নজরুলের গানের সুর বিকৃতি: প্রতিবাদে সরব বাংলাদেশের শিল্পীরা



আশরাফুল ইসলাম, পরিকল্পনা সম্পাদক, বার্তা২৪.কম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য তুলে ধরেন খায়রুল আনাম শাকিল

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য তুলে ধরেন খায়রুল আনাম শাকিল

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও অবিভক্ত পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘তূর্যবাদক’ কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি জাগরণী সঙ্গীত ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’ এর সুর বিকৃতির অভিযোগে অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার এ আর রহমানের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে বাংলাদেশ ও ভারতের সর্বত্র।

বলিউড পরিচালক রাজা কৃষ্ণ মেননের 'পিপ্পা' সিনেমায় অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'কারার ঐ লৌহ কপাট' গানটির বিকৃতির খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে ও স্যোশাল মিডিয়ায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশের নজরুলপ্রেমীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এবার এই অপকর্মের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ইউটিউবসহ সকল প্রচার মাধ্যম থেকে বিকৃত সুরে করা গানটি অপসারণের দাবি জানালেন বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে কবির নাতনি মিষ্টি কাজী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাতীয় কবির গানের সুর বিকৃতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ দাবি করেন। নজরুল সঙ্গীতের অগ্রগণ্য শিল্পীরা এসময় জানান, বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসে প্রতিবাদ জানাতে উদ্যোগ নেবেন তারা।

শনিবার বিকেলে ঢাকার নজরুল ইনস্টিটিউটের ঐতিহাসিক কবি ভবনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও নজরুলসংগীত সংস্থার সভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল। লিখিত বক্তব্যে খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, ‘জাতীয় কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্মের একটি প্রধান অংশ সঙ্গীত যাতে তাঁর অবদান মৌলিক ও অনন্য। এটি বাংলা সঙ্গীতের বিশেষ ধারা হিসেবে ‘নজরুল-সঙ্গীত’ নামে প্রতিষ্ঠিত ও চর্চিত।’ 

ইতিহাসে আচড় দেওয়ার ধৃষ্টতা দেখালেন এ আর রহমান!

তিনি উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি ভারতের জিটিভির প্রযোজনায় এ আর রহমান ও সঙ্গীয়দের অংশগ্রহণে নজরুলের একটি বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গান ‘কার ঐ লৌহ কপাট’ নতুনভাবে একটি বিকৃত সুরে প্রযোজনা করে ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে। এই গানটি নজরুলের ‘ভাঙার গান’ গ্রন্থে গ্রন্থিত ও নজরুল সুরারোপিত গান যা ১৯৪৯ সালে গিরীন চক্রবর্তীর কণ্ঠে রেকর্ডে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গানটি অবিকৃত সুরে বিভিন্ন চলচ্চিত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে মুক্তিসংগ্রামী ও যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।’

শাকিল অভিযোগ করে বলেন, ‘এই গানটির নজরুল সুরারোপিত আদি রেকর্ডটির প্রাপ্যতা সত্ত্বেও বিকৃত সুরে এর পরিবেশনা কেবল অন্যায় ও বেআইনীই নয়, নজরুল সৃষ্টির প্রতিও অবজ্ঞা প্রদর্শনজনিত কারণে নিতান্ত ঘৃণ্য ও হীন অপকর্ম।’

বিকৃত সুরে করা নজরুলের গানটি দ্রুত ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, ‘নজরুল সঙ্গীত শুধু বাঙালি জাতির নয় বরং মানবজাতির সম্পদ। একে বিকৃত করার অপরাধে কবি নজরুল ইনষ্টিটিউট এ আর রহমানসহ তার সঙ্গীয় অন্য সকল অপকৌশলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নজরুল সঙ্গীত সংস্থা ও সকল শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সকল ইউটিউব থেকে তা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগীতশিল্পী শাহিন সামাদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলিন পরিষদের সহসভাপতি বুলবুল ইসলাম, নজরুল সংগীতশিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, লীনা তাপসী খান, ইয়াসমীন মুস্তারী, সুজিত মুস্তাফা, নজরুল গবেষক রাশেদুল ইসলাম ও মাহবুবুল হক।

   

একুশের বইমেলায় এসেছে ড. আতিউর রহমানের দুটি নতুন বই

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমানের লেখা দুটি নতুন বই এবার একুশের বই মেলাতে পাওয়া যাচ্ছে।

