Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খাবারের স্বাদে পরিপূর্ণতা আনবে ‘পূর্ণতা’

খাবারের স্বাদে পরিপূর্ণতা আনবে ‘পূর্ণতা’
পূর্ণতার তৈরি আচার, ছবি: পূর্ণতা।
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

একটু বৃষ্টি হলেই খাবার পাতে চাই খিচুড়ি আর আম-রসুনের আচার।

খেতে ইচ্ছা করছে না, খাবারে স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না, মুখে রুচি নেই, রান্না পছন্দ হচ্ছে না- খাওয়া নিয়ে এমনতর নানান সমস্যার সমাধানে একটি নামই উঠে আসে। সেটা হলো আচার।

আচারের জাদুকরি সুঘ্রাণ, সুস্বাদ জিভে জল আনবেই। শুধু খিচুড়ি নয়, ডাল-ভাত কিংবা পোলাও-রোস্টের সাথেও এক চামচ আচারে বদলে যায় পুরো খাবারের স্বাদ। সঠিক ভাবের প্রকাশে বলতে হয়, পূর্ণতা চলে আসে পুরো খাবারের আয়োজনে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557748811608.jpg
পূর্ণতার তৈরি আচার

 

তবে আচার তৈরির প্রক্রিয়া সহজ নয় মোটেও। যে আচার যত মজাদার, সে আচার তৈরিতে তত বেশি খাটুনি, ততোধিক সময়ের প্রয়োজন। ব্যস্ততাপূর্ণ জীবনে অফিস, ঘর, ব্যক্তিগত কাজ সামলে আচার তৈরির খাটাখাটুনি বিলাসিতাই হয়ে দাঁড়ায়।

দোকানের বোতলজাত আচার তো আছেই। কিন্তু ভাবুন তো একবার, এই আচারগুলোর প্রতি কতটুকু আস্থা রাখতে পারেন আপনি! মাত্রাতিরিক্ত প্রিজার্ভেটিভ সহকারে তৈরিকৃত এই আচারগুলোর উপাদানগুলো কতটা ফ্রেশ সে সম্পর্কেও সন্দেহ রয়ে যায়।

তবে কি আচার খাওয়া হবে না? ফ্রেশ, বিশুদ্ধ আচার পাওয়া যাবে না? উত্তরে হয়তো না বলতে হতো, যদি ‘পূর্ণতা’ না থাকতো। অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পূর্ণতায় অর্ডার করে ঘরে বসেই পাওয়া যাবে মনোহর স্বাদের টক-ঝাল-মিষ্টি হরেক পদের আচার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557748869666.jpg
পূর্ণতার তৈরি আচার

 

দুই বোন ঈশিকা রায় ও ঈশিতা রায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে এই উদ্যোগটি। মা শুক্লা রায়ের রেসিপির অনুসরণে সাত ঘরানার ভিন্ন ভিন্ন আচার তৈরি করছেন তারা।

কাঁচা আমের মৌসুম হওয়ায় তাদের আচারের রেসিপিতে প্রাধান্য পেয়েছে কাঁচা আম। আচারের মাঝে রয়েছে আমের মোরব্বা, কাশ্মীরি আমের আচার, আমের কালোজিরা আচার, আমের মিষ্টি আচার, আম রসুনের আচার, আম সরিষা আচার, আমের ম্যাশড আচার। এছাড়াও কিনতে পাওয়া যাবে ঘরে পাতা টক ও মিষ্টি আমসত্ত্ব। ফলের মৌসুমের উপর নির্ভর করে বদলাবে আচারের মেন্যু।

পূর্ণতায় আরও থাকছে ঘানি ভাঙা সরিষার তেল ও সরবাটা ঘি, যা অর্ডার দেওয়ার পর তৈরি করে দিতে প্রয়োজন হবে ১০-১৫ দিনের মতো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557748894338.jpg
পূর্ণতার তৈরি আচার

 

