Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সাজ-পোশাকে দ্যুতি ছড়াচ্ছে ‘দেবী’

সাজ-পোশাকে দ্যুতি ছড়াচ্ছে ‘দেবী’
'দেবী'ময় পোশাক ও গহনা।
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তি পাওয়া দেবী- মিসির আলী প্রথমবার কিংবা দেবী সিনেমা জ্বরে ভুগছে সকলে। সেই জ্বরের উত্তাপ ছড়িয়েছে নারীদের সাজ পোশাকেও। ব্লাউজ, কামিজ, ওড়না, আংটি, মালা কিংবা কপালের মায়াময় টিপেও দেখা মিলেছে ‘দেবী’র। ‘হুমায়ূন আহমেদ’ ও ‘মিসির আলী’ নামগুলোর সঙ্গে প্রবল ভালোবাসা, আবেগ ও স্মৃতিকাতরতাকে অগ্রাহ্য করা সম্ভব হয়নি অনেকের পক্ষেই। আর তাইতো হাতে তুলে নিয়েছেন কাঠ, কাপড়, রং ও তুলি। ভালোবেসে প্রকাশ করেছেন ‘দেবী’ কে।

সিনেমাটির ‘দেবী’ শব্দটাই যেন এক অনন্য মাদকতাময় শিল্পকর্ম। সেই দেবীকে জড়িয়ে গড়ে ওঠা আরও মনোমুগ্ধকর সকল শিল্পকর্ম ও তার পেছনে কাজ করা মানুষদের অনুভূতিকে নিয়েই আজকের গল্প।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540976866221.jpg
ছবি: ত্রিনিত্রি'র তৈরি দেবী মালা।

 

প্রথমেই কথা হয় অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ত্রিনিত্রি’র প্রতিষ্ঠাতা অন্বেষা দত্তের সঙ্গে। দেবী থিমের উপর তৈরি করেছেন দেবী মালা। কাঠের বৃত্তাকার বেইসের উপরে কাঠের তৈরি দেবী লেখা বসিয়ে এনেছেন থ্রি ডাইমেনশনাল ইফেক্ট। ছিমছাম কিন্তু নয়নাভিরাম এই মালাটি নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, ‘ছোটবেলায় পড়া প্রিয় গল্পটার চরিত্রগুলাকে পর্দায় দেখবো, এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছিল। জয়া আহসান খুবই প্রিয় অভিনেত্রী, ব্যক্তিত্ব। সঙ্গে দেবী ছবির অন্যান্যরাও খুব প্রিয় মুখ। দেবী মালা করে সেটার ছবি প্রথমেই দেবীর অফিশিয়াল পেইজে পাঠাই। ওরা উৎসাহ দেওয়ার পরই পেইজে দেওয়া। পেইজে দেওয়ার পর সবার কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাই। যারা মালাটি নিয়েছেন সবাই দেবী সিনেমা দেখতে গিয়েছেন মালা পরে। খুবই অনুপ্রেরণা পেয়েছি কাজটি করে। মনে হচ্ছিল আমিও দেবী টিমেরই অংশ। দেবী মালা পরে আমিও দেবীদর্শন করে এসেছি। সব মিলিয়ে অসাধারণ অনুভূতি ছিল’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540981401277.jpg
ছবি: সারথী আর্ট ও ক্রাফটসের তৈরি দেবী আংটি।

 

ত্রিনিত্রি যেমন দেবী মালা নিয়ে কাজ করেছে, তেমনভাবেই হাতের শোভা বাড়াতে দেবী আংটি নিয়ে কাজ করেছে ‘সারথী আর্ট এন্ড ক্রাফটস’। সারথীর পেছনে কাজ করছেন সাদাত আহমেদ, এ্যাথিনা অরোরা তীর্থ ও রাকেশ সাহা। কিশোরবেলা থেকেই তারা হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত। এ্যাথিনা অরোরা তীর্থর সঙ্গে আলাপচারিতার সময় জানালেন, হিমুকে নিয়ে এর আগে কাজ হলেও, পর্দায় মিসির আলী এই প্রথমবার আসছে। তাও আবার দেবীর বদৌলতে। যেটা নিয়ে খুব আনন্দিত ছিলেন সকলেই। সেই ভালোলাগা থেকেই দেবী থিমে আংটি ও পেন্ডেন্টের কাজ করা। তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারথীতে দেবী থিমের শাড়ি নিয়েও কাজ চলছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540981458420.jpg
ছবি: সারথী আর্ট ও ক্রাফটসের তৈরি দেবী পেন্ডেন্ট।

