জাবির ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি ও নতুন মানবন্টন প্রকাশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার (ঢাকা)
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ৭-১৮ নভেম্বরের মধ্যে এ ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।

রেজিষ্টার অফিস জানায়, ভর্তি কমিটির পক্ষ থেকে ডিনদের নিকট সময়সূচি পাঠানো হয়েছে। এরপর এ সূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বাক্ষর করলে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে। তবে এ সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ভর্তি পরীক্ষার এই সূচি অনুযায়ী, রোববার ও সোমবার (০৭ ও ০৮ নভেম্বর) এ ইউনিটের অধিনে গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ, মঙ্গল ও বুধবার ‘ডি’ ইউনিটের অধীনে জীববিজ্ঞান অনুষদ, বৃহস্পতিবার 'এইচ' ইউনিটের অধীনে আইআইটি এবং ‘জি’ ইউনিটের অধীনে আইবিএ।

পরের সপ্তাহের রোববার ‘বি’ ইউনিটের অধীনে সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, সোমবার ‘এফ’ ইউনিটের অধীনে আইন অনুষদ, ‘আই’ ইউনিটের অধীনে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট, মঙ্গলবার ‘ই’ ইউনিটের অধীনে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ, ‘সি-১’ ইউনিটের অধীনে কলা ও মানবিকী অনুষদ এবং বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ‘সি’ ইউনিটের অধীনে কলা ও মানবিকী অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক দিনের পরীক্ষা ৫ শিফটে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। প্রতি শিফটে ৪৫ মিনিট করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি সূত্র জানিয়েছে, ‘এ’ ইউনিট (গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ): গণিত ১৬, পদার্থবিজ্ঞান ১৬, রসায়ন ১৬, বাংলা ৩, ইংরেজি ৩ এবং সাধারণ জ্ঞান ৬ নম্বর।

বি ইউনিট (সমাজবিজ্ঞান অনুষদ): বাংলা ১০, ইংরেজি ১০, গণিত ১০, সাধারণ জ্ঞান ২০ এবং বুদ্ধিমত্তা ১০ নম্বর। 'সি' ইউনিট (কলা ও মানবিকী অনুষদ: নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ ব্যতীত) বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ এবং বিষয়ভিত্তিক ৩০ নম্বর।

সি-১ ইউনিট (কলা ও মানবিকী অনুষদ: নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগ): বাংলা ১০, ইংরেজি ১০, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব ২০ এবং চারুকলা ২০ নম্বর। 'ডি'

ইউনিট (জীববিজ্ঞান অনুষদ): বাংলা ৩, ইংরেজি ৩, বুদ্ধিমত্তা ৩, উদ্ভিদবিজ্ঞান ১৬, প্রাণিবিদ্যা ১৭ এবং রসায়ন ১৮ নম্বর।

ই ইউনিট (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ): ব্যবসায় শিক্ষা শাখা বাংলা ১১, ইংরেজি ২০, গণিত ১১, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১৫ নম্বর। বিজ্ঞান/মানবিক/সমমান শাখা: বাংলা ১১. ইংরেজি ২০, গণিত ১১ ও সাধারণ জ্ঞান ১৫ নম্বর। (গণিত, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নপত্রের মাধ্যম হবে বাংলা)

এফ ইউনিট (আইন অনুষদ): বাংলা ২০, ইংরেজি ২০ এবং সাধারণ জ্ঞান ও দক্ষতা ২০ নম্বর। 'জি' ইউনিট (ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন, আইবিএ-জেইউ) বাংলা ৫, গণিত এবং আইকিউ ২০, সম-সাময়িক বিষয় ১০ ও ইংরেজি ২৫ নম্বর। 'এইচ' ইউনিট (ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি, আইআইটি) বাংলা ৫, ইংরেজি ১০, গণিত ৩০ এবং পদার্থবিজ্ঞান ১৫ নম্বর।

আই ইউনিট (বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট): বাংলা ১১, ইংরেজি ১১, বিশ্বসাহিত্য ৮. সংস্কৃতি, নৃবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ, নৃজাতিগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান ৩০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের চেয়ে এবার ৫১ হাজার ৯৮৪ শিক্ষার্থী কম আবেদন করেছে। এ বছর এক হাজার ৮৮৯ আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে তিন লাখ সাত হাজার ৯৭৮টি। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মোট নয়টি ইউনিটের জন্য আলাদাভাবে ফরম পূরণ করতে হয়েছে।

কোটা সংস্কারের কুবি সমন্বয়কারীকে ছাত্রলীগের মারধর



কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
কুবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

কুবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সমন্বয়কারীকে মারধর করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারধর শিকার আন্দোলনকারী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফরহাদ কাউছার।

জানা যায়, হামলাকারীরা শাখা ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী এনায়েত উল্লাহ ও আবু সাদাৎ মো. সায়েমের অনুযায়ী। অভিযুক্তরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের রবিন দাশ, একাউন্টিং এন্ড ইনফেকশন সিস্টেমস্ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রিয়াজ উদ্দিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আক্তারুজ্জামান পাভেল, মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেরে আশিকুর রহমান রাফি, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের জুনায়েদ লামিম, গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অর্ণব সিংহ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আসিফ এনতাজ রাব্বি এবং আগামী কমিটির পদপ্রত্যাশী মেজবাহউল হল শান্ত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, আমি রাতের বাসে কুমিল্লা শহর থেকে টিউশন করে এসে ক্যাম্পাস গেট নামি। এরপর আমাকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যান। তারা আমার ফোন কেড়ে নিয়ে লক খুলতে বলেন এবং জানতে চান, আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে যুক্ত আছি কি না। আমার ফোন চেক করতে থাকা অবস্থায় রবিন দাশ প্রথমে আমাকে মারধর করতে শুরু করেন। এরপর পাভেল, রাফি, শান্ত, রিয়াজ, রাব্বি আমাকে মারধর করেন।

এই বিষয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুবি শাখার সমন্বয়কদের একজন মো. সাকিব হোসাইন বলেন, 'আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আজকের সকল কর্মসূচি পালন করেছিলাম। কিন্তু এই যে হামলা, সেটিতে আমরা মর্মাহত। পাশাপাশি তার ফোন চেক করা একপ্রকার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা এর যথাযথ বিচার চাই।'

এর বিপরীতে উনাদের কর্মসূচির বিষয় তিনি বলেন, 'আমরা প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিবো। তারা যদি যথাযথ বিচার না করেন, তাহলে আমরা আদালত পর্যন্ত যাব।'

পদপ্রত্যাশী নেতা এনায়েত উল্লাহ জানান, ‘আমি যতটুকু শুনেছি, কালকে রাজাকার স্লোগানের পর ছাত্রলীগ তাদের প্রতিহত করে। আজকেও ওদের সাথে কথা-কাটাকাটির হয়েছে। এক পর্যায়ে ওদের একজনের সাথে মারামারি হয়। আমরা তিন হলের সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত রয়েছি। সকলে বসে একটা সমাধানে আসব।’

কুবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠিক সম্পাদক আবু সাদাত সায়েম জানান, ‘এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেব, যাতে কেউ বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার সাহস না পায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা এই বিষয় কোনো অভিযোগ পাইনি। এই বিষয়ে অভিযোগ এলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান মিলকী বলেন, আমি এ ঘটনা জানতে পেরেই প্রক্টরিয়াল বডির সাথে উপস্থিত হই। এরপর শিক্ষার্থীদের থামানোর চেষ্টা করি। আমরা আপাতত ঘটনাটি পর্যবেক্ষণে রাখছি।

;

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ঢাবি প্রভোস্ট কমিটির ৫ নির্দেশনা



ঢাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রভোস্ট কমিটির এক জরুরি সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ৫ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৫টায় প্রভোস্ট কমিটির জরুরি সভা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং বিভিন্ন হল/হোস্টেল সমূহের প্রাধ্যক্ষ/ওয়ার্ডেনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়: (১) শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব হলে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন; (২) প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন; (৩) হলসমূহে কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবেন না। (৪) যে কোনো ধরনের গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হচ্ছে; (৫) সকলকে নাশকতামূলক কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা যাচ্ছে। কেউ নাশতকতামূলক কাজে জড়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়

;

জাবিতে দফায় দফায় ছাত্রলীগের হামলা, আহত অর্ধশতাধিক



জাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: জাবিতে দফায় দফায় ছাত্রলীগের হামলায় আহতরা

ছবি: জাবিতে দফায় দফায় ছাত্রলীগের হামলায় আহতরা

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জেরে স্লোগান দেয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্তৃক চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) বিক্ষোভ-মিছিল করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা৷ এসময় ছাত্রলীগের হামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী, ১ জন শিক্ষক এবং ২ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন৷

সোমবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচারসহ কোটা সংস্কারের ১ দফা দাবিতে সন্ধ্যা পৌনে ৭ টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে প্রাঙ্গণ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করে৷

মিছিলটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু হয়ে চৌরঙ্গী দিয়ে ছাত্রীদের হল হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্মুখে আসলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে হামলায় নেতৃত্বে দিতে দেখা যায়। হামলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইটপাটকেল, লাঠি ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করতে দেখা যায়৷

