Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী লর্ডস

সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ ফাইনালের সাক্ষী লর্ডস
জগদ্বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড
শেহজাদ আমান
কন্ট্রিবিউটর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

‘ক্রিকেটের মক্কা’ বলে সুপরিচিত লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম লর্ডসের সাথে জড়িয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় সব ক্রিকেটিয় ঘটনা। ব্যাটসম্যানদের মহাকাব্যিক ইনিংস ও বোলারদের বহু জাদুকরি বোলিংয়ের সাক্ষী এই লর্ডস। তেমনি সাক্ষী ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্বকাপ ক্রিকেটের প্রথম তিনটি ও সপ্তম আসরের ফাইনালের। এই ময়দানেই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯-এর ফাইনাল। 

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড এবং ইউরোপিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদর দপ্তর অবস্থিত এই লর্ডসেই। ২০০৫ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদর দপ্তরও ছিল এখানে। ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামের বয়স কম হলো না! দেখতে দেখতে হয়ে গিয়েছে ২০৫ বছর। ১৮১৪ সালে লন্ডনের সেন্ট জন উডে প্রতিষ্ঠিত হয় স্টেডিয়ামটি, এর প্রতিষ্ঠাতা থমাস লর্ডের নামে। মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) মালিকানায় থাকা স্টেডিয়ামটি মিডলসেক্স কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের বাড়ির মাঠ। তবে আজকের লর্ডস স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়কার অবস্থানে নেই। ১৭৮৭ থেকে ১৮১৪’র মধ্যকার সময়ে লর্ডের প্রতিষ্ঠা করা তিনটি ক্রিকেট মাঠের সর্বশেষটিই হলো বর্তমান জগদ্বিখ্যাত লর্ডস স্টেডিয়াম। লর্ড থমাসের বানানো দ্বিতীয় মাঠ লর্ডস মিডল গ্রাউন্ড খেলার জন্য ব্যবহার করা হতো ১৮১১ থেকে ১৮১৩’র মধ্যে, যা পরে রিজেন্ট খালের পাশে বানানো মাঠের বহিরাংশের ভেতরে নির্মাণ কাজের কারণে পরিত্যক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান লর্ডস মাঠটি অবস্থিত এই মিডল গ্রাউন্ডের ২৫০ গজ উত্তর-পশ্চিমে। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০,০০০। তবে এর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006009748.jpg
লর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা থমাস লর্ড ◢

 

লর্ডসে রয়েছে আটটি স্ট্যান্ড। প্যাভিলিয়ন থেকে ঘড়ির কাঁটার অবস্থান বিবেচনা করলে এর বাকি সাতটি স্ট্যান্ড হলো—ওয়ার্নার স্ট্যান্ড, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, কম্পটন স্ট্যান্ড, মিডিয়া সেন্টার, এডরিচ স্ট্যান্ড, মাউন্ড স্ট্যান্ড, ট্যাভার্ন স্ট্যান্ড, অ্যালেন স্ট্যান্ড। বেশিরভাগ স্ট্যান্ডই অবশ্য তৈরি করা হয়েছে বিশ শতকেই। ১৯৮৭ সালে নতুন মাউন্ড স্ট্যান্ড স্যার মাইকেল হপকিন্সের নকশায় তৈরি করা হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে নিকোলাস গ্রিমশয়ের নকশায় নির্মাণ করা হয় গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড। ফ্লাইং সসারের মতো দেখতে মিডিয়া সেন্টারটি তৈরি হয়েছে ১৯৯৮-তে। পিচের দুই প্রান্তের একটি হলো প্যাভিলিয়ন (দক্ষিণ-পশ্চিম) এন্ড, অপরটি হলো নার্সারি এন্ড (উত্তর-পূর্ব)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006173125.jpg
১৮৯৩ সালের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড ◢

 

লর্ডসের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিখ্যাত লংরুমযুক্ত এর ভিক্টোরিয়ান যুগের প্যাভিলিয়ন। ১৮৮৯-৯০ সালের দিকে এটি নির্মিত হয় স্থপতি থমাস ভেরিটির নকশায়। অবশ্য ২০০৪-০৫-এ ৮ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে একে নতুনরূপে সাজানো হয়েছে। প্যাভিলিয়নটি মূলত এমসিসির সদস্যদের জন্য, যারা এর সুযোগ-সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারবে। এই সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে বসে ক্রিকেট খেলা দেখা এবং লংরুম ও বার ব্যবহার করা। প্যাভিলিয়নের ভেতরে ড্রেসিংরুমও আছে। আর আছে একটা ব্যালকনি, যেখানে দাঁড়িয়ে খেলোয়াড়রা খেলা দেখতে পারে। প্রধান দুটো ড্রেসিংরুমে অবস্থিত ‘অনার্স বোর্ড’, যেখানে লেখা থাকে লর্ডসের মাঠে সেঞ্চুরি পাওয়া বা পাঁচ উইকেট নেওয়া ক্রিকেটারদের নাম। বাংলাদেশের তিনজন ক্রিকেটারও এই সম্মানের অধিকারী হয়েছেন—তামিম ইকবাল, শাহাদত হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006276283.jpg
নান্দনিক ওয়ার্নার স্ট্যান্ড ◢

 