 

আংটি কিংবা গলার মালার মতোই ভিন্ন আবেদন ও আমেজ থাকে টিপের মাঝেও। অবশ্যই, দেবীর জন্য ভালোবাসায় সেই আবেদনে কমতি পরেনি। ক্ষুদ্রতম এই ক্যানভাসকে বহু আগেই আপন করে নিয়েছেন সুপরিচিত অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘গীতিকা’র রুবানা করিম। বড় হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদের অনবদ্য সকল উপন্যস পড়ে। যে কারণে তার সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসাটা অন্যরকম। তবে বিশেষ ভালোবাসা ছিল ‘দেবী’ উপন্যাসকে ঘিরে। সেই ভালোবাসা প্রকাশের চমৎকার প্রয়াস ছিল রুবানার হাতে আঁকা দেবী টিপ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540977025625.jpg
ছবি: গীতিকার তৈরি দেবী টিপ।

 

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম- গহনা কিংবা কাপড়ে দেবীকে প্রকাশ না করে, কেন টিপে দেবীকে নিয়ে আসা? উত্তরে রুবানা বলেন, ‘আমি চাইলে মালা, হাতের রিং, ব্লাউজের পিসে এই কাজটা করতে পারতাম। কিন্তু আমার সব থেকে বেশি ভালো লাগে টিপের উপর আঁকতে। চাইলেই বড় কোন ক্যানভাসে খুব সহজেই দেবীকে উপস্থাপন করা যায়। কিন্তু টিপ ছোট বলে উপস্থাপন করা একটু কঠিন। যেহেতু দেবীর প্রতি ভালোবাসাটা একটু বেশি তাই কষ্টসাধ্য কাজটাই বেছে নিলাম’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540976980394.jpg
ছবি: গুটিপোকার দেবী ব্লাউজ। 

 

সাজের অনুষঙ্গ গহনা ও টিপ নিয়ে তো কথা হলো, এবার তবে কাপড়ে করা দেবীর কাজকে নিয়ে কথা বলা যাক। জবাফুল জড়ানো দেবী লেখাটার মোহে পড়েই, দেবী ব্লাউজ বানিয়ে ফেলেছেন ‘গুটিপোকা’র আফসানা সুমী। তার ইচ্ছা ছিল দেবী জামা পরে তবেই যাবেন দেবী সিনেমা দেখতে। এরপর বন্ধুর পরামর্শে জামা না বানিয়ে, বানিয়ে ফেললেন দেবী ব্লাউজ। সুতি ও লিলেন দুই ধরণের তন্তুর উপরেই কাজ করেছেন দেবী ব্লাউজ নিয়ে। সুমী জানালেন, প্রথমদিকে হ্যান্ড পেইন্টে দেবী ব্লাউজ আনা হলেও, ক্রেতাদের প্রবল আগ্রহ ও চাহিদার ভিত্তিতে বর্তমানে স্ক্রিন প্রিন্টে পাওয়া যাচ্ছে চমৎকার এই ব্লাউজ পিসটি।

এদিকে দেবীর প্রতি ভালোবাসাকে বিস্তৃত আকারে প্রকাশ করেছেন অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অন ক্লাউড নাইন এন্ড হাফ’ এর প্রতিষ্ঠাতা আফরিন আহমেদ। একাধারে ব্লাউজ, কামিজ, ওড়না ও টিপে তুলে ধরেছেন দেবীকে। নিজের প্রতিষ্ঠানটির একেবারেই ব্যতিক্রমী নামের বিষয়ে জানতে চাইলে আফরিন জানালেন, ‘On Cloud Nine আমেরিকানদের একটা বহুল প্রচলিত বাগধারা। এর অর্থ অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আরো এক ধাপ ওপরে। নাইনের ওপর আরো অর্ধেক। খুশির ওপর মহাখুশি। মানে ON CLOUD NINE AND HALF. ক্রাফট, সৃজনশীলতা এইসব আমার জীবনের আনন্দের অন্যতম অধ্যায়। সে বাগধারা থেকেই আমার স্বামী নামটা দিয়েছেন’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540977102884.jpg
ছবি: অন ক্লাউড নাইন এন্ড ইলেভেন এর দেবী কামিজ।