প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ঈশিতা রায়ের সাথে আলাপকালে বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘আমাদের আচারগুলো সম্পূর্ণ প্রিজার্ভেটিভ ছাড়া তৈরি করা হয়। তবে প্রিজার্ভেটিভ না থাকলেও, সঠিক উপায়ে আচার ব্যবহার করা হলে এবং শুকনো ও পরিষ্কার স্থানে রাখা হলে, এক একটি আচার ছয় মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভালো থাকবে। নিজেদের জন্য যেভাবে আচার তৈরি করি, সেভাবেই ক্রেতাদের জন্য যত্ন নিয়ে আচারগুলো তৈরি করা হয়। একদম ভালো ও ফ্রেশ ফল, মশলা ও আমাদের ঘানি ভাঙা সরিষার তেল দিয়ে তৈরি আচারে মানের নিশ্চয়তা তো থাকছেই, সাথে মায়ের রেসিপিতে তৈরি প্রতিটি আচারেই পাওয়া যাবে ঘরোয়া ও পরিচিত স্বাদ।’

মানের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্যে তাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, পণ্যের মানে কোন ছাড় দেওয়া হয় না একেবারেই। যে কারণে প্রতিষ্ঠানের ট্যাগ লাইন দিয়েছেন ‘বিশুদ্ধতার প্রতিশ্রুতি’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/13/1557749051707.jpg
পূর্ণতার তৈরি আচার

 

ঈশিতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আচারের প্যাকেটজাতকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে। স্বাভাবিকভাবেই অনলাইন থেকে আচার অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার শঙ্কা থাকে আচারের প্যাকেট নিয়েও। ঈশিতা জানালেন, সম্পূর্ণ এয়ার টাইট বক্সে আচার প্যাকেটজাত করা হয়। তাই তেল পড়ে যাওয়ার কোন সম্ভবনা থাকবে না একেবারেই।

সেই সাথে জানিয়ে দিলেন, খাবারের স্বাদে পূর্ণতা আনার জন্যেই সবাই আচারের খোঁজ করে। সেই ধারণা থেকেই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে ‘পূর্ণতা’।

ভেজাল ও প্রিজার্ভেটিভমুক্ত ফ্রেশ ফলের সুস্বাদু আচার পেতে চাইলে নিশ্চিন্তে অর্ডার করে দিতে পারবেন পূর্ণতা পেইজে। পছন্দের আচারের সাথে খাবারের মেন্যুতে পূর্ণতা আনতে আর কোন চিন্তাই নেই এখন।

আরও পড়ুন: ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ ফ্যাশন শোতে বাংলাদেশের আসমা

আরও পড়ুন: তাসনুতা’র কেকে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক প্রাপ্তি

আপনার মতামত লিখুন :

খালি পেটে কফি পান নয়

খালি পেটে কফি পান নয়
ছবি: সংগৃহীত

বহুমুখী স্বাস্থ্য উপকারিতা তো আছেই, কফির সুঘ্রাণ ও সুস্বাদের সাথে দিনের শুরু হওয়া অনেকের জন্যেই বাধ্যতামূলক যেন।

অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, কোন খাবার না খেয়েই কফির পেয়ালায় চুমুক বসান। কিন্তু একদম খালি পেটে কফি পান করা কতটা উপকারী? খালি পেটে কফি পানে কি তার উপকারিতাগুলো শরীর পরিপূর্ণভাবে পায়?

উত্তরে বলতে হবে, না। একদম খালি পেটে নয়, কফি পান করতে হবে হালকা কোন খাবার খাওয়ার পরেই। একদম খালি পেটে কফি পানের ফলে শরীরে কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কর্টিসল শরীরের মেটাবলিজম, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক চাপের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563462138926.jpg

এখন প্রশ্ন হলো, কর্টিসল নিঃসরণের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে কি সমস্যা হবে? এখানে উত্তরে বলতে হবে, হ্যাঁ। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, খালি পেটে কফি পানের ফলে কর্টিসলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা মানসিক চাপ তৈরি করে ও বাড়িয়ে দেয়।

এতে করে খুব দ্রুত মুড বদলে যায় এবং এর ফলে স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এছাড়া কফি পাকস্থলিস্থ অ্যাসিড নিঃসরণের মাত্রাও বৃদ্ধি করে। যা অ্যাসিডিক প্রভাব তৈরি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

নিজেকে চাঙা রাখতে, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ও কফির উপকারিতাগুলো পেতে চাইলে সকালে নাশতা সেরে অথবা হালকা কিছু খেয়ে তবেই কফি পান করতে হবে।

আরও পড়ুন: ব্ল্যাক কফি পানে ওজন কমে?

আরও পড়ুন: কতটুকু কফি পান নিরাপদ?

আরও পড়ুন: কফি পানের সঠিক সময় কোনটি?

