বিশ্ব শিক্ষক দিবস: স্মৃতির স্কুল, মহতীপ্রাণ শিক্ষক



ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম
স্মৃতির স্কুল, মহতীপ্রাণ  শিক্ষক

স্মৃতির স্কুল, মহতীপ্রাণ শিক্ষক

  • Font increase
  • Font Decrease

বাবার বদলির চাকরির সুবাদে অনেক স্কুল কলেজে পড়েছি। ফলে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো অনেক শিক্ষককে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আজ শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকের কথাই মনে পড়ছে। সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে আজ শিক্ষক দিবসে আমি আমার শৈশবের বিদ্যালয় ভেড়ামারা উচ্চ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শিক্ষকদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমার শৈশবের এই মহান শিক্ষকদের স্মৃতি আমাকে এখনো প্রবলভাবে নাড়া দেয়।

আমার ছেলেবেলা কেটেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৪ সাল পযন্ত ভেড়ামারা জিকে ২নং কলোনীর ব্যারাকে থাকতাম। পড়তাম ভেড়ামারা হাইস্কুলে। ১৯৮৪ সালে এস এস সি পরীক্ষা দেয়া পর্যন্ত যেসকল শিক্ষককে পেয়েছি তাঁরা হলেন: রুহুল ইসলাম স্যার ( প্রধান শিক্ষক), হাফেজ আবদুর রশীদ স্যার (সহকারী প্রধান শিক্ষক), আনোয়ারুল আজিম স্যার ; বিনোদ কুমার স্যার, মতিউর রহমান খান স্যার; মো. সিরাজুল ইসলাম স্যার; দাউদ আলী খান স্যার; মশিউর রহমান স্যার, এনামুল হক স্যার, আবদুল হাই স্যার, জিনাত আলী স্যার, আবদুল করিম স্যার, আবদুস সালাম স্যার, মকবুল হোসেন ভি এম স্যার , আজিজুল হক চাঁদু স্যার, গিয়াস স্যার এবং আবদুর রব স্যারকে।

আমার নিজ স্কুলের ( ভেড়ামারা হাইস্কুল) বাইরে বাল্যকালে আরেকজন শিক্ষক যিনি আমার পড়াশোনার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তিনি হলেন আব্দুল্লাহ স্যার। তিনি ধরমপুর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। আব্দুল্লাহ স্যার আমাকে বাসায় পড়াতেন। স্যার আমাকে গনিত, পদার্থ এবং রসায়ন পড়াতেন। স্যারের পড়াগুলো আজও মনে পড়ে। ২০১১ সালের দিকে স্যারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছিল। স্যার প্রায়ই ফোন দিতেন। ইচ্ছে ছিল স্যার আমায় দেখবেন, কিন্তু আর দেখা হয়নি। স্যার মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে চলে গেছেন। স্যারের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

দায়িত্ব ও পরিশ্রম কাকে বলে সেটা সেই স্কুল জীবনেই দেখেছি হেড স্যার রুহুল ইসলামকে। তুলনাবিহীন এই শিক্ষককে জ্ঞান গরিমায় আদর্শ ছিলেন। সক্রেটিস হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমাদের জীবনে লেখাপড়ার পাশাপাশি, আদব কায়দা, ভদ্রতা রুহুল স্যারকে দেখেই রপ্ত করেছিল ওই সময়ের ছাত্ররা। ছাত্ররা তাঁকে যেমন ভয় করত, তেমন শ্রদ্ধাও করত। স্যার আমাদের দশম শ্রেণীতে ইংরেজী পড়াতেন। আমাদের সময় ইংরেজীতে লিও তলস্তয় এর লেখা থ্রি কোশ্চেন নামে একটি প্রবন্ধ ছিল। কী গম্ভীরভাবে দরাজ গলায় স্পষ্ট উচ্চারণে স্যার পড়াতেন। তখন কেউ না বুঝলেও ক্লাসে পিন পতন নীরবতা থাকতো। স্যার ক্লাসে বেত নিয়ে ঠুকতেন। বেতের ভয়ে আমি প্রবন্ধটা মুখস্ত করে ফেলেছিলাম প্রবন্ধের শুরুটা ছিল The thought came to a certain king that he would never fail if he knew three things. These three things were: What is the right time to begin something? Which people should he listen to? What is the most important thing for him to do?

