কিভাবে চিনবেন জাদুবাস্তবতা



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
রব গনজালভেসের রঙে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা

রব গনজালভেসের রঙে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতা আধুনিক শিল্পের এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাত্যহিক জীবনের নানা ফ্যান্টাসি, বিশ্বাস এবং উপকথাগুলো সাহিত্যিকের কলমের আঁচে মূর্তমান হয়ে ওঠে। সত্য কী বস্তু? কল্পনাই বা কোন চিজ? ম্যাজিক রিয়ালিজমের পৃথিবীতে আটপৌরে ঘটনাগুলো পরিণত হয় অদ্ভুত বিস্ময়ে আর জাদুময় কল্পনারা হয়ে ওঠে গতানুগতিক। যেন বাস্তব আর কল্পনা মিলেমিশে একাকার।

জাদুবাস্তবতাকে অনেকে ‘বিস্ময় বাস্তবতা’ কিংবা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ বলে অভিহিত করতে চান। জাদুবাস্তবতার বেড়ে ওঠা ‘বাস্তবতাকে সংজ্ঞায়ন’-থেকে হলেও গভীরভাবে তাতে ডুবে যায়নি। গল্প, কবিতা, নাটক, সিনেমায় দৈনন্দিন জীবনাচারের সাথে নানাবিধ সংস্কার ও সমাজে লালিত কল্পকাহিনীর মিশেল ঘটে এক স্বতন্ত্র পৃথিবীই প্রস্তুত করে নিয়েছে। এই চিন্তার দাপট এতটাই প্রবল ছিল যে; চিত্রকলা এবং ভাস্কর্যেও তার প্রভাব পড়ে। উদাহরণ হিসাবে ফ্রিদা কাহলোর ছবির কথাই সবার আগে উঠে আসে।

অনেক লেখাতেই পাঠককে বিস্ময়কর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কাফকার জনপ্রিয় গল্প ‘ম্যাটামরফোসিস’-এর কথাই ধরা যাক। বেচারা গ্রেগর সকালে ঘুম থেকে উঠেই লক্ষ করল তার শরীর পুরো পরিবর্তিত হয়ে আরশোলায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ চিন্তায় অবাস্তব মনে হলেও গল্পের প্লট নির্মাণে এই আকস্মিকতা দারুণভাবে সফল করেছে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। বৃহত্তর অর্থের অনুসন্ধানে লেখকের হাতে ধরে উঠে এসেছে নাটকীয়তা। এমিলি ব্রন্টির ‘Passionate’ কিংবা হিথক্লিফের ‘Wuthering Heights’-এর কথাও প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় প্রথম দিককার নজির হিসাবে। স্পষ্টভাবে শিল্প এবং সাহিত্যের আন্দোলন হিসাবে ম্যাজিক রিয়ালিজমের পত্তন ঘটে বিশ শতকের মধ্যভাগে।

ফ্রাঞ্জ রোহ জাদুবাস্তবতা শব্দটিকে প্রথম সামনে আনেন


১৯২৫ সালে সমালোচক ফ্রাঞ্জ রোহ প্রথম ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতা শব্দের ব্যবহার করেন। তার ইচ্ছা ছিল জার্মান শিল্পীদের অঙ্কিত ছবিতে দৈনন্দিন জীবনের সাথে অতিপ্রাকৃতকে উপস্থান করার ধারাকে বর্ণনা করা। পরে চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে অন্যান্য সংস্কৃতির সমালোচকেরাও ধারণাটাকে নিজেদের মধ্যে আমদানি করল। জর্জ ওকিফে, ফ্রিদা কাহলো এবং এডওয়ার্ড হোপার—সকলেই এই জাদুবাস্তবতা চর্চাকারীদের আওতাভুক্ত।

সাহিত্যে জাদুবাস্তবতা একটা স্বতন্ত্র আন্দোলনের তকমা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। বিশেষ করে কিউবায় ১৯৪৯ সালে On the marvelous Real in Spanish America নামে প্রবন্ধ লেখা হয়। লিখেছেন আলেহো কারপেনটিয়ার। লেখকের বিশ্বাস, ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল পৃথিবীর চোখে আদর্শ হবার উপযোগী। ১৯৫৫ সালে অ্যাঞ্জেল ফ্লোরেস ল্যাটিন আমেরিকায় ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারণার প্রয়োগ ঘটান। এর দ্বারা তিনি তার সময়ের সেইসব ল্যাটিন আমেরিকান লেখকদের বোঝাতে চেয়েছেন; যারা অতিপ্রাকৃত এবং প্রতিদিনকার ঘটনার দুর্দান্ত মিশেল ঘটিয়েছেন।

