বিস্ময়কর নায়াগ্রা ফলস



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
নায়াগ্রা ফলসের রাতের সৌন্দর্য, ছবি: তৌফিক হাসান

নায়াগ্রা ফলসের রাতের সৌন্দর্য, ছবি: তৌফিক হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

মধ্যদুপুরে ঝকঝকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় আমরা রওনা হলাম আমেরিকা ভ্রমণে বাঙালির অন্যতম অবশ্য গন্তব্য নায়াগ্রা ফলসের পথে। দুই পরিবারের মোট ৮ জন মিলে ফোর্ডের একটা বড় ভ্যানে রওনা হলাম পেনসিলভেনিয়ার লেভিট্টাউন থেকে। নায়াগ্রা যেতে মোটামুটি ৮ ঘণ্টা লাগবে, রাত-দিন দুই সময়েই নায়াগ্রাকে দেখবো বলেই এই বেলায় রওনা হওয়া। দিনে ও রাতে ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্যের পেখম মেলে ধরে সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় জলপ্রপাত নায়াগ্রা। পেনসিল্ভেনিয়ায়র যে কান্ট্রিসাইড রাস্তা ধরে যাচ্ছি তা খানিকটা পাহাড়ি, উঁচু-নিচু, সবুজ এবং সৌম্য। চোখে প্রশান্তিদায়ক সবুজের মধ্যে দিয়ে কখনও মিষ্টি আলু ক্ষেত আবার কখনোবা ভুট্টা ক্ষেতের পাশ দিয়ে নির্দেশিত গতি মেনে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। মাঝেমাঝে লোকবসতিরও দেখা পাচ্ছি, সুন্দর ছোটখাট ছিমছাম গোছানো স্বতন্ত্র বাড়ি একেকটা।

ঘণ্টা তিনেক চলার পর আমরা পোকোনো মাউন্টেইন এরিয়ায় এসে ৮১ হাইওয়েতে উঠলাম। বাকি পথটা এই হাইওয়ে ধরেই যেতে হবে। পোকোনো এলাকাটা বেশ জনপ্রিয়, আশেপাশের রাজ্য থেকে অনেকেই পোকোনোতে আসেন পাহাড়ে ক্যাম্পিং কিংবা হাইকিং করার জন্য। অক্টোবরের দিকে পোকোনো যেন একটা স্বর্গে পরিণত হয়, গাছের পাতা এমন সুন্দর লাল-হলুদ-সোনালী রঙ ধারণ করে দেখে মনে হয় যেন পুরো পাহাড়ে আগুন লেগেছে!


পোকোনো পেরিয়ে সামান্য যেতেই রাস্তার সাথে গাড়ির চাকা  ঘর্ষণের শব্দ খানিকটা পরিবর্তন হওয়াতে ভাই মিথুন জানালো আমরা নিউয়র্কে প্রবেশ করেছি কারণ পেনসিলভেনিয়ার রাস্তা এত খারাপ না এবং অবাক করে দিয়ে কিছুক্ষণ পরে চোখের সামনে ওয়েলকাম টু নিউইয়র্ক লেখা বোর্ড দেখতে পেলাম! রাত ন'টা নাগাদ আমরা নায়াগ্রা সিটিতে পৌঁছলাম, ডানে-বামে না তাকিয়ে কোথাও না দাঁড়িয়ে সোজা চলে গেলাম নায়াগ্রা ফলস দেখতে। রাতের নায়াগ্রা নাকি অন্যরকম সুন্দর, সেটা দেখতেই সরাসরি এখানে আসা। পার্কিংয়ের গাড়ি পার্ক করে বেরোতেই অবিরত ঝমঝম শব্দ আমার স্নায়ু চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলো। কেমন যেন মোহাচ্ছন্য হয়ে দ্রুতপায়ে বিশ্বখ্যাত সেই জল্প্রপাতের দিকে এগোতে থাকলাম। মিনিট সাতেক হাঁটার পর পৌঁছলাম কাঙ্ক্ষিত জলপ্রপাতের সামনে। কানাডা সাইড থেকে ফলসের এর উপর লাল-নীল-সবুজ বিভিন্ন রঙের জোরালো আলো ফেলা হচ্ছে। কিছুক্ষন পর পর লাইটের তীব্র সেই আলো বদলানোর সাথে সাথে জলপ্রপাতের ধারাগুলোও রঙ পরিবর্তন করছে। ভীষণ দৃষ্টিনন্দন লাগছে।


