২০১৯ সালে প্রকাশিত সেরা নন-ফিকশন বইগুলো



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
বছর জুড়ে ছিল নন-ফিকশনের কদর

বছর জুড়ে ছিল নন-ফিকশনের কদর

  • Font increase
  • Font Decrease

চলে যাচ্ছে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ। সেই সাথে চলে যাচ্ছে একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক। বছরশেষে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির হিসাবে নিয়ে বসছে সবাই। প্রযুক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞান, রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি—নতুন অনেক কিছুরই সংযোজন ঘটেছে ইতিহাসকে বদলে দেবার জন্য। ফাঁকা নেই সাহিত্যের আসনও। ২০১৯ নন-ফিকশনের জন্য ছিল বেশ জমজমাট। ২০১৯ সালে প্রকাশিত সেরা দশটি নন-ফিকশনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্যই আজকের আয়োজন।

This Land Is Our Land: An Immigrant’s Manifesto - Suketu Mehta
২০১৯ সাল জুড়ে বিশেষভাবে আলোচিত ছিল অভিবাসন সমস্যা। ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অভিবাসী হিসাবে বেড়ে ওঠা সুকেতু মেহতা বইটিতে তুলে এনেছেন তার অতীত। স্বচ্ছ আর স্পষ্ট বিন্যাসের জন্য ইতোমধ্যেই কিরিয়ামা পুরস্কার থেকে গার্ডিয়ান ফার্স্ট বুক এওয়ার্ড ঝুলিতে ভরেছেন। পৌঁছে গিয়েছিলেন পুলিৎজারের শেষ পর্বে। এই বইতে অধ্যাপক মেহতা অভিবাসনের শিকড় এবং সমাধান নিয়ে ভাবতে পাঠককে বাধ্য করেছেন।

অভিবাসন সমস্যা নিয়ে কথা বলেছে বইটি

বছরের পর বছর জুড়ে চলা উপনিবেশবাদকে পর্যবেক্ষণ করে তার দাবি, যখন কেউ এক জায়গা থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়; তখন প্রকৃতিগতভাবেই তারা অন্য একটা জায়গায় বসতি স্থাপন করতে পারে। এদিক থেকে অভিবাসনকে তিনি কেবল স্বাগতই জানাননি; প্রমাণ করতে চেয়েছেন সমাজের জন্য শুভ দিক হিসাবে। 

Midnight in Chernobyl: The Untold Story of the World’s Greatest Nuclear Disaster, Adam Higginbotham
পেশাগত দিক থেকে এডাম হিগিনবোথাম একজন সাংবাদিক। ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনের চেরনোবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট- দুর্ঘটনা নিয়ে তার দীর্ঘ সময়ের গবেষণা এবং প্রতিবেদন আছে। মানবসৃষ্ট সবচেয়ে বড় ধ্বংসাত্মক গল্পকে এত তথ্যনির্ভর এবং সামগ্রিকতা নিয়ে বিবৃত করার নজির বিরল। উঠে এসেছে তৎকালীন সেই আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নির্মম অসাম্যসহ পরবর্তীকালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কারণগুলো।

ব্যাখ্যা করেছে চেরনোবিলের সাথে সোভিয়েতের পতনকেও

The Heartbeat of Wounded Knee: Native America from 1890 to Present, David Treuer
নেটিভ আমেরিকানদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম দলিল ‘Bury My Heart at Wounded Knee’। কিন্তু মিনেসোটাতে বেড়ে ওঠা ডেভিড ট্রিওয়ার দাবি করেছেন; বইটির ভাষ্য তার নিজের অভিজ্ঞতার সাথে মেলে না। ১৮৯০ সালে Wounded Knee গণহত্যার পর থেকে ইতিহাস বর্ণনা করেছেন ডেভিড। স্থানীয় অধিবাসীদের পিছিয়ে পড়ার যে প্রচলিত বয়ান; তিনি তা খণ্ডন করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। নানা ঘটনা আর বহু পরিসংখ্যানের অবতারণা করে অবশেষে যুক্তি হিসাবে টেনেছেন বর্তমান সময়ে আমেরিকায় নেটিভ আমেরিকার সগর্ব উপস্থিতিকে। বইটি একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পাঠককে অনুপ্রাণিত করেছে।