২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে লর্ডসের ২০৫ বছরের ইতিহাসে টেস্ট ম্যাচে সবচেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি হাঁকান বাংলাদেশের বাঁ-হাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। ক্রিকেটের মক্কায় অনন্য এক রেকর্ড আছে বাংলাদেশ দলের পেসার শাহাদাত হোসেন রাজীবেরও। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে লর্ডসে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ১৫৮তম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন টাইগার পেসার। আর সম্প্রতি চলমান বিশ্বকাপ ক্রিকেটেই পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডসে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ম্যাচে ৫উইকেট নিয়ে অনার্স বোর্ডে নাম ওঠান কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006356810.jpg
লর্ডসের শৈল্পিক ও ঐতিহ্যবাহী প্যাভিলিয়ন ◢

 

লর্ডসের অন্যতম আকর্ষণ এর সুদৃশ্য মিডিয়া সেন্টারটি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আগে নির্মিত এই স্থাপনাটি বিশ্বের সর্বপ্রথম পুরো অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি, সেমি মনোকক ভবন। মাটির ওপর থেকে এটি ১৫ মিটার (৪৯ ফুট) উঁচু। স্থাপনাটির একমাত্র সাপোর্ট আসে এর দুটো লিফট শ্যাফটের চারপাশের কাঠামো থেকে। সেন্টারের নিচের অংশে ১০০ সাংবাদিকের পাশাপাশি বসে কাজ করার সুবন্দোবস্ত রয়েছে। এর উপরের অংশে আছে টেলিভিশন ও রেডিও কমেন্ট্রি বক্স। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006456958.jpg
লর্ডসের অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার ◢

 

লর্ডসের অন্যতম মজাদার বিষয় হলো এর সামান্য ঢালু মাঠ। মাঠের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তের চেয়ে ২.৫ মিটার উঁচু। এই ঢালের কারণে পিচের উপর পড়ার পর বলের বাউন্সে বেশ তারতম্য হয়। এই কারণে ব্যাটসম্যানদের এখানে ব্যাট করতে একটু ভিন্ন কৌশলেরই দরকার পড়ে।

লর্ডসে সাধারণত দিনের আলোতেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, তবে ২০০৯ থেকে লর্ডসে ব্যবস্থা করা হয়েছে ফ্লাডলাইটেরও। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম খেলা হয় ২২ জুন, ১৮১৪-তে বর্তমান মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব এবং হার্টফোর্ডশায়ারের মধ্যে। ২০১৪ সালে ক্রিকেটের মক্কা ২০০ বছরে পদার্পণ করে। আর এই দুশো বছরে লর্ডসের বুকে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো সংস্করণ টেস্টের ১০৫টি ম্যাচ। ১৮৮৪ সালের ২১ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে এ মাঠের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। এরপর একে একে ১০৫টি টেস্ট ক্রিকেটের সাক্ষী হয়েছে হোম অব ক্রিকেট ভেন্যুটি। যার শেষটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট। ওই ম্যাচে পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং ভারত। লর্ডসের মাঠের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটিতে ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় স্বাগতিক ইংলিশরা। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত ৫৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে, যা টেস্ট ম্যাচের তুলনায় অনেক কম। মূলত টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ধারণে মহাকালের সাক্ষী এই লর্ডস।

লর্ডস সম্পর্কে একটা পরিচিতি পাওয়া গেল! এবার আসুন, লর্ডসে অনুষ্ঠিত চারটি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক।

প্রথম ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫’র ২১ জুন। এই ফাইনালটি ভাস্বর হয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েডের অসাধারণ সেঞ্চুরির ইনিংসে। ফাইনালটিতে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫০ রানে তিন উইকেট পড়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি দলকে ওই অবস্থা থেকে তুলে আনেন ১০২ রানের ইনিংসের মাধ্যমে। রোহান কানহাইয়ের সাথে মিলে গড়েন ১৪৯ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। এর মাধ্যমেই নির্ধারিত ৬০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ২৯১ রানের ভালো একটা সংগ্রহ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে উইন্ডিজ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে ২৭৫ রানের বেশি করতে পারে না প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচটি উইন্ডিজ জিতে নেয় ১৭ রানে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006736425.jpg
১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ◢

 

দ্বিতীয় বিশ্বকাপটিও অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংল্যান্ডে এবং ফাইনালটি যথারীতি অনুষ্ঠিত হয় লর্ডসেই। সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান স্যার ভিভ রিচার্ডসের কাব্যিক ১৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে উইন্ডিজ প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে টার্গেট দেয় ২৮৭ রানের। পঞ্চম উইকেটে কলিস কিংয়ের সাথে গড়ে ওঠা ১৩৯ রানের জুটির কারণেই মূলত ভালো একটা টার্গেট দিতে পারে উইন্ডিজ। জবাবে মাইক ব্রিয়ারলি ও জেফ্রি বয়কটের শ্লথগতির ওপেনিং পার্টনারশিপ ইংলিশদের নিয়ে যায় বিনা উইকেটে ১২৯ রানে, তবে বাড়িয়ে দেয় রানরেটের চাপ। এই চাপে এবং পরে জোয়েল গার্নারের আগুন ঝড়া বোলিংয়ে ইংল্যান্ড যেতে পারে মাত্র ১৯৫ রান পর্যন্ত। ম্যাচটা ৯২ রানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ‘বিগ ক্যাট’ ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006821899.jpg
লর্ডসের ব্যালকনিতে ১৯৭৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ট্রফি হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরা ◢

