Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!

মানসিক চাপে সংকুচিত হয় নারীদের মগজ!
ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

খুব বেশি মানসিক অশান্তি ও চাপে থাকেন সবসময়?

তবে আপনার জন্য রয়েছে বড় ধরণের দুঃসংবাদ! একেবারেই সাম্প্রতিক সময়ে জার্নাল নিউরোলজিতে প্রকাশিত হওয়া একটি গবেষণার ফল থেকে দেখা গেছে, অনেক বেশি মানসিক চাপের মুখে জীবন যাপনের ফলে বয়স ৫০ হতেই স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মগজ ছোট হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্যান অ্যানটোনিওর ইউটি হেলথের নিউরোলজির প্রফেসর ও প্রধান গবেষক ডাঃ সুধা শেষার্ধি বলেন, ‘উচ্চমাত্রার স্ট্রেস হরমোন তথা কর্টিসল ব্রেইন ফাংশন, ব্রেইন সাইজ ও  ব্রেইনের পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব ফেলে’।

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা থেকে আমরা দেখেছি, অপেক্ষাকৃত তরুণরাও স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মগজ সংকুচিত হওয়ার মতো সমস্যায় আক্রান্ত। অথচ তাদের মাঝে কোন ধরণের লক্ষণ দেখা দেয়নি’।

কেউ যখন মানসিক চাপের মুখে থাকে, তখন অ্যাড্রেনাল গ্ল্যান্ড প্রয়োজনের চাইতে অনেক বেশি কর্টিসল উৎপাদন ও নিঃসরণ করে। আবার মানসিক চাপের সমস্যা কেটে গেলে কর্টিসলের মাত্রা কমে যায় এবং শরীরের অভ্যান্তরিন সিস্টেম আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

তবে মানসিক চাপ ক্রমাগত বজায় থাকলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ব্যাহত হয়। যা থেকে ডিপ্রেশন, হৃদরোগ, মাথাব্যথা, ওজন বৃদ্ধি, ঘুমের সমস্যা, স্মৃতিভ্রষ্ট ও মনোযোগ হারানোর মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে শুরু করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/05/1541408466006.jpg

আলঝেইমার অ্যাসোসিয়েশনের সায়েন্টিফিক প্রোগ্রামের ডিরেক্টর কেইথ ফার্গো বলেন, ‘মগজ খুবই ক্ষুদার্ত একটি প্রত্যঙ্গ। ভালোমতো কাজ করার জন্য যার প্রতিনিয়ত পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টি উপাদান ও অক্সিজেনের সাপ্লাইয়ের প্রয়োজন হয়। যে কারণে শরীরের যখন মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সকল উপাদানের (পুষ্টি ও অক্সিজেন) প্রয়োজন হয়, তখন মগজে প্রয়োজনীয় উপাদানে ঘাটতি দেখা দেয়।

ডিমেনশিয়ার কোন লক্ষণ নেই, এমন ২০০০ মানুষের উপর বিভিন্ন ধরণের সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা চালানো হয় তাদের চিন্তাভাবনা নিয়ে। প্রাথমিক পরীক্ষার প্রায় আট বছর পর তথ্যগুলো বয়স, লিঙ্গ, শরীরের আকার এবং ধূমপানের তথ্য সঙ্গে যাচাই বাছাই শেষে দেখা যায়- যাদের শরীরে উচ্চমাত্রায় কর্টিসল রয়েছে, তাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা রয়েছে।

গবেষণা থেকে অবাক করা মতো আরও যে বিষয়টি দেখা যায়, কর্টিসলের প্রভাবে মগজের আকারও সংকুচিত হয়ে যায় এবং আকারে পরিবর্তন চলে আসে। উচ্চ কর্টিসলযুক্ত মানুষের মগজের সেরেব্রামস তুলনামূলক ছোট হয়। এই অংশটি মূলত চিন্তা, আবেগ ও পেশির কার্যকারিতার কাজ করে থাকে।