হোর্হে লুইস বোর্হেস: ম্যাজিক রিয়ালিজমের ভিত্তি স্থাপনের অন্যতম পুরোধা


ফ্লোরেসের মতে, ল্যাটিন আমেরিকায় জাদুবাস্তবতার পত্তন ঘটে ১৯৩৫ সালে আর্জেন্টাইন লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের মাধ্যমে। অবশ্য অন্যান্য সমালোচকেরা আরো কিছু নাম সামনে আনেন। তবে বোর্হেস সত্যিকার অর্থেই জাদুবাস্তবতার ভিত্তি রচনা করতে মৌলিক অবদান রাখেন। ইউরোপিয়ান লেখক কাফকার লেখার মতোই তার লেখা ছিল নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়ে উজ্জ্বল। এছাড়া ইসাবেল অ্যালেন্দে, মিগেল অ্যাঞ্জেল, গাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস এবং জোয়ান রোলফোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।

বর্তমানে জাদুবাস্তবতাকে আন্তর্জাতিক স্রোত হিসাবে দেখা হয়। বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন সাহিত্যে এর প্রভাব গিয়ে আছড়ে পড়েছে নিজস্ব আবেদন নিয়ে। নিত্যকার দিনের সাথে অলৌকিকতার মিশেল ঘটলেই সমালোচকেরা আজকাল জাদুবাস্তবতার গন্ধ বের করার চেষ্টা করেন। কেউ পান; কেউ পান না। জাদুবাস্তবতার সফল প্রয়োগকারী কয়েকজন সফল লেখক—কেট এটকিনসন, নেইল গেইম্যান, গুন্টার গ্রাস, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, মার্ক হেলপ্রিন, এলিস হফম্যান, হারুকি মুরাকামি, টনি মরিসন, সালমান রুশদি। এছাড়া আরো অনেকের হাত ধরে প্রবাহমানতা অব্যাহত আছে।

মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশো বছর জাদুবাস্তবতাকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করে


সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তবতা কিংবা অনুরূপ কল্পনাধর্মী লেখার সাথে জাদুবাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলা কঠিন কিছু না। বরং অনেকক্ষেত্রে সেটাই হয়। মনে রাখা দরকার, লোককথা ও উপকথা কখনোই ম্যাজিক রিয়ালিজমের আওতায় পড়ে না। অনুরূপভাবে হরর গল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, আধিভৌতিক রচনাবলি, কিংবা জাদুনির্ভর চরিত্রচিন্তাও এর থেকে আলাদা। জাদুবাস্তবতাকে চিনতে হলে তাই কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে—

১) যুক্তির তোয়াক্কা না করে পরিস্থিতি ও ঘটনা এগিয়ে যায়। টনি মরিসনের গল্পে দেখা যায় পালিয়ে আসা এক দাস ভূতুড়ে বাড়িতে গিয়ে ওঠে। বহুদিন আগে খুন হওয়া এক শিশুর ভূত। মার্কেসের ‘নিঃসঙ্গতার একশো বছর’-এ বাগান থেকে বাড়ির সুন্দরী মেয়েটা অদৃশ্য হয়ে যায়। আকস্মিকতা থাকলেও বর্ণনার ভঙ্গি একটা পৃথক পৃথিবীতে নিয়ে যাবে।

২) উপকথা, কুসংস্কার, লোককাহিনী, ধর্মীয় রূপক, অতিপ্রাকৃত বর্ণনা প্রভৃতিকে খুবই সহজভাবে টেনে আনা হয় জাদুবাস্তবতায়। লেখকের মুনশিয়ানা এবং বুননে তাই স্থানীয় ইতিহাস, বিশ্বাস এবং চিন্তাধারা খুবই ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

৩) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজ ও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়েই বসবাসের পরিধি গড়ে ওঠে। জাদুবাস্তবতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য তাকে প্রতিফলিত করা। বস্তুত ফ্যান্টাসি গল্পের সাথে ম্যাজিক রিয়ালিজমের মূল পার্থক্য এইখানটাতেই। উদাহরণ হিসাবে সালমান রুশদীর ‘মিডনাইট চিলড্রেন’-এর নাম সামনে আনা যায়।

৪) সময়ের প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে দেওয়া জাদুবাস্তবতার সাধারণ বিষয়। চরিত্রগুলো সেখানে ভবিষ্যতের মতো করে অতীতেও যেতে পারে। এজন্য মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশো বছরে দেখা যায় কর্নেল অরেলিয়েনো বুয়েন্দিয়ার কথা বলতে গিয়ে কিভাবে পেছনের দিকে ফিরে আসা হয়েছে। যেখানে অতীত কিংবা ভবিষ্যতের প্রথগত ধারণা বদলে গেছে। বদলে গেছে বিবরণের ধারা।

৫) জাদুবাস্তবতায় আসা জাদুগুলোর সূত্রও সত্যিকার পৃথিবীতেই প্রোথিত। এজন্য হ্যারি পটার কিংবা স্টার ওয়ার্স ম্যাজিক রিয়ালিজমের উদাহরণ হতে পারে না। স্থান, সময় ও সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে চর্চিত বিশ্বাস দ্বারা যে জাদু এখানে হাজির হয়; তা বস্তুত সত্যের মতো করেই বিস্তৃত।

৬) ম্যাজিক রিয়ালিজমের চরিত্রেরা খুবই স্বাভাবিকভাবে তাদের অতিপ্রাকৃতিককে মেনে নেয়। সাধারণত হরর গল্পগুলোতে একধরনের কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা জাগিয়ে রাখার জন্য চরিত্রদের দিয়ে কারণ আবিষ্কারের চেষ্টা করানো হয়। জাদুবাস্তব সাহিত্যে এমনটা একেবারেই নেই। তাই বাগান থেকে কারো উধাও হয়ে যাওয়া অন্যান্য চরিত্রের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয় না। মনে হয় যেন এটা হওয়া খুবই সম্ভব।

ফ্রিদা কাহলোর আঁকায় জাদুবাস্তবতা


তারপরেও ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাকে একটা ফ্রেমে বাঁধতে চাওয়া ভুল হবে। সাহিত্য কিংবা শিল্প সম্প্রসারমান মাধ্যম। আর লেখক বা শিল্পী মাত্রই যেহেতু পুরোপুরি মুক্ত তাই এই ধারাটির মধ্যেও পরবর্তী লেখকেরা সংযোজন-বিয়োজন করতে পারেন।

   

কওমি মাদরাসা নিয়ে সিদ্দিকুর রহমান খানের অনবদ্য গ্রন্থ

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কওমি ঘরানা নিয়ে সমৃদ্ধ গ্রন্থ না থাকার আক্ষেপ ঘোচালো ‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা’। গ্রন্থটির লেখক সিদ্দিকুর রহমান খান। শিক্ষা সাংবাদিকতায় দীর্ঘ সময়ে গভীর অনুসন্ধানী একগুচ্ছ প্রতিবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ সব এক্সক্লুসিভ তথ্য জুড়ে তিনি বইটি সাজিয়েছেন। অতি বিরল ও গোপনীয় নথির সংযোজন এই প্রকাশনাকে আরো অতুলনীয় করে তুলেছে। কওমি মাদরাসা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বইয়ের জন্য যারা হা-পিত্যেশ করছেন, তাদের হাতে স্বস্তির বারতা হয়ে উঠতে পারে এই বই।

বইটির ফ্ল্যাপে লেখা আছে, একগুচ্ছ শঙ্কা ও প্রশ্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট জুড়ে। উইকিলিকসের তারবার্তাও বাইরে নয়। প্রশ্নগুলো প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ডালপালা গজিয়েছে সর্বত্র। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উত্থানপর্বের আগে-পরে এই চিত্রটিও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। সংসদের ভেতরেও প্রশ্ন ছিলো কওমি মাদরাসার উত্থান নিয়ে। এ ধারার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের এন্তার প্রশ্নেরও সদুত্তর ছিলো না।

এ সংক্রান্ত সব জবাবই ছিলো ধোঁয়াশামাখা। জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়াতেও সেক্যুলার শব্দ বাতিল করিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন কওমিধারার ধারক-বাহকরা। অর্থের সন্দেহজনক উৎস, উসকানি, মৌলিক সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ --এসব প্রশ্নবোধকের জবাব খুঁজতেই একজন সিদ্দিকুর রহমান খানের অনুসন্ধান। সদরে, অন্দরে, সর্বক্ষেত্রে। কী হয়েছিল খালেদা জিয়া, ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন ও শেখ হাসিনা সরকারের জমানায়?

সাংবাদিক ও লেখক সিদ্দিকুর রহমান খানের সৃজনশীলতার শুরু কবি জীবনানন্দ দাশের আজন্মসুধা ধানসিঁড়ির প্রতিবেশী নলছিটির সুগন্ধার পাড়ে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের কোনো এক স্নিগ্ধ হাওয়ায় গা ভাসিয়েছেন কাগজে লেখার স্বপ্নে। তারপর তার কলম এগিয়েছে অভিজ্ঞতার অম্ল-মধুরতায়। লিখে লিখে জীবিকায়নের মাধ্যমটা সব সময়ই ছিলো ইংরেজি। দৈনিক নিউ এইজ, ইনডিপেন্ডেন্ট এবং বাংলাদেশ টুডেসহ কয়েকটি দৈনিক ও সাপ্তাহিকে।