 

১৯৮৩’র জুনে টানা তৃতীয়বার ইংল্যান্ডেই অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ ক্রিকেট। যথারীতি টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে তৎকালীন পরাশক্তি উইন্ডিজ। প্রতিপক্ষ হয় অনেককেই চমকে দিয়ে ফাইনালে ওঠা ভারত। সবাই ওয়েস্ট ইণ্ডিজকেই হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে পাচ্ছিলেন। কেউই ভাবতে পারেনি ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেবে। ভারত প্রথমে ব্যাট করে ১৮৩ রানে অলআউট হওয়ার পর তো সবাই মনে করেছিল, হেসেখেলে জিতে যাবে উইন্ডিজ। কিন্তু ক্রিকেট তো ‘গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা।’ কপিল দেবের ক্ষুরধার মস্তিষ্কের অধিনায়কত্ব ও ভারতীয় বোলারদের সুনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওই রান তাড়া করতে গিয়েই ঘাম ছুটে যায় উইন্ডিজের। আর ৪০ গজ দৌঁড়ে কপিল দেবের নেওয়া ভিভ রিচার্ডের ক্যাচ ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচের মোড়। কপিলের এই অবিশ্বাস্য ক্যাচ দলের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয় অসাধারণ প্রাণশক্তি। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে উইন্ডিজের। তারা অলআউট হয়ে যায় ১৪০ রানেই। প্রথমবারের মতো কাপ ওঠে ভারতীয়দের হাতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006897073.jpg
বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৮৩-এর চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করছেন ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব ◢

 

লর্ডসের সর্বশেষ বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল ১৯৯৯ সালে। ১৬ বছর পরে আবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান। একপেশে এই ফাইনালে লেগ স্পিন জাদুকর শেন ওয়ার্নের ঘূর্ণিজালে আটকা পড়ে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ২৩ রানে ৪ উইকেট দখল করেন ওয়ার্ন। জবাবে, মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে টার্গেট টপকে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। বর্তমান ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া যে ‘মাইটি অস্ট্রেলিয়া’ হিসেবে পরিচিত, সেটার যাত্রাশুরু ধরা হয় এই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমেই। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563006983573.jpg
লর্ডসের ব্যালকনিতে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ১৯৯৯-এর চ্যাম্পিয়ন ট্রফি হাতে উল্লসিত অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল ◢

 

এই লর্ডসেই আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। নিশ্চয়ই, স্মরণীয় আরো কিছু ক্রিকেট মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে আছে লর্ডস! 

আপনার মতামত লিখুন :

সরোজিনীর মহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ ডাকার ইতিহাস

সরোজিনীর মহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ ডাকার ইতিহাস
গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সরোজিনী নাইডু মাহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ বলে ডাকতেন। অর্থাৎ গান্ধীজির সঙ্গে সরোজিনীর ছিল গভীর অন্তরঙ্গতা। কিন্তু কী ছিল সেই অন্তরঙ্গতার অন্তর্সূত্র? ছিল হলো—তারা দুইজনই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দুই মূল হোতা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রায়োগিকভাবে ভারতবর্ষের নারীদের মধ্যে সবচাইতে অগ্রবর্তী ভূমিকা রেখেছিলেন সরোজিনী নাইডু।

এই রেডিকেল সত্তার বাইরেও সরোজিনী নাইডুর অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন কবি। পৃথিবীবিখ্যাত তার কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

এই ফিচারটি লেখা হচ্ছে সরোজিনীর জীবন কিংবা পরিচয়কে উদ্দেশ্য করেই, তবে খুব সংক্ষিপ্তভাবে—

এক.
ছোটবেলা থেকেই সরোজিনী নাইডু ছিলেন অত্যন্ত রকম মেধার অধিকারী। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ভাষা তিনি রপ্ত করে নিয়েছিলেন খুব অল্প বয়সে। বাংলা আর ইংরেজি ছাড়াও তিনি শিখেছিলেন ঊর্দু, ফারসি এবং তেলেগু ভাষা। মাত্র বারো বছর বয়সে সরোজিনী মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেট্রিক পরীক্ষা পাশ করার সময়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

স্বভাবতই সরোজিনীকে নিয়ে তার বাবা অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তার প্রধান স্বপ্ন ছিল, তিনি চাইতেন তার মেয়ে গণিতজ্ঞ বা বিজ্ঞানী হবেন। পক্ষান্তরে সরোজিনীর স্বপ্ন তার বাবার চিন্তা অনুযায়ী ছিল না। সেই বয়সেই তার মধ্যে সাহিত্যের আকুতি লক্ষ করা গিয়েছিল। অ্যালজেবরা করার খাতাতেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন।