 

আমেরিকা থেকে গহনা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে গহনা বানানো শুরু করেছেন আফরিন। এরপর ব্লাউজ পিসে হাতে আঁকা শুরু করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সেখানে থেকেই সাহস করে ব্লাউজে দেবীকে নিয়ে আসা। তবে শুধু দেবী লেখাটাই তুলির আঁচড়ে প্রকাশ করেননি তিনি। ক্রেতার চাহিদা ও নিজের কল্পনাকে মিশিয়ে তৈরি করেছেন ভিন্ন এক আমেজ। নিজের কাজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত আফরিন বলেন, ‘আঁকাআঁকির পুরো ব্যাপারটা চরিত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিলো। যেন তারা তাদের ইচ্ছানুযায়ী আমাকে দিয়ে নিজেদের আঁকিয়ে নিচ্ছিল। আমি কেবল উপন্যাসের আড়ালের একজন। রঙ-তুলি হাতে নিয়ে চরিত্রগুলোর ফরমায়েশ মত তাদের এঁকে যাচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে এমন হল, আমি ভোর ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে রঙতুলি হাতে নিই। আমার মনে হচ্ছিল, তারা আমাকে ডাকছে বাকি কাজটুকু শেষ করার জন্য। এ এমন এক অনুভূতি যা কেবল অনুভব করা যায়, বর্ণনা করা যায় না! এভাবেই হয়ে গেল দেবী কামিজ আর ওড়না। সম্পূর্ণ আমার ডিজাইনে, আমার চিন্তায়, চরিত্রগুলোর ফরমায়েশিতে’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Oct/31/1540977157498.jpg
ছবি: অন ক্লাউড নাইন এন্ড ইলেভেন এর দেবী টিপ ও অন্যান্য।

 

মিনিয়েচার ও অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্টের ভক্ত আফরিনের জন্য টিপেও দেবীকে ফুটিয়ে তুলতে খুব একটা সময় লাগেনি। এভাবেই নিজের চারপাশের সকল কাজের মাধ্যমে দেবীকে একে একে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

ভালোবাসার বিষয়ে বড্ড আবেগপ্রবণ আমরা সকলেই। সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ‘দেবী’ উঠে এসেছে সকলের সৃজনশীলতায়, অনন্য কাজের ধারায়। নিখুঁত মমতায় নিজ হাতে করা কাজগুলো পূর্ণতা পেয়েছে স্বকীয়তায়। শুধু কি তাই! ভালোবাসায় গড়া দেবী থিমের কাজগুলো ভালোবাসা কুড়িয়েছে ক্রেতাদের কাছ থেকেও। মমতায় সিক্ত দেবী নিজস্ব আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে তার স্বরূপ প্রকাশ করছে সকলের মাঝে, সাজ ও পোশাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!

যেভাবে মশা দূরে থাকবে আপনার কাছ থেকে!
নিয়ম জেনে রাখলে মশাকে দূরে রাখা সম্ভব হবে সহজেই, ছবি: সংগৃহীত

বেড়েছে মশার প্রকোপ, সাথে বেড়েছে ভয়ানক ডেঙ্গুর প্রতাপ।

প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে উঠছে সবার মাঝে। মশা যেন বাড়িঘরে ও তার আশেপাশে জমে থাকা পানিতে জন্মাতে ও বৃদ্ধি পেতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন সবাই।

সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পরেও কিন্তু ফাঁক থেকেই যায়। নিজের বাড়িঘরকে নাহয় মশামুক্ত করলেন, কিন্তু বাইরে যেখানেই যান না কেন সেখানেও কি বাড়ির মতো নিরাপদে থাকা যাবে? নিজে ক্লাসে, অফিসে কিংবা বেড়াতে গেলে, অথবা সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে কতটুকু নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন মশার আতঙ্ক থেকে? প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

সেক্ষেত্রে বাড়িঘর ও চারপাশকে মশামুক্ত করার মতো নিজেকেও মশা থেকে দূরে রাখতে, কিছু  অতি জরুরী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এমন কয়েকটি সহজ নিয়ম জেনে রাখুন।

