Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

শপথের রাজনীতি

শপথের রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একের পর এক নাটকীয়তা, জল্পনা-কল্পনা শেষে আজ শপথ নিয়েছেন বিএনপি নির্বাচিত ৪ জন সংসদ সদস্য। দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিকদল গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের দেখানো পথেই হাঁটলেন বিএনপির এই চার নেতা।

তারা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার ও বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশাররফ হোসেন।

তবে বগুড়া ৬ আসনে থেকে নির্বাচতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ করেন নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) শপথ গ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান।

এদিকে বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুলের শপথ না নেওয়ার পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। সোমবার (২৯ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে এক বর্ধিতসভায় তিনি বলেন, পদ হারানোর ভয়েই শপথ নেননি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তার মতে, বিএনপি লন্ডন থেকে পরিচালিত হয়, এই দলে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সেই দলের বিরুদ্ধে গিয়ে শপথ নিলে মির্জা ফখরুল পদ হারাবেন। মূলত পদ হারানোর ভয়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বগুড়া থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিজ এলাকার ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলেও বগুড়ার ভোটার, এমনকি জনগণের প্রতি তার কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তাই তিনি শপথ নিচ্ছেন না।

অন্যদিকে, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নিতে সরকার চাপ দিচ্ছে, জুলুম জবরদস্তি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণ আগে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির কোনো এমপিকে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনো চাপ নেই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘তার এই বক্তব্যের পর জনগণ নিশ্চিত হয়েছে যে, শপথ নিতে ধানের শীষের প্রার্থীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে মির্জা ফখরুল ব্যতীত বিএনপির অন্য নির্বাচিতদের শপথগ্রহণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত শপথগ্রহণের বিপক্ষে ছিল। কিন্তু তারপরেও মহাসচিব ব্যতীত অন্যান্যরা শপথ নিয়ে নিলেন। এখন তাদের ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত কী হয় সেটা দেখার বিষয় হবে। আবার দল যদি তাদের বহিষ্কার করে সেক্ষেত্রে তারা পার্লামেন্টে কী ধরনের ভূমিকা নেবেন সেটাও হবে লক্ষণীয়।

এদিকে তাদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সকল দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হল। স্বভাবতই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দেশে বাইরে এক ধরনের স্বস্তি এনে দিবে।

এদিকে দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণের সঙ্গে অসুস্থা খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে একটি আলোচনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। শপথ গ্রহণ তো শেষ। বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্যারোল মুক্তির কী হবে সেটা জানতে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দলগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন। বৈঠতে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ঈদের আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে জামিনের বিষয়টা এসছিল হাইকোর্টে, সেখানে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর থেকেই আমাদের ধারণা দৃঢ় হয়েছে যে, বিচার বিভাগ স্বাভাবিক বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সে ক্ষেত্রে আইনিভাবে এটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে যে, আমরা ন্যায়বিচার পাব কিনা!

তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে এবং তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে, আমরা তাদের অবহিত করব এবং অন্যায়ভাবে যে খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে—সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে ব্যাপক ধস নামা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতায় এ রকম হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনও বিদেশ থেকে ওষুধ আসেনি দাবি করে রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ইকবাল ও হাসান মাহমুদ টুকু।

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল
ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শনে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মিরপুরে বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষগুলো একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) ‍দুপুরে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন করতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল।

তিনি বলেন, বস্তির গরিব মানুষগুলো একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেল! এমন নিদারুণ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে এ ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সীমিত শক্তি ও সামর্থ্যের মধ্যে আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, রাজধানীতে বছরের শুরু থেকে কেন একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে? আমি জানি না বস্তি সরিয়ে দেওয়ার জন্য অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিনা। এজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কেন বারবার আগুন লাগছে? এই মিরপুরে কালশিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড হলো। মানুষ মরল, দগ্ধ হলো। এর আগেও আগুন লেগেছে। এগুলোর সঠিক কারণ বের করা দরকার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বস্তিগুলোতে যে বারবার আগুন লাগে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। আমি বলছি না কোন উদ্দেশে বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। এটা মানুষের মধ্যে সন্দেহের তৈরি করে, তাই এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঝিলপাড় বস্তিতে আগুন লাগে। ৩ ঘণ্টা ধরে চলা আগুনের লেলিহান শিখায় বস্তির প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র