Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কেন আলোর মুখ দেখছে না রোহিঙ্গাদের নিয়ে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো?

কেন আলোর মুখ দেখছে না রোহিঙ্গাদের নিয়ে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো?
রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: বার্তা২৪.কম
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
কক্সবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথম পর্যায়ে ২৯৮ জন রোহিঙ্গাকে স্বদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু ওইদিনই মিয়ানমারে না যাওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে রোহিঙ্গারা। এতে থমকে যায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

সেদিন রোহিঙ্গাদের স্বদেশে পাঠাতে প্রশাসন যখন ব্যস্ত, তখন দাতা সংস্থাগুলো ছিল নীরব। অভিযোগ আছে, প্রত্যাবাসনের বিরোধিতাসহ রোহিঙ্গাদের সরকারের সিদ্ধান্ত বিরোধী আন্দোলনের উসকানি দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো।

জানা যায়, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে ঐক্যমতে আসে বিশ্ব। কিন্তু কার্যত তা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ভূমিকা দেখা যায়নি। বরং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করলেই রোহিঙ্গারা তাদের স্ব-স্ব ক্যাম্পে প্রত্যাবাসন বিরোধী বিক্ষোভে নেমে পড়ে। এ অবস্থায় বার বার চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটা তার দেয়ার প্রস্তাবে আপত্তি, রোহিঙ্গাদের স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা না করতে সরকারি আদেশের বিরোধীতাসহ নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে দাতাসংস্থাগুলো।

অন্যদিকে ক্যাম্পগুলোতে বেড়েই চলেছে হত্যা, গুম, অপহরণসহ নানা ঘটনা। রয়েছে মাদক পাচারের ঘটনাও। সরকারের ইয়াবা বিরোধী অভিযানের মধ্যেও একাধিক রোহিঙ্গা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। আটকও হয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করছে কক্সবাজারের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আবু তাহের চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে জানান, মিয়ানমার এমনিতেই রোহিঙ্গাদের নিতে রাজি নয়। পরিকল্পিতভাবে তাদেরকে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। সেখানে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ তৈরি না করে যদি তাদের এখানে থাকার জন্য উৎসাহিত করা হয়, তাহলে দাতা সংস্থাগুলোর ভূমিকা মিয়ানমারের পক্ষেই যায়।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা ইন্টার সেক্টর কো অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) মুখপাত্র সৈকত বিশ্বাস জানান, তারা কখনোই প্রত্যাবাসন বিরোধী নয়। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রণোদিত। দাতা সংস্থাগুলো চায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমার ফিরে যাক। এটাই এ সংকট সমাধানের একমাত্র মাধ্যম।

তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে নীরব থাকলেও তাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে ঠিকই সোচ্চার দাতা সংস্থাগুলো। তাদেরই আপত্তির মুখে থমকে আছে রোহিঙ্গা স্থানান্তর প্রক্রিয়া। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এক মহড়া অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আপত্তির কারণে ভাসানচর প্রক্রিয়া থমকে গেছে। তারা ৫২টি শর্ত দিয়েছে। যে শর্তগুলো পূরণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। পুনরায় ভাসানচর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র স্টিফেন পেট্টিসন বার্তা২৪.কমকে জানান, ভাসানচর রোহিঙ্গাদের জন্য কতোটা নিরাপদ তা যাচাই করার প্রয়োজন আছে। এখানে তারা যে সকল সুবিধা পাচ্ছে তা ভাসানচরে পাবে কিনা জানতে হবে। ভাসানচর এখন পর্যন্ত একটি প্রস্তাবনা। এ বিষয়ে তারা আরও কথা বলতে চান। জানতে চান বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৪ আগস্টে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন প্রায় ১১ লাখ। উখিয়া-টেকনাফের প্রায় ৩৪টি ক্যাম্পে অস্থায়ী বসবাস তাদের। স্বাস্থ্য-স্যানিটেশনসহ সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

আপনার মতামত লিখুন :

ইয়াবা পাচারে নতুন সংযোজন ‘রোহিঙ্গা’

ইয়াবা পাচারে নতুন সংযোজন ‘রোহিঙ্গা’
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ইয়াবার প্রবেশদ্বার খ্যাত টেকনাফে মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসে। তখন থেকেই ইয়াবা বিরোধী অভিযান জোরদার হয়।