স্যারের কারণে আমি সহ বন্ধুরা এই দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে ওস্তাদ ছিলাম। আমার ধারণা এখনো আমি ও আমার সহপাঠীরা চোখ বন্ধ করে এই দুটি প্রশ্নের উত্তর অনর্গল বলতে পারবো।

আর আরেকটি হলো What is the summary of the three questions? বাপরে বাপ এখনো ওই প্রবন্ধের কথা মনে হলে ভাবি তলস্তয়ের চেয়ে বোধ হয় আমাদের রুহুল স্যার এই তিন প্রশ্নের উত্তর বেশি জানেন।

আমার স্কুলের আরেক শিক্ষক ছিলেন হাফেজ স্যার। সকল বিষয়ে পারদর্শী এই স্যারকে কে ভুলতে পারে? স্যার পড়াতেন ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র। হাফেজ স্যারের ক্লাস হতো টিফিন পিরিয়ডের পর। সাধারণত টিফিনের পরের ক্লাসগুলিতে ক্লাস নেয়া খুব কঠিন। ছাত্ররা অমনোযোগী হয়ে উঠে। কিংবা বেঞ্চে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু হাফেজ স্যার জাদুমন্ত্র জানতেন। ক্লাসকে সচল করে তুলতেন তাও ইংরেজী দ্বিতীয় পত্রের ক্লাস দিয়ে। হয়তো কোন ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে বলতেন বলতো দেখি আমি একজন গাধা ছাত্র। ওমনি ক্লাসের সবাই হো হো করে হেসে উঠল। ঝিম ধরা ক্লাসে শুরু হয় আনন্দের বন্যা। ট্রান্সলেশন কাকে বলে স্যার শেখাতেন। ক্লাসে ঢুকেই বলতেন ট্রান্সলেশন কর- ভজহরি চা সিঙ্গারা খেয়ে রসগোল্লা খাচ্ছে। কিংবা ছাগলটি ভরভর করিয়া লাদিয়া দিল। স্কুলের মাঠের পাশেই ছিল পশু চিকিৎসালয় । স্যার ওই সকল দৃশ্য দেখতেন আর ট্রান্সলেশন করতে দিতেন।

আমাদের টিফিনের পর প্রায় সময় একটা প্লেন চক্কর দিত। তখন ভেড়ামারার কেউ একজন পাইলট হয়েছিল সেই নাকি প্লেন নিয়ে ভেড়ামারার উপর দিয়ে চক্কর দিত।( এটা অবশ্য শোনা কথা)। আমরা জানালার বাইরে আকাশের দিকে প্লেন খুঁজতাম। কিশোর বয়সের ছেলেরা প্লেন দেখবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কতটা দক্ষ শিক্ষক হলে শ্রেণি কক্ষের ডিসিপ্লিন নষ্ট হতে দেননি। বরং সেটাকেই পড়ানোর সাবজেক্ট বানাতেন। হাফেজ স্যার একধাপ এগিয়ে গিয়ে আরেকটি ট্রান্সলেশন দিতেন- উড়োজাহাজটি ভো ভো শব্দ করিয়া আসিতেছে। স্যারের পান্ডিত্য ছিল সর্বজনবিদিত। স্মরণশক্তি ছিল অসাধারণ।

করিম স্যার অষ্টম শ্রেণীতে ভূগোল এবং নবম শ্রেণীতে বাংলা ব্যাকরণ পড়াতেন। আমার আব্বার সঙ্গে স্যারের হ্নদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। স্যার আমাকে প্রাইভেট পড়াতেন। অন্য কাউকে পড়াতেন না। আমি স্যারের বাসায় যেতাম। যদিও ওই দুই বিষয়ে আমার আগ্রহ ছিল খুবই কম। কিন্তু আব্বার কারণে যেতাম। স্যারের ছেলে শাকিল আমাদের জুনিয়র ছিল। বাসায় গেলে ওর সাথেই গল্প গুজব বেশি হতো। তবে স্যার এতো সুন্দরভাবে ব্যাকরণ বোঝাতেন তা কখনো ভোলার নয়। আমি কারক কিছুতেই বুঝতাম না। বিশেষ করে অপাদান আর অধিকরণ এই দুই কারকে জড়িয়ে ফেলতাম। স্যার একদিন আমাকে গাছের নীচে নিয়ে বোঝালেন, গাছ থেকে পাতা পড়েছে এটাই অপাদান কারক । মানে কোন কিছু থেকে বিচ্যুত হওয়া। পাতা ডালে ছিল সেখান থেকে ছিড়ে পড়ল। ঠিক একইভাবে তিল থেকে বের হয়ে তেল হল। খেজুর রসে গুড় হল। দুধ থেকে দই হল। আবার স্টেশনের উদাহরণ দিয়ে বোঝাতেন ঈশ্বরদী থেকে ট্রেন ভেড়ামারা আসলো। এ রকমের কত উদাহরণ দিতেন।

