Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

আনার: প্রতি দানায় সুস্বাস্থ্য

আনার: প্রতি দানায় সুস্বাস্থ্য
আনার। ছবি: সংগৃহীত
ফাওজিয়া ফারহাত অনীকা
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
লাইফস্টাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

বিভিন্ন ধরণের ফলের ভেতর অন্যতম স্বাস্থ্যকর ফল হলো আনার।

যা ডালিম নামেও সুপরিচিত। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-টিউমার উপাদানের জন্য আনারের স্বাস্থ্যগুণ অনন্য। এছাড়া উপকারি ভিটামিনের প্রাচুর্য এই ফলটির গুণাগুণকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো বেশি।

তুলনামূলকভাবে আনারের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এই ফলটিকে এড়িয়ে যান। ফলে শরীরে বেশ কিছু ঘাটতি থেকেই যায়। জেনে নিন আনারের চমৎকার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।  

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

আনারে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-সি ও প্রদাহ-বিরোধী উপাদান। যা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া নিয়মিত স্বল্প পরিমাণে আনার খাওয়ার ফলে মৌসুমি ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।

খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে

কমবেশি সকলেই নিশ্চয়য় জানেন, আঁশযুক্ত খাবার খাদ্য পরিপাকে সহায়ক। এই আঁশ পয়াওয়া যায় বিভিন্ন ধরণের ফল ও সবজী থেকে। ফলের ভেতর আনার আঁশযুক্ত ফল হিসেবে বিশেষ পরিচিত। একটি মাঝারি সাইজের আনারে থাকে প্রায় ৪৫ শতাংশ আঁশ!

রক্তচাপ কমায় ও নিয়ন্ত্রণে রাখে

আনারে থাকা পিউনিসিক অ্যাসিড (Punicic Acid) হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা রক্তের কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। খুব স্বাভাবিকভাবে রক্তে এই দুইটি উপাদান নিয়ন্ত্রণে থাকার ফলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Sep/11/1536666306959.jpeg

ক্যান্সারের প্রকোপ কমায়

গবেষকেরা সুপারিশ করেন, নিয়মিত ২৫০ গ্রাম পরিমাণ আনারের রস পানের ফলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের বৃদ্ধি বন্ধ করা সম্ভব। পাশাপাশি আনারে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ ক্যান্সার কোষ তৈরিতে বাধা দান করে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

এক গবেষণা থেকে জানা যায়, স্মৃতিশক্তির সমস্যা থাকা কয়েকজনকে প্রতিদিন ২৩৭ মি.লি আনারের রস দেওয়া হয়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর দেখা যায়, তাদের স্মৃতিশক্তিতে পূর্বের তুলনায় অনেকখানি উন্নতি দেখা দিয়েছে।

সুস্থ রাখে দাঁত

দাঁত ও দাঁতের মাড়ির সুস্বাস্থ্যের জন্য নিশ্চয় প্রতিদিন মাউথওয়াশ দিয়ে কুলকুচি করা হয়। অ্যালকোহলযুক্ত এই সকল মাউথওয়াশ ব্যবহার করা বন্ধ করে দাঁতের সুরক্ষায় আনার গ্রহণ শুরু করুন। এই ফলের কিছু উপকারি উপাদান দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করে। এক গবেষণা থেকে দেখা গেছে আনারে থাকা হাইড্রোঅ্যালকোহলিক উপাদান দাঁতের ক্ষয়রোগের সম্ভবনাকে কমিয়ে দেয় ৮৪ শতাংশ পর্যন্ত।

ফ্রি-রেডিক্যাল থেকে সুরক্ষিত রাখে

অকালে বয়স্কভাব দেখা দেওয়ার জন্য মূলত দায়ী করা হয় ফ্রি-রেডিক্যালকে। এই ফ্রি-রেডিক্যালের ক্ষতিকর ও নেতিবাচক প্রভাবকে স্তিমিত রাখতে প্রয়োজন হয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের। দারুণ ফল আনারে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরকে ফ্রি-রেডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে কাজ করে।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদামাটা নিমকিমাখা

সাদামাটা নিমকিমাখা
ছবি: নিমকিমাখা

হুটহাট করেই হাবিজাবি কোন খাবার খেতে ইচ্ছা করে।

এই হাবিজাবিটা আসলে কি, সেটা বুঝতে পারা দুষ্কর। এমন খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে অনেকে কাব্যিকভাবে ছোটখাটো ক্ষুধা নামেও ডেকে থাকে।

হুট করে কোন কিছু খেতে ইচ্ছা করলে ঘরে থাকা অল্প জিনিস কীভাবে মুখরোচক ও নতুন খাবার তৈরি করা যায় এইটাই যেন চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মন অবস্থায় ঘরে থাকা নিমকি ও অল্প পেঁয়াজ-মরিচেই তৈরি করে নেওয়া যাবে নিমকিমাখা। কীভাবে তৈরি করবেন? চটজলদি দেখে নিন রেসিপিটি।

নিমকিমাখা তৈরিতে যা লাগবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394524865.JPG

