Alexa

শপথের রাজনীতি

শপথের রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত

একের পর এক নাটকীয়তা, জল্পনা-কল্পনা শেষে আজ শপথ নিয়েছেন বিএনপি নির্বাচিত ৪ জন সংসদ সদস্য। দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিকদল গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের দেখানো পথেই হাঁটলেন বিএনপির এই চার নেতা।

তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার ও বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন।

তবে বগুড়া ৬ আসনে থেকে নির্বাচতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ করেন নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) শপথ গ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান।

এদিকে বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুলের শপথ না নেওয়ার পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। সোমবার (২৯ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে এক বর্ধিতসভায় তিনি বলেন, পদ হারানোর ভয়েই শপথ নেননি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তার মতে, বিএনপি লন্ডন থেকে পরিচালিত হয়, এই দলে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সেই দলের বিরুদ্ধে গিয়ে শপথ নিলে মির্জা ফখরুল পদ হারাবেন। মূলত পদ হারানোর ভয়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বগুড়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলেও বগুড়ার ভোটার, এমনকি জনগণের প্রতি তার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তাই তিনি শপথ নিচ্ছেন না।

অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে সরকার চাপ দিচ্ছে, জুলুম জবরদস্তি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণ আগে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির কোনো এমপিকে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো চাপ নেই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘তার এই বক্তব্যের পর জনগণ নিশ্চিত হয়েছে যে, শপথ নিতে ধানের শীষের প্রার্থীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে মির্জা ফখরুল ব্যতীত বিএনপির অন্য নির্বাচিতদের শপথগ্রহণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত শপথগ্রহণের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু তারপরেও মহাসচিব ব্যতীত অন্যান্যরা শপথ নিয়ে নিলেন। এখন তাদের ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত কী হয় সেটা দেখার বিষয় হবে। আবার দল যদি তাদের বহিষ্কার করে সেক্ষেত্রে তারা পার্লামেন্টে কী ধরনের ভূমিকা নেবেন সেটাও হবে লক্ষণীয়।

এদিকে তাদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সকল দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হল। স্বভাবতই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দেশে বাইরে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিবে।

এদিকে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের সঙ্গে অসুস্থা খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে একটি আলোচনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। শপথ গ্রহণ তো শেষ। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্যারোল মুক্তির কী হবে সেটা জানতে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :