কিভাবে চিনবেন জাদুবাস্তবতা



আহমেদ দীন রুমি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
রব গনজালভেসের রঙে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা

রব গনজালভেসের রঙে উঠে এসেছে জাদুবাস্তবতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতা আধুনিক শিল্পের এক যুগান্তকারী দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাত্যহিক জীবনের নানা ফ্যান্টাসি, বিশ্বাস এবং উপকথাগুলো সাহিত্যিকের কলমের আঁচে মূর্তমান হয়ে ওঠে। সত্য কী বস্তু? কল্পনাই বা কোন চিজ? ম্যাজিক রিয়ালিজমের পৃথিবীতে আটপৌরে ঘটনাগুলো পরিণত হয় অদ্ভুত বিস্ময়ে আর জাদুময় কল্পনারা হয়ে ওঠে গতানুগতিক। যেন বাস্তব আর কল্পনা মিলেমিশে একাকার।

জাদুবাস্তবতাকে অনেকে ‘বিস্ময় বাস্তবতা’ কিংবা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ বলে অভিহিত করতে চান। জাদুবাস্তবতার বেড়ে ওঠা ‘বাস্তবতাকে সংজ্ঞায়ন’-থেকে হলেও গভীরভাবে তাতে ডুবে যায়নি। গল্প, কবিতা, নাটক, সিনেমায় দৈনন্দিন জীবনাচারের সাথে নানাবিধ সংস্কার ও সমাজে লালিত কল্পকাহিনীর মিশেল ঘটে এক স্বতন্ত্র পৃথিবীই প্রস্তুত করে নিয়েছে। এই চিন্তার দাপট এতটাই প্রবল ছিল যে; চিত্রকলা এবং ভাস্কর্যেও তার প্রভাব পড়ে। উদাহরণ হিসাবে ফ্রিদা কাহলোর ছবির কথাই সবার আগে উঠে আসে।

অনেক লেখাতেই পাঠককে বিস্ময়কর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কাফকার জনপ্রিয় গল্প ‘ম্যাটামরফোসিস’-এর কথাই ধরা যাক। বেচারা গ্রেগর সকালে ঘুম থেকে উঠেই লক্ষ করল তার শরীর পুরো পরিবর্তিত হয়ে আরশোলায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ চিন্তায় অবাস্তব মনে হলেও গল্পের প্লট নির্মাণে এই আকস্মিকতা দারুণভাবে সফল করেছে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। বৃহত্তর অর্থের অনুসন্ধানে লেখকের হাতে ধরে উঠে এসেছে নাটকীয়তা। এমিলি ব্রন্টির ‘Passionate’ কিংবা হিথক্লিফের ‘Wuthering Heights’-এর কথাও প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় প্রথম দিককার নজির হিসাবে। স্পষ্টভাবে শিল্প এবং সাহিত্যের আন্দোলন হিসাবে ম্যাজিক রিয়ালিজমের পত্তন ঘটে বিশ শতকের মধ্যভাগে।

ফ্রাঞ্জ রোহ জাদুবাস্তবতা শব্দটিকে প্রথম সামনে আনেন


১৯২৫ সালে সমালোচক ফ্রাঞ্জ রোহ প্রথম ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতা শব্দের ব্যবহার করেন। তার ইচ্ছা ছিল জার্মান শিল্পীদের অঙ্কিত ছবিতে দৈনন্দিন জীবনের সাথে অতিপ্রাকৃতকে উপস্থান করার ধারাকে বর্ণনা করা। পরে চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে অন্যান্য সংস্কৃতির সমালোচকেরাও ধারণাটাকে নিজেদের মধ্যে আমদানি করল। জর্জ ওকিফে, ফ্রিদা কাহলো এবং এডওয়ার্ড হোপার—সকলেই এই জাদুবাস্তবতা চর্চাকারীদের আওতাভুক্ত।

সাহিত্যে জাদুবাস্তবতা একটা স্বতন্ত্র আন্দোলনের তকমা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। বিশেষ করে কিউবায় ১৯৪৯ সালে On the marvelous Real in Spanish America নামে প্রবন্ধ লেখা হয়। লিখেছেন আলেহো কারপেনটিয়ার। লেখকের বিশ্বাস, ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল পৃথিবীর চোখে আদর্শ হবার উপযোগী। ১৯৫৫ সালে অ্যাঞ্জেল ফ্লোরেস ল্যাটিন আমেরিকায় ম্যাজিক রিয়ালিজম ধারণার প্রয়োগ ঘটান। এর দ্বারা তিনি তার সময়ের সেইসব ল্যাটিন আমেরিকান লেখকদের বোঝাতে চেয়েছেন; যারা অতিপ্রাকৃত এবং প্রতিদিনকার ঘটনার দুর্দান্ত মিশেল ঘটিয়েছেন।