নায়াগ্রা ফলস, উত্তর আমেরিকার প্রকান্ড এক জলপ্রপাত। আমেরিকার নিউইয়র্ক এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মাঝ সীমান্তে পড়েছে নায়াগ্রা ফলস। নায়াগ্রার তিন ভাগের এক ভাগ পড়েছে আমেরিকায়, নাম ‘আমেরিকান ফলস’। বাকি দুই ভাগ কানাডায়। নায়াগ্রা মূলত তিনটি জলপ্রপাতের সমষ্টি। সবচেয়ে বড় জলপ্রপাতটির নাম হলো হর্সশু ফলস বা কানাডিয়ান ফলস। এটি প্রায় ১৬৭ ফুট উঁচু থেকে ২৬০০ ফুট চওড়া পানির স্রোত নিয়ে নিচে আছড়ে পড়ে। বলা হয় নায়াগ্রা জলপ্রপাতের প্রায় ৯০ ভাগ পানি এই ফলস দিয়েই পতিত হয়। এর পরের ফলসটির নাম আমেরিকান ফলস। এটি প্রায় ৭০ ফুট উঁচু এবং ১৬০০ ফুট চওড়া। অন্যটির নাম ব্রাইডল ভেইল ফলস। প্রকান্ড এই জলপ্রপাত ১৮৪৮ সালে একবার শুকিয়ে গিয়ে ৪০ ঘণ্টার মত পানি প্রবাহ বন্ধ ছিল। তাছাড়া ঠান্ডায় বরফ হয়ে পুরোপুরি জমে গিয়েছে অসংখ্যবার।


বেশ অনেকটা সময় রাতের নায়াগ্রার সৌন্দর্য উপভোগ করে ডিনার সেরে মোটেলে চেক ইন করলাম রাত ১২টা নাগাদ। আমরা দূটো ডাবল বেডেড রুম নিয়েছিলাম প্রতিটার ভাড়া ট্যাক্স সহ ২০০ ডলার। রুমগুলো খারাপ না, বেড গুলোও বেশ বড় এবং আরামদায়ক। হোটেলে পৌঁছার পর বেশি দেরী না করে ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম কারণ পরদিন সকালে আবার নায়াগ্রা যেতে হবে। মুল এডভেঞ্চারটা হবে আগামীকাল।


সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে মোটেল থেকে চেক আউট করে আমরা আবারও রওনা হলাম নায়াগ্রার পথে। আজকে পুরোটা দিন আমরা সেখানেই কাটিয়ে দিবো। এবারে পার্কিং এর যায়গা জুটলো খানিকটা দূরে, পার্কিং করে রেখেই ভো দৌড় দিলাম জলপ্রপাতের দিকে, খানিক পরেই পৌঁছে গেলাম ভিউ পয়েন্টে। বেশ খানিকক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকালাম অবিরত ধারায় পরতে থাকা পানির দিকে। হুহু করে বাতাস বইছে, সেই বাতাসে তোড়ে মাঝে মাঝে জলপ্রপাতের পানির কণা আমাদের হালকা ভিজিয়ে দিচ্ছিল কিন্তু সেদিকে আমরা গুরুত্বই দিচ্ছিনা। দুচোখ ভরে কেবল জলপ্রপাত দেখছি আর পানির স্রোতের সুতীব্র শব্দ শুনছি। গতরাতের তুলনায় আজ দর্শনার্থী অনেক বেশি, অনেক বাংলাদেশীও দেখলাম এবং বাংলায় আলাপনও শুনতে পেলাম। দর্শনার্থীরা কেউ আমাদের মতো জলপ্রপাতের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পানির পতন দেখছে কেউবা ছবি তুলছে আবার অনেকেই খানিকটা দূরে অপেক্ষাকৃত উঁচু যায়গায় বসে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখছে। দুইপরিবারের সবাই মিলে বেশ কিছু ছবি তুলে রওনা হলাম গোট আইল্যান্ডের দিকে উদ্দেশ্য মেইড অব দ্য মিষ্ট জাহাজে করে জলপ্রপাতের একেবারে পাদদেশ থেকে ঘুরে আসা।