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে এলেও থামেনি দুপক্ষের সংঘর্ষ। এক পক্ষের ছোড়া ইটের আঘাতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আওলাদ হোসেন গুরুতর আহত হন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোসাদ্দেকুর রহমানকেও আঘাত করে আহত করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রায় অর্ধঘন্টা সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলমগীর কবিরসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও সংঘর্ষ থামাতে ব্যার্থ হন তারা। প্রথমে আন্দোলনকারী ও হামলাকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে দু'দিকে চলে গেলেও এর কিছু সময় পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে আবার-ও আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়।

এসময় দুই গ্রপের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উপর থেকে কোনো এক পক্ষের ছোড়া ইটের আঘাতে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আওলাদ হোসেন গুরুতর আহত হন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোসাদ্দেকুর রহমানকেও আঘাত করে আহত করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এমনকি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক চিন্ময় সরকার আহত হয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. অমিতাভ জানান, আমি ৮ টার সময়ে এসে অন্তত ২০-৩০ জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পেয়েছি৷ রাত সাড়ে আটটায় মেডিক্যাল সেন্টারে সর্বশেষ তথ্যমতে, অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে, গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত ২০-২৫ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া আহতদের মধ্যে 'মেঘ (পরিবেশ বিজ্ঞান, ৪৭), আব্দুর রশিদ জিতু( সিএলসি, ৪৭), সজীব (আর্কিওলজি ৪৮), সুমন (পরিসংখ্যান, ৪৮), মোবাশ্বির (প্রানিবিদ্যা, ৪৮), জাহিদ (সরকার ও রাজনীতি, ৪৮), আনজুম (সরকার ও রাজনীতি ৪৯), বাপ্পি (ইংরেজি, ৫০), গালিব (গনিত, ৫০), সাব্বির (ইতিহাস, ৫২)' এদের নাম নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে৷ এছাড়াও আহতের সংখ্যা বাড়ছে৷

সংঘর্ষে আহত আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, আমরা সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল করছিলাম। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্মমভাবে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমার ভাই ও বোনেরা গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং আমাদের কোটা সংস্কারের দাবি মেনে নিতে হবে৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি অপ্রত্যাশিত। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী দু'পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ এখনো চলমান।

;

রাবি ছাত্রলীগের হামলা, চার নেতা আহত



রাবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর রাবি ছাত্রলীগের হামলা

ছবি: বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর রাবি ছাত্রলীগের হামলা

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাম ছাত্রসংগঠনের চার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল, ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব হোসেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতা আল আশরাফ রাফি এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক তারেক আশরাফ।

অপরদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনু মেহন বাপ্পা এবং ছাত্রলীগ কর্মী প্রিন্স হোসেন রাঈলসহ আরও অনেকে।

ভুক্তভোগী ফুয়াদ রাতুল বলেন, আমরা বাম সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী মমতাজ উদ্দিন কলাভবনের সামনে গল্প করছিলাম। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাইকের মহড়া দিচ্ছিল। হঠাৎ তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।

উক্ত ঘটনার অন্য ভুক্তভুগী রাকিব হোসেন বলেন, হঠাৎ ছাত্রলীগ নেতা মনোমহন বাপ্পার নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা করে। আমার কানে সার্জারি করা ছিল সেখানে আঘাত পেয়েছি। হামলায় সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে। তখন আমি দৌড়ে প্রশাসন ভবনে এসে আশ্রয় নেই। আমাদের কোন দলীয় কর্মসূচি ছিল না।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি শাকিল হোসেনসহ প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীর উপর এ হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিব বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রক্টর অফিসে আমরা বসেছি। অভিযোগ জেনেছি। অভিযোগের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবো।

এর আগে, বিকাল ৫টার দিকে কোটা আন্দোলনের নামে রাজাকারদের মতাদর্শ প্রচারের বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রলীগ। এতে নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন নেতারা। এ ঘোষণার পর বাইক নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া শুরু করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এতে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের শহীদ জোহা চত্বর, টুকিটাকি চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম দেখলেই তাদের হটিয়ে দিচ্ছে ছাত্রলীগ। স্বেচ্ছাসেবী একদল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সংগঠনিক কাজ শেষে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাইক দিয়ে আমাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ এবং গালিগালাজ করেন।

এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ক্যাম্পাসে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে বিশৃঙ্খলা রোধে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি। কোন অভিযোগ পেলে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।

;