মশা দূরে রাখার ক্রিম

মসকুইটো রিপ্যালেন্ট ক্রিম পাওয়া যাবে যেকোন ওষুধের দোকানেই। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত মশা দূরে রাখার ক্রিম হলো ওডোমস। ১২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মাঝে বিভিন্ন ধরনের ওডোমস পাওয়া যাবে। ব্যবহারের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে ফাটা ত্বকে এই ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না এবং প্রয়োজন না হলে ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।

ল্যাভেন্ডার বডি ওয়েল ও স্প্রে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563455085164.JPG

ল্যাভেন্ডারের সুঘ্রাণ আপনার যতই প্রিয় হোক না কেন, মশা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এই এসেনশিয়াল ওয়েল ব্যবহারে খুব সুন্দর বডি স্প্রেও তৈরি করে নেওয়া যাবে। কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম যদি ত্বকে সমস্যা তৈরি করে, তবে ল্যাভেন্ডার ওয়েল ব্যবহার হবে সবচেয়ে ভালো উপায়।

পুদিনা পাতা অথবা রসুন ব্যবহার

পুদিনা পাতার মিষ্টি গন্ধ কিংবা রসুন ঝাঁঝালো গন্ধ- কোনটাই মশা সহ্য করতে পারে না। মশা দূরে রাখার ক্রিম কিংবা ল্যাভেন্ডার ওয়েল হাতের কাছে না থাকলে এই প্রাকৃতিক উপাদান দুইটি ব্যবহারেই ভরসা। শরীরের উন্মুক্ত স্থানে কয়েকটি পুদিনা পাতা চটকে অথবা রসুন রস অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এতেই দূরে থাকবে মশা।

পোশাক নির্বাচনে সতর্কতা

একটা ভুল ধারণা রয়েছে আমাদের মাঝে। শরীরের যত বেশি অংশ ঢেকে রাখা যাবে তত বেশি মশা দূরে থাকবে, এই ভাবনা থেকে টাইট ফিটিং পোশাক পরা হয় সবচেয়ে বেশি। অথচ টাইট ফিটিং পোশাক পরার দরুন মশার জন্য কামড়ানো বরং সুবিধাজনক হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ত্বক ঢেকে রাখার জন্য ঢোলা ঘরানার পোশাক পড়তে হবে। একইসাথে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যথাসম্ভব গাড় পোশাক এড়িয়ে হালকা রঙয়ের পোশাক নির্বাচনের বিষয়ে। গাড় রঙ মশাকে আকৃষ্ট করে বেশি।

সুগন্ধির ব্যবহার

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563455060791.JPG

বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পারফিউম বা সুগন্ধির ব্যবহার মশাকে দূরে রাখতে কার্যকরি। সেক্ষেত্রে সুগন্ধিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালযুক্ত উপাদান মসকুইটো রিপ্যালেন্ট হিসেবে কাজ করে।

লেবুর শরবত পান

খেয়াল করে দেখবেন, মশা লেবুর গন্ধ একেবারেই সহ্য করতে পারে না। লেবুর সাইট্রিক ধর্ম মশাকে দূরে রাখতে কাজ করে। সেক্ষেত্রে লেবু সবসময় সাথে নিয়ে ঘোরা যেহেতু সম্ভব নয়, তাই সাথে বোতল ভর্তি লেবুর রস মিশ্রিত পানি বা লেবুর শরবত রাখুন। প্রতি ঘন্টায় কয়েক চুমুক লেবুর শরবত পান মশাকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: শারীরিক সুস্থতা পেতে গড়ুন ১০ অভ্যাস

আরও পড়ুন: যে ৬ সময়ে হাত পরিষ্কার করা অপরিহার্য

ভালো হয়নি পরীক্ষার ফল!

ভালো হয়নি পরীক্ষার ফল!
আশানুরূপ ফল না হলে ভেঙে পড়া যাবে না, ছবি: সুমন শেখ

পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল, সিজিপিএ- এই শব্দগুলো সবসময়ই মনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

প্রস্তুতি যতই ভালো থাকুক না কেন, ঠিকই মনের মধ্যে খুঁতখুঁত করে, অশান্তি বোধ হয়। ব্যাপারটাই এমন অশান্তিদায়ক যে!