শিক্ষার বর্ষসেরা রিপোর্টার হিসেবে একাধিকবার মিলেছে ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির সৌজন্যে’ পুরস্কার। রিপোর্টার হিসেবে পেয়েছেন আরো অনেক স্বীকৃতি ও পুরস্কার। আর শিক্ষার নানা বিশ্লেষণ বাংলায় গণপাঠকের মন ও মানসে পৌঁছে দিতে নিজের সম্পাদিত দৈনিক শিক্ষাডটকম ছাড়াও বেছে নিয়েছিলেন ইত্তেফাক, প্রথম আলো, যুগান্তর, সমকাল, সকালের খবরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক।

বর্তমানে শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তার প্রধান সম্পাদক এবং শিক্ষা বিষয়ক একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকম এর তিনি সম্পাদক ও প্রকাশক।

সিদ্দিকুর রহমান খানের লেখা ‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা’ বইটি এবারের বইমেলায় পাওয়া যাবে ‘স্বদেশ শৈলীর স্টলে (স্টল নং ৫০৭)। 

;

বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাসকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অমর একুশে ও তার চেতনাবাহী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালিত হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বাংলাভাষী রাজ্যগুলোতে এই ঐতিহাসিক দিবসকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদ্‌যাপন করা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে ঢাকার রাজপথে পুলিশের গুলিতে যেভাবে রফিক, সালাম, বরকত, শফিউর ও জব্বার শহিদ হয়েছিলেন। একইভাবে রাজ্যভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৬১ সালের ১৯ মে আসামের বরাক উপত্যকার শিলচরে পুলিশের গুলিতে কমলা ভট্টাচার্যসহ এগারোজন শহিদ হন।

বাঙালির আত্মরক্ষা ও আত্মপরিচয় নির্মাণের প্রশ্নে ভাষা আন্দোলনের রক্তস্নাত অভিজ্ঞান, অঞ্চল নির্বিশেষে, সর্বস্তরের বাঙালির ঐক্যমন্ত্র। সর্বভারতীয় বাংলাভাষামঞ্চ ২০১৫ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পাশাপাশি ২০ ফেব্রুয়ারি ভাষা গণতন্ত্র দিবস পালন করে আসছে।

এ বছর একুশে চেতনা পরিষদ, যুক্তরাষ্ট্র ও সর্বভারতীয় বাংলাভাষামঞ্চের উদ্যোগে ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙ্গা ভবনের সিনেট হলে দু'দিন ব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষী রাজ্যগুলোর বহু ভাষাসংগ্রামী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, লেখক, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিশিষ্ট জনেরা।

সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সাহিত্য-তাত্ত্বিক, সমালোচক ও কবি, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড.তপোধীর ভট্টাচার্য সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মেলনের উদ্দেশে পূর্বেই প্রেরিত তাঁর শুভেচ্ছা বাণী 'ঐকতান গবেষণা পত্র'-এ মুদ্রিত হয়।

অধ্যাপক ভট্টাচার্যের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর প্রজ্ঞাময় শুভেচ্ছা বাণী বার্তা২৪.কম-এ প্রকাশিত হলো।

'সমুদ্র দূরত্বে কথা বলি আমরা
আকাশ দূরত্বে কথা বলি আমরা
নক্ষত্র দূরত্বে কথা বলি আমরা
যতক্ষণ কথা বলি ততক্ষণ
পরস্পর নিবিড় আশ্রয় ...'

[তুষার গায়েন॥ অয়ি তরঙ্গমালা-১]

এসময় পরস্পরকে নিবিড় আশ্রয় দেওয়ার, আসুন বাঙালি ভাইয়েরা, নিজেদের মধ্যে কথা বলুন, আশ্রয় খুঁজে নিন আমাদের ভাই ও বোনের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আর উনিশে মে : আমরা কি ভুলিতে পারি বলেও আদৌ মনে রেখেছি কি? আসুন,বাংলাভাষী ভাই ও বোনেরা, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে জাতির বিক্ষত মুখাবয়ব অবলোকন করি !

পুণ্যলাভের ফাঁদে কীটাণু পতঙ্গ—ধারালো কৃপাণ
প্রতিদিন ধড়হীন দেহ ফেলে যায় রাস্তায়!

[তুষার গায়েন॥ অয়ি তরঙ্গমালা-৫]

এই ভয়াবহ দৃশ্য তৈরি করে চলেছে সময়। রাহুগ্রস্ত পৃথিবীতে যত হলাহল উগরে দিক,আসুন বাংলাভাষী ভাই ও বোনেরা, আমরা আত্মপ্রতারক অন্ধকার মুছে দিয়ে নিজেদের পুনরাবিষ্কার করি।

আসুন, বাংলাভাষী ভাই ও বোনেরা,
আমরা পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসার পুনর্জাগরণ ঘটাই। কারণ,
'অন্তর গভীরে তবু বয়ে যায় প্রেমনদী
স্তরীভূত শিলার অতলে বিশুদ্ধ পানীয় জল
নিজেকে নিঃশব্দে বহমান রেখে দিতে জানে ...'