কয়েকদিন হলো বই দুটি মেলাতে এসেছে। বই দুটির নাম- ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ এবং ‘বাংলাদেশ: নেতৃত্বের পরম্পরা ও উন্নয়ন’। বই দুটি প্রকাশ করেছে যথাক্রমে জিনিয়াস এবং পুথিনিলয় প্রকাশনী।

এছাড়াও ‘সোনার বাংলার স্বপ্নসারথী রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে আরো একটি বই মেলা শেষ হওয়ার আগেই আসবে বলে জানা গেছে।

আতিউর রহমানের লেখা ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ শিরোনামের বইটি প্রকাশ করেছে জিনিয়াস প্রকাশনী। এ বইটিতে আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মোট ৫০টি লেখা রয়েছে। এ লেখাগুলো মূলত বিভিন্ন জনবক্তৃতায় দেওয়া উপস্থাপনা বা বক্তব্য এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাসমূহ।

অন্যদিকে, পুথিনিলয় থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: নেতৃত্বের পরম্পরা ও উন্নয়ন’ শিরোনামের বইটিতেও ৫০-এর কাছাকাছি প্রবন্ধ রয়েছে। বিগত ২-৩ বছরে দেশের শীর্ষ জনপ্রিয় পত্রপত্রিকাগুলোয় এ প্রবন্ধগুলো ছাপা হয়।

বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত আতিউর রহমানের লেখা দুটি বই-ই অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা অনুসন্ধানী এবং উৎসাহী তাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। আতিউর রহমানের প্রতিটি লেখায় সমসাময়িক বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মভাবনা, বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন দর্শন, বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা ও বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গল্পগুলো বলা হয়েছে।

যথারীতি অনেক লেখায় উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথ এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নতুন নতুন ভাবনার কথা।

ড. আতিউর রহমান বরাবরই হাত খুলে লিখতে পারেন। তাঁর লেখার সুষমা অন্যরকম। অর্থনীতি আর সমাজ বিশ্লেষণে সুরভিত তাঁর প্রতিটি সমকালীন পর্যালোচনা। ফলে, যেকোনো পাঠকের কাছে কঠিন বিষয়ও তিনি খুব সহজে বোধগম্য করতে পারেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি গবেষণাধর্মী লেখা লিখেছেন। অর্থনীতির শক্তিমত্তার দিকনির্দেশনাও তিনি দেন নানান লেখায়।

তিনি লিখতে পারেন নিরন্তর। প্রতিদিন সকালে কাগজ আর কলমের মিতালীতে তাই তিনি জীবনের অপরাহ্নেও অনবদ্য। ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ বইটির মুখবন্ধে তিনি বলেছেন, ‘প্রায় প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো পত্রিকায় নানা বিষয়ে আমাকে কলাম লিখতে হয়। পাশাপাশি গবেষণা নির্ভর লেখা তো আছেই।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘লিখতে যে আমার আনন্দ লাগে, না তা নয়; কিন্তু, আমি যে সব বিষয় নিয়ে লিখি, সেগুলো গবেষণামূলক কাজ। এসব সত্য ও পরিশ্রমের বিধায় মানুষ আমাকে অর্থনীতিবিদ হিসেবে চেনেন, জানেন, কিন্তু অর্থনীতির বাইরেও আমি বহু বিচিত্র বিষয় নিয়ে কাজ করছি।’

হাজার বছরের দুই শ্রেষ্ঠ বাঙালি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শেখ মুজিব তাঁর অন্যরকম এক ভালোবাসার জায়গা। অনেক লেখাতেই তাই এগুলো প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে। রাজনীতির অমর কবি বঙ্গবন্ধুর নান্দনিক ভাবনা নিয়েও তিনি লিখে যাচ্ছেন আপন মনে। ড. আতিউর রহমানের নেশা বহু বৈচিত্র্যময় লেখার মাঝে ডুবে থাকা। অমর একুশে বইমেলাতে এই গুণীজনের যে দুটি বই নতুন সুবাস নিয়ে এসেছে, তা আপনি হাত দিয়ে ধরলেই সত্যিই এক আলাদা রোমাঞ্চ অনুভব করবেন। দুটি বই বাংলা আর বাঙালির বেঁচে থাকা এবং উন্নয়ন ও অগগ্রতির শত স্বপ্নে ভরা। বই দুটির প্রচ্ছদও আপনাকে ভীষণ আকৃষ্ট করবে।