Furious Hours: Murder, Fraud, and the Last Trial of Harper Lee, Casey Cep
হারপার লি’র প্রথম উপন্যাস ‘টু কিল এ মকিংবার্ড’ প্রকাশিত হবার পর থেকেই পাঠক সমাজ আগ্রহ নিয়ে পরের বইয়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু মোটাদাগে বলতে গেলে আগেরটির সাথে সম্পর্কিত কোনো লেখা আর পাঠকরা পায়নি। এক্ষেত্রে চমকপ্রদ তথ্য নিয়ে এগিয়ে এলেন সাংবাদিক ক্যাসি কেপ। ১৯৭০-এর দশকে ঘটে যাওয়া সত্যিকার এক অপরাধ ঘটনাকে তুলে এনেছেন ক্যাসি; যেটি নিয়ে লেখক হারপার লি একসময় আগ্রহী ছিলেন ভালোভাবেই।

হারপার লি-র উপন্যাসের পাঠকেরা বইটি নিতে পারে নিশ্চিন্তে

লি কি তবে সত্যিকার গল্পটাই বলতে চেয়েছেন? সমস্ত সত্য ঘটনা এবং তাতে লি-র আগ্রহকে পুনরুজ্জীবিত করে ক্যাসি যেন আমাদের সময়ের এক সাংস্কৃতিক দলিলকে আরেক দফায় সামনে আনলেন।

The Lost Art of Scripture, Karen Armstrong
ক্যারেন আর্মস্ট্রং ইতোমধ্যে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তার ‘এ হিস্ট্রি অব গড’ বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলার পর থেকেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক লিখে গেছেন বুদ্ধ, মুহম্মদ (সা.), বাইবেল, মিথ এবং ধর্মের অনুসন্ধান নিয়ে। এই সময়ে ধর্মকে আশ্রয় করে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলার দিকে আঙুল তুলেছেন ক্যারেন।

ক্যারেন আর্মস্ট্রং ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য 

তার দ্য লস্ট আর্ট অব স্ক্রিপচার বইতে বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্মের ওপর নতুন করে আলো ফেলেছেন; যা ধর্মগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের সাঁকো তৈরিতে পাঠককে সহযোগিতা করবে। আবিষ্কার করবে ধর্মীয় গ্রন্থের সৃষ্টিশীল আধ্যাত্মিক দিক।

How to Be an Antiracist, Ibrahim X. Kendi
২০১৬ সালে আমেরিকার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন ইব্রাহিম কেন্দি। তার বই ‘স্ট্যাম্পড্ ফ্রম দ্য বিগিনিং: দ্য ডেফিনিটিভ হিস্ট্রি অব রেসিস্ট আইডিয়াজ ইন আমেরিকা’ ব্যাপকভাবে আলোড়ন তৈরি করে। জ্যামাইকাতে জন্মগ্রহণ করে নিউইউর্কে থিতু হওয়া ইব্রাহিম পড়াশোনা করেছেন সাংবাদিকতা নিয়ে। পরিপক্ব ঐতিহাসিক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছেন অনেক আগেই।

সমকালীন পাশ্চাত্য বর্ণবাদের প্রতিক্রিয়া বইটি 

খুব সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ের ওপরই ইব্রাহিম তার পরবর্তী তীরটি ছুড়লেন। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বর্ণবাদের যে ব্যাধি বারবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে; তা থেকে বের হয়ে আসার মসলা পাবেন পাঠক।

Underland: A Deep Time Journey, Robert Macfarlane
প্রকৃতিকে জড়িয়ে লেখায় রবার্ট ম্যাকফারলেনের একটা বিশেষত্ব আছে। তার প্রমাণ ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ওল্ড ওয়েজ’ এবং ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ল্যান্ডমার্কস’। তার লেখায় পাঠক ভ্রমণ করবে ভূতাত্ত্বিক সময়ের পিঠে চড়ে পৃথিবীর শুরু অব্দি। ভূতলের নিচের রহস্যময় স্থানগুলোকে সামনে তুলে এনেছেন তিনি তার এই বইতে।