এরকমভাবে লিখতেই লিখতেই হঠাৎ একদিন দেখা গেল সরোজিনী নাইডু ১৩০০ লাইনের এক বিশাল কবিতা লিখে ফেলেছেন। ইংরেজি ভাষায়। কবিতাটির শিরোনাম ছিল ‘দ্য লেডি অব দ্য লেক’। সরোজিনীর বাবা কবিতাটি পড়ে বিস্মিত হয়ে পড়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ তার চিন্তাও পাল্টে গিয়েছিল। গণিত কিংবা বিজ্ঞানের বিষয়ে ভাবনা বাদ দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়েকে কবিতা এবং লেখালেখির বিষয়েই উৎসাহ দেবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386933772.jpg
◤ পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ও সরোজিনী নাইডু


পিতার উৎসাহ সরোজিনীকে গভীর শক্তি প্রদান করেছিল। সেইসূত্রেই, কয়েকদিনের মধ্যে তিনি ফরাসি ভাষায় একটি নাটক রচনা করে ফেললেন, নাটকটির নাম ছিল ‘মাহের মুনির’। নাটকটি পড়ে তারা বাবা আবারও অভিভূত হয়ে পড়লেন এবং সেটি নিজের সহকর্মীকে পড়তে দিলেন। যাদের মধ্যে নিজাম নামক তার এক বন্ধুও ছিলেন, যিনি ১৫ বছর বয়সী একজন মেয়ের লেখা এই নাটক পড়ে চূড়ান্তরকমের অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই সরোজিনীকে ইংল্যান্ডে পড়তে পাঠানোর জন্য পরামর্শ দেন।

বাবার বন্ধু নিজামের পরামর্শের সূত্রেই সরোজিনী নাইডু ১৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান।

দুই.
তিনি প্রথমে লন্ডনের কিংস কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজের পড়াশোনা শেষে তিনি কেমব্রিজে পড়তে যান। আর কেমব্রিজেই তার সঙ্গে অনেক বিখ্যাত ইংলিশ কবি-সাহিত্যিকদের পরিচয় হয়।

সেইসব কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে তার বিশেষ সখ্য হয়েছিল দুইজনের সঙ্গে, একজন ছিলেন আর্থার সিমন আর অন্যজন ছিলেন এডমন্ড গস। মূলত এডমন্ড গসই সরোজিনীকে এই পরামর্শ দেন, ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করলেও তিনি যেন নিজের দেশকে এবং দেশের সংস্কৃতিকে অস্বীকার বা অগ্রাহ্য না করেন। এডমন্ড গসের এই পরামর্শ সরোজিনী গভীরভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566387371429.jpg
◤ সরোজিনী নাইডুর ব্রিটিশ কবিবন্ধু এডমন্ড গস ◢


এই ভারতীয় প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করেই তিনি পরবর্তী সময়ে প্রচুর কবিতা লিখেছিলেন। যেসব দিয়ে তিনি তিনটি বইও বের করেন। বই তিনটি তৎকালীন ইংল্যান্ড এবং ভারত উভয় জায়গাতেই বিস্তর আলোড়ন তৈরি করেছিল।

ইংল্যান্ডে থাকাকালে সরোজিনী একজন ভারতীয় ডাক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। সেই ডাক্তারের নাম ছিল গোবিন্দরাজুলু নাইডু। যেহেতু সরোজিনী ছিলেন ব্রাহ্মণ আর গোবিন্দরাজুলু ছিলেন অব্রাহ্মণ, ফলত এই সম্পর্ক নিয়ে সরোজিনীর বাবার আপত্তি থাকবার কথা ছিল, কিন্তু সেরকম কিছু দেখা গেল না।

গোবিন্দের সঙ্গে সরোজিনীর যখন সম্পর্ক হয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। আর যখন তার বিবাহ সম্প্ন হলো তখন বয়স ১৯ বছর, অর্থাৎ সরোজিনী পড়াশোনা শেষ করবার সঙ্গে-সঙ্গেই গোবিন্দের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করে নিয়েছিলেন। তৎকালে অসবর্ণ বিবাহ নামের একটা বিষয় সমাজে নিষিদ্ধ ছিল। কাজেই কুলীন ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে সরোজিনীর সঙ্গে অব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে গোবিন্দের এই বিবাহ একটি সামাজিক রীতিবিরুদ্ধ ঘটনা ছিল।

সরোজিনী আর গোবিন্দের সংসারে চারজন সন্তান এসেছিলেন। জয়সুর, পদ্মজা, রণধীর, এবং লীলামণি। এদের মধ্যে পদ্মজা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছিলেন।

তিন.
পি বি শেলি নামের এক কবি ছিলেন সরোজিনী নাইডুর প্রিয়। যিনি শুধু কবিই ছিলেন না, ছিলেন একই সঙ্গে বাগ্নী বা বক্তাও। বলা যেতে পারে, পি বি শেলির এই প্রভাব সরোজিনীর মধ্যেও পড়েছিল। তার মধ্যেও বাগ্মিতা, বা রাজনৈতিক পক্ষালম্বন, বা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাবার মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে লক্ষ করা গিয়েছিল। সম্ভবত সরোজিনীই একমাত্র নারী, যিনি একাধারে ছিলেন কবি এবং রাজনীতিবিদ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386876725.jpg
◤ সরোজিনী নাইডুর প্রিয় কবি ও ব্যক্তিত্ব পি বি শেলি ◢


