Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!

মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

খুব বেশি মানসিক অশান্তি ও চাপে থাকেন সবসময়?

তবে আপনার জন্য রয়েছে বড় ধরণের দুঃসংবাদ! একেবারেই সাম্প্রতিক সময়ে জার্নাল নিউরোলজিতে প্রকাশিত হওয়া একটি গবেষণার ফল থেকে দেখা গেছে, অনেক বেশি মানসিক চাপের মুখে জীবন যাপনের ফলে বয়স ৫০ হতেই স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মগজ ছোট হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যান অ্যানটোনিওর ইউটি হেলথের নিউরোলজির প্রফেসর ও প্রধান গবেষক ডাঃ সুধা শেষার্ধি বলেন, ‘উচ্চমাত্রার স্ট্রেস হরমোন তথা কর্টিসল ব্রেইন ফাংশন, ব্রেইন সাইজ ও  ব্রেইনের পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব ফেলে’।

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা থেকে আমরা দেখেছি, অপেক্ষাকৃত তরুণরাও স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মগজ সংকুচিত হওয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত। অথচ তাদের মাঝে কোন ধরণের লক্ষণ দেখা দেয়নি’।

কেউ যখন মানসিক চাপের মুখে থাকে, তখন অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ড প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি কর্টিসল উৎপাদন ও নিঃসরণ করে। আবার মানসিক চাপের সমস্যা কেটে গেলে কর্টিসলের মাত্রা কমে যায় এবং শরীরের অভ্যান্তরিন সিস্টেম আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

তবে মানসিক চাপ ক্রমাগত বজায় থাকলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়। যা থেকে ডিপ্রেশন, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, ওজন বৃদ্ধি, ঘুমের সমস্যা, স্মৃতিভ্রষ্ট ও মনোযোগ হারানোর মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে শুরু করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/05/1541408466006.jpg

আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশনের সায়েন্টিফিক প্রোগ্রামের ডিরেক্টর কেইথ ফার্গো বলেন, ‘মগজ খুবই ক্ষুদার্ত একটি প্রত্যঙ্গ। ভালোমতো কাজ করার জন্য যার প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেনের সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন হয়। যে কারণে শরীরের যখন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সকল উপাদানের (পুষ্টি ও অক্সিজেন) প্রয়োজন হয়, তখন মগজে প্রয়োজনীয় উপাদানে ঘাটতি দেখা দেয়।

ডিমেনশিয়ার কোন লক্ষণ নেই, এমন ২০০০ মানুষের উপর বিভিন্ন ধরণের সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয় তাদের চিন্তাভাবনা নিয়ে। প্রাথমিক পরীক্ষার প্রায় আট বছর পর তথ্যগুলো বয়স, লিঙ্গ, শরীরের আকার এবং ধূমপানের তথ্য সঙ্গে যাচাই বাছাই শেষে দেখা যায়- যাদের শরীরে উচ্চমাত্রায় কর্টিসল রয়েছে, তাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা রয়েছে।

গবেষণা থেকে অবাক করা মতো আরও যে বিষয়টি দেখা যায়, কর্টিসলের প্রভাবে মগজের আকারও সংকুচিত হয়ে যায় এবং আকারে পরিবর্তন চলে আসে। উচ্চ কর্টিসলযুক্ত মানুষের মগজের সেরেব্রামস তুলনামূলক ছোট হয়। এই অংশটি মূলত চিন্তা, আবেগ ও পেশির কার্যকারিতার কাজ করে থাকে।

স্বাভাবিক মাত্রার কর্টিসলযুক্ত একজন মানুষের ব্রেইন ভলিউম যেখানে ৮৮.৭,  সেখানে উচ্চমাত্রার কর্টিসলযুক্ত মানুষের ব্রেইন ভলিউম পাওয়া যায় ৮৮.৫। আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, কর্টিসলের ফলে ব্রেইন ভলিউমের এই তারতম্যটি শুধুমাত্র নারীদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুরুষদের উপর এর কোন প্রভাব দেখা যায়নি।

কেইথ ফার্গো জানান, শরীরচর্চা ডিমেনশিয়া দেখা দেওয়ার সম্ভবনা কমিয়ে আনে। নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে বেড়াতে যাওয়া, মেডিশন করা ও নিজের পছন্দের কাজ করার পরামর্শও দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ

দইয়ের ড্রেসিংয়ে সবজি ও কুইনোর সালাদ
সবজি ও কুইনোর সালাদ, ছবি: সংগৃহীত

গরমে খাবারে ভীষণ অরুচি দেখা দেয়।

পেটে ক্ষুধাভাব থাকলেও কিছু খেতে ইচ্ছা হয় না। প্রিয় মাছ-মাংসও খেতে রুচি হয় না একদম। গরমে উদর পূর্তিতে সবজি ও ফলের মিশেলে সালাদ হলে সবচেয়ে ভালো হয়। সাথে যদি থাকে কুইনো ও টকদই এর উপস্থিতি, তবে তো কথাই নেই।

গরমে রাতের খাবার হিসেবে পারফেক্ট এই সালাদটি স্বাস্থ্য সচেতনেরাও খেতে পারবেন পেট ভরে। স্বাদু ও স্বাস্থ্যকর সালাদের রেসিপিটিতে চোখ বুলিয়ে নিন।

সবজি ও কুইনোর সালাদ তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368811677.JPG

১. তিনটি ছোট আকৃতির বিট।

২. পাঁচটি ছোট-মাঝারি আকৃতির গাজর।

৩. তিন চা চামচ তেল।

৪. ১/২ কাপ কুইনো।

৫. এক কাপ চিকেন ব্রথ (না থাকলে পানি)

৬. চারটি টমেটো টুকরো করে কাটা।

৭. ১২টি আঙ্গুর।

৮. ১/৪ কাপ আখরোট।

৯. এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া।

১০. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

১১. ১/২ চা চামচ লবণ।

১২. কয়েক টুকরো পনির।

সালাদ ড্রেসিংয়ের জন্য যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368831052.JPG

১. ১/২ কাপ টকদই।

২. দুই টেবিল চামচ অলিভ ওয়েল।

৩. এক চা চামচ জিরা গুঁড়া।

৪. আধা চা চামচ লবণ।

৫. ১/৪ কাপ ফ্রেশ ধনিয়া পাতা কুঁচি।

সবজি ও কুইনোর সালাদ যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561368844826.JPG

১. ওভেন ৪০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় প্রি-হিট করতে দিয়ে বিটগুলো অলিভ অয়েলে মাখিয়ে ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে ৪০ মিনিট চুলায় পুড়িয়ে নিতে হবে। পোড়ানো শেষে ওভেন থেকে বের করে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং চার টুকরা করে বিটগুলো কেটে নিতে হবে।

২. গাজর ছোট টুকরো করে কেটে বেকিং শিটের উপরে বিটের সাথে ছড়িয়ে রাখতে হবে এবং তার উপরে দুই চা চামচ তেল, মশলার গুঁড়া ও লবণ ছিটিয়ে দিতে হবে। এবারে বিট ও গাজর প্রি-হিটেড ওভেনে ২৫ মিনিট বেক করে নিতে হবে।

৩. এর মাঝে কুইনো রেঁধে নিতে হবে। প্রথমে কুইনো ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে পরিমাণমতো ব্রথের পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। ব্রথে লবণ থাকলে আর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। না থাকলে আধা চা চামচ দিতে হবে। কুইনো হয়ে গেলে নামিয়ে নিতে হবে।

৪. এখন সালাদ ড্রেসিং তৈরি করতে হবে। ড্রেসিং তৈরির জন্য একটি পাত্রে দই, তেল, ধনিয়া পাতা, জিরা গুঁড়া ও লবণ একসাথে নিয়ে ভালভাবে হুইস্ক করতে হবে। সকল উপাদান মিশে ঘন পেস্ট তৈরি হলেই সালাদ ড্রেসিং তৈরি হয়ে যাবে।

৫. সবজিগুলো বেক করা হয়ে গেলে ওভেন থেকে বের করে নিতে হবে। এবারে সালাদ পরিবেশনের বড় প্লেট বা ট্রের উপরে প্রথমে কুইনোর স্তর দিতে হবে। তার উপরে রোস্টেড বিট, গাজর ও গাজর, টমেটো টুকরা। তার উপরে পনির ও ড্রেসিং দিয়ে সবশেষে আখরোট ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে একেবারেই হালকা ধাঁচের এই সালাদটি।

আরও পড়ুন: ঘরে তৈরি সবজি সিঙ্গারা

আরও পড়ুন: মটরশুঁটিতে তৈরি ভিন্নমাত্রার মটর-পরোটা

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!

শিশুদের আত্মার খোরাকে সাহিত্য, শিল্পকর্ম ও সংগীত!
গল্পের বইয়ের কল্পিত রাজ্যে শিশুরা খুঁজে পাবে অনাবিল আনন্দ, ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে শিশুদের স্কুল ব্যাগের ওজন বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে।

পাঠ্যবইয়ের ভিড়ে, পড়ালেখার চাপে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয় হয় একদম ছেলেবেলা থেকেই। স্কুল, কোচিং, হোম টিউটর, হোমওয়ার্ক, পড়ালেখার ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের জন্য শিশুদের আলাদা সময় কই!