[তুষার গায়েন॥ অয়ি তরঙ্গমালা-৭]

আসুন, জাতিসত্তার দুর্নিবার পিপাসা মেটাতে প্রেমনদী বইয়ে দিন। খুঁজে নিন অস্তিত্বের গভীরে বহমান বিশুদ্ধ পানীয় জল। জয় হোক বাঙালির, কলুষিত বিভাজনপন্থা পর্যুদস্ত হোক॥

'সবাই যখন জীবন্মৃত অন্ধকারে', বাঙালি জাতির প্রতি বিদ্বিষ্ট স্বৈরতন্ত্রী শক্তি যখন আতঙ্ক ছড়াতে গিয়ে নিজেই কাঁপছে ভয়ে থরথর, বাঙালির ঘরে ঘরে চতুর্দশীরা একাই লড়ছে চেতন ভরে। চোখ মেলে আসুন, দেখি, 'ওষ্ঠ জুড়ে দারুণ ফোটা কথকতা'! সবাই মিলে যেন নতুন ভোরের সূচনা করতে পারি!

বাঙালি জাতির চিরকালীন অভিভাবক রবীন্দ্রনাথ কেন লিখেছিলেন 'কালান্তর'-এর এই দিগদর্শক বাণী, আসুন নতুন করে আবার বুঝে নিই:

'বঙ্গবিচ্ছেদ ব্যাপারটা আমাদের অন্নবস্ত্রে হাত দেয় নাই, আমাদের হৃদয়ে আঘাত করিয়াছিল। সেই হৃদয়টা যতদূর পর্যন্ত অখণ্ড ততদূর পর্যন্ত তাহার বেদনা অপরিচ্ছিন্ন ছিল। আসুন, নিজেদেরই প্রশ্ন করি: আমরা কি সেই হৃদয়কে টুকরো করিনি? ধর্মান্ধতার বিষবাষ্পে আমাদের চেতনাকে কি আমরাই আচ্ছন্ন হতে দিইনি?

বাঙালির জাতিসত্তার নিয়ামক তার ভাষা, তার বর্ণমালা, তার ভাষাশীলিত সংস্কৃতি। ধর্ম যার যার, সংস্কৃতি ও ভাষা সবার। তাই বাঙালি শুধুই বাঙালি। হিন্দু নয়, মুসলমান নয়, খ্রিষ্টীয় নয়; প্রাগার্য-অনার্য-আর্য রক্তধারার বহু সহস্রাব্দ ব্যাপ্ত সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা বাঙালি জাতির বর্ণভেদ মিথ্যা; কেউ বড়ো নয়, কেউ ছোট নয়। সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থনীরে আমাদের বাংলামায়ের অভিষেক চিরদিন হয়েছে, চিরদিন হবে। আমাদের পথ বিভেদের অন্ধকারে নয়, আলোকিত সম্মিলনের।

যারা বাঙালির ঐক্য ভাঙতে মরিয়া, তারাই আমাদের হিন্দু-মুসলমান আর উঁচুজাত-নিচুজাতে বিভক্ত করতে চক্রান্ত জারি রেখেছে। বাঙালির শত্রুদের চিনে নিন, সংহতি দিয়ে পরাস্ত করুন।

বাঙালি জাতিসত্তার বহু সহস্রাব্দ ব্যাপ্ত ইতিহাসকে বিকৃত করার ও মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন। বিভিন্ন অঞ্চলে অভিবাসী বাঙালিদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠিত করাই হোক এসময় আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

'যে আপনাকে পর করে সে পরকে আপনার করে না, যে আপন ঘরকে অস্বীকার করে কখনোই বিশ্ব তাহার ঘরে আতিথ্য গ্রহণ করিতে আসে না।' (রবীন্দ্রনাথ: 'পরিচয়')।

তাই সর্বভারতীয় বাংলাভাষামঞ্চ বিপন্ন ছিন্নবিচ্ছিন্ন আত্মবিস্মৃত স্বজাতিকে আপন ঘরের নিকট আত্মীয় হিসেবে গ্রহণ করার রীতিকে সর্বজনীন করে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।

;