হোর্হে লুইস বোর্হেস: ম্যাজিক রিয়ালিজমের ভিত্তি স্থাপনের অন্যতম পুরোধা


ফ্লোরেসের মতে, ল্যাটিন আমেরিকায় জাদুবাস্তবতার পত্তন ঘটে ১৯৩৫ সালে আর্জেন্টাইন লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের মাধ্যমে। অবশ্য অন্যান্য সমালোচকেরা আরো কিছু নাম সামনে আনেন। তবে বোর্হেস সত্যিকার অর্থেই জাদুবাস্তবতার ভিত্তি রচনা করতে মৌলিক অবদান রাখেন। ইউরোপিয়ান লেখক কাফকার লেখার মতোই তার লেখা ছিল নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়ে উজ্জ্বল। এছাড়া ইসাবেল অ্যালেন্দে, মিগেল অ্যাঞ্জেল, গাব্রিয়াল গার্সিয়া মার্কেস এবং জোয়ান রোলফোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।

বর্তমানে জাদুবাস্তবতাকে আন্তর্জাতিক স্রোত হিসাবে দেখা হয়। বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন সাহিত্যে এর প্রভাব গিয়ে আছড়ে পড়েছে নিজস্ব আবেদন নিয়ে। নিত্যকার দিনের সাথে অলৌকিকতার মিশেল ঘটলেই সমালোচকেরা আজকাল জাদুবাস্তবতার গন্ধ বের করার চেষ্টা করেন। কেউ পান; কেউ পান না। জাদুবাস্তবতার সফল প্রয়োগকারী কয়েকজন সফল লেখক—কেট এটকিনসন, নেইল গেইম্যান, গুন্টার গ্রাস, গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস, মার্ক হেলপ্রিন, এলিস হফম্যান, হারুকি মুরাকামি, টনি মরিসন, সালমান রুশদি। এছাড়া আরো অনেকের হাত ধরে প্রবাহমানতা অব্যাহত আছে।

মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশো বছর জাদুবাস্তবতাকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করে


সুরিয়ালিজম বা পরাবাস্তবতা কিংবা অনুরূপ কল্পনাধর্মী লেখার সাথে জাদুবাস্তবতাকে গুলিয়ে ফেলা কঠিন কিছু না। বরং অনেকক্ষেত্রে সেটাই হয়। মনে রাখা দরকার, লোককথা ও উপকথা কখনোই ম্যাজিক রিয়ালিজমের আওতায় পড়ে না। অনুরূপভাবে হরর গল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, আধিভৌতিক রচনাবলি, কিংবা জাদুনির্ভর চরিত্রচিন্তাও এর থেকে আলাদা। জাদুবাস্তবতাকে চিনতে হলে তাই কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে—

১) যুক্তির তোয়াক্কা না করে পরিস্থিতি ও ঘটনা এগিয়ে যায়। টনি মরিসনের গল্পে দেখা যায় পালিয়ে আসা এক দাস ভূতুড়ে বাড়িতে গিয়ে ওঠে। বহুদিন আগে খুন হওয়া এক শিশুর ভূত। মার্কেসের ‘নিঃসঙ্গতার একশো বছর’-এ বাগান থেকে বাড়ির সুন্দরী মেয়েটা অদৃশ্য হয়ে যায়। আকস্মিকতা থাকলেও বর্ণনার ভঙ্গি একটা পৃথক পৃথিবীতে নিয়ে যাবে।

২) উপকথা, কুসংস্কার, লোককাহিনী, ধর্মীয় রূপক, অতিপ্রাকৃত বর্ণনা প্রভৃতিকে খুবই সহজভাবে টেনে আনা হয় জাদুবাস্তবতায়। লেখকের মুনশিয়ানা এবং বুননে তাই স্থানীয় ইতিহাস, বিশ্বাস এবং চিন্তাধারা খুবই ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