স্বাভাবিক মাত্রার কর্টিসলযুক্ত একজন মানুষের ব্রেইন ভলিউম যেখানে ৮৮.৭,  সেখানে উচ্চমাত্রার কর্টিসলযুক্ত মানুষের ব্রেইন ভলিউম পাওয়া যায় ৮৮.৫। আরও অবাক করার মতো তথ্য হলো, কর্টিসলের ফলে ব্রেইন ভলিউমের এই তারতম্যটি শুধুমাত্র নারীদের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পুরুষদের উপর এর কোন প্রভাব দেখা যায়নি।

কেইথ ফার্গো জানান, শরীরচর্চা ডিমেনশিয়া দেখা দেওয়ার সম্ভবনা কমিয়ে আনে। নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখতে বেড়াতে যাওয়া, মেডিশন করা ও নিজের পছন্দের কাজ করার পরামর্শও দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি

ঠোঁটের সৌন্দর্যে দারুচিনি
ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের পরিচর্যা ও যত্নের পাশপাশি ঠোঁটের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন যেমন  ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, ঠিক তেমনভাবে অযত্নে ঠোঁটে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। তবে আজকের ফিচারটি মূলত ঠোঁটের যত্ন নিয়ে নয়, প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহারে কীভাবে ঠোঁটকে আকর্ষণীয় দেখানো যাবে সেটাই জানানো হয়েছে।

প্রাকৃতিক উপাদানের মাঝে দারুচিনি ঠোঁটকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। প্রাকৃতিক এই উপাদানে থাকে ক্যাসিয়া অয়েল (Cassia Oil), যা একধরণের প্রশান্তিদায়ক এবং ত্বকের জন্য নিরাপদ উপাদান। তবে এটা ব্যবহারে ঠোঁটের রক্ত চলাচলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে ঠোঁট উজ্জ্বল, লালচে ও ফোলা দেখায়।

তাই দারুচিনিকে সবচেয়ে নিরাপদ, সহজলভ্য, সস্তা ও প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ধরা হয় ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান হিসেবে। জেনে নিন দারুচিনি ব্যবহারে ঠোঁটের সৌন্দর্যবর্ধনে তিনটি ভিন্ন লিপ স্ক্রাব তৈরির প্রক্রিয়া।

দারুচিনি ও চিনির লিপ স্ক্রাব

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক টেবিল চামচ দারুচিনি পাউডার, এক টেবিল চামচ চিনি, এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেল। এই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে চিনি যেন সম্পূর্ণ গলে না যায়। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে এই স্ক্রাব ঠোঁটে ম্যাসাজ করে পাঁচ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর পানিতে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

দারুচিনি ও আদার লিপ স্ক্রাব

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566463547394.JPG

এই লিপ স্ক্রাবটি তৈরিতে প্রয়োজন হবে এক-তৃতীয়াংশ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, এক-তৃতীয়াংশ আদা গুঁড়া, এক ফোঁটা পিপারমিন্ট এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ আমন্ড অয়েল। সকল উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্ট ঠোঁটে পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে মিনিটখানেক রেখে দিয়ে এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে।

দারুচিনি ও মধুর লিপ স্ক্রাব

এতে প্রয়োজন হবে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া, আধা চা চামচ মধু ও আধা চা চামচ অলিভ অয়েল। উপাদান তিনটি একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে দশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে ঠোঁট ধুয়ে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: যেমন হওয়া প্রয়োজন স্পর্শকাতর ত্বকের যত্ন

আরও পড়ুন: ত্বকের তিন যত্নে টমেটোর রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস

পাঁচ কারণে পান করুন আঙুরের রস
আঙুরের রস

মৌসুমি ফলগুলো বছরের শুধু নির্দিষ্ট একটি সময়েই পাওয়া যায়।

সেদিক থেকে আঙুর প্রাধান্য পাবে অনেক বেশি। পুরো বছর জুড়ে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু খেতেই সুমিষ্ট ও সুস্বাদু নয়, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকের জন্যেও চমৎকার উপকারিতা বহন করে।

গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা যায়, আঙুর থেকে পাওয়া যাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও। সেদিক থেকে আঙুরের রসকে বলা যেতে পারে আধুনিক সময়ের ডিটক্স ড্রিংক।

প্রায় ৬০০০ বছর আগে থেকেই আঙুর তার ঔষধি গুণাগুণের জন্য পরিচিত। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় মিশরিয়দের। তারাই প্রথম আঙুর, আঙুরের রস, আঙুরের মদ ও তার গুণাগুণের সাথে পরিচিত করায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455706012.jpg

আঙুরের রসের উপকারিতাগুলো কী?

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান সমৃদ্ধ আঙুরের রস হাইপারটেনশন ও চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্লথ করে দেয়। এমনতর আরও বহু উপকারিতা রয়েছে এই ফলের রসে, যার মাঝে প্রধান কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

দূরে রাখে হৃদরোগ

শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুরে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এছাড়া রয়েছে কোয়েরসেটিন, প্রোসায়ানাইডস, ট্যানিন ও স্যাপনিনসের মতো ফাইটোকেমিক্যালস। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে থেরাপিউটিক প্রক্রায়ার মতো কাজ করে বলে জানাচ্ছে বেশ কিছু গবেষণা।

বিশেষ করে লাল আঙুর রক্তের ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর মাত্রা বৃদ্ধিতে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা হ্রাস করতে কাজ করে। এতে করে খুব সহজেই হৃদযন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি হারানোর প্রক্রিয়া স্লথ করে

আঙুরের রসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান নিউরনাল সিগন্যালে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে কাজ করে। নিয়মিত আঙুরের রস পানে ডিমেনশিয়ার সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনাকে হ্রাস করে। রেসভারট্রল এর মতো অ্যাকতিভ পলিফেনল মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং নতুন তথ্য শেখা, মুড ভালো করা ও স্মৃতিশক্তিকে প্রখর করায় সাহায্য করে।

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করে

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হলো ডায়বেটিস দেখা দেওয়ার অন্যতম বড় একটি কারণ। পরিমিত মাত্রায় আঙুরের রস পানে ইনস্যুলিন রেসিস্ট্যান্সের মাত্রা হ্রাস করে। এতে থাকা ফ্ল্যাভনোলস, রেসভেরাট্রল ও ফেনলিক অ্যাসিড হলো প্রধান অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566455724535.JPG

এতে রয়েছে অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান

লাল আঙুরের রস ডিএনএর ক্ষতির মাত্রা কমাতে কাজ করে, যা থেকে ক্যানসার দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরিয়াতে হওয়া একটি গবেষণা থেকে দেখা গেছে, নিয়মিত লাল আঙুরের রস মানে ডিএনএর অক্সিডেটিভ ড্যামেজের মাত্রা কমে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

শুধু তাই নয়,  আঙুরের ফাইটোকেমিক্যালস কোলন ক্যানসারের কোষ ধ্বংসে কাজ করে। কেমোথেরাপি চলাকালীন সময়ে ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ আঙুরের রস কেমোর সাইড ইফেক্ট তথা- বমিভাব, মাথাঘোরানো কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ রাখে পাকস্থলী

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে আঙুরের রস যোগ করার ফলে পাকস্থলীর মাইক্রোবিয়াল পরিবেশ পরিবর্তন করে দেয়। আঙুরের রসের পলিফেলনস প্যাথোযেনস, অক্সিডেন্টিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে পাকস্থলিকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা আঁশ খাদ্য পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন: মৌসুমি ফল জামের সাত উপকারিতা

আরও পড়ুন: আট উপকারিতার আতা ফল

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র