আন্ডারল্যান্ড দেবে এক বিস্ময়কর ভ্রমণের স্বাদ 

কখনো বিজ্ঞান, কখনো দর্শন আবার কখনো মিথোলজিকে সাথে নিয়ে এ এক অন্যরকম ভ্রমণ। ক্যামব্রিজ এবং অক্সফোর্ড উভয় থেকে পড়া ব্রিটিশ লেখক রবার্ট ইতোমধ্যে ই.এম. ফরস্টার এওয়ার্ড, সমারসেট মম এওয়ার্ড, গার্ডিয়ান ফার্স্ট বুক এওয়ার্ডের মতো পুরস্কারগুলো পুরেছেন নিজের প্রাপ্তির ঝুলিতে।

The Yellow House: A Memoir, Sarah M. Broom
১৯৬০-এর দশকে সারাহ ব্রুমের মা ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিউ অর্লিন্সে একটা বাসা কেনেন। ছেলেমেয়েদের সঠিকভাবে পড়াশোনা এবং জীবনমান উন্নতির আশায়। সেখানেই সারাহ এবং তার ১১ ভাইবোনদের স্মৃতিময় শৈশব কেটেছে। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের অসহায়ত্ব এবং সেই সাথে শৈশবের নানা ঘটনাবলি উঠে আসে ইতিহাসের মতো। তারপর আবার প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ক্যাটরিনার কবলে পড়ে ভেসে যায়। স্মৃতিকথার আদলে লেখা প্রথম বইটি জিতে নেয় জাতীয় পুরস্কার। সারাহ তার নিজের পরিবারকে কেন্দ্রে রেখে আলোচনা চালিয়ে গেলেও বেখবর থাকেননি সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, বর্ণ ও শ্রেণির জটিল পরিবর্তন, কাছের মানুষগুলোর বিশ্বাস এবং আমেরিকান শহর সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলো বইটিকে অসামান্য করে তুলেছে।

Know My Name: A Memoir, Chanel Miller
স্ট্যানফোর্ড ক্যাম্পাসে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন এক নারী। রিপোর্ট, মামলা-মোকাদ্দমা, লেখালেখি প্রভৃতিতে বিশ্বব্যাপী তার সমর্থক তৈরি হয়। তখন তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো এমিলি ডো নামে। ২০১৯ সালের আদালতের নথিপত্রের এই নামে তিনি পরিচিত হতেন। হঠাৎ বইটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার সত্যিকার পরিচয় চ্যানেল মিলার উন্মোচিত হয়।

নারীকে কিভাবে রুখে দাঁড়াতে হয় তার দৃষ্টান্ত ‘নো মাই নেম’ 

গোটা বইতে মিলার বর্ণনা করেছেন ক্যাম্পাসে যৌন নির্যাতনের পর থেকে আদালত অব্দি সামগ্রিক বিষয়াদি। বইটির জন্য দারুণভাবে প্রশংসিত হন তিনি। পার্লামেন্ট থেকে খোদ ক্যাম্পাস তাকে গ্রহণ করে নারী নির্যাতন থেকে বের হয়ে আসার অন্যতম সফল মডেল হিসাবে।

Say Nothing: A True Story of Murder and Memory in Northern Ireland, Patrick Radden Keefe
৪৬০ পৃষ্ঠাজুড়ে বিস্তৃত অপরাধের দিনলিপি এবং ইতিহাস। প্যাট্রিক ২০১৩ সাল থেকে গবেষণা আর তদন্ত শুরু করেন। মাঝপথে বারবার অবাক হয়েছেন নিজেই। উত্তর আয়ারল্যান্ডের এক দশ সন্তানের জননীকে হত্যা করা হয় ১৯৭২ সালের রাতে। তার নিখোঁজ হবার ঘটনা ধীরে পরিণত হয় ভয়ানক পরিস্থিতিতে। এক দশকব্যাপী চলে দলীয় সহিংসতা এবং রাজনৈতিক সংঘাত।

শুধু একটা খুন না; একটা সহিংসতার পোস্টমর্টেম ‘সে নাথিং’