৩) ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজ ও রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়েই বসবাসের পরিধি গড়ে ওঠে। জাদুবাস্তবতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য তাকে প্রতিফলিত করা। বস্তুত ফ্যান্টাসি গল্পের সাথে ম্যাজিক রিয়ালিজমের মূল পার্থক্য এইখানটাতেই। উদাহরণ হিসাবে সালমান রুশদীর ‘মিডনাইট চিলড্রেন’-এর নাম সামনে আনা যায়।

৪) সময়ের প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে দেওয়া জাদুবাস্তবতার সাধারণ বিষয়। চরিত্রগুলো সেখানে ভবিষ্যতের মতো করে অতীতেও যেতে পারে। এজন্য মার্কেসের নিঃসঙ্গতার একশো বছরে দেখা যায় কর্নেল অরেলিয়েনো বুয়েন্দিয়ার কথা বলতে গিয়ে কিভাবে পেছনের দিকে ফিরে আসা হয়েছে। যেখানে অতীত কিংবা ভবিষ্যতের প্রথগত ধারণা বদলে গেছে। বদলে গেছে বিবরণের ধারা।

৫) জাদুবাস্তবতায় আসা জাদুগুলোর সূত্রও সত্যিকার পৃথিবীতেই প্রোথিত। এজন্য হ্যারি পটার কিংবা স্টার ওয়ার্স ম্যাজিক রিয়ালিজমের উদাহরণ হতে পারে না। স্থান, সময় ও সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে চর্চিত বিশ্বাস দ্বারা যে জাদু এখানে হাজির হয়; তা বস্তুত সত্যের মতো করেই বিস্তৃত।

৬) ম্যাজিক রিয়ালিজমের চরিত্রেরা খুবই স্বাভাবিকভাবে তাদের অতিপ্রাকৃতিককে মেনে নেয়। সাধারণত হরর গল্পগুলোতে একধরনের কৌতূহল ও উৎকণ্ঠা জাগিয়ে রাখার জন্য চরিত্রদের দিয়ে কারণ আবিষ্কারের চেষ্টা করানো হয়। জাদুবাস্তব সাহিত্যে এমনটা একেবারেই নেই। তাই বাগান থেকে কারো উধাও হয়ে যাওয়া অন্যান্য চরিত্রের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয় না। মনে হয় যেন এটা হওয়া খুবই সম্ভব।

ফ্রিদা কাহলোর আঁকায় জাদুবাস্তবতা


তারপরেও ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতাকে একটা ফ্রেমে বাঁধতে চাওয়া ভুল হবে। সাহিত্য কিংবা শিল্প সম্প্রসারমান মাধ্যম। আর লেখক বা শিল্পী মাত্রই যেহেতু পুরোপুরি মুক্ত তাই এই ধারাটির মধ্যেও পরবর্তী লেখকেরা সংযোজন-বিয়োজন করতে পারেন।

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

এবার বইমেলায় ফারজানা করিমের নতুন বই

  • Font increase
  • Font Decrease

ফারজানা করিম। পেশাগত জীবনে তিনি বহুদিন ধরেই সংবাদ উপস্থাপনা করছে। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতার সঙ্গে জড়িত ফারজানা করিম। লিখেছেন শতাধিক কবিতা। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পাখি পৃথিবী'।

প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পান তিনি। জলকণা , না বলা কথা, মী , শূন্যতা , ভালোবাসার আড়ালে, জলে ভাসা পদ্য , শেষ বিকেলের আলো, দূরে কোথাওসহ বেশকিছু গ্রন্থ প্রকাশ হয় তার। এবারের বইমেলাতেও শোভা পাবে তাঁর নতুন এক গ্রন্থ। নাম- বিচ্ছিন্ন কবিতারা। আসছে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে,২১ নম্বর প্যাভিলিয়ন। পাওয়া যাবে ১০ তারিখ থেকে।

গতকাল ফেসবুকের এক পোস্টে ফারজানা করিম লিখেন, এবারে কাজের ভিড়ে আমার কবিতাগুলো বেশ কষ্ট পেয়েছে। ওদের শরীরে হাত দিয়েছি , ওদের ঠিকঠাক গড়ে নিয়েছি বেশ কষ্ট করে। আচ্ছা ওরা তো আমার সন্তান। ওদের কে কি আমি মানুষের ভালোবাসার পাত্র করে গড়ে তুলতে পারলাম শেষ পর্যন্ত? ছেড়ে দিলাম আমার প্রিয় পাঠকদের জন্য। তাঁরাই আলোচনা সমালোচনা করে নাহয় ঠিক করে নেবেন। বিচ্ছিন্ন কবিতারা আপনাদের ছোঁয়ার অপেক্ষায় প্রিয় পাঠক। দেখা হবে বইমেলায় যদি বেঁচে থাকি।