অষ্টম শ্রেণির ক শাখার ক্লাস টিচার ছিলেন মতিউর রহমান স্যার। স্যারের বাসা ছিল বামুনপাড়ায়। জিকে ২ নং কলোনি থেকে বামুন পাড়ার দূরত্ব ৫ কিলোমিটার এর মতো হবে। স্যারের বাসায় সকাল ৭টায় প্রাইভেট পড়তে যেতাম। আমার একটা সাইকেল ছিল। বন্ধু মুজিবুল আসতো ষোলদাগ থেকে। ১৯৮১ সালের শীতের দিনগুলোতে মতিউর স্যারের বাসায় যেতে খেজুর রস, আলুর দম, কলাইয়ের রুটি কত কিছু যে খেয়েছি। স্যার আমার উচ্চারণ নিয়ে রসিকতা করতেন, বলতেন তুমি তো পাবনার ছাওয়াল। তোমরা স্ব্ররধ্বনির ব্যবহার জানো না। তোমরা দুইটা স্বরধ্বনির মাঝে কিছু থাকলেই ঝামেলা বাধিয়ে ফেল। বলেই স্যার বলতো ট্যাহা লিয়া আইছ্যাও তো। তখন কিছুই বুঝতাম না। স্যারের ধুতি পড়ার দিকে চেয়ে থাকতাম। বন্ধু মুজিবুল সহ সকলে হো হো করে হেসে দিত। স্যারের অসাধারণ পান্ডিত্য স্বীকার করতেই হবে।

ভেড়ামারা হাইস্কুলের একজন শিক্ষক এসেম্বলীর সময় খুব প্রাণোচ্ছল থাকতেন। তিনি সকলের প্রিয় ভি এম স্যার। স্যারের আসল নাম ছিল মকবুল হোসেন স্যার। সপ্তম শ্রেণীতে ক শাখায় স্যার আমাদের শ্রেণী শিক্ষক ছিলেন। কী পড়াতেন মনে পড়ে না। তবে বেশীরভাগ সময়ে স্যার রামায়ণ এবং মহাভারতের গল্প শোনাতেন।আজিজুল হক স্যারকে সকলে চাঁদু স্যার নামে ডাকতেন। স্যার আমাদের নবম দশম শ্রেণীতে রসায়ন পড়াতেন।

অসাধারণ বাংলা পড়াতেন আজিম স্যার। স্যারকে কোনদিনই চেয়ারে বসতে দেখিনি। ক্লাস নাইনে উঠেই স্যারকে পেলাম। কথা বিচিত্রা নামে বাংলা সহায়ক পাঠ্য ছিল । স্যার সেখান থেকে পড়াতেন পোস্ট মাস্টার, আদরিণী, মামলার ফল এসকল গল্প গুলো। স্যারের পড়ানো দেখে গল্পের নায়ক গুলোকে যেন পথে ঘাটে দেখতাম।

আমাদের সময়ে ধর্মীয় শিক্ষক ছিলেন দুইজন। একজন হলেন সিরাজ স্যার আর অপরজন হাই স্যার। ওই সময়ে নীল ডাউন বলে স্কুলে একটা প্রচলিত শাস্তির বিধান ছিল। ধর্ম শিক্ষক হাই স্যার আমাদের প্রায় সময়েই নীল ডাউন করতেন। পড়ার কারণে নয়, নামাজ না পড়ার কারনে। জোহরের নামাজের সময় কে কে মসজিদে যাইনি সেটা স্যার মনে রাখতেন। আর তার শাস্তি ছিল নীল ডাউন কিংবা মসজিদে বদনা কিনে দেয়া। হাই স্যার আমাদের নীল ডাউনের শাস্তি দিলেও স্যার কে কেন জানি নিষ্পাপ একজন মানুষ মনে হতো। নোয়াখালীর মানুষ ছিলেন। স্যার নোয়াখালির আঞ্চলিকতায় কথা বলতেন। ধর্মপরায়ণ, ন্যায়নিষ্ঠ স্যারকে সবাই ভালবাসতেন।

