Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

উফ উকুন!

উফ উকুন!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

চিকিৎসা বিজ্ঞানে উকুনকে বলা হয় পেডিকুলাস হিউমেনাস ক্যাপিটিস।

উকুনের সমস্যাটি হয়ে থাকে এক ধরনের প্যারাসাইটসের কারণে। কোনভাবে এই প্যারাসাইট চুলে প্রবেশ করলে কিছুদিনের মাঝেই ডিম ছাড়তে শুরু করে। ফলে অল্প সময়ের মাঝেই সম্পূর্ণ মাথার চুলে ছড়িয়ে পড়ে উকুনের সমস্যা। এছাড়া উকুনের সমস্যাটি ছোঁয়াচে বলে সহজেই অন্যের মাথায় প্রভাব বিস্তার করে নেয় উকুন।

উকুনের প্রকোপ থেকে নিস্তার পেতে ও উকুনের প্রকোপ কমাতে ঘরোয়া বেশ কিছু উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। উকুনের ঘরোয়া চিকিৎসায় কার্যকরি উপাদানগুলোর নাম ও ব্যবহার জেনে রাখুন।

টি ট্রি অয়েল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544251913858.jpeg

টি ট্রি অয়েলে থাকা বেশ কিছু উপাদান উকুনকে মেরে ফেলতে কার্যকর। উকুনের পাশাপাশি উকুনের ডিমকেও ধ্বংস করে ফেলে এই উপাদানটি। ফলে পুনরায় উকুনের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

এই তেলটি ব্যবহারের জন্য রাত্রে ঘুমানোর আগে পরিমাণ মতো টি ট্রি অয়েল চুলের গোড়ায় কিংবা স্কাল্পে লাগিয়ে ভাল করে ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর বালিশের উপর পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে শুয়ে পড়তে হবে। পরদিন সকালে ভালো করে চুল আঁচড়ে নিতে হবে।

মাউথ ওয়াশ

উকুনের প্রকোপ কমাতে মাউথওয়াশ দারুন উপকারি। মাউথ ওয়াশে থাকা ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং থায়ামল, খুব অল্প সময়ে উকুনদের মেরে ফেলে। ফলে উকুনের সমস্যা কমতে বেশি সময় প্রয়োজন হয় না। মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে, স্কাল্পে ম্যাসাজ করে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে চুল বেঁধে রাখতে হবে ২ ঘন্টার জন্য। এরপর হার্বাল শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। উকুনের সমস্যা বেশি হলে সপ্তাহে এক বার এই মাউথ ওয়াশ এইভাবে ব্যবহার করতে হবে।

অলিভ অয়েল

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল চুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করা হলে উকুনের প্রকোপ দ্রুততম সময়ে কমে যায়। কারণ এই তেলে থাকা বেশ কিছু উপকারি উপাদান উকুনদের মেরে ফেলে।

নিম তেল

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Dec/08/1544251929661.jpg

নিম তেলের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান উকুন ও উকুনের ডিমকে মেরে ফেলতে কার্যকর। সেই সঙ্গে স্কাল্পের উন্নতিতেও অবদান রাখে নিম তেল। উকুনের সমস্যা দূর করার জন্য কয়েক ফোঁটা নিম তেলের সঙ্গে পরিমাণ মতো শ্যাম্পু মিশিয়ে চুল পরিষ্কার করতে হবে। চুল ভালোভাবে ধোয়ার পর অবশ্যই চুল আঁচড়ে নিতে হবে।

আরো পড়ুন: বিপত্তিকর বদহজম!

আরো পড়ুন: মোবাইল ব্যবহারে হন যত্নশীল

আপনার মতামত লিখুন :

নখ কাটতে হবে সঠিক নিয়মে

নখ কাটতে হবে সঠিক নিয়মে
ছবি: সংগৃহীত

যে কাজটি সেই ছোটবেলা থেকেই করে আসছেন, সেটা সম্পর্কেও থেকে যেতে পারে সঠিক তথ্য ও নিয়ম জানার ভুল।

সঠিক নিয়ম ও তথ্য জানার জন্য বিশেষ ও নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। তাই আজকের এই ফিচারটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন নিজেকে ও নিজের নখকে সুস্থ রাখা সঠিক পদ্ধতি।

নখ কাটার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো আগে একটা প্রশ্ন রাখা যাক। আপনি কী নখ খুব বেশি গভীর করে কাটেন, অর্থাৎ নখের নিচের নরম অংশ বা কিউটিকল পর্যন্ত বা সেটা ছাড়িয়ে? উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক হবে। কারণ ছোট থেকেই আমাদের শেখানো হয়, নখ কাটতে হয় একদম সম্পূর্ণ গোঁড়ার অংশ থেকে।

কিন্তু এভাবে নখ কাটা একেবারেই অনুচিত। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটলোজি জানাচ্ছে, কিউটিকল পর্যন্ত গভীর করে নখ কাটার ফলে নখ ও নখের পাশেপাশের নমনীয় স্থান খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এতে করে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তুলনামূলক অনেক বেশি।

সঠিকভাবে নখ কাটার জন্য মূলত চারটি নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। দেখে নিন নিয়ম চারটি।

নখ ভিজিয়ে রাখা

নখ কাটার পূর্বে অবশ্যই মিনিট পাঁচেকের জন্য কুসুম গরম পানিতে নখ ভিজিয়ে রাখতে হবে। পায়ের নখ হাতের নখের চাইতে তুলনামূলক বেশি মোটা হওয়ায় দশ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে করে নখ নরম যাবে এবং নখ কাটতে সুবিধা হবে।