সরোজিনীর সাহিত্যজীবনে ২৫ বছরের ব্যাপ্তি থাকলেও সেই তুলনায় তার বইয়ের সংখ্যা খুবই কম, মাত্র তিনটি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘দ্য গোল্ডেন থ্রেশল্ড’। বইটি ১৯০৫ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য বার্ড অব টাইম’, এটি প্রকাশ হয় ১৯১২ সালে। অন্য বইটির নাম ‘দ্য ব্রোকেন উইং’। এটির প্রকাশ-সন ১৯১৭। অবশ্য ‘দ্য ফেদার অব দ্য ডাউন বার্ডস অব টাইম’ নামেও তার একটি সংকলিত কবিতার বই রয়েছে।

সরোজিনী নাইডুই সেই বিরলজ বাঙালি কবি, যার সব রচনাই ছিল ইংরেজি ভাষাতে। আসলে নাইডুর খ্যাতির আরম্ভটুকু ইংরেজি ভাষার বদৌলতে এসেছিল, এরকম বলা যায়। ইংল্যান্ডে তার বইগুলোর একাধিক সংস্করণ সেই বার্তাই ধারণ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386191820.jpg
◤ সরোজিনী নাইডুর বইয়ের প্রচ্ছদ ◢


সরোজিনীর বেশ কয়েকটি কবিতা বিপুলভাবে চর্চিত, বা প্রসিদ্ধ। এসবের মধ্যে রয়েছে ‘ওয়ান্ডারিং সং’, ‘ভিলেজ সং’, ‘ক্রাডেল সং’সহ আরো অনেক কবিতা। এই কবিতাগুলোই পরবর্তীকালে যথাক্রমে ‘চারণ’, পল্লিগীত’ বা ‘ঘুমাপাড়ানির গান’ নামে অনূদিত হয়ে হয়ে বাংলাভাষাভাষিদের কাছেও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। যারা সরোজিনীর কবিতা অনুবাদ করেছেন তাদের মধ্যে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

চার.
সরোজিনীর এই কবি-পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের একজন প্রথম সারির নেত্রী। একজন সৎ ও সচেতন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি প্রখ্যাত ছিলেন। ১৯২৪ সালে সরোজিনী কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে সভানেত্রী হওয়ার বিরল সম্মাননা অর্জন করেছিলেন।

ভারতবর্ষের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি কোনো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমনকি তিনি দেশভাগের পরে উত্তর প্রদেশের গভর্নর পদেও নিযুক্ত হয়েছিলেন।

মূলত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই সরোজিনী নাইডু রাজনীতির মাঠে এসেছিলেন, ১৯০৫ সালে। এই আন্দোলন ছিল স্বাধীনতারই আন্দোলন। এই সময় থেকেই মূলত তিনি অন্যান্য রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু, মহাত্মা গান্ধী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, মুহাম্মদ আলি জিন্না, অ্যানি বেসান্ত, রামস্বামী আইয়ার প্রমুখ।

পাঁচ.
১৯১৫ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সরোজিনী নানান বিষয়ে বিপ্লবী বক্তৃতা প্রদান করছিলেন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে। এই সময়েই তার সঙ্গে জওহারলাল নেহরুর পরিচয় ঘটে। এই পরিচয়ের সূত্রে তিনি চম্পাচরণে নীলচাষীদের হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386594363.jpg
◤ আন্দোলনের একই মঞ্চে নেহরুসহ সরোজিনী নাইডু ◢


১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার রাওলাট আইন নামে একটি আইন করেছিল। এই আইনের মাধ্যমে সকল রাজদ্রোহমূলক লেখাপত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখন মহাত্মা গান্ধী এই আইনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের আরম্ভ করলে সরোজিনী সেখানেও যোগদান করেন।

তিনি ভারতের নারীদের ভোটাধিকার অর্জনের দাবিসহ আরো অন্যান্য অনেকগুলো দাবি নিয়ে ইংল্যান্ডে যাত্রা করেন সেই বছরই। সেইসূত্রে ১৯২০ সালে ভারতের নারীরা ভোটাধিকার পেতে শুরু করে। প্রথমে পেয়েছিল কেরালার নারীরা, তারপরে একসময়ে বাংলার নারীরাও।

১৯২৮ সালে তিনি নিউইয়র্ক যান। সেসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারেরও সমালোচনা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আফ্রিকান এবং ইন্ডিয়ানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের তিনি নিন্দা জানিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরবার পরে তিনি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন।

ছয়.
১৯৩০ সালে কংগ্রেস কর্তৃক ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষিত হলে মে মাসে মহাত্মা গান্ধী গ্রেফতার হন। তার কয়দিন পরেই সরোজিনী নাইডুকেও গ্রেফতার করা হয়। ১৯৩১ সালের জানুয়ারি মাসে গান্ধীজি এবং তিনি একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার অদ্যবধি পরে সেই বছরই তারা পুনরায়, এবার একত্রে গ্রেফতার হন। এই দফায় গান্ধীজি ১৯৩৩ সাল পযন্ত কারাগারে বন্দি থাকলেও সরোজিনী স্বাস্থ্যহানির কারণে আগেই মুক্তি পেয়েছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386688688.jpg
◤ চার্লি চ্যাপলিন ও মহাত্মা গান্ধীর সাথে সরোজিনী নাইডু ◢