আমাদের আরেকজন হাই স্যার ছিলেন । তিনি কৃষি বিজ্ঞান পড়াতেন। স্যার স্টুডেন্টদের অনেক পছন্দ করতেন। সেই সুবাদে আমি ও আমার বন্ধুরা হাই স্যার এর ১৬ দাগের বাড়ীতে অনেকবার গেছি। যতদূর মনে পরে হাই স্যার এর অনেক লেখা কৃষি কথা নামে পত্রিকায় ছাপা হত।

ক্লাস টেনে আমাদের ক্লাস টিচার ছিলেন রব স্যার। খুবই ভাল একজন টিচার ছিলেন। আজও মনে পড়ে এস এস সি পরীক্ষার আগে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছিলেন রব স্যার। ১৯৮৩ সালে রব স্যার আমাদের পিকনিকে নিয়ে গিয়েছিলেন হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নীচে। সেবারই স্যার একটা গান গেয়েছিলেন হৈমন্তী শুক্লার তুমি চলে গেলে, চেয়ে চেয়ে দেখলাম। এরপর যতদুর জেনেছিলাম স্যারও কান্সারে আক্রান্ত হয়ে ইহজগত ছেড়ে চলে গেছেন। এখনো কোন কারণে হার্ডিঞ্জ ব্রীজের কাছে গেলে ১৯৮৩ সালের পিকনিক আর স্যারের গানের কথা মনে পড়ে।

আমার জীবনে দেখা সুদর্শন স্যার ছিলেন এনামুল হক স্যার। স্যারের গ্রামের বাড়ি ছিল চাঁদগ্রাম। ১৯৮০ সালে আমরাও চাঁদগ্রামে থাকতাম। স্যার প্রতি শুক্রবার চাঁদগ্রাম চাষীক্লাবে মিটিং করতেন। অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন স্যার। গ্রাম্য সালিশ মিটিংয়ে স্যার যে সমাধান দিতেন, সেটাই সবাই মানতেন। স্কুলেও স্যার আমাদের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতেন। এসেম্বলীর সময় দেখতেন কেউ নোংরা কাপড়ে এসেছি কি না, কিংবা কারো চুল বড় হয়েছে কি না, কেউ নখ কেটেছে কি না। স্যারের শাস্তি ছিল স্কুল মাঠের ঘাস পরিস্কার করা। কিন্তু কখনো এগুলো শাস্তি মনে হয় নি। স্কুলের পুরস্কার বিতরণী কিংবা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্যারকে খুবই প্রানবন্ত দেখেছি। স্যার মাঝে মাঝে আমাদের দিয়ে কবিতা আবৃত্তি করাতেন।

পেশাগত জীবনে আমিও একজন শিক্ষক। কিন্তু এটি এখন আর সম্মানীয় স্থানে নেই। আশির দশকে আমার দেখা ভেড়ামারা হাই স্কুল এর সেই সময়কার শিক্ষকদের তুলনা হয় না। ছাত্র হিসেবে আমার শৈশব ও কৈশোরের এই সকল শিক্ষকেরা হ্নদয়ের মণিকোঠায় চির জাগরুক হয়ে আছে । তাঁদের স্মৃতি আমি বহন করতে চাই অন্তহীন কাল ধরে। আমি যখন স্কুলের ছাত্র ছিলাম তখন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ও ভাতাদি সবচেয়ে অবহেলিত ছিল। তবুও আমার শিক্ষকদের কখনো স্কুলে বা অন্য কোন আলাপচারিতায় কখনো আফসোস করতে দেখিনি! তবে একটা জিনিসের স্যারদের অভাব ছিল না, সেটা হলো সম্মান!