উল্লেখ্য, ফারজানা করিমের জন্ম ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে। বেড়ে ওঠা এবং পড়ালেখা সবই চট্টগ্রামে। পড়ালেখা শেষ করেছেন ইংরেজি সাহিত্য এবং ফিল্ম এন্ড মিডিয়া থেকে। ২০০৩ সাল থেকে এখন অবধি সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করছেন।

;

হাসান হাফিজের কবিতাগুচ্ছ



হাসান হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে তুমি আত্মপরিচয়

তুমি এক অগ্নিক্ষরা ইতিহাস আবেগের দিন
নক্ষত্রস্পর্ধায় তুমি জ্বলজ্বলে উদার আকাশ
তুমি শুধু বাঙালিরই নও, এই ঋদ্ধি রক্তঋণ
মাতৃভাষা ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্ত প্রাণের প্রকাশ
আজ তুমি বিশ্বমানবের, গোটা বিশ্বসভ্যতার
তারুণ্যের দুঃসাহসে অহঙ্কৃত প্রাণ বলিদান
একুশে তোমার পুণ্য শাশ্বত সুরেলা গান
নয় মাত্র বাঙালির সম্পত্তি ও ঐতিহ্য একার-
ব্রহ্মা-ের কোন্ দূরে প্রান্তদেশ সিয়েরা লিওনে
রাষ্ট্রভাষা হয়েছো তুমিও ছন্দে নূপুরে নিক্কণে
বাংলাভাষা তোমার ধ্রুপদী লয় সুছন্দিত তান
নতুন সংস্কৃতিগর্ব বহুমূল্য জাগৃতি ও জয়গান
অক্ষয় অপরাজেয় উপেক্ষিত ভাষার সম্মান
আন্দোলনে অভ্যুদয়ে মুক্তিযুদ্ধে স্বয়ম্ভু সোপান
দোতারা শাপলা ফুল দোয়েলের চঞ্চলতা শিস
বাঘের হুঙ্কারে দর্পী স্বৈরাচার ভয়ে নিরুদ্দিশ।

একুশ প্রকৃত অর্থে মুক্তছন্দা বহতা নদীর নাম
এই সত্য বিশ্ববুকে আমরাই এঁকে রাখলাম।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাষা যতো পায় যেন সপ্রীতি লালন
বিকাশেরও সমান সুযোগ শ্রদ্ধা স্থিতি সংরক্ষণ
একুশে অমূল্য এক পাথেয় প্রেরণা উৎসভূমি
আত্মপরিচয় পেতে দুর্বিনীত বিদ্রোহও তুমি॥

পোড়ানো ও নিমজ্জন

ভুল করে ভালোবাসলে
দণ্ড ও লাঞ্ছনা
প্রাপ্য হবে, হোক।
তোমাকে পুড়িয়ে দিক
আমার দু’চোখ।
নদী যদি হতে পারো
ডুবে মরবো আনন্দেই-
সুতরাং নদী হতে
কোনো বাধা বিপত্তি তো নেই!

মেরুদণ্ড

হাতড়ে দেখি, নেই।
আমারও নেই, তোমারও নেই,
রাজ্যব্যাপী কারোরই নেই।
কোথায় গেল? কোথায় গেল
রিমান্ড চেয়ে তলব করো,
ফায়দা যে কী, তাও বুঝি না।

তত্ত্ব তালাশ করতে গিয়ে
হদ্দ বেকুব বনছি রে ভাই
এই শরমের শুমার যে নাই
কোন্ বনে যাই দুঃখ শুকাই
লজ্জা পেয়ে কোন্ঠে লুকাই
ক্ষতস্থানের নাই প্রশমন
বুঝলি সোনা ও পোড়া মন
ধুঁকছি জাড়ে শীতকামড়ে
কিন্তু আগুন? কোথায় মেলে?
ছুটছি আশার স্বপ্ন ফেলে
নাহ কিছু নাই বুঝলি রে ভাই
ফায়দা তোলার মওকাও নাই
হাতড়ে দেখি সাঁতরে দেখি
আজব কাণ্ড হচ্ছে এ কি
ভীরুতার স্বগত সংলাপ