এভাবেই বেড়ে উঠছে এখনকার সময়ের বেশিরভাগ শিশুরা। গল্প ও কবিতার বই পড়া, গান শোনা, সাহিত্য সম্পর্কে জানা, চিত্রকর্মের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় নেই একদম। সময় স্বল্পতা ও সন্তানদের পড়ালেখার বাড়তি চাপের দরুন অভিভাবকেরাও যেন নিরুপায়। পড়ালেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানোর বিষয়গুলোতে হয়তো তারাও তাই গুরুত্ব দিতে পারেন না।

অথচ একটি শিশুর পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠতে বিশুদ্ধ বাতাস, স্বাস্থ্যকর খাবার ও খেলাধুলা যতখানি প্রয়োজন, ঠিক ততখানি প্রয়োজন গল্প ও কবিতার বই, গান, সাহিত্য ও শিল্পকর্ম। এই বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে অস্ট্রিড লিন্ডগ্রেন মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত ইংলিশ উপন্যাসিক স্যার ফিলিপ পালম্যান জানিয়েছেন, শিশুদের বিকাশের জন্য এই বিষয়গুলোও সমানভাবেই প্রভাব রাখে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357170717.jpg

খুব সহজ ও চমৎকার উদাহরণের সাহায্যে তিনি এই বিষয়টি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন। পালম্যান বলছেন, ‘আপনি যদি আপনার সন্তানকে খাবার ঠিকমতো না দেন, তবে তার প্রভাব খুব দ্রুত দেখা দেবে। যা হবে দৃশ্যমান। এদিকে আপনি যদি তাকে বিশুদ্ধ বাতাস ও উন্মুক্ত স্থানে খেলতে না দেন, তার ক্ষতিটাও হবে দৃশ্যমান। তবে সেটা চট করে ধরা যাবে না। ঠিক একইভাবে শিশুদের যদি ভালোবাসা ও স্নেহ না দেওয়া হয়, তার প্রভাব কয়েক বছরের মধ্যে দেখা না দিলেও, একটা সময়ে ঠিকই দেখা দেবে। যা একেবারে স্থায়ী।’

‘কিন্তু শিশুদের যদি সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্মের সাথে পরিচিত না করানো হয়, তার ক্ষতিটা সহজে বোঝা যাবে না। কিন্তু খুব গভীরে সে ক্ষতিটা রয়ে যাবে। এই সকল বিষয়ের সাথে পরিচিত না হওয়া শিশুরাও সুস্থ শরীরে বেড়ে উঠবে, ঘুমাবে, দৌড়ঝাঁপ করবে, দুষ্টামি করবে আর দশটি সাধারণ শিশুর মতোই। কিন্তু খুব গভীরে সেই শিশুটির মাঝে কিছু একটার অভাব থেকেই যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561357191115.jpg

এই কিছু একটার অভাব হলো নিজ সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কের অভাব, তার সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠার অভাব, তাকে আপন করে নেওয়ার জন্য ভালোবাসার অভাব।

নিজ সংস্কৃতির চাইতে ভালোবাসার ও প্রিয় আর কিছু হতেই পারে না। সেই সংস্কৃতির সাথে ছেলেবেলা থেকে পরিচিতি না ঘটলে তার অভাবতি সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।

বড় হওয়ার পর বা প্রাপ্তবয়স্ক হলে সংস্কৃতির নানান শাখার সাথে নিজ থেকে পরিচিতি ঘটবে। কিন্তু হুট করে এমন বিস্তৃত একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত হওয়া ও ছোট থেকে সেটা জেনে ও বুঝে বড় হওয়ার মাঝে তফাৎ থেকেই যায়।

সংগীত, সাহিত্য, শিল্পকর্ম শুধুই সংস্কৃতির সাথে পরিচয় ঘটায় না, আত্মাকেও শুদ্ধ করে, আত্মার খোরাক যোগায়।

প্রতিটি বাবা-মা চান তার সন্তানকে পরিপূর্ণভাবে বড় করে তুলতে, জ্ঞানে ও বিদ্যায়। সেক্ষেত্রে শুধু পাঠ্যবইয়ের মাঝে শিশুদের আবদ্ধ না রেখে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে বর্ণীল এই জগতের। যেখানে ভালোলাগা ও জ্ঞানের চর্চা থাকে সমান্তরালে।

আরও পড়ুন: শিশুদের জন্য খেলাধুলা কেন প্রয়োজন?

আরও পড়ুন: বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়াতে পারে সন্তানের ওজন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র