Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে প্রাত্যহিক যে সকল কাজে

ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে প্রাত্যহিক যে সকল কাজে
ধূমপান তো বটেই প্যাসিভ স্মোকিং এর কারণেও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ছবি: সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভয়াবহ এক আতঙ্কের নাম ক্যান্সার।

প্রতিদিন পুরো বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার মানুষ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে ও মৃত্যুবরণ করছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনও পর্যন্ত এই ঘাতক রোগ সম্পূর্ণরূপে ভালো হবার কোন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থতা আসলেও পুরোপুরি সুস্থ হবার নজির খুবই বিরল।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে প্রতিদিন আমরা এমন কিছু কাজ করছি, যা আমাদের ঠেলে দিচ্ছে এই মরণব্যাধির দিকে। নিজের সুস্থতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে জেনে রাখুন এমন কয়েকটি অভ্যাসের বিবরণ।

জীবনযাত্রার ধরণ

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান গাপ্সটুর বলেন, ‘আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ ও মানের উপর ক্যান্সার অনেকটা নির্ভরশীল’। কোন অসুখ বা দূর্ঘটনার পরে নিয়ম মেনে না চলার কারণে ক্যান্সার হতে পারে বলেও অভিহিত করেন তিনি।

তামাকের ব্যবহার

শুধু ধূমপানের ফলে নয়, তামাকের ব্যবহারের ফলেও ক্যান্সার দেখা দেয়। বিশেষত তামাকের সরাসরি ব্যবহার আরো বেশি ক্ষতিকর। দেখা গেছে তামাক ব্যবহারকারীদের গড় আয়ু, তামাক ব্যবহার করেনা এমন মানুষদের তুলনায় ১০ বছর কম। তবে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি জানাচ্ছে, ৪০ বছর বয়সের আগে তামাক খাওয়া বা ধূমপান ছাড়লে, তা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ধূমপান সম্পর্কিত অসুখে মৃত্যু রোধ করবে।

অতিরিক্ত ওজন

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/25/1551070219997.jpg

অতিরিক্ত ওজন শুধু হৃদযন্ত্রের অসুখের জন্যই দায়ি নয়, এটি ক্যান্সারের জন্যেও দায়ি। ধূমপানের পরে বেশীর ভাগ মানুষের ক্যান্সারের কারণ অতিরিক্ত ওজন।

ব্যায়াম না করা

ব্যায়াম না করলে এমনিতেই ওজন বেড়ে যায়। আর ওজন বাড়লেই ক্যান্সারের ঝুঁকি। কোলোন, ব্রেষ্ট ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের মত অসুখ বাসা বাঁধতে পারে ব্যায়ামহীন আরাম আয়েশে থাকা শরীরে।

প্যাসিভ স্মোকিং

সিগারেট থেকে নির্গত হয় কারসেনোজেনিক (ক্যান্সারজনক) কেমিক্যাল। বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ ধরণের কেমিক্যাল নিশ্চিত করেছে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। নিজে ধূমপান না করলেও এই ঝুঁকিটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটাকে বলা হয় প্যাসিভ স্মোকিং। ধূমপায়ীর আশেপাশের মানুষও ধূমপায়ীর মতোই ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন এই প্যাসিভ স্মোকিং কিংবা সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং এর জন্য। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে ধূমপান করা সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ।

বার বি কিউ

ফ্রাই, গ্রিল বা বারবিকিউ এর মত উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস রান্না করলে, তা এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে। যা ক্যান্সারের কারণ। এই রাসায়নিক নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা বলছে, হেটেরোসাইক্লিক এ্যামিনস (HCAs) ও পলিসাইক্লিক এরোমেটিক হাইড্রোকার্বন্স  (PAHs) নামের দুই ধরনের রাসায়নিকের সন্ধান মিলেছে, যা মানুষের শরীরের ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্থ করে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

আরো পড়ুন: জীবাণুমুক্ত থাকার পদ্ধতিগুলো কী সঠিক?