প্যাট্রিক তার দীর্ঘ সময়ের গবেষণায় কেবল একটা খুনের রহস্যই উন্মোচন করেননি; তুলে এনেছেন ওই অঞ্চলের সহিংসতার আখ্যান। নিউইয়র্ক টাইমস্ এ সম্পর্কে বলেছে; “প্যাট্রিকের বলার ধরন অনেকটা স্থাপত্যের মতো। জটিল আর প্রবাহমান সরঞ্জামাদি ভারসম্যের অনুপাতে সাজিয়ে তিনি গঠন করেছেন বইটি।” 

   

কোরবানি



শাহেদ শফিক
কোরবানি

কোরবানি

  • Font increase
  • Font Decrease

আমি তো হাজির হে আমার রব
তোমার প্রিয় ঘরে
উজাড় করে দিতে পারি সব
প্রভু তোমার তরে।

নত মনে আজ তোমার চরণে
সঁপেছি এই শীর
তুমি তো মহান, চির অম্লান,
মালিক ধরিত্রীর।

আজ দূর হয়ে যাক মনের পশু
ধুয়ে যাক সব জিদ
জাগ্রত হোক কণ্ঠে সবার
বাজুক তোমার গিদ।

তুমি তো আমায় দিয়েছিলে রব
জগতের সব কিছু।
আমি তো ছুটেছি জীবন জুড়ে
পাপের পিছু পিছু।

কী দিয়ে তোমার, সুধিবো ঋণ
নেই যে কিছু আর
তাই তো প্রভু তোমার সকাসে
ছুটি বারং বার।

আজ দূর হয়ে যাক সব বেধাবেধ
পড়রে কালিমা
হিংসা বিভেদ, ফাসাদ ভুলিয়া
ছড়াক মহিমা।

১৭ জুন ২০২৪।
লন্ডন, যুক্তরাজ্য।

;

কদম



আকিব শিকদার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঋতুটি শরৎ এখন পঞ্জিকার পাতায়।
বর্ষার আমেজ কাটেনি বুঝি, সারাটি আকাশ
কালো করে নামে বৃষ্টি।
একটানা ভিজে শালবন, মহুয়ার কিশলয়। সতেজ হয়-
লতানো পুঁইয়ের ডগা।

এ বর্ষণ দেখার সৌভাগ্য আমার নেই। দূর পরবাসে
বসে আমি ভাবি- আহ, কি সহজেই ভুলে গেলাম, ভুলে গেলাম
প্রিয় ফুল কদমের কথা...!
পড়ার টেবিলে দুটো কদম, আষাঢ় শ্রাবণে তরতাজা দুটো কদম
জিইয়ে রেখেছি কতো-
কাচের বোতলে। ভেজা বাতাসে কদমের হালকা সুবাস।
তিনটে বছর, মাত্র তিনটে বছর
ভুলিয়ে দিলো চব্বিশ বছরের বর্ষার স্মৃতি, যেন চব্বিশ বছর
পরাজিত তিন বছরের পাল্লায়।

পরিজন ফোন করে খবর নিতে- ‘কি পাঠাবো বল...?
কাঠালের বিচি ভাজা, চিনে বাদাম, ঝুনা নারকেল
নাকি আমের আচার...?’-ওদের তালিকায়
আমার পছন্দ অনুপস্থিত।

সাহেবদের বিলেতী ফুলের ভীড়ে
ঠাঁই নেই কদমের-
যেমন আছে কাঁদা মাটির সুঁদাগন্ধ ভরা বাংলায়।
ক্যালেণ্ডারের পাতায় দেখি
ফুটফুটে কদমের শ্বেত রেণু বিনিময়, আর অন্তরে অনুভবে
রূপ-রস-গন্ধ।

;

একগুচ্ছ কবিতা



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পরাবাস্তবতা-জাদুবাস্তবতা
আপাতদৃষ্টিতে অবাস্তব অথচ বাস্তবের অধিক
অসম্ভব তবু প্রতিনিয়ত সম্ভাবনার শঙ্কা জাগায়
তারই নাম পরাবাস্তবতা
অন্যভাবে বলতে জাদুবাস্তবতা:
যেমন, এই যে আশ্চর্য সকাল
এর কতtটুকু তুমি দেখো
কতটুকু আমি
আর কতটুকু দিগন্তের ওপাশে অদেখার!
জলের উপর একলা মুখ ঝুঁকিয়ে থাকা
শেষবিকেলের মর্মবেদনা জানে
শিরীষ কিংবা কৃষ্ণচূড়ার ভাসমান পাতা
তুমি আর আমি কতটুকু জানি!
অর্থবোধ্য সীমানা পেরিয়ে
আমাদের যাতায়াত নেই
এমন কোনো ঠিকানায়
যার দিক নেই, চিহ্ন নেই, প্রতীক নেই!