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ
পানি জমলেই জন্ম নেবে মশা, ছবি: সংগৃহীত

মায়ের শীতল হাতের ছোঁয়া আর মমতামাখা ভালোবাসার চাদর জড়িয়েও কমানো যাচ্ছে না তিন বছর বয়সী ঐশীর জ্বর। হাসপাতালের বারান্দায় স্থান হয়েছে ঐশীর, অথচ মা কখনো তাকে খালি পায়ে মেঝেতে নামতে দিত না। ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে আসছে ঐশীর চেহারা, মাঝে মাঝে বমি করছে। অস্থির মা বারবার ছুটে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। মেয়ের পাশে অসহায় পিতা নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, বেদনায় পাণ্ডুর মুখ কিন্তু কাঁদতে পারছে না মেয়ের কষ্ট দেখে।

অথচ মায়ের সচেতনতার কমতি ছিলো না কিছুতেই। জুন মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হলে তিনিও সচেতন হয়ে উঠেন। সকাল সন্ধ্যা স্প্রে এবং সন্তান ঘুমালে কয়েল জ্বালিয়ে দেওয়া তার আহার্যের মত নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। কিন্তু সাধের বারান্দাতে বাহারি ফুল গাছের সম্ভার তৈরি করেছিলেন। সেখানেই জন্ম নেয় ঘাতক এডিস মশা।

সেক্ষেত্রে সচেতন হয়ে অ্যারোসল স্প্রে বা মশার কয়েলের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে মশারি। দুপুরের ভাতঘুমে আলসেমি করে মশারি ব্যবহার করে না অনেকেই। এই প্রথার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সাথে সন্ধ্যায় হতেই বন্ধ করে দিতে হবে জানাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563457264592.jpg

শুধুমাত্র সামাজিক সচেতনতা নয়, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ রক্ষা করতে পারে ডেঙ্গুর মহামারি। নিজের ঘর ও উঠান থেকে শুরু করতে হবে পরিচ্ছন্নতা। কোন স্থানে কিছুতেই জমতে দেওয়া যাবে না পানি। জলাবদ্ধতা নিরসন করা গেলে আঁতুড় ঘরেই নিধন হবে মহামারি ডেঙ্গু। সাধারণত ফুলের টব, পরিত্যাক্ত ড্রাম, ফেলে দেওয়া বোতল, ভাঙ্গা বালতি ইত্যাদিতে এক বা দুই দিনের জমে যাওয়া পানিতে জন্ম নেয় মশার লার্ভা। আর এক সপ্তাহের ভেতর হয়ে উঠে ঘাতক।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এডিস মশাবাহী ভয়াবহ ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয় ২০০০ সালে। ৯৩ জন মারা যায় সেবার। সকলে সচেতন হয়ে উঠলে ধীরে ধীরে কমতে থাকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা।

কিন্তু গত বছর থেকে আবার যেন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু জ্বর। সরকারি হিসাবমতে গত বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার রোগীর মাঝে মারা যায় ২৬ জন।

এবারের ডেঙ্গু জ্বর একটু ভিন্ন। শক্তিশালী স্টেইনের ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত তৃতীয় প্রজাতির এডিস মশা ছড়াচ্ছে। জুন মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই ৫ মাসে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ইতোমধ্য সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে চার সহাস্রাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারা গিয়েছে তিন জন। বেসরকারি হিসাবে কয়েকগুন বেশি বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বিগতবার থেকে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ যেমন বেশি তেমনি রয়েছে ভিন্নতা। আগে ডেঙ্গু জ্বর হলে মাথা ব্যথা, চোখের পেছন অংশে ব্যথা হত। কিন্তু এবারের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ভিন্ন, ধরতেও সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

তাই সামান্য জ্বর হলেও অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, ডায়বেটিস, লিভার, কিডনী ও রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হলে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও দুই-তিন দিনের মধ্য রক্তে প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। বেশি করে পানি ও তরলজাত খাবার দিতে হবে রোগীকে।

এছাড়া এসপেরিন বা এন্টিবায়োটিক ঔষুধ কোনোভাবেই সেবন করা যাবে না। জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষুধ খেতে হবে। পান করতে হবে ডাবের পানি ও স্যালাইন।

সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণে ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করা খুব কঠিন কিছু নয় মোটেও।

আরও পড়ুন: যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র