ভাষার লড়াই কালে কালে



সায়েম খান
ভাষার লড়াই কালে কালে

ভাষার লড়াই কালে কালে

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাচীন ডেনমার্কের ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জে একটি সুপ্রাচীন, সুমিষ্ট ভাষার প্রচলন ছিল। ভাষাটির নাম ফ্যারোইজ। ড্যানিশ জাতি আজ থেকে ৫০০ বছর আগে সেই দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের উপর ভাষাটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তাদের উপর ড্যানিশ ভাষা চাপিয়ে দিল। তাদের গির্জা, উপাসনালয় কিংবা পাঠশালাগুলোতে ফ্যারোইজ ভাষা বাদ দিয়ে ড্যানিশ ভাষা ব্যবহার আইন বলে বিবেচিত হল। শুরু হল ফ্যারোইজদের সাথে ড্যানিশদের ভাষাগত বিবাদ। সেই থেকে আজ অবধি ফ্যারোইজরা তাদের এই ভাষাকে আলাদা করে চর্চা ও লালন করে আসছে। ফ্যারোইজ ভাষার রয়েছে নিজস্ব শব্দ। এখনও সংযোজিত হচ্ছে নতুন শব্দগুচ্ছ। গল্প, গান আর নাচে সমৃদ্ধ একটি ভাষা ফ্যারোইজ। ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা তাদের প্রাণের ভাষাকে আজও মিশ্রিত হতে দেয়নি অন্য ভাষার সাথে গড্ডালিকা প্রবাহে। একবিংশ শতাব্দীতেও লড়াই করে যাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে ফ্যারোইজ ভাষার মাধ্যমে।

প্রাচীন ইতিহাস থেকে জানা যায়, আর্য সংস্কৃতির বিস্তার এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসনের সময়ে সংস্কৃত ভাষা ছিল শক্তিশালী মাধ্যম। আজ থেকে ৪০০০ থেকে ৫০০০ বছর আগে ইন্দো-আর্য গোষ্ঠী থেকে সংস্কৃত ও আবেস্তীয় ভাষার উৎপত্তি। এই দুটি ভাষা কালের পরিক্রমায় দুই ভাগে বিভক্ত হতে থাকে কিছু শাব্দিক অর্থের বিভেদের কারণে। উদাহরণস্বরুপ, সংস্কৃতে "দেবা" শব্দের অর্থ যেখানে দেবতা, সেখানে আবেস্তীয় ভাষায় "দেবা" শব্দের অর্থ দাড়ায় "শয়তান"। যা দুই জাতের মধ্যে ধর্মীয় দ্বন্দ্ব একটি বড় কারণ হয়ে দাড়ায়। ইন্দো ও আর্যদের ভাষাগত ও জাতিগত উৎপত্তির এক ও অভিন্ন সংযোগ থাকার পরেও শুধুমাত্র ভাষাগত সমস্যার কারণে ইন্দো ও আর্য নামক দুটি স্বাতন্ত্রিক সভ্যতার বিকাশ ঘটে। ঠিক একই ধারায়, ভারতীয় উপমহাদেশে মোঘল সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন যখন হয়, তখন থেকেই সামাজিকভাবে গুরুত্ব হারিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে থাকে ভারতবর্ষের আদিমতম "সংস্কৃত"ভাষা। এখন পর্যন্ত এই ভাষাটি পূরাণ, বেদ, উপনিষদ ইত্যাদি ধর্মশাস্ত্রের ভাষা হিসাবে "সংস্কৃত" বিবেচিত। মোঘলরা যখন ফার্সি ভাষার প্রচলন শুরু করতে থাকল, তখন থেকেই সংস্কৃত ভাষার সামাজিক প্রচলনের আবেদন কমতে থাকে। ঠিক একই ভাবে, বৃটিশরা যখন মোঘলদের হটিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের শাষনামল শুরু করল তারাও শুরুর দিকে তাদের দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে প্রচলন থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাষাগত জটিলতার কারণে ফার্সীকে বাদ দিয়ে ইংরেজীর প্রচলন শুরু করেছিল এবং তখন থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মোঘলদের সম্ভ্রান্ত ফার্সী ভাষা বিলুপ্তি ঘটতে থাকে।

পৃথিবীতে ঔপনিবেশিক যুগের প্রারম্ভ থেকে আমরা দেখে এসেছি, যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ক্ষমতা ও রাজ্য দখলের পর ক্ষমতা দখলকারী শাসকশ্রেণী, পরাজিত আদি জনগোষ্ঠীর উপর আধিপত্য বিস্তার করে ভাষা ও সংস্কৃতির উপর। শাষকশ্রেণীর ধারণা, ক্ষমতা ও দখল চিরস্থায়ী করার জন্য সবার আগে নিশ্চিহ্ন করতে হবে শাষিত প্রজাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ভারতীয় উপমহাদেশ সহ এশিয়ার যেসব দেশ বৃটিশ ঔপনিবেশিকতার ছায়াতলে ছিল, সেসব দেশে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার চর্চা ও প্রচলন ছিল চোখে পড়ার মতো। যারা ইংরেজি জানত ও শিখত তাদের সামাজিক ভাবে গুরুত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তৎকালীন বৃটিশ-বেনিয়াদের সৃষ্ট এলিট শ্রেণীর সাথে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিতদের মেলামেশা ছিল খুব সহজ। ঠিক তেমনি, ফরাসি ঔপনিবেশিকতার প্রভাবে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার অনেক দেশে অদ্ধাবধি ফরাসি ভাষার আধিপত্য বিরাজমান।