আজ শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকদের জানাই শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।

(ডঃ মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাক্তন প্রো ভাইস চ্যান্সেলর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।)

ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

ঢাবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন শেষে এ ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

তিনি বলেন, আজকের এই সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের সফল কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটল। একইসঙ্গে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রত্যাশী ২৪৫ জন নেতা সিভি জমা দিয়েছেন। আমরা মনে করি সবাই নেতৃত্ব পাওয়ার যোগ্য। তবুও সবকিছু বিবেচনা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

এদিকে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, চিন্তার কোনো কারণ নেই। আগামী ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এবং মহানগরের (উত্তর-দক্ষিণ) কমিটি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ৩০তম জাতীয় সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন ও প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এক বছর মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতেই প্রায় ১০ মাস সময় নিয়েছেন সনজিত-সাদ্দাম। হল কমিটিগুলো করেছেন মেয়াদ শেষ হওয়ার আড়াই বছর পর।

;

‘নিজের ঘরে গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র দেশে কিভাবে করবেন’



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নিজের ঘরে গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র দেশে কিভাবে করবেন

নিজের ঘরে গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র দেশে কিভাবে করবেন

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম টেনে এনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজের ঘরে গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র দেশে কিভাবে করবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কবে সম্মেলন করে জানে না। কোন শাখায় একটা সম্মেলনেও যান নি। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং কখনো করে নি। ৫০০-৬০০ লোকের জাম্বু-জেড মার্কা কমিটি ; বসবে কোথায়? লা মেরিডিয়ানে না’কি একটি মিটিং হয়েছে। ফখরুল, নিজের ঘরে গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্র দেশে কিভাবে করবেন। এ প্রশ্নের জবাব পাই না। কবে সম্মেলন হয়েছে ফখরুল জানে না।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক আর হবে না। সংবিধান পরিবর্তন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংবিধানকে অনেক কচু কাটা করেছেন। আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। এটাও সেই রকম আইন; সেই আইন আর হবে না। সংবিধানে হাত দেয়ার অধিকার কারো নেই। তাই তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে দিবাস্বপ্ন ও রঙিন খোয়াব দেখে লাভ নেই।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ পল্টনকে ভয় পায় না, পায় আপনাদের আগুন সন্ত্রাসকে। আগুন সন্ত্রাস, লাঠি নিয়ে খেলাধুলা সেই বদ মতলব আপনাদের আছে। সেজন্য পল্টন দরকার; ওখানে সব মজুদ করবেন। আর সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মী আনবেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলাম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ ১৮টি হলের নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেলা দুপুর সাড়ে ৩ টায় শুরু হয় জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করা হয়।

;

জাফরু'র সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জাফরু'র সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু

জাফরু'র সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন জার্নালিজম অ্যালামনাই ফোরাম অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি-জাফরু এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রুহুল কুদ্দুস খান সুমন (প্রথম ব্যাচ)। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মাহফুজ মিশু (নবম ব্যাচ)।

শুক্রবার ২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ কার্যালয়ে জাফরু'র বার্ষিক সাধারণ সভায় এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

এসময় সংগঠনটির ২৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিটির সহ-সভাপতি পদে শাহনাজ সিদ্দিকী সোমা ও আরেফিন অডেন; যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরদার মহিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এরশাদ আলী, অর্থ সম্পাদক আইনুদ বিন্থ জুবাইর সনি, মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আনিসুল আশেকীন রাসেল, যোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্পাদক জুয়েল কিবরিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক যোবায়ের শাওন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহ আলী জয় এবং মানবকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে ইমরান খান নাহিদ নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন- সাজ্জাদ আলম শাহীন, সাজেদুল ইসলাম খান, হুমায়ুন কবির নয়ন, মঈনুদ্দীন মিয়া নয়ন, আকতারুল ইসলাম, মো. আখতারুজ্জামান, পারভেজ হাসান তরফদার, খায়রুল আলম মনি, ফেরদাউস মোবারক এবং দেবাশীষ রায়।

কমিটি গঠনের আগে জাফরুর বিদায়ী কমিটির সভাপতি সাজেদুল ইসলাম রুবেলের সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভা হয়। পারভেজ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

;

ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় সাড়ে চার বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এ সম্মেলন বেলা ৩টা নাগাদ শুরু হবার কথা রয়েছে।

এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক ক্যাম্পাসের স্বার্থে শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে লাগানো সকল ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ৩০তম জাতীয় সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন ও প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়।

২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন হয়। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এক বছর মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্ব নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতেই প্রায় ১০ মাস সময় নিয়েছেন সনজিত-সাদ্দাম। হল কমিটিগুলো করেছেন মেয়াদ শেষ হওয়ার আড়াই বছর পর।

;