নিয়মিত ট্রিম করা

নখের দুই পাশের অংশ হালকা কেটে অনেকেই নখ লম্বা করতে পছন্দ করেন। এ বিষয়ে ডার্মাটলোজিস্ট শারি লিপনার জানান, লম্বা নখ দেখতে সুন্দর লাগলেও সঠিক আকৃতিতে নখ ছোট রাখাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এতে করে নখ ভেঙে যাওয়া বা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

নখ পরিষ্কার থাকা চাই

শুধু নখ কেটে সঠিক আকৃতিতে রাখাই যথেষ্ট নয়, নখের ভেতরের ও চারপাশের অংশ পরিষ্কার থাকা চাই। নখের ভেতর জমে থাকা ময়লা থেকেই নখে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও ইনফেকশন হতে পারে।

ফাইলিং করা জরুরী

আমাদের দেশে সাধারণত নিয়মিত নখ কাটা হলেও নখ ফাইলিং করা হয় না একেবারেই। কিন্তু নখকে মসৃণ ও দৃঢ় রাখতে চাইলে নখ কাটার পর ফাইলিং করার কোন বিকল্প নেই। এতে করে নখ দেখতেও সুন্দর লাগে।

আরও পড়ুন: ডিম ভাঙার সঠিক নিয়মটি জানেন তো?

আরও পড়ুন: বেশি খেয়ে ফেললে কী করবেন?

শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে হেডফোনের ব্যবহারে

শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে হেডফোনের ব্যবহারে
ছবি: সংগৃহীত

রাতে ঘুমাতে যাওয়া থেকে শুরু করে সকালে ক্লাসে কিংবা অফিসে যাওয়ার পথেও কানে বাজতে থাকে পছন্দের গান।

কাজের ফাঁকে, মন খারাপ কাটাতে কিংবা একা সময়ে এই গানই যেন সবচেয়ে ভালো সঙ্গী। গান শোনায় কোন সমস্যা নেই, নেই কোন বাধাও। সমস্যাটা অন্যখানে। সেটা হলো গান শোনার মাধ্যম। সাধারণত হেডফোন কিংবা ইয়ারফোনের সাহায্যেই গান শোনা হয়ে থাকে এখনকার সময়ে। অথচ এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেটা কি আমরা জানি!

ইয়ারফোন বা হেডফোনে অতিরিক্ত শব্দে গান শোনা বর্তমান সময়ের তরুণদের এক ধরনের নিত্যদিনের অভ্যাসের মতো সাধারণ বিষয়। এতে করে মন যতই শান্ত হোক না কেন, অপূরণীয় ক্ষতি হয় কানের। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয়টি হলো, কানের ক্ষতি হলে সহসাই বিষয়টি বোঝা সম্ভব হয় না। যতক্ষণ না পর্যন্ত চূড়ান্ত সমস্যা দেখা দেয়। জেনে অবাক হবেন, পুরো বিশ্বে ১.১ বিলিয়নের অধিক ১২-৩৫ বছর বয়সী মানুষ ইয়ারফোন ব্যবহারের ফলে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

হেডফোনের ব্যবহারে কীভাবে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?

ইয়ারফোন কিংবা হেডফোনের উচ্চশব্দে গানের বাজনা থেকে নয়েজ ইনডিউসড হিয়ারিং লস (NIHL), যা থেকে কানের অপরিবর্তনীয় (Irreversible) ক্ষতি হয় এবং চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যায় বা বধির হয়ে যেতে হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289831945.jpg

কানের ক্ষতি হলে কী ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পাবে?

নিয়মিত উচ্চ শব্দে ইয়ারফোনে গান শোনা হলে তার নেতিবাচক প্রভাবের দরুন বেশ কিছু লক্ষণ অবধারিতভাবে দেখা দেবে। এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।

১. হুট করে অকারণে কানের ভেতর রিং বাজতে থাকার মতো শব্দ হতে থাকা এবং কিছুক্ষণ পর নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাওয়া।

২. টিভি দেখার সময় বারবার শব্দ বাড়িয়ে দেওয়া। টিভি থেকে কিছুটা দূরে বসে আসলে শব্দ শুনতে সমস্যা হওয়া।

৩. তিন ফিট দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কথা শুনতে সমস্যা হওয়া।

কীভাবে এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে?

কানের ক্ষতিকে দূরে রাখার বিষয়টি খুব জটিল কিছু নয়। ইয়ারফোন বা হেডফোনে গান শোনার সময় শব্দের মাত্রা কমিয়ে রাখতে হবে। উচ্চমাত্রার শব্দ কানের ভেতরের স্পর্শকাতর হেয়ার সেলস (Hair cells) এ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই গান শুনতে হলেও শব্দ অর্ধেক কমিয়ে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে '60:60' রুলস মেনে চলতে হবে অবশ্য। শব্দের মাত্রা ৬০ শতাংশের বেশি ও সময় ৬০ মিনিটের বেশি একদম নয়।

এছাড়া ইয়ারফোন বা হেডফোন যেটাই ব্যবহার করা হোক না কেন, সবসময় মানসম্মত পণ্য ব্যবহার করতে হবে। কমদামী পণ্যে বাড়তি শব্দ তৈরি হয়। যা কানের জন্য ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তি যেভাবে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে!

আরও পড়ুন: চোখের ওপর চাপ কমাবেন কীভাবে?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র