৩০ ডলারে টিকিট কেটে উঠে পরলাম মেইড অব দ্য মিষ্ট জাহাজে। উঠেই দৌড় লাগালাম ছাদের একবারে সামনের দিকে যাবার জন্য কারণ খোলা ছাদে সামনের দিকে দাঁড়ালেই সবচেয়ে ভালভাবে উপভোগ করা যায় নায়াগ্রাকে। জাহাজে উঠার সময় আমাদের সবাইকে নীল রঙ এর রেইন কোট দিয়েছে যেটা জাহাজে উঠার আগেই পরে নিয়েছি। জাহাজটা জলপ্রপাতের এত কাছে নিয়ে যায় যে রেইন কোট না পরলে কাক ভেজা হতে হয়। এই জাহাজ প্রায় ৩০ মিনিট সময়ে আমাদের সবগুলো জলপ্রপাতকে কাছ দেখে দেখিয়ে আবার ফেরত নিয়ে আসবো। জাহাজটি ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে কানাডার দিক থেকে আরেকটি জাহাজ রওনা হলো। কানাডা সাইডের দর্শনার্থীদের রেইন কোটের রঙ লাল। আগ-পিছ করে দুটো জাহাজই এগোতে থাকলো একে একে সবগুলো জলপ্রপাতের কাছে নিয়ে গেলো। রেইন কোট তেমন কোন কাজেই লাগলো না, কানাডা ফলসের কাছাকাছি যেতেই মোটামুটি কাক ভেজা হয়ে গেলাম। ছবি-টবি তুললাম, ভিডিও করলাম কিন্তু পানির পতনের ফলে সৃষ্ট বাতাসে ভেসে বেড়ানো জলকণায় সব জল হয়ে গেল। প্রপাতের কাছাকাছি পানি পড়ার শব্দ আর জাহাজের রোলিং মোটামুটি একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করে। যারা বেশি এডভেঞ্চার পছন্দ করেন না তারা জাহাজের একেবারে সামনের দিকে দাঁড়াবেন না। আমাদের অবশ্য ভালই লাগছিল। বাচ্চারা বেশ মজা করলো, ওদের আনন্দের চিৎকারে আমরাও সামিল হলাম। আমাদের চিৎকার শেষ না হতেই জাহাজ পিছনের দিকে ফিরতে লাগলো। এত অল্প সময়ের প্রপাত দর্শনে মন ভরলো না। কিছু করার নেই আমাদের নির্ধারিত সময় শেষ তাই জাহাজ জেটির দিকে ফিরতে লাগলো। মন না ভরলেও এই ভ্রমণ মনে থাকবে যতদিন বেঁচে থাকবো।

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা



হাসান হাফিজ
হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

হাসান হাফিজের এক গুচ্ছ কবিতা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছায়ামায়া বিচ্ছিন্নতা