১৯৪২ সালের আক্টোবর মাসে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুনরায় তাকে এবং মহাত্মা গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই দফায় তারা দুজন দীর্ঘ ২১ মাস কারারুদ্ধ ছিলেন। একসঙ্গে দীর্ঘ কারাবাসের কারণেই হয়তো রাজনীতিকে ছাপিয়ে এই দুইজনের মধ্যে একটি গভীর অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়েছিল। যার সূত্রেই সরোজিনী নাইডু মহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ বলে ডাকতেন।

সাত.
সরোজিনী নাইডুর পৈত্রিক বাড়ি ছিল পূর্ববাংলার মুন্সীগঞ্জ জেলায়। ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের হায়দারাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবার নাম ছিল অঘোরনা চট্টোপাধ্যায় আর মায়ের নাম ছিল বরদাসুন্দরী দেবী। বাবা ছিলেন বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ, আর মা ছিলেন কবি।

সরোজিনীরা ছিলেন আট ভাইবোন। তার এক ভাই বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতাসংগ্রামী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন বার্লিন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরবর্তী সময়ে কমিউনিজমে প্রভাবিত হয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

অপর আরেক ভাই ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা। যার নাম ছিল, হারীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অর্থাৎ বুঝতে পারা যায়, পারিবারিকভাবে সরোজিনীরা ছিলেন বিত্তশালী, তথাপি শিক্ষাদীক্ষা এবং জ্ঞানচিন্তার বিষয়েও প্রগাঢ়ভাবে উৎপাদনশীল।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সরোজিনী নাইডুকে উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। ১৯৪৯ সালে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

টেনিসে সর্বকালের সেরা ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচ

টেনিসে সর্বকালের সেরা ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচ
সৌভাগ্যবান বর্তমান সময়ের টেনিসপ্রেমীরা, সর্বকালের সেরা তিন খেলোয়াড়কে একসাথে দেখতে পারছেন

রজার ফেদেরার। রাফায়েল নাদাল। নোভাক জোকোভিচ। আধুনিক টেনিসের ‘বিগ থ্রি’। এই তিনজনই যে পুরুষদের টেনিসে সর্বকালের সেরা তিনজন, তা নিয়ে খুব কম মানুষই দ্বিমত পোষণ করে। আর এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে তাঁদের পরিসংখ্যান। রজার ফেদেরার গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন ২০ বার, রাফায়েল নাদাল ১৮ বার ও নোভাক জোকোভিচ ১৫ বার। এই তিনজনের মিলিত গ্র্যান্ড স্লামের সংখ্যা ৫৩! বলাই বাহুল্য, তাদের মতো এত বেশি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি কেউ জিততে পারেননি পুরুষদের টেনিসের ইতিহাসে। আর আজকের দিনের টেনিসামোদীরা নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন—এই তিন কিংবদন্তি বর্তমানে, একই সময়ে খেলে চলেছেন বলে। সর্বকালের সেরা এই তিন খেলোয়াড়কে একসাথে দেখতে পারছেন বলে।

তারা যেসময় খেলছেন, সেই সময়ে গ্র্যান্ড স্লাম ছাড়াও অন্যান্য ট্রফিতেও এই ত্রয়ীর আধিপত্য প্রচণ্ড। বিভিন্ন মাস্টার টুর্নামেন্টের বেশিরভাগের শিরোপা যাচ্ছে এই তিনের ঝুলিতে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরেই যেন এই ত্রয়ীর একাধিপত্য টেনিসে। এই দেড় দশক সময়কালে মেয়েদের টেনিস দেখেছে অনেক উত্থান-পতন। ফ্রেঞ্চ ওপেনে যেমন নাদাল, উইম্বলডনে যেমন ফেদেরার বা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যেমন জোকোভিচ টানা শিরোপা জিতেছেন, মেয়েদের টেনিসে এমনটা দেখা যায়নি গত দেড় দশকে। গত দেড় দশকে এক সেরেনা উইলিয়ামস ছাড়া আর কোনো নারী টেনিস তারকাই সেভাবে টিকে থাকতে ও সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। তাও ফেদেরার, নাদাল ও জোকোভিচের মতো অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা নিয়ে নিজেকে তিনি ধরে রাখতে পেরেছেন খুব কমই। গত দশ বছরে প্রায় সব গ্র্যান্ড স্লামেই শিরোপা ঘুরেফিরে গিয়েছে এই ত্রয়ীর হাতে। মাঝে অ্যান্ডি মারে, স্টান ভাভরিঙ্কা ও মারিন চিলিচের মতো কেউ কেউ ৩-৪টি স্লাম শিরোপায় ভাগ বসালেও তারা ধরে রাখতে পারেননি তাদের এই সাফল্য। হতে পারেননি ধারাবাহিক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289905892.jpg

একে অন্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক


২০১৭-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ২০১৯-এর উইম্বলডন পর্যন্ত টানা ১১টি গ্র্যান্ড স্লাম ভাগ করে নিয়েছেন এই ত্রয়ী। জোকোভিচ জিতেছেন চারটি, নাদাল তিনটি আর ফেদেরার তিনটি। অথচ তাদের প্রত্যেকেই ত্রিশোর্ধ্ব। নেই তারুণ্যের মধ্যগগণে। ছেলেদের টেনিসে এই তিনজনের দীর্ঘদীনের সাফল্যের রহস্য কী?