ভয় পাই নিজেকেই।
কীভাবে যে মুখোমুখি হবো!
কতো পাপ প্রস্তরের ঋণ
জমা হয়ে আছে।
এই কষ্ট বলি কার কাছে?
নিজের ভুবনই ক্রমে
অনাত্মীয় অচেনা হয়েছে
এই দ্বন্দ্ব সংশয়ের কাঁটা
মনে ও মগজে বেঁধে
নীরবে ঝরায় রক্ত
শক্ত কোনো প্রতিরোধ
গড়বার সামর্থ্য যে নেই
নিঃস্বতার সঙ্গে বসবাস
করে করে বাকি আয়ু
শেষ হবে হোক!

আকুল আর্তি

রঙধনু রঙ
যায় মিলিয়ে
তোমার স্মৃতি
জাগনা থাকে
মিলায় না সে
খুঁড়তে থাকে
ছুঁড়তে থাকে
পাথর নুড়ি
ভুলবো তোমায়?
কেমন করে
নাই যে তেমন
হ্যাডম কিংবা সিনাজুরি!

রঙধনু রঙ
হবেই ফিকে
তোমার ছোঁড়া
তীর নিশানা
আসবে ফিরে
আমার দিকে,
এফোঁড় ওফোঁড়
হলেম যদি
কার কি কিছু
যায় বা আসে?
দিন রজনী
কাঁপছে ত্রাসে
চাইছে যেতে
বনের বাসে
কিন্তু সাহস
হচ্ছে না তার
তোমার বিজয়
অঙ্কিত রয়
সাঁঝ সকালের
দূর্বাঘাসে

রঙধনু গো
তোমার সঙ্গী
করবে আমায়
এ পোড়ামুখ
কোথায় রাখি?
আঁধার নেমে
এই চরাচর
সন্ধ্যাতারায়
বিষণœ স্বর
কোথায় পাখি
কোথায় পালক
যাচ্ছে বেড়ে
দহন ও ধক্
ও রঙধনু
তোমার মতোন
হতেম যদি
স্মৃতির ছোবল
এড়িয়ে যাবার
সুযোগ হতো
দিন প্রতিদিন
মরার কষ্ট
আর হতো না!

চরাচরে প্রশ্নই প্রবল

বসন্ত আসবে বলে
অপেক্ষায় ছিলে তুমি
শীতকাল বড়ো বেশি প্রলম্বিত
সব গাছ রুক্ষ শীর্ণ
ঝরাপাতা ধুলোর সংসারে
অপেক্ষার বন্দিশে বেজেছে
বিচ্ছেদী বেহাগ...
কোনোদিন উঠবে না রোদ?
গাছ কবে ফিরে পাবে পাতা
প্রতীক্ষার পালা হবে শেষ
আয়ু সলতে নিভে নিভে যায়
গাঙপাড়ে স্তব্ধতার এলানো চাদর
নৌকা আছে মাঝি নাই
ওম খুঁজছে তালি তাপ্পি সংবলিত
গরিবি কাঁথায়
পারাপার কবে শুরু ফের?
এ প্রশ্নের বিশদ উত্তর
ধরাধামে কারো জানা নেই
---

;

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজে



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

একুশের বইমেলায় সিইসি'র বই স্টুডেন্ট ওয়েজ প্যাভিলয়নে।

  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকেই প্রশাসন বা আমলাতন্ত্রের সদস্যগণ জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে মৌলিক ও সৃজনশীল লেখালেখিতে লিপ্ত রয়েছেন। অনেকের লেখা কালজয়ী সাহিত্যের অংশেও পরিণত হয়েছে। বিশেষত, তাদের স্মৃতি, বিশ্লেষণ, তথ্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের স্বচ্ছ ও সচল ধারাভাষ্য রূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে এমন বইয়ের সংখ্যা কম নয়, যা পাঠকপ্রিয়তা ও বৈশিষ্ট্যময়তায় মৌলিক সম্পদ রূপে বিবেচিত।

কাজী হাবিবুল আউয়াল (জন্ম: ২১ জানুয়ারি ১৯৫৬) বাংলাদেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। পেশাগত জীবনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিয়েও তিনি রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থ।

