Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

নকলে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত

নকলে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত
কলেজ গেটের সিসিটিভি ফুটেজে শিক্ষকের ওপর ছাত্রলীগ নেতাদের হামলা/ ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পাবনা


  • Font increase
  • Font Decrease

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান।

লাঞ্ছিত শিক্ষক বার্তা২৪.কম-কে জানান, গত রোববার (১২ মে) কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপর এলোপাথাড়ি হামলা চালান।

তিনি জানান, ৬ মে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার কক্ষে দুইজন পরীক্ষার্থীর অসুদপায় অবলম্বন চোখে পড়ায় তিনি তাদের খাতা সাময়িক সময়ের জন্য জব্দ করেন। এ ঘটনায় ওই পরীক্ষার্থীরাসহ ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়।

হামলার জন্য শিক্ষক মাসুদুর রহমান শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনকে দায়ী করেন।

অভিযুক্ত শামসুদ্দিন জুন্নুন বুধবার (১৫ মে) রাতে বলেন, ‘এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করছিলেন, সে সময়ে ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করতে এবং উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে যাই।’

কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কলেজ গেট থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হওয়ার সময় কয়েকজন যুবক এসে অতর্কিত হামলা চালান শিক্ষক মাসুদুর রহমানের ওপর। তাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি ও থাপ্পড় মারা হয়। ফেলে দেওয়া হয় তার মাথার পাগড়িও। একপর্যায়ে তিনি বেরিয়ে যেতে চাইলে পেছন থেকে এসে তাকে লাথি মারে এক যুবক।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় ঐ দিনই (১২ মে) কলেজ কর্তৃপক্ষ ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. কৃষ্ণেন্দু কুমার পালকে প্রধান করে ও ড. ইসমত আরা ও সহকারি অধ্যাপক হারুনুর রশিদসহ কলেজের কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঐ দুই পরীক্ষার্থীর অসুদপায় অবলম্বনের সত্যতা মিলেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রলীগের বেশ কয়েক জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।‘

এই ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছিত করায় কলেজ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠার পাশাপাশি উত্তেজনা রয়েছে।

এ বিষয়ে সর্বশেষ জানতে বুধবার রাতে শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম কুদ্দুসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

তদন্ত কমিটির প্রধান কৃষ্ণেন্দু কুমার পাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্তের পর প্রাথমিকভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক নেতা ও কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টা যেহেতু এভাবে সমাধান করা যচ্ছে না। উপরন্তু পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে, সেহেতু এখন এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেব।’

লাঞ্ছিত শিক্ষক মাসুদুর রহমানের ঘনিষ্ট একজনের সাথে আলাপকালে জানা যায়, বুধবার (১৫ মে) রাতেই ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দিন জুন্নুনসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নামে থানায় মামলা দায়ের করা হতে পারে।

এদিকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক বলেন, ‘শুনেছি এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। লাঞ্ছিত শিক্ষক বা তদন্ত কমিটি নতুবা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

স্বচ্ছ নির্বাচনে উদাহরণ তৈরি করল পোশাক শ্রমিকরা

স্বচ্ছ নির্বাচনে উদাহরণ তৈরি করল পোশাক শ্রমিকরা
ভোট দিচ্ছেন পোশাক শ্রমিকরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাজীপুর থেকে: কারখানায় উৎপাদন চলছে পুরোদমে। সুইং মেশিনে সেলাই হচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের পোশাক। আবার একইসঙ্গে চলছে ভোট উৎসব।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে এমন দৃশ্যই দেখা গেল গাজীপুরে চন্দ্রায় ইন্টারস্টফ এ্যাপারেলস লিমিটেড নামে তৈরি পোশাক কারখানায়।  

নিরাপত্তার নামে নেই কোন নজরদারি। কিংবা কাউকে ভোট দেবার বিষয়ে চাপাচাপিও নেই। চারপাশে কর্মমুখর পরিবেশ। শ্রমিকরা যাচ্ছেন পোলিং কেন্দ্রে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে নিজের ভোট দিচ্ছেন। আবার ফিরে এসে নিজের কাজে যোগ দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ।