প্রথমেই বলা যেতে পারে টেনিসের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা বা কমিটমেন্টের কথা। এই কমিটমেন্ট না থাকার কারণে অনেক পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়ই লম্বা করতে পারেননি তাদের ক্যারিয়ার। তাদের প্রায় সমসাময়িক লেটন হিউয়িট, মারাত সাফিনরা প্রথমদিকে বেশ কিছু সাফল্য পেলেও, র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেও, তারা তা ধরে রাখতে পারেননি দীর্ঘদিন। ফেদেরারকে দেখলেই ব্যাপারটা অনেকটা বোঝা যায়। ৩৮ বছর বয়সে যেখানে সবাই অবসরের কথা ভাবে, সেখানে তিনি এখনো খেলে চলেছেন সমান দাপটে। জিতছেন শিরোপাও। ১৯৯৮ থেকে পেশাদার সার্কিটে খেলে চলেছেন তিনি। তবু, অচিরেই অবসরে যাবেন, এই ভাবনা তার এখনো নেই। একই ব্যাপার খেটে যায় নাদাল ও জোকোভিচের বেলায়। ৩৩ ও ৩২ বছর বয়সী এই দুজনও টেনিসকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে টিকে আছেন। ইনজুরির কারণে খেলা থেকে দূরে সরে থাকতে হয় তাদের মাঝেমাঝেই। বিশেষ করে, এই ক্ষেত্রে নাদালের কথা বলতে হয় আলাদা করে। ইনজুরির হানা তার ক্যারিয়ারে নিয়মিত একটা ঘটনা। এমনকি টুর্নামেন্ট চলাকালেও অনেক সময় আক্রান্ত হয়েছেন ইনজুরিতে। তবুও ফাইনালে উঠেছেন, যদিও হয়তো শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি শিরোপা। যেমন, ২০১৭-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এই ঘটনাই ঘটেছিল তার সাথে। তেমনি জোকোভিচও মূলত ইনজুরির কারণে ২০১৬’র উইম্বলডন থেকে থেকে ২০১৮’র ফ্রেঞ্চ ওপেন পর্যন্ত পর্যন্ত জিততে পারেননি একটিও গ্র্যান্ড স্লাম। কিন্তু দুরন্ত প্রতাপে ফিরে এসে তিনি জিতে নিয়েছেন পরের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লামের চারটিই। তাই, নিঃসন্দেহে তাদের সাফল্যের আরেকটি কারণ এই হার না মানা মনোভাব।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও তাদের সাফল্যের আরেকটি কারণ। কী হার্ড কোর্ট, কী ক্লে কোর্ট, কী গ্রাস কোর্ট—সবখানেই শিরোপা জিতেছেন এই ত্রয়ী। তাই, চার ধরনের গ্র্যান্ড স্লামই পকেটে আছে তাদের। যে নোভাক জোকোভিচ জিততে পারছিলেন না ফ্রেঞ্চ ওপেন, তিনিও ২০১৬ সালে তা জিতে দেখালেন। এরকম অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আছে টেনিস ইতিহাসের খুব কম খেলোয়াড়েরই। ফেদেরারের ফোরহ্যান্ড, নাদালের ব্যাকহ্যান্ড, জোকোভিচের গ্রাউন্ড স্ট্রোকের মতো অসাধারণ ক্রীড়াশৈলি, খুব কম টেনিস খেলোয়াড়ই দেখাতে পেরেছেন।

আসুন, এবার দেখা যাক গত দেড় যুগে এই তিন মহাতারকার অর্জনগুলো এবং করা যাক পারস্পারিক সাফল্যের একটা তুলনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289973138.jpg
৩৮ বছর বয়সেও সমান দাপটে খেলে চলেছেন রজার ফেদেরার


ফেদেরারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ২০০৩ সালের উইম্বলডন জয়। অন্যদিকে নাদাল ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেও শিরোপা জেতেন ২০০৫ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনে। জোকোভিচ ২০০৩ সাল থেকে পেশাদার আন্তর্জাতিক টেনিসে বিচরণ করলেও প্রথম বড় সাফল্য তার হাতে ধরা দেয় ২০০৮ সালে। সেবছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতেন।

বিগত ১৫ বছরে টেনিসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তিন টেনিস তারকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছেন রজার ফেদেরার। তিনি সর্বমোট ৯৮টি প্রতিযোগিতামূলক টেনিস শিরোপা জিতেছেন ও রানার্সআপ হয়েছেন আরো ৫১ বার। ফেদেরারের ৯৮টি টেনিস শিরোপার মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার সংখ্যা ২০টি। তিনি মোট ১০ বার পরাজিত হয়েছেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে। খেলোয়াড়ি জীবনের ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮টি জিতেছেন উইম্বলডনে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও মাস্টার্স শিরোপা প্রতিযোগিতায় ফেদেরার খেলেছেন ৪৭টি ফাইনাল, যার মধ্যে জিতেছেন ২৭টি ও হেরেছেন ২০ বার। এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর প্রতিযোগিতায় ১০ বার ফাইনাল খেলে জিতেছেন ৬ বার ও হেরেছেন ৪ বার। মাস্টার্স ও এটিপি ছাড়াও ফেদেরার ২০১৪ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের একমাত্র ডেভিস কাপ জেতেন। সর্বমোট ফাইনাল খেলা ও শিরোপার সংখ্যার হিসেবে নাদাল ও জোকোভিচের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ফেদেরার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566290018405.jpg
অদম্য মানসিকতা বড় শক্তি নাদালের। বারবার ইনজুরিতে পড়েও ফিরে এসে জিতেছেন শিরোপা