প্রাচীন বুলগেরীয় ভাষার প্রাচীন যুগ বিস্তৃত ছিল ৯ম থেকে ১১শ শতক পর্যন্ত। ১৬শ শতকের শুরুতে বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় এই ভাষার আধুনিক যুগ। ইউরোপের অতি প্রাচীন এই ভাষা নিয়েও ১৮শ শতকে শুরু হয়েছিল আন্দোলন সংগ্রাম। রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে বুলগেরীয় জনগণের সংগ্রাম এখনও ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকের শুরুতে অসমীয় ভাষাকে আসাম রাজ্যের সরকারি ভাষা হিসাবে ঘোষণা করার পর শুরু হয় আন্দোলন বিক্ষোভ। ১৯৬১ সালের ১৯মে ভাষার জন্য এই বিক্ষোভে প্রাণ হারান ১১ জন ভাষা বিপ্লবী। ১১ বিপ্লবী শহীদের প্রাণ উৎসর্গের কারণে এখনও ১৯ শে মে’কে আসামে ভাষা দিবস হিসাবে পালন করা হয়। আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাচীন ও আদি ভাষা "বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী" ভাষা যেন বিলুপ্তির প্রতিবাদে ১৯৯৬ সালে ১৬ই মার্চ শহীদ হন সুদেষ্ণা সিংহ। তাকে পৃথিবীর দ্বিতীয় ভাষা শহীদ বলা হয়ে থাকে। ভারতে ভাষার জন্য এসব আত্মত্যাগের কারণে বর্তমানে ২২টি ভাষাকে সরকারি ভাষা ও ৪টি ভাষাকে ঐতিহ্যবাহী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। আসামের বরাক উপত্যকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের দীর্ঘ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে সুদেষ্ণা সিংহের মহান আত্মত্যাগের কারণে ১৬ মার্চ আসাম জুড়ে একটি স্মরণীয় দিন হিসাবে পালন করা হয়।

১৯১৩ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির একটি ইহুদি সাহায্যকারী সংস্থা যার নাম ছিল হিলফসভেরেইন ডের ডিউচচেড জুডেন। এই সংস্থাটি তৎকালীন ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসীদের জন্য একটি টেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু সেই জার্মান সংস্থা শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ইহুদি ছাত্রদের উপর চাপিয়ে দেয় জার্মান ভাষা। তখন ইহুদীদের শিক্ষার ভাষা কি হবে সে নিয়ে জার্মান ভাষা সমর্থনকারী ও হিব্রু ভাষাভাষী ইহুদীদের মধ্যে একটি প্রকাশ্য বিবাদ তৈরি হয়। ইসরাইলের হাইফা সিটি মিউজিয়ামে এ ঘটনা নিয়ে স্বাতলানা রেইনগোল্ড নামে এক চিত্রশিল্পী ২০১১ সালে "ভাষার যুদ্ধ" নামে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন।

ভাষার জন্য পৃথিবীতে প্রথম গুলিবর্ষণ হয় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষাকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানের জাতির পিতা জিন্নাহ যখন ঘোষণা করলেন উর্দুই হবে পূর্ব-বাংলার সরকারি ভাষা তখন থেকেই মুহুর্মুহু প্রতিবাদের উঠতে শুরু করল। প্রতিবাদ-সংগ্রামের এক পর্যায়ে বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হয় সালাম, জাব্বার, রফিক, বরকতের মত তাজা প্রাণ। সেই মর্মস্পর্শী ঘটনাকে সাক্ষী রেখে এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আজও বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস"।

ভাষা এমন এক অধিকার যা কখনো হস্তক্ষেপযোগ্য নয়। ভাষা নিয়ে বিভেদ, বিবাদ, প্রতিবাদ, সংগ্রাম হয়েছে দেশে দেশে, কালে কালে। একটি সভ্যতার ক্রমবিকাশে ভাষা অপরিহার্য। ভাষা হল মানবসভ্যতার স্পন্দন। ভাষা নিয়ে লড়াই নয়। ভাষা হোক মুক্তি ও মানবতার জন্য। ভাষা হোক ভালবাসার জন্য।

