Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাবার সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমে মেয়ে নিখোঁজ

বাবার সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমে মেয়ে নিখোঁজ
নদীতে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর সন্ধ্যান করছেন স্থানীয়রা / ছবি: বার্তা২৪
খন্দকার সুজন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
মানিকগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

বাবা-মা’র সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছে আদিয়া ইসলাম (১০) নামের এক স্কুলছাত্রী। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৮ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এ ঘটনা ঘটে। আদিয়া ইসলাম ঈদের ছুটিতে মা-বাবার সাথে নানা বাড়িতে ঘিওরে বেড়াতে এসেছিল। আদিয়া মিরপুর গার্লস স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

ঘিওর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত ফায়ারম্যান আব্দুল আলিম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কারণে রাত ৮টার দিকে উদ্ধার অভিযান প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো খোঁজ না পাওয়া গেলে আগামীকাল (রোববার) সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান চলবে।’ 

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আনিছুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বার্তা২৪.কমকে জানান, ঢাকার মিরপুর শাহআলী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম ঈদের ছুটিতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘিওরের কুস্তা গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। দুপুরে দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি ও তার স্ত্রী বাড়ির পাশের ইছামতি নদীতে গোসল করতে যান।

এ সময় আমিরুল ছোট মেয়েকে কোলে এবং বড় মেয়ে আদিয়াকে কোমড়ে জড়িয়ে গোসল করছিলেন। হঠাৎ দেখেন বড় মেয়ে আদিয়া নেই। কখন কোমড় ছেড়ে আদিয়া গভীর পানিতে তলিয়ে গেছে তা টেরও পাননি তিনি। এ সময় স্বামী-স্ত্রীর আহাজারীতে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন।

তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা আদিয়াকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায়। কিন্তু নদীর স্রোত থাকায় তারা ব্যর্থ হন। পরে ঘিওর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তাদের ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করে।’ 

 

 

 

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট
ফাইল ছবি

ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জের ধরে বৃহস্পতিবার থেকে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম লিটন ও জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী।

ঢাকা ও সিরাজগঞ্জ বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের জেরে গত ছয় দিন ধরে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।

এর আগে গত মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সমাধানের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় নেতারা। এ সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে ১৮ জুলাই থেকে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন তারা।

বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করছে সিরাজগঞ্জ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো।

সিরাজগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম লিটন জানান, ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে।

এ বিষয়ে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী জানান, ঢাকার মহাখালী ও গাবতলীর বাস মালিক সমিতির নেতারা সিরাজগঞ্জে বাস কাউন্টার দাবি করে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, আলোচনায় সমাধান না হওয়ায় সিরাজগঞ্জের বাসগুলো ঢাকায় প্রবেশে বাধা দেন ঢাকার মালিক সমিতির নেতারা। এ ঘটনায় গত ছয় দিন ধরে ঢাকা-সিরাজগঞ্জ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ থেকে সিরাজগঞ্জে বাস, ট্রাক, মিনিবাস কোচ, কাভার্ডভ্যানসহ রিকশা-ভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে।

কাজিপুরে রিংবাঁধ ভেঙে ৫ হাজার বাড়ি প্লাবিত

কাজিপুরে রিংবাঁধ ভেঙে ৫ হাজার বাড়ি প্লাবিত
রিংবাঁধ ভেঙে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার আটাপাড়া পয়েন্টে যমুনার কোল ঘেঁষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মিত রিংবাঁধটি ভেঙে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে রিংবাঁধটি ভেঙে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যায় কাজিপুর নতুন মেঘাই এলাকা প্লাবিত হয়ে বাড়িঘরে পানি উঠেছে। অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে বিলাপ করছে। বাঁধ ভেঙে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় কাজিপুর-সোনামুখী সড়কে সরাসরি বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563415465474.jpg

মেঘাই নতুন পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া, আনিছা ও খোদেজা জানান, হঠাৎ করে একঘণ্টার মধ্যে তাদের বাড়িঘর তলিয়ে যায়। এ কারণে এক কাপড়েই ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। আসবাবপত্র সব নষ্ট হয়ে গেছে। রাতে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। এখন নৌকা ছাড়া বাড়িতেও যাওয়া সম্ভব না। রান্না করতে না পারায় পরিবারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্রামের সব মানুষ ওয়াপদা বাঁধের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেছে।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, ফায়ার সার্ভিস ও দমকল বাহিনীর কর্মীদের সহায়তায় অনেক পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বসতভিটা মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যাওয়ায় কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563415481999.jpg

এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ৮১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৮১টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ২৫৫ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অধিকাংশ এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি।

এছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দিনরাত পানির মধ্যে চলাফেরা করায় অনেকের হাত-পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলে গবাদি পশু রাখার জায়গা না থাকায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র