স্প্যানিশ কিংবদন্তি টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল টেনিস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১৮টি) গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে জিতেছেন ৭৬টি টেনিস শিরোপা ও হেরেছেন ৩৬টি ফাইনালে। তিনি তার ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার মধ্যে ১২টিই জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে ক্লে কোর্টে। তাই টেনিস বিশ্বে নাদাল পরিচিত ‘ক্লে কোর্টের রাজা’ হিসেবে।

১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের বিপরীতে নাদাল হেরেছেন ৭টি ফাইনালে। ফেদেরার ও জোকোভিচের চেয়ে মাস্টার্স শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে অবশ্য এগিয়ে রয়েছেন নাদাল। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জিতেছেন সর্বমোট ৩২টি মাস্টার্স শিরোপা ও হেরেছেন আরো ১৬টি ফাইনাল। মাস্টার্স ওপেনে সাফল্যের দিক থেকে তার সমকক্ষ টেনিস খেলোয়াড় ইতিহাসে বিরল। তবে তিনি এটিপি ট্যুর প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেননি, হেরেছেন ২টি ফাইনালে। কিন্তু ৪ বার ডেভিস কাপের ফাইনাল খেলে জিতেছেন ৪ বারই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566290067509.jpg
অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বড় শক্তি জোকোভিচের


২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার মধ্যদিয়ে টেনিস বিশ্বের লাইমলাইটে আত্মপ্রকাশ ঘটে জোকোভিচের। সেই থেকে এখন পর্যন্ত নোভাক জোকোভিচ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলেছেন ২৩ বার। ১৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের বিপরীতে হেরেছেন ৯টি ম্যাচে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও অন্যান্য টেনিস প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য ধরে রেখেছেন তিনি। মাস্টার্স টেনিস ওপেনে সর্বমোট ৪৪টি ফাইনাল খেলেছেন জোকোভিচ। এর মধ্যে জিতেছেন ৩০টি ও হেরেছেন ১৪টি ম্যাচে।

এটিপি ট্যুর শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে ফেদেরারের পরেই জোকোভিচের অবস্থান। মোট ৬ বার ফাইনাল খেলে তিনি শিরোপা জিতেছেন ৫ বার। এছাড়াও খেলোয়াড়ি জীবনের একমাত্র ডেভিস কাপ জেতেন ২০১০ সালে। শিরোপার সংখ্যা বিবেচনায় ফেদেরারের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও নাদালের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছেন ৬৯টি টেনিস শিরোপা জেতা এই সার্বিয়ান তারকা।

টেনিস বিশ্ব যখন তিন মহাতারকার নিয়ন্ত্রণে, তখন তাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অবশ্যই র‍্যাঙ্কিং নিয়েও আলোচনা করা জরুরি।

টেনিস ইতিহাসে সর্বাধিক সময় ধরে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা খেলোয়াড় রজার ফেদেরার। তিনি সর্বমোট ৩১০ সপ্তাহ টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানে ছিলেন। ফেদেরারের পরেই জোকোভিচের অবস্থান। তিনি মোট ২২৩ সপ্তাহ টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। নাদাল অবশ্য ফেদেরার ও জোকোভিচ থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন র‍্যাঙ্কিংয়ের দিক দিয়ে। প্রথম অবস্থানে ছিলেন মোট ১৮২ সপ্তাহ।

টেনিস বিশ্বের সেরা এ তিন খেলোয়াড়ের অলিম্পিকেও রয়েছে সফলতা ও ব্যর্থতা। অলিম্পিকে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফল নাদাল। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে তিনি স্বর্ণপদক জিতেছেন স্পেনের হয়ে। অন্যদিকে অলিম্পিকে ফেদেরারের রয়েছে রৌপ্যপদক ও জোকোভিচের রয়েছে একটি ব্রোঞ্জপদক।

কাজেই, টেনিসের এই তিন মহারথী যে সর্বকালের সেরা তিন টেনিস খেলোয়াড়, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে খুব কম মানুষের। ‘সর্বকালের সেরা’ এই তিনকে একসাথে দেখতে পাচ্ছেন বলে নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান বলে ভাবতেই পারেন বর্তমান সময়ের টেনিসামোদীরা। একই সময়ে এই তিনজনকে খেলতে দেখার পাশপাশি, এদের মধ্যকার ত্রিমুখী লড়াইটাও কিন্তু কম উপভোগ্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, পরস্পরের মোকাবেলায় এই তিনজনের জয়-পরাজয়ের সংখ্যার ভেতরও নেই খুব একটা পার্থক্য। কে সেরা সেটা নিয়ে তাদের ভক্তদের মধ্যে নিশ্চয় চলে অন্যরকম এক লড়াই। কিন্তু, সর্বকালের সেরা টেনিস-ত্রয়ী যে এই তিনজনই, এনিয়ে লড়াই করতে মনে হয় না এগিয়ে আসবে খুব বেশি মানুষ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র