১. ২০০ গ্রাম নিমকি।

২. একটি পেঁয়াজ কুঁচি।

৩. একটি টমেটো কুঁচি।

৪. দুইটি কাঁচামরিচ কুঁচি।

৫. অর্ধেকটি শসা কুঁচি।

৬. অর্ধেকটি ক্যাপসিকাম কুঁচি।

৭. একমুঠো ধনিয়াপাতা কুঁচি।

৮. এক টেবিল চামচ লেবুর রস।

৯. দুই টেবিল চামচ সরিষার তেল।

১০. স্বাদমতো লবণ।

নিমকিমাখা যেভাবে তৈরি করতে হবে

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566394543339.JPG

১. প্রথমে সরিষার তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচি চটকে নিতে হবে। এতে টমেটো, শসা, ক্যাপসিকাম ও ধনিয়া কুঁচি দিয়ে মাখিয়ে লবণ দিতে হবে।

২. সকল উপাদান মাখানো হয়ে গেলে নিমকি দিয়ে পেঁয়াজ-কাঁচামরিচের সাথে মাখিয়ে তার উপরে লেবুর রস ছড়িয়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন: বাড়িতেই তৈরি করুন ভেজিটেবল মমো

আরও পড়ুন: চুলাতেই তৈরি হবে গরম নান

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম

হাড়ের সুস্বাস্থ্যে পাঁচ নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্বাস্থ্যে হাড়ের ভূমিকা অনেকখানি।

আমাদের শরীরের পুরো গঠন ও কাঠামো নির্ভর করে হাড়ের উপরে। ফলে হাড়ে যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়, তার প্রভাব পরে সামগ্রিকভাবে। তরুণ বয়সে হাড় সবচেয়ে বেশি শক্ত ও সুস্থ থাকে, যদি সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায় ও যত্ন নেওয়া হয়। তবে বয়স যত বৃদ্ধি পেতে থাকে, হাড়ের শক্তি কমতে থাকে এবং হাড় ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ৪৫-৫০ বছর পর থেকেই হাড়জনিত নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু হয়। এ কারণেই হাড়ের প্রতি আলাদাভাবে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। জেনে নিন হাড়ের যত্নে কোন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে।

পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা

স্বাস্থ্যগত বিষয়ে ফ্যামিলি হিস্ট্রি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। যার বাবা-মা অথবা ভাই-বোনের অস্টিওপরোসিসের সমস্যা রয়েছে, তারও এই সমস্যাটি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরিবারের মানুষদের হাড়ের স্বাস্থ্য ও সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর করতে হবে এবং সেইভাবে নিজের হাড়ের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে হবে।

ক্যালসিয়াম গ্রহণ বৃদ্ধি

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566384501379.jpeg

হাড়ের বিষয়ে আলোচনা আসলে প্রথমেই যে শব্দটি মাথায় আসবে সেটা হলো ক্যালসিয়াম। প্রাকৃতিক এই মিনারেলটির সাহায্যে হাড় ও দাঁত গড়ে ওঠে ও দৃঢ়তা পায়। তবে ক্যালসিয়ামই শেষ কথা নয়। শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য। নতুবা ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া হলেও, তার পুষ্টিগুণ শরীরে ঠিকভাবে শোষিত হবে না এবং ক্যালসিয়ামের অভাব তৈরি হবে।

ভোলা যাবে না ভিটামিন-ডি কে

ক্যালসিয়ামের সাথে সরাসরিভাবে সংযুক্ত হলো ভিটামিন-ডি। একইসাথে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন-ডি পাওয়া যাবে চিংড়ি, কমলালেবুর রস, ডিমের কুসুম, টুনা মাছ প্রভৃতি থেকে। এছাড়া রোদের আলো ভিতামিন-ডি এর অন্যতম বড় একটি উৎস। বর্তমান সময়ে অনেকেই রোদের আলোর অপর্যাপ্ততায় ভিটামিন-ডি এর অভাবে ভুগছেন। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট শরীরে রোদের আলো লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।

নিয়মিত শরীরচর্চা করা

শুধু স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণই যথেষ্ট নয়, শরীরচর্চার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে হাড়কে সুস্থ রাখতে চাইলে। শরীরচর্চার বিভিন্ন কলাকৌশল হাড়কে দৃঢ় করতে কাজ করে। দৌড়ানো, দ্রুত হাঁটা, দড়িলাফ কিংবা সিঁড়িতে ওঠানামার মতো হালকা ঘরানার শরীরচর্চাগুলোই হাড়কে ভালো রাখতে উপকারী।

সীমিত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ

ক্যাফেইনের বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে বটে, তবে দুঃখজনকভাবে হাড়ের জন্য নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে বাধাদান করে। তাই প্রতিদিন দুই কাপ পরিমাণ কফি পান নিরাপদ। এর বেশি হয়ে গেলে তা হাড়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড অস্টিওপরোসিস ডে: হাড় থাকুক মজবুত

আরও পড়ুন: ভিটামিন ডি ঘাটতি: ঝুঁকি, উপসর্গ এবং বৃদ্ধির উপায়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র