Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

আবেগ ও অনুভূতিকে রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে

আবেগ ও অনুভূতিকে রাখতে হবে নিয়ন্ত্রণে
নেতিবাচক আবেগ ও অনুভূতি উভয়কেই নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আবেগ ও অনুভূতি খাপছাড়াই হয়।

কখন কোথায় কীভাবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে তার কোন সুনির্দিষ্ট সময়সূচী নেই। বহিঃপ্রকাশ তো বটেই, আবেগ ও অনুভূতির জন্যে জীবনের সিদ্ধান্তেই গোলযোগ বেঁধে যায়। প্রতিদিন আমরা যতগুলো ছোট থেকে বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তার সিংহভাগই হয়ে থাকে নিজেদের আবেগের উপর ভরসা করে। এই আবেগ, অনুভূতি বা ইমোশন আমাদের সময়, কাজ, চিন্তা ও কোন ঘটনা বোঝার ধরণকে প্রতিফলিত করে। এই কারণেই মানুষ ভেদে প্রত্যেকের চিন্তা-ভাবনা ভিন্ন হয়, প্রত্যেককের মাঝে থাকে স্বকীয়তা।

তবে এই অনুভূতি সময়ে সময়ে বেশ ভয়ানক রূপ ধারণ করে। যার ফল স্বরূপ দুঃখ, ক্ষোভ, রাগের মতো নেতিবাচক আবেগের প্রকাশ ঘটে। এই আবেগ ও অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হয় নিজেকেই। নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহজ কিছু অভ্যাস কাজে দেয়।

নিজের জন্য কিছুটা সময় নেওয়া

যেকোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূতির প্রকাশ না করে নিজেকে কিছুটা সময় দিতে হবে। ক্ষোভের বশে সে সময়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার বদলে নিজেকে কিছুটা সময় দিতে হবে। এ সময়ে হৃদস্পন্দন বেশি থাকে, তাই দাঁড়িয়ে থাকলে কোন স্থানে বসে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে হবে। চেষ্টা করতে হবে শরীর ও পেশীকে শিথিল রাখার জন্য। শরীর রিল্যাক্স হলে অনুভূতিতেও কিছুটা লাগাম আসবে। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনার মুখোমুখি হতে হবে না।

সাহায্যের খোঁজ করা

অতিরিক্ত মন খারাপ হলে কিংবা রাগের বশে আমরা এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না কাজ করে ফেলি, যা করা মোটেও উচিত নয়। কারণ এ সময়ে অনুভূতি আমাদের বিবেচনা বোধকে কাবু করে ফেলে। এমন সময় যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্বস্ত ও কাছের মানুষের সাথে কথা বলতে হবে, আলোচনা করতে হবে। সেটা হতে পারে পরিবারের মানুষ, সহকর্মী বা বন্ধু। তারা এ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

সুনির্দিষ্ট উপায় খুঁজে বের করা

অনেকেরই রাগ, অভিমান, মন খারাপের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়। সেক্ষেত্রে নিজের জন্য সঠিক ও যুতসই কোন কাজ খুঁজে বের করতে হবে, যা মনকে শান্ত রাখতে ও একমুখী রাখতে কাজ করবে। সেটা হতে পারে বই পড়া, গান শোনা, রান্না করা, ছবি আঁকা কিংবা শরীরচর্চা করা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/27/1564205127810.jpg

চিন্তা করতে হবে অন্যভাবে

ধরুন বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কোন একজন বন্ধু আপনাকে নিয়ে কৌতুক করলো। যার দরুন দারুণ অপমানিত বোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে আপনি প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেললেন। এতে করে খুব বাজে সিন ক্রিয়েট হলো ও বন্ধুত্বও ভেঙে গেলো। এবারে একটু সময় নিয়ে পু্রো ঘটনাটি ভাবার চেষ্টা করুন। নিজেকে সে মুহূর্তে সংযত রেখে অন্য সময় বন্ধুকে বুঝিয়ে বললে সে ঠিকই বুঝতো। যদি নাও বুঝতো আপনি নিজের মতো করে সরে আসতে পারতেন। কোন ঝামেলাই হতো না। তাই এমন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে চেষ্টা করতে হবে ঘটনার প্রভাবচিত্র নিয়ে ভাবার। এতে করে হটাত দেখা দেওয়া অনুভূতির প্রাবল্যকে রোধ করা সম্ভব হবে।

ক্ষমা করা ও ভুলে যাওয়া

আমাদের বেশিরভাগ আবেগ ও অনুভূতির কারণ আমাদের খুব কাছের ও প্রিয় মানুষজন। দেখা যায় তাদের কাছ থেকেই বেশি কষ্ট পাওয়া হয়। সে কারণে মনে মধ্যে ক্ষোভ বা কষ্ট জমিয়ে না রেখে ভুলে যাওয়াই হবে সবচেয়ে ভালো। যার কথায় বা কাজে কষ্ট পেয়েছেন, তাকে মন থেকে ক্ষমা করে দিলে নেতিবাচক অনুভূতিগুলো নিস্তেজ হয়ে যাবে। নিজেকে ইতিবাচক অনুভূতির দিকে নিয়ে যেতে পারলে উপকার হবে নিজেরই।

আরও পড়ুন: নিজের সাথে নিজের কথা বলার অভ্যাসটি কি ভালো?

আরও পড়ুন: পুষ্টির অভাবে বিষণ্ণতা দেখা দেয় কি?

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র