে ফেলেছিল।’

আগুন লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ইলেকট্রনিক লাইনে দুর্বলতা থাকলে হল অফিসে রিপোর্ট করতে হয়, হলে ইলেকট্রিশিয়ান আছে। তারা ঠিক করে দেবে। এছাড়াও ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার আগে রুমের কোথায় কী আছে সেসব গুছিয়ে যাওয়াও তো শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব। এখন তাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা তো পুষিয়ে উঠা বেশ কষ্টের। অনেকের তো সার্টিফিকেটও পুড়ে গেছে। বিষয়টা আসলেই কষ্টের।’

ছুটিতে বা রুম থেকে বাড়িতে যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদেরকে রুমের লাইট, ফ্যান ও ইলেকট্রনিক জিনিসপত্র ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করা ও সার্বিক সচেতনতা বাড়ানো উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।

;

পয়লা বৈশাখে ঢাবি ক্যাম্পাসে মুখোশ পরা নিষেধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদের প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে।

এছাড়া, ক্যাম্পাসের ভেতর কোনো যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘আমরা তো তিমিরবিনাশী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে রোববার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বের করা হবে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় হয়ে শিশুপার্কের সামনে থেকে ঘুরে আবার শাহবাগ হয়ে ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গিয়ে শেষ হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পয়লা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। ৫টার পর কোনোভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। নববর্ষের দিন টিএসসির সামনের রাজু ভাস্কর্যের পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা ব্যক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদের সামনে ছবির হাটের গেট, বাংলা একাডেমির সামনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বের হওয়ার পথ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট, রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেট ও বাংলা একাডেমির সামনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ব্যবহার করা যাবে।

টিএসসির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প থাকবে।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ সংলগ্ন এলাকা, টিএসসি সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বরের আশপাশের এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। সভায় নববর্ষের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিং করার জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

;

ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো ঢাবি শিক্ষার্থীরা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ঈদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো ঢাবি শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদ উপলক্ষে ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো হচ্ছেন সারাদেশ থেকে আগত ঢাবির শিক্ষার্থীরা। 

এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে যোগ হচ্ছে বাংলা নববর্ষের ছুটি এবং এর সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে লম্বা ছুটি পাচ্ছেন মানুষ ৷ তাই অন্যবারের তুলনায় এবার বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  তবে নানারকম অনিবার্য কারণে এমন ছুটিতেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

ঈদ উপলক্ষে ৪ এপ্রিল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দীর্ঘ ছুটি পেয়েছেন। কেউ কেউ ছুটি শুরুর আগেই পাড়ি জমিয়েছে আপন ঠিকানায়। এছাড়াও বাকি শিক্ষার্থীরা ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে হল থেকে নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। এদিকে হল ক্যান্টিন,দোকানপাট ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেলেও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি, যাতায়াত সমস্যাসহ নানারকম কারণে ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ হলেই থেকে যাচ্ছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রতিবছরই মা-বাবা পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতাম। এবার বিসিএস পরীক্ষাসহ বেশ কিছু পরীক্ষার প্রস্তুতির যেন বিঘ্ন না হয় সেজন্য হলেই থেকে যাচ্ছি। এক সপ্তাহের মতো পড়াশোনায় গ্যাপ হলে সেটা ফিরিয়ে আনতে অনেক সমস্যা হয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কবি সুফিয়া কামাল হলের চতুর্থ বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীও একই কারণে এবার হলেই ঈদ পালন করছেন। তিনি জানান, প্রতিবার বাড়িতে ঈদ করলেও এবার নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরিবারকে খুব কষ্টে বুঝিয়েছি এবার হলেই ঈদ করব। পরেরবার ঈদটা আরো আনন্দময় করতেই এই ঈদটা একটু কষ্ট করে এখানে করছি।

বাড়ি না ফেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, হলে থাকা ১৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ৩ জন। বাকিরা সবাই পিজে হার্টগ আন্তর্জাতিক হলেই ঈদ পালন করবেন। তাদের মাঝে একজন ঢাবির ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের নাইজেরিয়ান শিক্ষার্থী ইব্রাহিম।

তিনি জানান, অনেকদিন দূরে থাকায় পরিবারকে ছেড়ে ঈদ পালন করতে একটু খারাপ তো লাগছেই। তবে ঈদে ঢাবিতে আমাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে যে বন্ধুরা আছে, সবার সঙ্গে ঈদ করব। ফ্লাইটের অনেক খরচের কারণে দেশে যেতে অসুবিধা হয় বলে জানান তিনি।

তবে অন্যদিকে ঢাবির অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দীর্ঘদিন পর ঢাকার যান্ত্রিক কোলাহল থেকে কিছুদিনের জন্যে নিজ আবাসে ফিরে যাচ্ছেন অত্যন্ত আনন্দ উদ্দীপনার সঙ্গে। প্রতি নিয়তই দেখা যাচ্ছে ব্যাগপত্র নিয়ে কেউ দল বেঁধে কেউ কেউ একাই হল থেকে বের হচ্ছেন বাড়ির উদ্দেশে। তাদের মধ্যেই একজন ঢাবির তৃতীয় বর্ষের ও কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী মাইশা মালিহা।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, আসলে বাড়ি ফেরার টিকিট কাটার পরই আমার ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে যায়। দিন গুণতে থাকি কবে বাড়ি ফিরব। বাড়িতে গিয়ে ঈদের কেনাকাটা, চাঁদরাতে মেহেদি পরা, ঈদের দিনে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া, এসবেই আমার ঈদ।

;