;

মোশতাক আহমেদ: এক থেকে হাজার কপির লেখক



Sajid Sumon
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বইমেলায় ২০০৪ সালে প্রথম উপন্যাস জকি বের করার পর মাত্র এক কপি বিক্রি হয়েছিল। এমন ঘটনায় যেকোন লেখকের জন্যই মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে এতে দমে যাননি তখনকার নবাগত লেখক মোশতাক আহমেদ। তিনি চেষ্টা করে গেছেন গত ২০ বছর ধরে। লিখেছেন শতাধিক উপন্যাস। এছাড়া নিজেকে শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখেননি। ১২০টি উপন্যাসের মধ্যে বেশিরভাগই সায়েন্স ফিকশন। এক্ষেত্রে তিনি এবার হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। এবারের বইমেলায় এসেছে তার ৫০তম সায়েন্স ফিকশন ‌‘দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড’। এছাড়াও বহুমাত্রিক লেখক মোশতাক আহমেদ ধারাবাহিকভাবে লিখেছেন প্যারাসাইকোলজি থ্রিলার, ভৌতিক উপন্যাস, রোমান্টিক উপন্যাস, কিশোরদের জন্য শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজ রূপার সিন্দুক। একই সঙ্গে ভ্রমণ ও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস রচনায়ও তিনি সমাদৃত হচ্ছেন সর্বত্র।

বইমেলায় সরেজমিনে মোশতাক আহমেদের বই কিনতে পাঠকদের ব্যাপক ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে। সিরিয়াল ধরে অটোগ্রাফ ও ফটোগ্রাফও নিচ্ছেন পাঠকরা। মোশতাক আহমেদের পাঠকদের মধ্যে কিশোর এবং নারীদেরই বেশি দেখা গেল। অনিন্দ্য প্রকাশের সত্বাধিকারী আফজাল হোসেনের কথায়ও তার প্রমাণ মিলল। আফজাল হোসেন বলেন, কথাসাহিত্যিক মোশতাক আহমেদ খুব জনপ্রিয় লেখক। এজন্য আমরা তার ৯০টিরও বেশি বই প্রকাশ করেছি। এবারও তার চারটি নতুন উপন্যাস এসেছে। সেগুলো হলো: প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস- হারানো জোছনার সুর। সায়েন্স ফিকশন- দ্য ওল্ড ওয়ার্ল্ড। ভৌতিক- মৃত্যুবাড়ি। শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজের রূপার সিন্দুক। প্রতিবছরই বইমেলার শুরু থেকেই পাঠকরা তার বই কিনে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। পাঠক চাহিদা অনুযায়ী আমরা তার পুরনো অনেক বইও পুনমুদ্রণ করেছি। নতুনগুলো তো আছেই। একেকজন পাঠক ৫-৭টা করেও বই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমরা খুবই খুশি।

মোশতাক আহমেদ ২০১৮ সালে বাংলা একেডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি কালি ও কলম সাহিত্য পুরস্কার, ছোটদের মেলা সাহিত্য পুরস্কার, কৃষ্ণকলি সাহিত্য পুরস্কার এবং চ্যানেল আই সিটি আনন্দ সাহিত্য পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হন। লেখালেখির বিগত দু’দশকে বহুবার বইমেলা এবং অনলাইনে বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানসমূহে তার বই বেস্ট সেলার হয়েছে। এখন সবমিলিয়ে হাজার হাজার কপি বই বিক্রি এবং লেখক হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় হলেও তিনি অতীতকে ভুলে যাননি। অকপটেই স্বীকার করলেন প্রথমবার তার মাত্র এক কপি বই বিক্রির কথা।

মোশতাক আহমেদ বলেন, ২০০৪ সালে প্রথমবার আমার ‘জকি’ উপন্যাসটি বইমেলায় আসে। সেবার মাত্র এক কপি বই বিক্রি হয়েছিল। এতে আমার মন খুব খারাপ হয়েছিল। একপর্যায়ে দেখি মেলায় একজন লেখকের বই তুমুল জনপ্রিয়। তাকে ঘিরে পাঠকরা বলতে গেলে উন্মাদনায় ছিল। পরে দেখলাম তিনি জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন লেখক ড. জাফর ইকবাল। তখন ভাবলাম সায়েন্স ফিকশন যেহেতু জনপ্রিয়, তাই এ ধরনের বই লেখা যায়। সেই যে সায়েন্স ফিকশন লেখা শুরু, এরপর থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