সম্পর্ক

প্রিজমের টুকরোয় ছিটকে পড়া আলোয়
অধ্যয়ন করছি সম্পর্ক
সম্পর্কের উত্থান-পতন
বাঁক ও শিহরণ
লগ-ইন বা লগ-আউটে
নিত্য জন্মাচ্ছে নতুন সম্পর্ক
সম্পর্কের বিভিন্ন রং
লিখে লিখে মুছে দিচ্ছে ফেসবুক
সন্তরণশীল সম্পর্ক খেলা করছে
মানুষের জীবনের বহুদূরের ভার্চুয়ালে
সম্পর্ক হয়ে গেছে স্বপ্নময় জগতে
মনকে জাগ্রত রাখার কৌশল

জোনাকি

দূরমনস্ক দার্শনিকতায়
রাতের পথে যারা আসে
তারা যাবে দিগন্তের দিকে
আত্মমগ্ন পথিক-পায়ে।
এইসব পদাতিকের অনেকেই আর ফিরবে না
ফিরে আসবে অন্য কেউ
তার চিন্তা ও গমনের ট্র্যাপিজ ছুঁয়ে
অন্য চেহারায়, অন্য নামে ও অবয়বে।
তারপর
গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে সরল রেখায়
আলোর মশালে জ্বলে উঠবে
অনুভবের অসংখ্য জোনাকি।

নিঃসঙ্গতা

নিঃসঙ্গতা শীতের কুয়াশার মতো প্রগাঢ়
তমসাচারী মৃত পাখির নিঃশব্দ কুহুতান-স্মৃতি
নিহত নদীর শ্যাওলাজড়ানো জলকণা
দাবানল-দগ্ধ বনমর্মর:
মায়ায় মুখ আড়াল করে অনন্য বিমূর্ত বিবরে
নিঃসঙ্গতা কল্পলোকে রঙ মাখে
নীলাভ স্বপ্নের দ্যুতিতে
অস্তিত্বে, অনুভবে, মগ্নচৈতন্যে:
জীবনের স্টেজ অ্যান্ড স্ক্রিনে!

আর্কিওপটেরিক্স

পনেরো কোটি বছরের পাথরশয্যা ছেড়ে তিনি
প্রত্নজীববিদের টেবিলে চলে এলেন:
পক্ষী জীবাশ্ম দেখে প্রশ্ন শুরু হলো পৃথিবীময়
‘ডানার হলেই তাকে পাখি বলতে হবে?‘
তাহলে ‘ফ্লাইং ডাইনোসরস‘ কি?
তাদের শরীরে রয়েছে ডানা, কারো কারো দুই জোড়া!
পাখি, একলা পাখি, ভাবের পাখি খুঁজতে খুঁজতে হয়রান
বিজ্ঞানী থেকে বিপ্লবী কবিগণ
আর্কিওপটেরিক্স কি পাখির আদি-জননী?

;

কবি অসীম সাহা আর নেই



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মারা গেছেন। ৭৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলা সাহিত্যের এই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিষযটি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।

তিনি জানান, মাঝখানে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর অসীম সাহা মোটামুটি সুস্থই ছিলেন। অল্প ক’দিন আগেই আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আজ শুনি তিনি আর নেই। বর্তমানে অসীম সাহাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাকে দেখতে সেখানেই যাচ্ছি।

অসীম সাহার শেষকৃত্য সম্পর্কে তাঁর ছোট ছেলে অর্ঘ্য সাহা বলেন, তাঁর বাবা মরদেহ দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে গেছেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কবি অসীম সাহা। চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন, বিষণ্নতায় ভুগছেন কবি। এছাড়া পারকিনসন (হাত কাঁপা রোগ), কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিস রোগেও আক্রান্ত হন।

১৯৪৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নানারবাড়ি নেত্রকোণা জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন কবি অসীম সাহা। পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্য বিভাগে। সামগ্রিকভাবে সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

;