আবার কখনো হয়তো দেখা হবে
ম্যানিলায়, স্যান মিগুয়েল ড্রাইভে
অদেখার চাপা কষ্ট হয়তো মুছে যাবে
যেহেতু এখন বিশ্ব গ্লোবাল ভিলেজ
ভালো থেকো ম্যানিলাসুন্দরী
তোমার চিকুরে গ-ে মূর্ত হবে
অস্তগামী রোদ্দুরের আভা
কনে দেখা আবছায়া আলোয় মল্লারে
অঙ্কুরিত হতে হতে মরে যাওয়া,
ভালোবাসা ফুল্ল হবে সঘন বন্দিশে
সেই ঐশী মুহূর্তের অপেক্ষায়
পোড়খাওয়া দিন রাত্রি যায়
যুগল মনকে মেখে আবেগে জড়ায়
আধখানা পায় যদি আধেক হারায়
টেলিপ্যাথি দু’জনাকে কাছে এনে
আবারও বিচ্ছিন্ন করে ছায়ায় মায়ায়!

আমাদের জানা নেই

জন্ম থেকে মৃত্যু অব্দি
কতো ক্লান্তি টানাহেঁচড়া এবং ধকল
সমুদয় ফুলের কুঁড়িরা
এই ব্যথা লগ্নি করে নিঝুম নিস্তেজ।
তারাও তো নীলকণ্ঠ
চুপেচাপে হজম করেছে কতো
অপ্রাপ্তি ও লাঞ্ছনার বিষ
মানবজন্মও মূলে লানতের সিঁড়ি
পতনেরই সম্মোহন আছে
আরোহণ অধরা বস্তুত।

জন্ম-মৃত্যু কোন্ প্রশ্নে একাকার লীন
সম্পূরক একজনা অপর জনার
অবিমিশ্র খাঁটি সত্য আমরা জানি না
অন্ধের আন্দাজশক্তি হাতড়িয়ে নিঃসঙ্গতা
বৃদ্ধি করে আরো, আলো ছুঁতে ব্যর্থ অপারগ।

পাই বা না পাই চাই

হাত ধরেছো অন্ধকারে
এইটুকুনি, এর বেশি তো নয়
কেন কেঁপে উঠতে গেলাম
কী ছিল সেই ভয়?
হাতের শিরায় উপশিরায়
মেদুর সে কম্পন
হৃৎযন্ত্রেই পৌঁছে গেল
সীমার যে লংঘন
করলে তুমি জেনেশুনে
অবাস্তবের স্বপ্ন বুনে
কে কার আপনজন
নির্ধারিত হওয়ার আগেই
লুন্ঠন কাজ শেষ
নিষিদ্ধ প্রেম বজ্রঝিলিক
হয়নি নিরুদ্দেশ,
জাঁকিয়ে বসে আরো
মারবে আমায়? মারো-
মারতে মারতে জীবনশক্তি
ফুরিয়ে নিঃশেষ
চাই তোমাকে, পাই বা না পাই
নিমজ্জমান হতেই তো চাই
হোক যতো শ্রম ক্লেশ।

মৃত্যুগাঙে ঢেউয়ের সংসারে

গাঙের মাঝি গাঙেরে কি চিনে?
এই প্রশ্ন হয় না মনে উদয়
গাঙের ঢেউয়ে আছাড় পিছাড়
দ্বন্দ্ব দ্বিধা টানাপড়েন আশঙ্কা সংশয়
গাঙ যে মাঝির পরানসখা, বন্ধুতা তার বিনে
অন্য কোনো রয় কি পরিচয়?
গাঙে উঠলে মৃত্যুমাতাল ঢেউ
পায় না রেহাই কেউ
মাঝগাঙ্গে সে ডুইব্যা মরে, কীভাবে উদ্ধার
চারদিকেতে ঢেউয়েরই সংসার
মাঝি ও গাঙ, অন্য কেহই নাই
চিরকালীন দুইয়ের সখ্য, কোন্ ইশারা পাই
গাঙের মাঝি গাঙের গূঢ় গোপন কথার
শরিক হইতে চায়
কত্তটুকুন পারে ক্ষুদ্র এই জীবনে
আয়ু ক্ষইয়ে যায়
অল্প কিছুই সুলুক সন্ধান
সন্তোষ নাই তায়

