Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চিনির বিকল্পে চার উপাদান

চিনির বিকল্পে চার উপাদান
কোকোনাট সুগার ও অন্যান্য, ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

আমরা সকলেই জানি চিনিকে বলা হয়ে থাকে ‘সাদা বিষ’।

স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ চিনি গ্রহণে শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়, দেখা দেয় হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), ফ্যাটি লিভার, ডায়বেটিস ও অন্যান্য নানাবিধ শারীরিক সমস্যা। সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হল, চিনি গ্রহণে মেটাবলিজম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যা পুরো স্বাস্থ্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর পরামর্শ অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শিশু, সবারই চিনি গ্রহণের মাত্রা একেবারেই কমিয়ে ফেলা উচিৎ। কারণ চিনি খুবই অ্যাডিক্টিভ (নেশাজাত) খাদ্য উপাদান। তবে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস থেকে চিনি সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া এতোটাও সহজ নয়। সরাসরি চিনি গ্রহণ করা না হলেও, মিষ্টিজাত বিভিন্ন খাবারের সাথে প্রতিনিয়তই চিনি গ্রহণ করা হয়।

ঘরে তৈরি কেক, পেস্ট্রি, শরবত, স্মুদি কিংবা অন্যান্য মিষ্টান্নতে ব্যবহার করতে হয় চিনি। তবে চিনির বিকল্প পণ্যের বিষয়ে জানা থাকলে খুব সহজেই কমিয়ে আনা সম্ভব চিনির ব্যবহার। জেনে নিন এমন চারটি উপাদান সম্পর্কে, যা মিষ্টি খাবার তৈরিতে খুব চমৎকার কাজ করবে।

মধু

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557898549845.jpg
মধু

 

চিনির বিকল্পের কথা উঠলে প্রথমে অবশ্যই বলতে হবে মধুর কথা। মধুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান, যা শুধু সুস্বাস্থ্যের জন্য নয় ঘরোয়া নানা ধরনের সমাধানেও চমৎকার কাজে আসে। শরবত-স্মুদি তৈরিতে, চা তৈরিতে কিংবা মাফিন, কাপকেক তৈরিতে খুব সহজেই মিষ্টিভাব আনতে মধু ব্যবহার করা যাবে। মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে মধু থেকে পাওয়া যাবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে ও হৃদরোগের প্রবণতা কমাবে।

কোকোনাট সুগার

এটা কোকোনাট পাম সুগার হিসেবেও পরিচিত। এটা তৈরি করা হয় নারিকেলের পানি থেকে। মিষ্টি এই উপাদানটি থেকে পাওয়া যাবে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক ও পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্ট-অক্সিডেন্ট। কোকোনাট সুগার ও কোকোনাট নেকটার- এই উভয় উপাদানে রয়েছে আঁশ। যা রক্তে গ্লুকোজ মিশ্রিত হওয়ার পদ্ধতিকে ধীর গতির করে দেয়। যাদের ডায়বেটিসজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এই উপাদানটি গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণ চিনি থেকে এর গ্লাইসেমিক্স ইনডেক্স অনেক কম।

স্টেভিয়া

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই উপাদানটি ক্রমেই চিনির স্থান দখল করে নিচ্ছে। আমাদের দেশে যা জিরোক্যাল হিসেবে পরিচিত। উচ্চ ক্যালোরিচুক্ত চিনির বিকল্প হিসেবে স্বল্প ক্যালোরিযুক্ত স্টেভিয়া খুব সহজেই ব্যবহার করা যাবে। সবচেয়ে ভালো বিষয় হল, স্টেভিয়া রক্তে চিনির মাত্রায় কোন হেরফের করে না।

ম্যাপল সিরাপ

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557898513930.jpg
ম্যাপল সিরাপ

 

ঘন ও মিষ্টি এই সিরাপটি তৈরি করা হয় ম্যাপল গাছের রস থেকে। এতে থাকা মিনারেল, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম মধুর মতো ম্যাপল সিরাপকেও উপকারী প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। সবচেয়ে দারুণ বিষয় হচ্ছে, ম্যাপল সিরাপ থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ২৪ প্রকারের ভিন্ন ভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ।

আরও পড়ুন: কী রাখবেন সেহেরিতে?

আরও পড়ুন: খাবার খাওয়ার পর গ্রিন টি পানে কী হয়?

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র