কাজী হাবিবুল আউয়ালের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'জীবন পাতার জলছাপ' (আত্ম-চরিত), 'ট্রাজেকটরি অব এ জুডিশিয়াল অফিসার' এবং 'মেমোরিজ অফ আরলি লাইফ'। এবারের একুশের বইমেলায় অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'স্টুডেন্ট ওয়েজ' কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে জীবনস্মৃতি ভিত্তিক গ্রন্থ 'জীবন খাতার কয়েক পাতা'।

কাজী হাবিবুল আউয়াল ১৯৫৬ সালের ২১ জানুয়ারি পিতার কর্মস্থল কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের সারিকাইত গ্রামে। তার পিতা কাজী আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) ও জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলার বাদী ছিলেন। তার মাতা বেগম নাফিসা খাতুন।

১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ’স হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এল এল.বি (অনার্স) ও ১৯৭৮ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পান ১৯৮০ সালে এবং সে বছর ঢাকা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের বিচার ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবন শুরু করেন উপজেলা মুন্সেফ হিসেবে। তিনি প্রেষণে সহকারী সচিব ও উপ সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালে তিনি আইন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ২০০৪ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০০৭ সালের ২৮ জুন তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের পর ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার।

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে সেই চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়। তিনি ২০১৭ সালে জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে অবসরগ্রহণ করেন। সরকারি চাকরি থেকে পরিপূর্ণ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শহরের পরিবেশে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও পৈত্রিক জনপদ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপের গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশকে বিস্মৃত হন নি। গ্রন্থে তিনি বিগত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে নগরজীবন আর গ্রামীণ বাস্তবতাকে উপস্থাপন করেছেন।

প্রকাশক মাশফিকউল্লাহ তন্ময় বার্তা২৪.কমকে জানান, পিতার সরকারি চাকরির বদলিজনিত কারণে লেখক দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন। বইতে তিনি পরিবার ও নিকটজনদের পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে দেখা সমাজ, পারির্পাশ্বিকতা, অভাব, দারিদ্র এবং প্রার্চুযহীন অবিলাসী, নিরাভরণ, সাধারণ ও সরল জীবনাচরণের চিত্র তুলে ধরেছেন। শিকড়ের টানে তিনি পিতৃপুরুষদের জন্মস্থান সন্দ্বীপের গ্রামের বাড়িতে একাধিকবার বেড়াতে গেছেন এবং গ্রামের বাড়ি, গ্রাম ও সন্দ্বীপের বিবিধ বিবরণ তুলে ধরেছেন গভীর মমতায়। তিনি নিজের দেখা ইতিহাসের উপজীব্য রাজনীতির বির্বতন এবং বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন বস্তুনিষ্ঠ ও উপভোগ্য ভাষায়।

লেখক স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠিদের কথা বলতে গিয়ে সমকালীন নগরজীবন, পারির্পাশ্বিকতা ও অনেক ঘটনার রসালো বিবরণ দিয়েছেন, যা পাঠকের বিনোদনের খোরাক হতে পারে।

প্রকাশক আরও জানান, এটি লেখকের আত্মজীবনী নয়, শৈশব ও কৈশোরের খানিকটা স্মৃতিচারণ। নিজ জীবনের বিগত একটি সময়ের দৃশ্যপট তিনি সময়ান্তরে অনাগত আরেকটি সময়ে তুলনায় উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি গ্রামীণ ও শহরের বিন্যাস, সাংস্কৃতিক পালাবদল ও ঘটমান রাজনৈতিক রূপান্তরকে কাঠামোবদ্ধ করেছে এবং সাম্প্রতিক অতীতের প্রাণবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। এবারের একুশের বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাবে স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর ২৬ নম্বর প্যাভিলিয়নে।

;

যারা পেলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার ২০২২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২২ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়।


বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ প্রাপ্তরা হলেন— কবিতায় ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত, কথাসাহিত্যে তাপস মজুমদার ও পারভেজ হোসেন, প্রবন্ধ বা গবেষণায় মাসুদুজ্জামান, অনুবাদে আলম খোরশেদ, নাটকে মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল, শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় মুহাম্মদ শামসুল হক, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় সুভাষ সিংহ রায়, বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে মোকারম হোসেন, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণকাহিনীতে ইকতিয়ার চৌধুরী, ফোকলোরে আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

;