ভৌতিক উপন্যাস লেখার কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একবার বইমেলায় এক নারী পাঠক আমাকে বললেন- ভুতের বই আমার খুব প্রিয়। আপনি ভুতের বই লিখবেন। এরপর থেকে আমিও ভাবলাম, এমন পাঠকদের বিশেষ করে নারী পাঠকদের বঞ্চিত করে কী লাভ? তখন থেকে প্রায় প্রতিবছরই আমি একটা করে ভৌতিক উপন্যাস লিখে থাকি। এছাড়া রোমান্টিক উপন্যাসও নারী-পুরুষদের ভালো লাগার একটি বিষয়। সেজন্য রোমান্টিক উপন্যাস লিখে থাকি।

শিশিলিন গোয়েন্দা সিরিজ মোশতাক আহমেদের জনপ্রিয় একটি কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গোয়েন্দা সিরিজ না লিখে কিশোরদের জন্য শিশিলিন সিরিজ কেন লিখছেন? জবাবে মোশতাক আহমেদ জানান, গোয়েন্দা সিরিজ লিখতে আমারও ইচ্ছে হয়। তবে আমি বাংলাদেশ পুলিশে কাজ করি। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার লেখা গোয়েন্দা সিরিজে পেশাগত কোনো গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে যায় কিনা সেই ভয়ে থাকি। যেটা হয়তো আমার প্রকাশ করা উচিৎ হবে না। এজন্য আমি এখন গোয়েন্দা সিরিজ লিখছি না। তবে ভবিষ্যতে অবসরের পর হয়তোবা গোয়েন্দা সিরিজ লিখতে পারি।

বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারা প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস। মোশতাক আহমেদকে প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক উপন্যাস তেমন জনপ্রিয় না হওয়ায় আমি আসলে বিভিন্ন ধারায় লেখা শুরু করি। নতুন ধারা তৈরির চেষ্টা থেকেই মূলত: প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস লেখা। শুরুতে ভয়ে ছিলাম প্যারাসাইকোলজি নাম নিয়ে। এমন নামে উপন্যাস চলবে কিনা সেটা নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। তবে পাঠক আমাকে হতাশ করেনি। বরং প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস পাঠকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয়।

একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও কীভাবে লেখালেখির সাথে যুক্ত আছেন এবং শতাধিক বই লিখলেন? মোশতাক আহমেদের ভাষ্য, আমি আসলে নিয়ম করে নিয়মিত লিখি। বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রায় ৩৫০ দিনই সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত লেখালিখি করি। আর আমার কম্পিউটার টাইপিং স্পিডও অনেক ভালো। এছাড়া কোনো গল্পের প্লট মাথায় আসলে সেটি নোট করে রাখি। এতে পরবর্তীতে আমাকে গল্পের সংকটে পড়তে হয় না। এখনও আমার শতাধিক গল্পের প্লট নোট করা আছে। এসব কারণে এবং সর্বোপরি পাঠকের ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি এতদূর আসতে পেরেছি। এই ধারা ভবিষ্যতেও বজায় রাখব।

লেখালেখি জীবনের কোনো একটি স্মৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম থেকেই আমি সাধারণত কোনো বইয়ের পুশ সেল করি না। আমার বাসনা ছিল, যেদিন থেকে সাধারণ কোনো পাঠকের বুকশেলফে আমার বই দেখতে পাবো, সেদিন হয়তো বুঝতে পারব আমার লেখালেখি স্বার্থক। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের যে কারও বাসায় যাওয়ার সুযোগ থাকে না। পেশাগত কারণেই আমরা সব জায়গায় যেতে পারি না। কিন্তু একবার হঠাৎ ফোন এলো এক নারী তার দুই সন্তানসহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। পেশাগত কারণে সেখানে যেতে হলো। ক্রাইম সিন দেখতে গিয়ে একপর্যায়ে সেই বাসার আলমারিতে আমারই লেখা একটি বই প্রথমবারের মতো দেখতে পেলাম। সেদিন বুঝতে পারলাম আমার লেখালেখি স্বার্থক। তবে সেটি আমার জন্য আনন্দদায়ক হওয়ার চেয়ে বেশি কষ্টকরই ছিল।

;

প্রবীণ লেখকদের থেকে আমরা তরুণরা সেভাবে অনুপ্রেরণা পাই না!