বেঁচে থাকা বলে কাকে

জীবন তো ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া কিছু নয়।
ঘটনা বা অঘটন যাই থাকে
নিপুণ শিল্পীর মতো মুছে দেয়,
বাকি বা অক্ষত রাখে সামান্যই।
অদৃশ্যে কে ক্রিয়াশীল আমরা জানি না,
কিবা তার পরিচয়, সাকিন মোকাম কোথা
কিছুরই হদিস নাই। উদ্ধারেরও সম্ভাবনা নাই।
ব্ল্যাকবোর্ড এবং ডাস্টার। জন্ম ও মৃত্যুর খতিয়ান
তুচ্ছতা ঔজ্জ্বল্যে ঋদ্ধ থরোথরো লাবণ্য স্মৃতির
মস্তিষ্কের নিউরন নিখুঁত সেন্সর করে
কারুকে বাঁচিয়ে রাখে, অন্যদের
সরাসরি মৃত্যু কার্যকর
ভোঁতা এক অনুভূতি সহায় সম্বল করে
আমরা ক্লীব টিকে থাকি
একে তোমরা ‘বেঁচে থাকা’ বলো?

আমাদেরও নিয়ে নাও নদী

হৃদয়বাহিত হয়ে তোমার কষ্টের কান্না
সংক্রমিত হয়ে পড়ে হৃৎপিন্ডে আমার
নিদান আছে কী কিছু ?
নাই কোনো স্টেরয়েড এ্যান্টিবায়োটিক
সেহেতু শরণ লই ভেষজ উদ্ভিদে
গুল্মলতা তোমার নির্যাসরসে প্রাকৃতিক হই
বুনোবৃষ্টি মাথাচাড়া দিতে চায় দিক
অঝোর বর্ষণে আমরা সিক্ত হই যথাসাধ্য
নিঃস্ব রিক্ত পুলকিত হই যুগপৎ
নদী খুঁজে পেয়ে যায় আকাক্সিক্ষত সাগরমোহানা
লীন হয়,বাঞ্ছিতকে আলিঙ্গনে ভারাতুরও হয়
এই প্রাপ্তি তপস্যারই পরিণতি,আছে কী সংশয়
কখন হারিয়ে ফেলে এইমতো রয়েছেও ভয়

হৃদয়বাহিত হয়ে নদীস্রোতে যায় বয়ে পরিস্রুত হয়ে
আমাকে তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যাক করুণা প্রশ্রয়ে

;

শিশুসাহিত্যিক আলী ইমাম মারা গেছেন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশিষ্ট লেখক, শিশুসাহিত্যিক, সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আলী ইমাম শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা, নিউমোনিয়াসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী ইমামের পেজে তার ছেলের দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।

আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছয়শতাধিক বই লিখেছেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যানেল ওয়ানের (২০০৭-২০০৮) মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।

দেশের শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য আলী ইমাম ২০০১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান। এছাড়াও অনেক পুরস্কার পান তিনি। শিশুসাহিত্যিক হিসেবে জাপান ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ২০০৪ সালে তিনি জাপান ভ্রমণ করেন।

আলী ইমামের শিশুসাহিত্য চর্চার শুরু শৈশব থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিক্ষা সপ্তাহে বিতর্ক এবং উপস্থিত বক্তৃতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৮৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা কর্মশালায় অংশ নেন। এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রকাশনা বিভাগের ন্যাশনাল কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

;

কবি সুফিয়া কামালের মৃত্যুবার্ষিকী আজ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরাধা ব্যক্তিত্ব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনের অগ্রদূত জননী সাহসিকা কবি বেগম সুফিয়া কামালের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