ইয়াবার আস্তানা ও কারবারিদের একের পর এক হানায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুকযুদ্ধে ১০১ জন মাদক কারবারী নিহত হয়। এর মাঝে পুলিশের ৭৪ জন, বিজিবির সঙ্গে ১৮ জন, র‌্যাবের সঙ্গে ৭ জন নিহত হন। তবে নিহতদের মধ্যে নারীসহ অনেক রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আইনশৃংখলা বাহিনীর ভয়ে ১০২ মাদককারবারী আত্মসর্ম্পন করেছে। অন্যান্য মাদক কারবারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জানা যায়, ইয়াবা কারবার কিছুটা থামতে না থামতেই রোহিঙ্গা শিবির ভিত্তিক ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার এখনো থামেনি, তবে আগের মতো ইয়াবার বেপরোয়া গতি এখন আর নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থানে কারবারিরা তেমন সুবিধা করতে পারছেন না।

তবে রোহিঙ্গা ইয়াবা সিন্ডিকেট এখনো মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান দেশে ঢুকাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নতুন করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারে যুক্ত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আর্ত্মসমপণে ইয়াবা পাচার থামছে না বরং পাচারে নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, সহজলভ্য ও সস্তা মাদক বহনকারী হয়ে উঠেছে শিবিরের রোহিঙ্গারা। পাচারকারী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে রোহিঙ্গা পুরুষ ও নারীরা।

এদিকে বিভিন্ন সংস্থার গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোহিঙ্গা আসার পর শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় কক্সবাজারে ইয়াবা আটকের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গেছে মাদক মামলা ও আসামির সংখ্যাও। তবে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে হটলাইনে যাওয়ায় চলতি বছরে মাদক পাচার কিছুটা কমেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561507718945.jpg

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে মাদকের চাহিদার কারণে সরবরাহও আছে, কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করা না গেলে চাহিদা বাড়তেই থাকবে, যার কারনে বাংলাদেশকে মাদক পাচারের রুট হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে আটক হওয়া রোহিঙ্গারা পরিচয় লুকানোর কারণে মাদক সংক্রান্ত মামলায় রোহিঙ্গা আটকের সঠিক পরিসংখ্যা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত এক বছরে কক্সবাজারের ৩৪ রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক বিক্রি ও সেবনের আখড়া গড়ে উঠেছে। ইয়াবা মজুতের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে জনবহুল এই ক্যাম্পগুলো। তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৈরি করা ইয়াবা কারবারির তালিকায়ও ১৩ জন নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গার নাম রয়েছে।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতারা জানান, ইয়াবা ব্যবসায় বেশি জড়াচ্ছে শিবিরের স্বামীহারা নারীরা। তারাই এখানে সবচেয়ে অসহায়। তারা সীমান্তরক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে ওপারে যাওয়া-আসার নিরাপদ পথ চেনে।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভলপমেন্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আলমের মতে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের এ কাজে জড়াচ্ছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রচারনা চালানো হচ্ছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের পর ইয়াবার পাচার বেড়ে গেছে। যে কারণে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ ও ১৮ সালে অনেক বেশি ইয়াবার চালান ও পাচারকারী আটক হয়েছে। তবে মাদক বিরোধেী অবস্থানে ২০১৯ সালে অনেকটা কমে এসেছে। রোহিঙ্গা শিবিরকে নিরপদ মনে করে অনেক ইয়াবা কারবারি সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘সীমান্তের ইয়াবা বন্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছেন। মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে ৭৪ জন শীর্ষ ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে এবং ১০২ জন কারবারি আত্মসমর্পন করেছেন। এছাড়া অনেক ইয়াবা কারবারি পালিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয় লোকজন এখন ইয়াবা কারবারে জড়াতে চাচ্ছেনা। তবে রোহিঙ্গা এখন নতুন করে ইয়াবা পাচারে চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও কারবারিদের পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে এবং তাদের মাঝে মাদক বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

র‌্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্প ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহতাব বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর স্থানীয় অনেক ইয়াবা পাচারকারীও রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। যে কারণে শিবিরগুলোতে র‌্যাবের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।’

টেকনাফস্থ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খাঁন বার্তা২৪.কমকে বলেন, সীমান্তে ইয়াবার পাচার রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গত ৬ মাসে বিজিবির অভিযানে ৪২ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে এবং ১৮ জন ইয়াবা কারবারি বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই রোহিঙ্গা নাগরিক।

বিশেষ অভিযানেও থেমে নেয় ইয়াবার পাচার

বিশেষ অভিযানেও থেমে নেয় ইয়াবার পাচার
আটককৃত ইয়াবা, ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৬ জুন আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস। বর্তমান সময়ে বিষাক্ত ইয়াবার ফাঁদে পড়েছে সারাদেশ। সরকারের সিদ্ধান্তে বিশেষ অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। কিন্তু শত অভিযানেও থামানো যায়নি ইয়াবা পাচার। কথিত বন্দুকযুদ্ধে শত ইয়াবা কারবারি নিহত হলেও মরণ নেশা ইয়াবা পাচার থেকে বিরত থাকেনি অনেকেই। প্রতিনিয়ত র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির হাতে আটক হচ্ছে ইয়াবার বড় বড় চালান। 

আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১০২ ইয়াবা কারবারী আত্মসমর্পণের পরও থামনো যাচ্ছে না ইয়াবার বিস্তার। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে এ পর্যন্ত মারা গিয়েছে শতাধিক ইয়াবা কারাবারি। তাদের মধ্যে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে দেশের টপ ইয়াবা কারবারী হাজী সাইফুল করিমও নিহত হয়। এছাড়া প্রতিনিয়ত আটক হচ্ছে ইয়াবার বড় বড় চালান। 

এর মধ্যে, গত ২ জুন টেকনাফের নাফ নদীর দমদমিয়া এলাকা দিয়ে প্রবেশের সময় ৯ লাখ ৬২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। নাফনদী পাড়ি দিয়ে ইয়াবাগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করছিল বলে জানায় বিজিবি।

রোববার (২৬ মে) ভোরে কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবাসহ আব্দুল আমিন নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে ১ লাখ ইয়াবা ও ৩ লাখ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফের হাতিরঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। আটক আমিন কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলের ফজলুল হকের ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পালংখালী থেকে ১৯ হাজার ৭০০ ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করে র‌্যাব। এসময় একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়। গত ২০ মে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজার লিংরোড থেকে ৫ হাজার ইয়াবাসহ দুইজনকে আটক করা হয়। এ ইয়াবাগুলো ঈদ উপলক্ষে তারা খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল বলে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561492477761.jpg

এছাড়াও গত ২৩ মে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদফতরে গোয়েন্দারা অভিযান চালিয়ে ৯৪০ সাদা রংয়ের ইয়াবাসহ টেকনাফের পুরান পল্লানপাড়ার মৃত সৈয়দ উল্লাহর স্ত্রী জাহেদা বেগম (৪৭) কে আটক করে।

২৪ মে রাত ১১ টার দিকে শেখ আজিজুল মার্কেটের সামনে থেকে এক হাজার ইয়াবাসহ মো. জুবাইর (২০) নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। একই দিন গফুর মার্কেটের সামনে থেকে ১ হাজার ইয়াবাসহ ছৈয়দুল ইসলাম (২০) নামে একজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র কক্সবাজার জেলার সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘দেশে মাদক বিরোধী অভিযান কঠোর হলেও রাঘববোয়ালরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদি শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাহলে এ ইয়াবা বিস্তার থামানো কঠিন হবে। যদিও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।’ 

কক্সবাজার পিপলস ফোরামের মুখপাত্র এইচ এমন নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, সাইফুল করিম নিহত হলেও তার আশে-পাশের ব্যবসায়ীরা এখনো সচল রয়েছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। কিছু আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য এখনো রহস্যজনক ভূমিকায় রয়েছে ইয়াবা দমনে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

কক্সবাজার র‌্যাব ১৫ অধিনায়ক উইন কমান্ডার আজিম আহমেদ বার্তা ২৪.কমকে বলেন, ‘র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযানে  গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটেছে। তবে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সচরাচর ধরা না পড়ায় ইয়াবার বিস্তার থামাতে বেগ পেতে হচ্ছে। আশা করছি চলমান অভিযানে ইয়াবা নির্মূল সম্ভব। এ অভিযান অব্যাহত রাখবে র‌্যাব।’ 

কক্সবাজার মাদক দ্রব্য অধিদফতরের সহকারি পরিচালক সোমেন মন্ডল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শুধু ইয়াবা নয়, এ সীমান্ত এলাকা দিয়ে পাচার হচ্ছে গাঁজাও। সম্প্রতি আমাদের গোয়েন্দা কয়েক কেজি গাঁজাসহ দুই নারীকে আটক করে। আমরা অভিযান আরও জোরদার করছি।’

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চেকপোস্টে তল্লাশির সময় আটক হচ্ছে ইয়াবা পাচারাকারীরা। প্রতিদিনয় কোন না কোনভাবে আটক হচ্ছে ইয়াবার চালান। তাই বিজিবি সতর্ক রয়েছে।’

উল্লেখ্য যে, ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণের পরও ইয়াবার পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকটি বড় বড় চালান আটক হয়। কিন্তু কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না ইয়াবা পাচার। বন্দুকযুদ্ধে ইয়াবা কারাবারি নিহতের সংখ্যাও কম নয়। আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসেও মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার কক্সবাজারের মানুষ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র