কিন্তু যতই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, নিয়মমাফিক ঠিক সময়ে পরীক্ষাও হবে, পরীক্ষার ফলাফলও বের হবে। নিজেকে শুধু পরীক্ষার জন্যে নয়, ফলাফল গ্রহণের জন্যেও প্রস্তুত করা প্রয়োজন। বলা যেতে পারে, এটাও পড়ালেখা ও পরীক্ষার মতো অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়।

ভালো ফলাফল সবার কাম্য হলেও ব্যতিক্রম ঘটনাও থাকে। আশানুরূপ ফল যতটা ভালোলাগা ও আনন্দ নিয়ে আসে, আশানুরূপ ফল না হলে তার চেয়ে বেশি হতাশা ও মনঃকষ্ট তৈরি করে। কিন্তু সবার আগে একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, এই ফলাফলেই সবকিছু থেমে যাবে না।

ফলাফল যদি আশানুরূপ না হয় সেক্ষেত্রে ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাজে সময়টাতে কিছু ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন ভবিষ্যৎ সময়ে উঠে দাঁড়ানোর জন্য।

নিজেকে শান্ত রাখা

ফলাফল যেমনই বা যতটাই খারাপ হোক না কেন, নিজেকে শান্ত রাখতে হবে অবশ্যই। স্বাভাবিকভাবে এ সময়ে একসাথে অনেক ধরনের অনুভূতি কাজ করবে, অশান্তি ও অস্থিরতা চরমে থাকবে। কিন্তু কোন কিছুই তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই ফলাফল গ্রহণের পর নিজেকে শান্ত রাখাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের মতো কাজ।

অন্যের ফলের সাথে তুলনা থেকে বিরত থাকা

ভুলেও এই কাজটি করা যাবে না। অন্ততপক্ষে ফলাফল গ্রহণের পর থেকে বেশ কিছুদিনের জন্য। এতে করে শুধু মানসিক চাপই বৃদ্ধি পাবে। সহপাঠীদের সাথে ফলাফল তুলনা ও বিশ্লেষণ করা খুবই সাধারণ একটি কাজ। কিন্তু নিজের মনমতো ফলাফল না হলে সেক্ষেত্রে এ কাজটি থেকে বিরত থাকাই ভালো হবে।

কারো সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করা

পরীক্ষা, পরীক্ষার ফলাফল, নিজের প্রত্যাশা- সবকিছু নিয়ে খোলাখুলিভাবে কারোর সাথে আলোচনা করতে পারলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। সেটা হতে পারে সহপাঠী, বন্ধু, বড় ভাই-বোন অথবা পরিবারের কেউ। তবে এমন কারো সাথে আলোচনা করতে হবে, যে অহেতুক ব্যঙ্গ না করে আপনার মানসিক অবস্থা বুঝে আপনাকে ভালো ও কার্যকর পরামর্শ দিতে পারবে।

নিজেকে নিজের সময় দেওয়া

ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে বিষাদগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ সময়ে যদি কারোর সঙ্গ ভালো না লাগে তবে একেবারে নিজের মতো করে সময় কাটালে উপকার হবে। প্রয়োজনে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকেও সাময়িক সময়ের জন্য দূরে থাকতে হবে। একান্তে নিজের মতো কিছু সময় কাটাতে পারলে নিজের সার্বিক পরিস্থিতি ভালোভাবে বোঝা যাবে।

পরবর্তী করণীয় নিয়ে পরিকল্পনা

একান্তে নিজের মতো সময় কাটানোর মাঝে মনের মাঝে ছক কেটে ফেলা যায় কি করা যেতে পারে পরবর্তী সময়ে। কারণ এই ফলাফলেই সবকিছুর শেষ নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হবে বড় ধরনের যুদ্ধ ও প্রস্ততি।

বাবা-মায়ের সাথে আলোচনা করা

অপ্রত্যাশিত ফলাফলে শুধু নিজের নয়, সাথে বাবা-মায়েরও মন খারাপ হয়। তাদের সাথে সরাসরি এ বিষয় নিয়ে কথা বললে, আলোচনা করলে ইতিবাচক কোন দিক পাওয়া যাবে। অবশ্যই তাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি। তাই তাদের পরামর্শ গ্রহণ করলেও উপকার পাওয়া যাবে।

তবে সব কিছুর শেষে একটা বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, নিজেকে শক্ত রাখতে পারলেই উত্তরণ করা যাবে এই পরিস্থিতি থেকে।

আরও পড়ুন: মন ভালো হবে মুহূর্তেই!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র