;

বইমেলায় তমসা অরণ্যের বই- নাই সন্তানের জননী

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ উপলক্ষে প্রকাশিত হলো কবি ও লেখক তমসা অরণ্যের গল্পের বই – নাই সন্তানের জননী।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও স্নাতকোত্তর কবি ও লেখক তমসা অরণ্য আপনমনে ও নিভৃতে সাহিত্যচর্চা করেন।

তার ফেসবুক ওয়ালে ঢুকলেই দেখা যায়, নিজের মনের মগ্নতায় ডুবে আপনমনে লিখে চলেন ফাউন্টেন পেনে। তার সাহিত্য চর্চা ও শব্দচয়নে মুন্সিয়ানার ভাব। মনে হয়, রবিঠাকুর, জীবনানন্দ দাশের মতো আত্মমগ্নতায় ডুবে রয়েছেন।

রাতে নিভৃতে দিনের পর দিন লিখেছেন কালো কালির আঁচড়ে একেকটি কবিতা কিংবা মনের কোনো ভাবনা। পাঠক মাত্রই বুঝতে পারেন কবি ও লেখক তমসা অরণ্য বেখেয়ালে লিখে চলেছেন ঘাসফড়িং বা রাতের আঁধারে জ্বল জ্বল করা মাকড়শার জালে ধ্যানমগ্ন মাকড়শার মনোকথন। মানুষের ভাবনাকে ছাড়িয়ে লেখক নিয়ে চলেন এক অনাঘ্রাত পৃথিবীতে। প্রকৃতি, সমাজ ও মানুষই শেষপর্যন্ত হয়ে ওঠে তমসা অরণ্যের লেখার উপজীব্য!

সে রকমই সাধারণ মানুষের জীবনকথা উঠে এসেছে লেখক তমসার ‘নাই সন্তানের জননী’ গল্পগ্রন্থটিতে। বইয়ের উপজীব্য সম্পর্কে লেখক তমসা বলেন, একজন লেখকের থাকতে হয় দেখার চোখ, লেখার হাত, অনুভূতিসম্পন্ন হৃদয় ও কল্পনাশক্তির জয়ের সক্ষমতা।

তিনি বলেন, এগুলোর সূত্র ধরেই যাতে মনোযোগ দিয়েছি, তা ছিল- মানুষ ও সমাজপাঠ। তারই পথ ধরে আমার গল্পগুলোর ‘সব চরিত্র কাল্পনিক নয়’, বরং ‘নাই সন্তানের জননী’ গল্পগ্রন্থের প্রতিটা গল্পেরই কোনো না কোনো চরিত্র বাস্তব এবং কাছ থেকে কিংবা দূর থেকে দেখা। আর কিছু না হোক, অন্তত চরিত্রগুলোর সঙ্গে আড্ডা দিতে হলেও বইটি পড়া যেতেই পারে।’

‘নাই সন্তানের জননী’ গল্পগ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন আইয়ুব আল আমিন। প্রকাশ করেছে অনুপ্রাণন প্রকাশন। অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে স্টল নম্বর ৮৫-৮৬। ২৫% ছাড়ে বইটির দাম পড়বে ২৬২ টাকা।

তমসা অরণ্যের বই প্রকাশের পর তার এক বন্ধু ফেসবুকে মন্তব্য করে লিখেছেন- তমসা অরণ্য খুব নিভৃতচারী, প্রচারবিমুখ মানুষ, যার ফলে ওর বইয়ের কথা আমি নিউজফিড থেকে জানতে পারি অর্থাৎ সে আমাকেও ব্যক্তিগতভাবে জানায়নি।

এমনকি বইয়ের প্রচারণায় ও বলছে, বই হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে ভালো মনে হলে তবেই কিনতে! আমি নেক্সট টাইম মেলায় গেলে তার বইটা কিনবো। নিজের বান্ধবী বলে না। প্রচ্ছদের বেড়ালের ছবি আর বইয়ের নাম দেখে একটা গল্প অনুমান করতে পারছি, এই আগ্রহ থেকে। তমসা অরণ্যের বইয়ের জন্য অশেষ শুভ কামনা রইলো।"

তমসা অরণ্যে লেখার সঙ্গে পরিচিত হতে চাইলে যে কেউ তার ফেসবুক ওয়ালে ঢুঁ মারতেই পারেন। তার লেখার পরিমিতিবোধ ও অনিন্দ্য সুন্দর হাতের লেখার সঙ্গেও পরিচয় ঘটবে পাঠকের। তমসা অরণ্যের ফেসবুক আইডি- Tomosha Aronnya (তমসা অরণ্য)

;