অবহেলায় বেহাল ঢাবির হল অডিটোরিয়াম, থমকে সাংস্কৃতিক চর্চা



কানজুল কারাম কৌষিক, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
অযত্ন-অবহেলায় বেহাল ঢাবির হল অডিটোরিয়াম, থমকে সাংস্কৃতিক চর্চা

অযত্ন-অবহেলায় বেহাল ঢাবির হল অডিটোরিয়াম, থমকে সাংস্কৃতিক চর্চা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে রয়েছে বিশাল ও সুপরিকল্পিত ভাবে নির্মিত অডিটোরিয়াম। কিন্তু অডিটোরিয়াম থেকে টিভি রুম ও স্পোর্টস রুমে রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচর্যার অভাবে বহুবছর যাবৎ পর্দা উঠছে না অডিটোরিয়ামের মঞ্চে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কাঠামো এবং বিলুপ্ত হচ্ছে হলের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চা। এটাকে ‘সাংস্কৃতিক দৈন্য দশা’ বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ১৯৩১ সালের ১১ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়। ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে তৎকালীন সর্ববৃহৎ আবাসিক হল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল। হলের অভ্যন্তরে আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চর্চার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয় অডিটোরিয়াম। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের অডিটোরিয়ামটি এখন টিভি রুম হিসেবে পরিচিত, সূর্যসেন হল অডিটোরিয়াম শহীদ এইচ এম ইব্রাহীম সেলিম মিলনায়তন ও মুহসিন হলেরটি মুহসিন হল অডিটোরিয়াম হিসেবেই পরিচিত। এ অডিটোরিয়ামগুলোতে রয়েছে প্রমাণ আকারের মঞ্চ ও বিশাল দর্শকসারির স্থান। মঞ্চের পাশেই রয়েছে মঞ্চ ব্যবহারকারীদের জন্যে প্রয়োজনীয় হল অডিটোরিয়াম কার্যালয়, টয়লেটসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সুবিধাদি।

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুহসীন হলের অডিটোরিয়ামে হয় টেবিল টেনিস খেলা এবং বিশাল স্থান নিয়ে বিভিন্ন ধরণের কারুশিল্প নির্মাণ কাজ। কারুকাজে ব্যবহৃত উপাদান ও ছড়ানো-ছিটানো আবর্জনায় নোংরা পরিবেশ হয়ে আছে পুরো মিলনায়তন। মঞ্চে পর্দা টানিয়ে পেছনে সপরিবারে বসবাস করছেন কিছু মানুষ। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদেরকে হলের কর্মচারীর পরিবার বলে পরিচয় দেন। মঞ্চের পেছনেই দেখা যায় ‘হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল অডিটোরিয়াম কার্যালয়’ যা মুহসীন হল কল্যাণ সমিতি দ্বারা স্থাপিত। এই কার্যালয়টি এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে। অডিটোরিয়াম কার্যালয় এর অস্তিত্বের ব্যাপারে হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অজ্ঞাত। দু পাশের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলে দেখা যায় কর্মচারীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যাবহার করা হচ্ছে। আবার,বিভিন্ন স্থানে ও ছাদ থেকে খসে পড়েছে সিমেন্ট। অধিকাংশ স্থানে ছাদের লোহা দৃশ্যমান।


এদিকে সূর্য সেন হলের শহীদ এইচ এম ইব্রাহীম সেলিম মিলনায়তনের অবস্থাও ভয়ংকর। এখানে ২টি প্রবেশদ্বারই তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে দীর্ঘদিন। ভেতরে হলের যাবতীয় আসবাবপত্র রাখা আছে। দু পাশের সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলে দেখা যায় কর্মচারীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখা যায় উপরের রেলিং খসে গেছে।

এ হলে বহু বছর যাবৎ কর্মরত ব্যক্তিবর্গের সূত্রে জানা যায়, বহু বছর যাবৎ এখানে কোন অনুষ্ঠান হয় না। মিলনায়তনের রেলিং ধসে কয়েক বছর আগে ছাত্র ও কর্মচারীরা আহত ও হয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রাধ্যাক্ষ অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, মিলনায়তনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে তাই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের প্রোগ্রামগুলি টিভিরুম এবং বিভিন্ন বড় রুম আছে সেগুলোতে হয়। অডিটোরিয়ামগুলি সংস্কার যদি আমরা করতে পারি তা করব। আমি যতদূর জানি,এটা ভেঙে ২০ তালা করার কথা, একটা প্ল্যান আছে।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যাক্ষ ড. মাকসুদুর রহমানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১৭-১৮ সেশনের আবাসিক ছাত্র মাহিন আহমেদ চান হলের অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো মঞ্চায়িত হোক।