আরো পড়ুন: ঘুম আসবে মাত্র ৬০ সেকেন্ডেই!

আপনার মতামত লিখুন :

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান
নান, ছবি: সংগৃহীত

সকাল কিংবা বিকালের নাশতায় যারা নিয়মিত রুটি ও পরোটা খান, একটা সময় পরে তাদের রুটিতে অভক্তি দেখা দেয়।

এ সময়ে রুটির বদলে গরম নান খেতে মনে চায়। ফোলা ও গরম নানের সাথে সবজি কিংবা মাংসের ঝোল যেন অমৃতসম।

এই নান কেনার জন্য এলাকার রেস্টুরেন্টে দৌড়ঝাঁপ না করে ঘরে বসে চুলাতেই তৈরি করে নেওয়া যাবে মজাদার গরমাগরম নান। দেখে নিন নান তৈরির রেসিপিটি।

নান তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623276721.JPG

১. ১/৪ কাপ দই।

২. এক চা চামচ চিনি।

৩. এক চা চামচ বেকিং পাউডার।

৪. এক চিমটি বেকিং সোডা।

৫. দুই কাপ ময়দা।

৬. এক চা চামচ লবণ।

৭. দুই টেবিল চামচ তেল।

৮. ১/৪-১/৩ কাপ পানি।

৯. এক টেবিল চামচ কালোজিরা।

১০. ঘি অথবা মাখন।

নান যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623263865.JPG

১. একটি পাত্রে দই, এক চা চামচ চিনি, এক চা চামচ বেকিং পাউডার ও এক চিমটি বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশাতে হবে।

২. এতে দুই কাপ ময়দা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মেশাতে হবে। মিশ্রণের মাঝখানে দুই টেবিল চামচ তেল অ ১/৪ কাপ পানি দিয়ে ময়দার কাই তৈরি করতে হবে। ময়দার কাই শক্ত হলে পানি ও নরম হলে ময়দা মেশাতে হবে।

৩. ময়দার কাইটি মসৃণ হয়ে আসলে তার উপরে তেল মাখিয়ে পাত্রের মাঝখানে রেখে তার উপরে ভেজা অ পরিষ্কার কাপড় দিয়ে দুই ঘন্টার জন্য ঢেকে রাখতে হবে।

৪. দুই ঘণ্টা পর ময়দার কাই থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটির মতো বেলে নিতে হবে। বেলার সময় তার উপরে কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং রুটির মতো গোলাকৃতির না করে লম্বাটে করে নিতে হবে। চাইলে হাত দিয়ে টেনে লম্বাটে করে নেওয়া যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623299530.JPG

৫. এবারে চুলায় তাওয়া গরম করে নান দিয়ে দিতে হবে। একপাশ কিছুটা ভাজা হলে ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দেবে। এমন হলে নান উল্টে দিয়ে অপর পাশ ভাজতে হবে। এ পাশেও ছোট ছোট ছিদ্র দেখা দিলে আবারো উল্টে দিতে হবে।

তাওয়া থেকে নামানোর আগে নানের উপরে ঘি অ ধনিয়া পাতা কুঁচি ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: ঘিয়ে তৈরি মুচমুচে নিমকি

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!

কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাচ্ছে চার কারণে!
কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি কর্মজীবীকে দিনের সিংহভাগ সময় কাটাতে হয় নিজ কর্মক্ষেত্রে।

কাজের চাপ, ব্যস্ততা, ডেডলাইন, মিটিংসহ সবকিছুর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ক্লান্তি দেখা দেয় একটা সময়। সময়মতো বিশ্রাম নিলে এই ক্লান্তিভাব খুব দ্রুত কেটেও যায়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দম ফুরিয়ে যাওয়া আর ক্লান্তিবোধ এক নয়।

