ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-৯



মাহফুজ পারভেজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

[নবম কিস্তি]

মাঝে মাঝে ম্যারির সাধ জানে নতুন জীবনের। আহ! জীবনটা যদি আবার নতুন করে শুরু করা যেতো! ঘুম ভেঙে দেখা মিলতো একদম আনকোরা নতুন একটি সকাল, যে সকাল ভেসে যাচ্ছে অপার্থিব অলীক আলোয়।

ম্যারি জীবনের রূঢ় অভিজ্ঞতায় জানেন, এত আলো ভাল নয়। তবু তিনি নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করেন, “এত কেন দেখো তুমি চোখ?”

তিনি আলোকিত সকাল থেকে চোখ ফেরাতে চান, পারেন না। তার মর্মমূল থেকে উঠে আসছে অদ্ভুত আত্মগ্লানি। কেউ জেনো তার সত্তার কানে কানে বলছে,

“তোমার নতুন করে আজ তবে ফের মৃত্যু হোক! চারপাশে ছেঁড়া-ফাটা উপড়ানো মানুষের বাঁচা আর তার পাশে একা একা অন্ধকার ধৈর্য্যের মতো নিজেকে পোড়াও তুমি ম্যারি, তুমি এক অনাবৃষ্টির বানভাসি, তোমাকে মেরেছে কে? তুমি জানো না, গোপনে যে তুমিই নিহত।”

প্রতিদিন জন্ম আর প্রতিদিন মৃত্যুর চক্রব্যূহে নিজেকে বড্ড অসহায় লাগে ম্যারির। জীবনের উপরিভাগে এইসব মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কট মোটেই টের পাওয়া যায় না বাইরে থেকে। কখনো কখনো কেবল চোখের কাঁচে ছায়াপাত ঘটায় অন্তর্গত বিষণ্নতার মেঘ।

অথচ আর দশটা স্বাভাবিক ও সচ্ছল ঘরের মতো একটি পরিবারেই জন্মেছিলেন তিনি। অভাব কী তা কোনওদিন বোঝেননি। লেখাপড়ায় আগাগোড়া ওপর দিকে ছিলেন। জীবনে, যাপনে, শিক্ষায় যে-স্তরে তিনি পৌঁছেছেন, তা বহুজনের কাঙ্ক্ষিত। ঠিক বয়সে বিয়ে হয়েছিল, যদিও নিজের ইচ্ছায়, তথাপি ক্যাভিনও ছিল শিক্ষায় আর সংস্কৃতিতে অসাধারণ।

বছর না-ঘুরতে ম্যারির কোলে এসেছিল টমাস। তাকে যত্নে মানুষ করেছেন ব্যক্তিগত উত্থা্ন-পতনের বিপন্নতাকে পরাজিত করেই। আর বিচ্ছিন্নতা? আমেরিকায় তা এন্তার ঘটছে। সব কিছুর পরেও ম্যারির একার লড়াইয়ে টমাসের শিক্ষা ও জীবনের গতি সূর্যমুখীর মতো যথেষ্ট আলো-ঝলমলে।

কিন্তু জীবনের শেষটা যেমন ভাবা গিয়েছিল তেমনটা হল না ম্যারির। ক্যাভিন জীবনের আলো ম্লান করে দিয়ে আকস্মিক ভাবে চলে গেল। বাড়িতে কেবল মা আর ছেলে। তারপর এক সময় এলেন আরেকজন, ম্যারি মা আর টমাসের নানী। পারিবারিক বলয়ে কিছুটা সঙ্গ পাওয়া গেলো তৃতীয় একজনের। তবু সমস্যার শেষ হয় না। ম্যারির চারপাশের সবাই তাকে ঘিরে নিঃসঙ্গতার মেঘ খুঁজে পায়।

শুধু মা নন, সকলেই বলতে থাকল, দেখেশুনে কোনো ছেলের সঙ্গে একটা বিয়ে করে নাও। বাড়িতে কোনো পুরুষ কর্তা না থাকলে কি শ্রী থাকে! ম্যারির মা মিসেস অ্যানি গিলবার্ট, খোঁজখবরও চালাচ্ছিলেন নিজের মতো করে, উচ্চশিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত বংশের সুচাকুরে দু’-তিনটি ছেলের সন্ধানও পেয়েছিলেন।

আচমকা একদিন তার ছিঁড়ল। ম্যারি আটকে গেলেন বাগানের পাইন গাছের সঙ্গে নিঃসঙ্গতার বন্ধনে। পারিবারিক-ব্যক্তিগত বিষয় চর্চা করলেই ম্যারি অতীতমুখী হয়ে পড়েন। স্মৃতির হ্যাঙওভার থেকে বের হতে পারেন না। অথচ স্বাভাবিক, জাগতিক জীবনে তিনি প্রচণ্ড ভবিষ্যতচারী। ক্যারিয়ার ও পেশার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র থমকে থাকেন নি তিনি। পিছিয়ে পড়ার তো প্রশ্নই আসে না।

শান্ত, স্বিগ্ধ অথচ লড়াকু মানসিকতার জন্য ম্যারি ক্যাম্পাসের অন্যতম আলোচিত চরিত্র। অনেকের পছন্দের মানুষও তিনি। কোনো হতাশা নেই, হাহাকার নেই, বেদনার আত্মপ্রকাশ নেই তার মধ্যে। জীবনকে স্বাভাবিক গতি ও ছন্দে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর একজন ‘ঘটনাবহুল অভিজ্ঞতায় জারিত’ মানুষকে কে না ভালোবাসবে! কিন্তু ম্যারি জানেন, গোপনে তার মধ্যে বইছে সুপ্ত রক্তপ্রবাহের নদী। পৃথিবীর আর কেউ যে একান্ত নদীর খোঁজ জানে না।