রেদওয়ান আহমদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আয়োজনে সিআরবি শিরিষতলায় মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলায় এক তরুণ লেখক মন্তব্য করে বলেন, প্রবীণ লেখকদের থেকে আমরা তরুণরা সেভাবে অনুপ্রেরণা পাই না! 

বইমেলাকে কেন্দ্র করে লেখক-পাঠকদের আড্ডায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। তবে চট্টগ্রামের তরুণ লেখকদের মনের হতাশা যেন কিছুতেই কাটছে না! এই হতাশার অন্যতম বড় কারণ প্রবীণ লেখকদের সংস্পর্শ না পাওয়া।

তরুণ লেখকদের অভিযোগ, নবীনদের জন্য প্রবীণ লেখকরা তেমন কোনো ভূমিকা রাখছেন না। অনুপ্রাণিত করা তো পরের কথা, অনেকে মনে করেন, নবীনদের লেখা দুর্বল, তাদের লেখার হাত কাঁচা, সে কারণে নবীনদের ‘দূর দূর’ করে তাড়িয়ে দেন।

আজকের নবীনরাই একদিন প্রবীণ হবেন, সে বিষয় নিয়েই মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কথা হয়, চট্টগ্রামের কয়েকজন তরুণ লেখকের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ কবি ও কথা সাহিত্যিক রাহমাতুল্লাহ রাফির প্রথম উপন্যাস ‘আত্মহত্যার ইতিবৃত্ত’ এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘উপকথা’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হওয়া এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন গুণী প্রচ্ছদশিল্পী পরাগ ওয়াহিদ। এর আগে তার দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

তরুণ এই কবি ও কথা সাহিত্যিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, সত্যি বলতে কী প্রবীণ লেখকদের থেকে আমরা তরুণরা সেভাবে অনুপ্রেরণা পাই না! কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ প্রবীণদের ধারণা, তরুণেরা লিখতে জানে না। অথচ, তাদের কর্তব্য ছিল প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের রচনা নেড়ে-চেড়ে তারপর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া।

রাফি বলেন, ‘নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের পার্থক্য হচ্ছে, জেনারেশনের। তারা যেই পটভূমিতে গল্প বলেন, আমাদের সেই পটভূমি থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। তাদের গল্পে যদি চিঠি কিংবা টেলিফোনে নায়ক-নায়িকার যোগাযোগ হয়, আমাদের গল্পে সেই স্থান দখল করবে মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপ। কিন্তু তারা সেটা মানতে চান না।’

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী, তরুণ কবি ও কথা সাহিত্যিক কামরান চৌধুরী ২০২৩ সালের বইমেলায় ‘আখ্যায়িকা’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। ‘দুয়ার’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সে বইটির প্রচ্ছদ করেছিলেন পরাগ ওয়াহিদ।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বইমেলা-২০২৪

তরুণ এই কবি ও কথা সাহিত্যিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আখ্যায়িকা’ আমার মৌলিক কাব্যগ্রন্থ। কবিতা যেমন ভালোবাসতে শেখায়, বিরহের কথা বলে, তেমনি জীবনের কথা বলে! জীবনের কিছু কবিতা রয়েছে এই 'আখ্যায়িকা'য়। বইটির জন্য পাঠকমহল থেকে বেশ সাড়া পেয়েছি। বইটি নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ দেখে আমি আশাবাদী। তাদের আলোচনা-সমালোচনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে, শেখায়!’

তবে কামরান চৌধুরীর মনের দুঃখ অন্য জায়গায়! খোলাসা করলেন সেটিও। বললেন ‘একটা বিষয় খুব খারাপ লাগে! আমি বহু প্রবীণ লেখককে দেখেছি, আত্ম অহংকারে নিমজ্জিত। উদীয়মান লেখকদের জন্য তাদের যেন করণীয় কিছুই নেই! তাদের অনেকেই নবীন লেখকদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। অনেকেই মনে করেন, নবীনদের লেখা দুর্বল! তাদের লেখার হাত কাঁচা। অথচ আজকের নবীনরাই একদিন প্রবীণ হবেন।’