কর্মোদ্যম ফুরিয়ে গেলে শারীরিক ক্লান্তির সাথে মানসিক ক্লান্তি প্রভাব বিস্তার করে। কাজ, ব্যস্ততা, ছুটে চলা- সবকিছুকেই অর্থহীন বোধ হতে থাকে। অসামঞ্জস্যতা দেখা দেয় জীবনে চলার পথে। এমন অবস্থা চলতে একটা সময় জীবনের উপরে বিরক্তিবোধ কাজ করা শুরু করে।

কর্মোদ্যম হারিয়ে যাওয়া বা দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বেশ কয়েকটি কারণে দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফেশনাল প্রেসক্রিপশন ফর লাইফের কোচ সুসান বিয়ালি হাস এমডি। বিগত কয়েক বছর ধরে এ বিষয়ে কাজ করে এবং বহু মানুষকে কাউন্সেলিং করে তিনি বুঝতে পেরেছেন কর্মক্ষেত্রে কর্মোদ্যমতা হারানো শুরু হয় খুব ছোট কিছু থেকেই।

নির্দিষ্ট কোন একটি কারণ

ভিন্ন ভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের চাপ থাকে, কাজের ধরণ থাকে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে দম ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। কোচ সুসান জানাচ্ছেন মূলত ছয়টি কারণ কাজ করে এক্ষেত্রে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, নিয়ন্ত্রণের অভাব, অপর্যাপ্ত উপহার, কর্মক্ষেত্রে কমিউনিটি সংক্রান্ত সমস্যা, অন্যায্য/ অনৈতিক চর্চা, নৈতিকতার অমিল। এ বিষয়গুলো খুব ধীরে ধীরে কাজের উপর অনাগ্রহ তৈরি করে এবং কর্মোদ্যমতা নষ্ট করে দেয়।

আপনিও কর্মোদ্যম হারিয়ে ফেলেন তবে চেষ্টা করুন কারণটি খুঁজে বের করার। কোন কারণে এমনটা হচ্ছে সেটা শনাক্ত করতে পারলে সেটা সমাধানে কাজ করতে পারবেন।

অন্যের কাজ করা

স্বাভাবিকভাবেই অফিসে নিজের কাজের চাপ থাকে অনেক বেশি। সেখানে অন্যের কাজের বোঝাও যদি মাথায় এসে ভর করে তবে সেটা শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করে অনেক বেশি। আপনিও যদি এমনটা করে থাকেন তবে এই অভ্যাসটি খুব দ্রুত পরিহার করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মাঝে দেয়াল না থাকা

অফিসের কাজ বাসাতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোন বিশ্রাম হয় না। মাথার ভেতর সর্বদা কাজের বিষয়গুলো ঘুরঘুর করতে থাকে, যার ফলে প্রচণ্ড মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয়।

সেক্ষেত্রে কোচ সুসান পরামর্শ দেন- যতই কাজের চাপ থাকুক না কেন বা কাজ শেষ করার তাড়া থাকুক না কেন, কোনভাবেই অফিসের কাজ বাসাতে আনা যাবে না। বাসায় বসেও অফিসের কাজ করা ও অফিসে থাকার মাঝে আদতে কোন পার্থক্য থাকে না। এতে করে পরদিন পুনরায় অফিসে গেলেও বিন্দুমাত্র কর্মোদ্যমতা পাওয়া যায় না।

নিজের যত্ন না নেওয়া

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার মাঝে অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম বাধ্যতামূলক। এর কম হলে শরীর ও মন জুড়ে অপরিসীম ক্লান্তি ভর করে। এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি হেলাফেলা করা হয়, তার প্রভাব সরাসরি দেখা দেয় কাজের উপর। সারাদিন অফিসে ডেস্কে বসে থেকেও মাথা কাজ করবে না, কাজে মন বসবে না। সেক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, নিজের অযত্নও কর্মোদ্যম ফুরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কর্মক্ষেত্রে দূরে থাকুক আত্ম-সন্দেহ

আরও পড়ুন: সমস্যাটি যখন কর্মক্ষেত্রে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র