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সহাবস্থান থাকলে প্রশাসনের ওপর একটা চাপ থাকে। চাপ থাকলে প্রশাসন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখতে এক প্রকার বাধ্য হয়। হলে অন্য কেউ নাই যদি থাকে তাহলে চাপ কারা প্রয়োগ করবে? হল সংসদগুলো অকার্যকর হয়ে আছে। হল সংসদ অকার্যকর থাকলে সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামগুলো নেবে কারা? এদিকে সাংস্কৃতিক ছাত্র সংগঠন নাই, সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনুপস্থিতি এই সব কিছু মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগুলো এক প্রকার ব্যবহারহীন হয়ে পরে থাকে। এজন্যই গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রয়োজন। নইলে প্রশাসন এখনের মতো দায়মুক্ত হয়ে থাকবে এবং দায় টা অনুভব করানোর জন্যই গণতান্ত্রিক সহাবস্থান দরকার’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভির নাহিদ খান শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও নাট্যচর্চার গুরুত্বের ব্যাপারে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাটকের শীর্ষ স্থান ছিল। ১৯৪৭ সালে যখন দেশভাগ হল তখন এই অঞ্চলের নাট্য চর্চা ঢাবিকে কেন্দ্র করেই হত। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শহীদুল্লাহ হল জগন্নাথ হল এর অডিটোরিয়াম ছিল নাটকের উপযোগী। ওই সময় আমাদের দুই ধরণের নাট্য চর্চা হত। এক দল প্রগতিশীল নাট্যকারদের যারা ভাষা ও জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক নাট্য চর্চা করত। আরেকটা দল তাত্ত্বিকদের মতে ইসলামী রক্ষণশীল নাট্যচর্চা করত। ঢাবির শিক্ষক যারা ছিলেন, মুনির চৌধুরী, আখতার ইবনে সাঈদ,সাঈদ আহমেদ, সৈয়দ ওয়ালিওল্লাহ এদের নাটক ও ঢাবিতে দারুণ চর্চা ছিল, হল ভিত্তিক এ চর্চা গুলো চমৎকার ছিল। ডাকসুর একটি নাটকের দল ছিল ‘নাট্যচক্র’। এগুলো যে হচ্ছে না তাকে এক ভাবে বলতেই পারেন ‘সাংস্কৃতিক দৈনদশা’।

কয়েকবছর আগেই উদ্যোগ নিয়ে হলে হলে নাটকের উৎব হয়েছে। ডাকসুতে যখন নির্বাচনের পর আয়োজন হল তখনো হলে হলে ডাকসু থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হত। এগুলো হওয়াতো উচিত। না হওয়ার ফলে এখন আর গুণীজন উঠে আসে না। হল ভিত্তিক নাট্য চর্চা হলে অনেকে অভিনয় করত, নাটক লিখতো, নাটকের নির্দেশনা দিত এরাই পরে মেইন স্ট্রিমে বা জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখে। আজকে স্বাধীন বাংলাদেশের বিখ্যাত নাট্যকাররা কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ভিত্তিক চর্চা করেই আসছেন। যেমন রামেন্দ মজুমদার,ম হামিদ, মামুনুর রশীদ এরকম গুরুত্বপূর্ণ নাট্যকাররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেই আমাদের জাতীয় পর্যায়ের নাট্যচর্চা কে বেগবান করেছেন।

কিন্তু এখন শিক্ষার্থীরা নাট্যচর্চা না করে মোবাইলে ফেসবুকিং করে সময় কাটাচ্ছে। টিভি রুমেও খেলা ছাড়া শিক্ষার্থী ওইরকম যায় না। তাই নাটকের অডিটোরিয়ামগুলো নাটকের কাজেই ব্যবহার করা উচিত। এর ফলে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বেগবান হবে।একজন মানুষ যখন নাটকের সাথে যুক্ত হয় তখন সে সুন্দর ভাবে কথা বলা শেখে, থিয়েটারে কাজ করার ফলে সময়ানুবর্তিতা শেখে, দলগত হয়ে কাজ করা শেখে, সৃষ্টিশীল চর্চা হয়, সমাজের সমকালীন ঘটনা গুলো নাটকের লেখায় চলে আসে। এগুলো মানুষ কে মননশীল করে তোলে। কিন্তু এ সুস্থ চর্চা না করে অনেক শিক্ষার্থী মাদকের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে, থিয়েটার করতে হলে পড়াশোনা করতে হয় এগুলো না করার ফলে অনেকে পড়াশোনা থেকে সরে যাচ্ছে।

মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ/বার্তা২৪.কম

ছবি: মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ছাত্র-ছাত্রী নির্যাতন এবং হত্যার প্রতিবাদে নিজেদের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) বিবেকবান সাধারণ শিক্ষক উল্লেখ করে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেন। বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কিছু শিক্ষক। বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষকগণ ওই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কৃষি অনুষদের করিডোর থেকে মৌন মিছিল শুরু হয়ে বিজয় একাত্তর ভাস্কর্যের চত্তরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান করে নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা দোআ করা হয়।

এসময় শিক্ষকরা বলেন ছাত্ররা আমাদের আন্দোলনে সহযোগিতা করছিলো কিন্তু আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারিনি। এজন্য আমরা দুঃখিত। আমরা সাধারণ শিক্ষকরা ক্লাস শুরু হওয়ার পরে যাতে আবার শিরদাঁড়া শক্ত করে দাঁড়াতে পারি তার জন্য আজকে আমরা এই রোদের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছি।সবাই শিরদাঁড়া সোজা করেন বুলেট চলবেই তার মধ্যে লড়াই থাকবেই। মনে রাখবেন ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে আমরা আজ বেঁচে আছি।

;

ববিতে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়লো পুলিশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে পুলিশ। এর আগে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাদের তোপের মুখে পড়েন তারা। স্থানীয় জনতাদের নিয়ে শিক্ষার্থীরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরলে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা 'কমপ্লিটি শাটডউট' কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান করে। এ সময় পুলিশ অ্যাকশনে গেলে, শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে চড়াও হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ

শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট পাটকেলের ফলে আশেপাশের দোকানপাটে অবস্থান নেন পুলিশ সদস্যরা। পরে ক্যাম্পাস বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে ঘিরে ধরে শিক্ষার্থীরা। পরে কোণঠাসা হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাদের নিরাপত্তা দিয়ে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে ছিল র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবির সদস্যরা। শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনে বাধা দেন তারা। পরে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেয় শিক্ষার্থীরা। সে সময় পার হলেই সংঘর্ষ শুরু হয়।

;

হল ছাড়ছেন বাকৃবি শিক্ষার্থীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সব শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী সকল থেকে শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। দলে দলে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ শহরে যাওয়ার জন্য আবদুল জব্বার মোড়ে এসে জড়ো হতে দেখা যায়। অনেক মধ্যে রাতেই চলে গেছেন বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, সবাইকে বাধ্যতামূলক হল ত্যাগ করতে হবে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করবো হল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আপাতত এ পরিস্থিতিতে আমরা কাউকে হলে থাকার অনুমতি দেব না সবাইকে হলে ত্যাগ করতে হবে। পরে আমরা বিবেচনা করবো। দ্রুত সময়েের মধ্যে ছাত্রদের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে না পারলে ও হল খুলে দেব আমরা।

কিন্তু এখন একটু ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে হবে। কারণ পরিস্থিতি যে কোন সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো.অলিউল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হল বন্ধে তথ্য জানানো হয়।

;

জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা



জাবি করেসপন্ডেট, বার্তা ২৪.কম, ঢাকা
জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা

জাবিতে বিদ্যুৎ-পানি-ইন্টারনেট বন্ধ, হল ছেড়েছে শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ আবাসিক হল ছেড়ে চলে গেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাত ১০টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রধান ফটক সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের সাঁজোয়া যান ও ক্যাম্পাসের বাইরে বিজিবি মোতায়েন আছে বলে জানা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে অনেক শিক্ষার্থী হল ছেড়ে চলে যান।

এর আগে, গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমসহ অন্যান্য সিন্ডিকেট সদস্যরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা বের হয়ে দফায় দফায় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। পুলিশ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ শতাধিক আহত হয়েছেন।

এদিকে, গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন (সবকিছু বন্ধ) কর্মসূচি পালন করবে তারা।

বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করছি।

তিনি আরও বলেন, এসময় শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারাদেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।

অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।

;