পার্টিসিপেশন কমিটি (পিসি) নামে পরিচিত  শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি নির্বাচন ঘিরে শ্রমিকদের চোখে মুখে নতুন দিনের সোনালী স্বপ্ন।

রোজিনা খাতুন নামে এক অপারেটর জানান, আমাগো ইলেকশন থাইকা সবার অনেক কিছু শেখার আছে। এ ইলেকশনে স্যাররা (কর্মকর্তারা) যেভাবে নজরদারি করছেন ভোট শেষ হইলে পরে কেউ কারচুপির অভিযোগ করতে পারে না।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় নির্বাচন কমিশনার ও কারখানার জেনারেল ম্যানেজার আমজাদ হোসেনের সঙ্গে।

তিনি জানান, ৪ হাজার ৬০০ শ্রমিক স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এদের সংখ্যা হবে ১৮ জন। এদের মধ্য থেকেই আবার একজনকে নির্বাচিত করা হবে সহ-সভাপতি হিসেবে।

কারখানার একজন পরিচালক পদাধিকার বলে সভাপতি। আর সহ-সভাপতি ও নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা মিলেই নির্ধারণ করেন কারখানার কর্ম পরিবেশ।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কেবল শ্রমিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের চর্চা হচ্ছে না, তারা নিজেরাও সচেতন হচ্ছেন। তাদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবেন যিনি তাকেই যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (ওয়্যারহাউজ) আনজুর হোসেন জানান, বৈশ্বিক কারণে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানার মান বেড়েছে। শ্রম আইন ও বিভিন্ন বিদেশি ক্রেতাদের বেঁধে দেয়া শর্ত অনুযায়ী এখন কারখানায় পার্টিসিপেশন কমিটি (পিসি) নামে পরিচিত  শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হচ্ছে। এটা অবশ্য আমাদের কারখানায় নতুন নয়। এর আগেও এমন তিনটি নির্বাচন হয়েছে।

দুই বছর মেয়াদী এই কমিটি শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে বলেন আনজুর হোসেন।

কারখানার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং ও মার্সেন্ডাইজিং) এস এম শফিকুর রহমান, এ ধরনের নির্বাচন কারখানার কর্ম পরিবেশকে নি:সন্দেহে উন্নত করে। কারখানার উৎপাদনশীলতা বাড়লে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ে। শিল্প রক্ষায় মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক রক্ষা জরুরি। আর এ নির্বাচন সেই বন্ধনকে আরো জোরদার করবে বলে আশা করছেন এস এম শফিকুর রহমান।

কারখানার সিনিয়র কাটারম্যান, শ্রমিক ও মালিক অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি কমিটির বিগত সহ-সভাপতি তুহিন হোসেন এবারও নির্বাচনে প্রার্থী।

তিনি জানান, এ নির্বাচন শ্রমিকদের সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি জানান, শ্রমিকরাই যে কারখানার প্রাণ আর শ্রমবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে সে বিষয়ে তারা সচেতন হচ্ছেন। তৈরি পোশাক খাত নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা হলে পুলিশ কিংবা আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এগিয়ে আসার আগেই নিজের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় নির্ভয়ে সামনে এসে দাঁড়ান শ্রমিকরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনজুর হোসেন বলেন, তৈরি পোশাক কারখানা ও ভবিষ্যতের জন্য একটা বড় সুরক্ষার দেয়াল তৈরি করতে পারে। সৃষ্টি করতে পারে তৈরি পোশাক খাতে নতুন দিগন্ত।  

বাংলাদেশ এখনো বিপদমুক্ত নয়: ইনু

বাংলাদেশ এখনো বিপদমুক্ত নয়: ইনু
কুষ্টিয়ায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, '২১শে আগস্টের খুনিদের আড়াল করা এবং খুনিদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তাই বাংলাদেশ এখনো বিপদমুক্ত নয়।'

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজে জেলা জাসদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, 'মহাজোটের ঐক্যের কারণে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়েছে, কিন্তু এখনো খুনি-জঙ্গি রক্ষার রাজনীতি অনেকে পরিত্যাগ করেনি এবং রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণ করেনি।'

এ সময় কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মহসীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ জাসদ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র