এ উপলক্ষে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধসহ বাঙালির সমস্ত প্রগতিশীল আন্দেলনে ভূমিকা পালনকারী সুফিয়া কামাল ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর শনিবার সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার ইচ্ছানুযায়ী তাকে আজিমপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে। তখন বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা শুরু করেন। সুললিত ভাষায় ও ব্যঞ্জনাময় ছন্দে তার কবিতায় ফুটে উঠত সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও সমাজের সার্বিক চিত্র। তিনি নারীসমাজকে অজ্ঞানতা ও কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার, মুক্তিযুদ্ধসহ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে তিনি আমৃত্যু সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।

তিনি বলেন, কবি সুফিয়া কামাল পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের শিক্ষা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিলেন এবং গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি বেগম সুফিয়া কামালের সাহিত্যে সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারীমুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনী আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান তিনি । ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন ‘কচি-কাঁচার মেলা’ প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে ছাত্রী হল নির্মাণ করেছে।

কবি বেগম সুফিয়া কামাল যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তার সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।

সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বেলা ৩টায় বরিশালের শায়েস্তাবাদস্থ রাহাত মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সুফিয়া কামাল পরিবারসহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং এই আন্দোলনে নারীদের উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৫৬ সালে শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।

পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সংগঠিত আন্দোলনে তিনি জড়িত ছিলেন এবং তিনি ছায়ানটের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে মহিলা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেন।

১৯৭০ সালে তিনি মহিলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা দেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নারী জাগরণ ও নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও তিনি উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণসহ কার্ফু উপেক্ষা করে নীরব শোভাযাত্রা বের করেন।

সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। এ ছাড়া সোভিয়েতের দিনগুলি এবং একাত্তরের ডায়েরী তার অন্যতম ভ্রমণ ও স্মৃতিগ্রন্থ।

সুফিয়া কামাল দেশ-বিদেশের ৫০টিরও বেশি পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সোভিয়েত লেনিন পদক, একুশে পদক, বেগম রোকেয়া পদক, জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার ও স্বাধীনতা দিবস পদক।

সুফিয়া কামালের পাঁচ সন্তান। তারা হলেন, আমেনা আক্তার, সুলতানা কামাল, সাঈদা কামাল, শাহেদ কামাল ও সাজেদ কামাল।

;

বিশেষ ব্যক্তিদের সম্মাননা দিলো 'চয়ন সাহিত্য প্রকাশনী'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

"চয়ন সাহিত্য ক্লাব" এর ২০ তম বার্ষিকী এবং সাহিত্য পত্রিকা "চয়ন ও দশদিগন্ত" এর ৩০ তম  প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  ১৮ নভেম্বর, ২০২২, বিকাল ৩ টায় জাতীয় জাদুঘরের কাজী সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ।

অনুষ্ঠানে ‘চয়ন সাহিত্য ক্লাব স্বর্ণপদক-২০২২’ তুলে দেওয়া হয়। লিলি হক রচিত "কবিতার প্রজাপতির নীড়ে " বইটি " চয়ন প্রকাশন" থেকে প্রকাশিত হয়, একই সময়ে কবিতা পাঠের পাশাপাশি অন্যান্য আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় জাদুঘর প্রযত্ন পর্ষদ এর সভাপতি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক হাসনাত আব্দুল হাই, বিশেষ অতিথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ম. হামিদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফসিউল্লাহ্। উপস্থিত ছিলেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান, সুসাহিত্যক সেলিনা হোসেন। 

পদকপ্রাপ্ত গুণীজন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন আইকন বিবি রাসেল, প্রখ্যাত বাচিকশিল্পী গোলাম সারোয়ার ,কথাসাহিত্যিক আবু সাঈদ, সুসাহিত্যক এবং বাংলা একাডেমীরই আজীবন সদস্য  গুলশান-ই-ইয়াসমীন।

সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, মনোয়ার হোসেন খান, ও আনজুমান আরা বকুল। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ছড়াশিল্পী ওয়াসীম হক। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অনুবাদক মোঃ নুরুল হক। হৈমন্তী সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

;