চট্টগ্রামের আরেক তরুণ গুণী কবি রহস্য শর্মা। ‘হারিয়ে তোমায় পথে’ ও ‘একান্নিশা’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে গত কয়েক বইমেলায় তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। এবারের বইমেলাতেও তার নতুন কবিতার বই ‘দ্রোহন্যতে’ আলো ছড়াচ্ছে। এই বইটির প্রচ্ছদও করেছেন পরাগ ওয়াহিদ।

তরুণ এই কবি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বর্তমানে প্রবীণ লেখকরা নবীনদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না। এটা হতে পারে, জেনারেশনের গ্যাপের কারণে। হতে পারে. তাদের আত্মম্ভরিতার কারণে। আবার হতে পারে, ব্যস্ততার কারণে। তাছাড়া, প্রবীণ লেখকরা পড়ালেখায় নব্বই শতাংশ সময় ব্যয় করলেও নবীনরা পুরো সময় নষ্ট করছেন মার্কেটিং আর মিডিয়াতে।

এখানে আমি করো নিন্দা করতে আসিনি। তবে, বড় সত্য যে, তরুণদের অনেকেই পড়ালেখা থেকে অনেক দূরে থাকেন। প্রবীণদের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখেন আবার প্রবীণ লেখকদেরও একটা অংশ তরুণদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখেন।’

তবে, তরুণদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ ‘একুশে পদক’প্রাপ্ত বরেণ্য লেখক হরিসংকর জলদাস।

বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এমন কেউ আসেনি। যারা এসেছে, তাদের লেখায় কোনো ভুল থাকলে আমি ধরে ধরে সেগুলো সংশোধন করেছি। তাছাড়া, তরুণেরা কোনো স্কুল খুলে বসেনি যে, তাদের সময় দেওয়া প্রবীণদের জন্য বাধ্যতামূলক। সংস্পর্শ-সান্নিধ্যের জন্য প্রবীণদের কাছে যেতে হয়। তার জন্য দরকার আনুগত্য, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তবে, সবাই সহযোগিতা করবে না, সেটা সত্য। আমার বইও এক সময় এক লেখক সামনেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। লেখকরা ব্যস্ত থাকেন। তবে, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিয়ে আসলে প্রবীণরা অবশ্যই তাদের মূল্যায়ন করবেন!’

;

‘পেঁয়াজ ছাড়া রান্না-বান্না’ নিয়ে বইমেলায় মৃত্তিকা দেবনাথ

  ‘এসো মিলি প্রাণের মেলায়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অমর একুশে বইমেলা- ২০২৪-এ রান্নাবিষয়ক ভিন্নধর্মী এক বই নিয়ে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী মৃত্তিকা দেবনাথ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার ‘পেঁয়াজ ছাড়া রান্না-বান্না’ বইটি। বইটি প্রকাশ করেছে- শুদ্ধপ্রকাশ।

পেঁয়াজ ছাড়া রান্না বইটিতে রয়েছে- পেঁয়াজ ছাড়াই মাছ, মাংস, ডিম, শুঁটকি ও বিভিন্ন সবজি রান্নার কৌশল, রান্নার প্রস্তুতিপর্বের নির্দেশনার পাশাপাশি রান্না সহজ করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস।

সেই সঙ্গে রান্নায় লবণ বা ঝাল বেশি হলে স্বাভাবিক করার কিছু সহজ কৌশল। মাছ, মাংস, ডিম, শুঁটকি ও বিভিন্ন সবজি মিলে পাঁচ পর্বে প্রায় ৭০টি রেসিপি গ্রন্থিত হয়েছে বইটিতে।

লেখার শুরুতেই একটি রান্না শেখার গল্পের মাধ্যমে লেখক বুঝিয়ে দিয়েছেন, নিজের অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা দিয়েই কেবল নিজের রান্নার শিল্পবোধটিকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।

বইটির আশীর্বাণী লিখেছেন ও প্রচ্ছদ করেছেন প্রতিযশা চিত্রশিল্পী ও কথাশিল্পী ধ্রুব এষ। রয়েল সাইজের সম্পূর্ণ রঙিন বইটির মুদ্রিত মূল্য ৭০০ টাকা। অমর একুশে বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘শুদ্ধপ্রকাশ’-এর ১২১ নম্বর স্টলে।

মৃত্তিকা দেবনাথ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) তালিকাভুক্ত একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন গানের সুর, স্বরলিপি ও মিউজিক করে থাকেন। সংগীত ও রান্নাবিষয়ক তার একাধিক বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

;