আচমকাই একজন খানিকটা টের পেয়েছিল ম্যারির হৃদয়ের গোপনতম জগৎ সম্পর্কে। তার নাম ম্যাথু। রোমান যুবকটি ইতালি থেকে নানা স্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাসতে ভাসতে এসেছিল আমেরিকায় ম্যারিদের ক্যাম্পাসে। প্রাচীন রোমান ভাস্কর্যের আদলে মায়াবী মুখ আর পেশীবহুল পৌরুষের মাখামাখিতে ম্যাথু একটানে ম্যারির বুকে তীরের মতো বিদ্ধ হয়েছিল। অদ্ভুত ছিল তার জীবন আর অতি বিচিত্র জীবনযাপন প্রণালী। পাত্র বা প্রেমিক হিসেবে পশ্চিমের অগ্রসর সমাজের তথাকথিত বিবেচনায় ম্যাথু ছিল পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রের মতো অপাঙতেয়। তার তিন কুলে প্রায় কেউ নেই। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়াও বেশিদূর নয়। ছবি এঁকে তার রোজগার, একটা ছোটখাটো বিজ্ঞাপনী সংস্থায় তার আঁকার চাকরি। কিছু কিছু পয়সা জমিয়ে সে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ভ্রমণ করে। ম্যারিদের ক্যাম্পাসে সে পড়াশোনা করতে নয়, এসেছিল মানুষ ও প্রকৃতি দেখতে।

ম্যাথুর মধ্যে ক্যাভিনের প্রচ্ছায়া দেখেছিলেন ম্যারি। তার মনে হয়েছিল, ক্যাভিন আর ম্যাথু একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এক সময় তার মনে হয়েছিল, ক্যাভিনের অবর্তমানে একমাত্র ম্যাথুই তার একান্ত জীবনে জায়গা পেতে পারে।

ম্যাথুর সঙ্গে ম্যারির নিবিড়তা বাড়ছে টের পেয়ে মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মিসেস অ্যানি। মা হয়ে মেয়ের জীবনের সঙ্গে অনুল্লেখযোগ্য ও নিষ্প্রভ কোনও কিছু জুড়বে, এটা কোনওদিন ভাবনাতেও আনেন নি তিনি। যারা অসফল, তিনি চিরকাল তাদের করুণার নজরে দেখেছেন। এবার মেয়ের জীবনে এমন কাউকে কেমন করে আসন দেবেন, সেটা বুঝতে পারলেন না। পরিস্থিতি হাতছাড়া হচ্ছে দেখে নিজের আচরণগুলোর ওপরেও তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান। একটা প্রবল ক্রোধ তাঁকে আচ্ছন্ন করল। প্রায় উচ্ছন্নে যাওয়া একটি ছেলেকে এ বাড়ির জামাতা হিসেবে মেনে নেওয়া দুষ্কর, সেটা জানার পরেও মিসেস অ্যানি মেয়ের মতের বিরুদ্ধে একটি কথাও বললেন না। তবে তিনি ম্যাথুকে চোখের সামনে দেখতেও চাইলেন না।

"বিয়েটা হতেই পারে", বললেন তিনি, "কিন্তু তাঁর পক্ষে তা নিয়ে আনন্দ করা অসম্ভব, স্বীকৃতি জানানো অসম্ভব।" বিশেষত ক্যাভিনের সঙ্গে মেয়ের বিচ্ছিন্নতার স্মৃতি তাকে ক্ষিপ্ত ও আতঙ্কিত করে। ক্যাভিন-সদৃশ্য ম্যাথুকে সামনে রেখে ম্যারির জীবনে আরেকটি ঝুঁকি নেওয়ার কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। তিনি মেয়ের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন।

সেই থেকে চারপাশটা ধূসর হয়ে যায় ম্যারির। ম্যাথু টের পায় টানাপোড়েনের বিষয়গুলো। ম্যারির নিজেরই তৈরি করা একাকিত্বের বৃত্তের মধ্যে ঢুকতে ঢুকতেও ঢুকলো না ম্যাথু। দুজনের মধ্যে পারিবারিক-সামাজিকভাবে তৈরি হওয়া অদৃশ্য বেড়াটা ভাঙা হলো না আর। ম্যাথু আবার হারিয়ে গেল নিজের জগতে। দুজনের মধ্যে একটা ছোট্ট ফাঁক রইল শুধু। বয়স কম হলে লাফিয়ে লাফিয়ে সিঁড়ি ভাঙার মতো ফাঁকটা ভরে দেওয়া যেতো। কিংবা পেরিয়ে যাওয়াও সম্ভব হতো। সম্পর্কের নিবিড় নৈকট্যে এসেও ‘সম্ভব’কে এক ফুৎকারে ‘অসম্ভব’ করে দিয়ে ম্যারি আর ম্যাথু সরে গেলেন নিজেদের আলাদা বিবরে।

[পরবর্তী কিস্তি আগামী শুক্রবার]

আরও পড়ুন:ধারাবাহিক উপন্যাস 'রংধনু'-৮

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;