Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)
প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির দেখা হল না বিশ্বকাপে
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
লন্ডন
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে-

উইকেট মিস রিড:
 
ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশ। ৬৮ বলে ৬৪ রান করে সাকিব আউট। স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান তখন ৩০.২ ওভারে ১৫১। মোহাম্মদ মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পঞ্চম উইকেট জুটিতে ভালই দলকে সামনে বাড়াচ্ছিলেন। ৩৪ ওভারের সময় ড্রিঙ্কস বিরতিতে এই দুজনের কাছে একটা ম্যাসেজ গেলো ড্রেসিংরুম থেকে। কোচ স্টিভ রোডস ও টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের দেয়া সম্মিলিত একটা সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হলো ব্যাটিংয়ে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে। বলা হলো-এটা সাড়ে তিনশ’র বেশি রানের উইকেট। ম্যাচ জিততে হলে অতো বড় রানের স্কোর গড়তে হবে। মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ উইকেট তখন প্রায় সেট। কিন্তু ড্রেসিংরুম থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী দুজনেই দ্রুত রান তোলার জন্য হঠা তেড়েফুঁড়ে উঠলেন। সেই তাড়ায় দুজনেই উইকেট হারালেন। ১৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সেই যে বিপদে পড়লো আর সেখান থেকে বেরুতে পারলো না। গুটিয়ে গেলো ২৪৪ রানে।

ওভালের সেই ম্যাচে উইকেট রিডিংয়ে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের তথ্যটা ভুল ছিলো। ঐ উইকেটে বাংলাদেশ ২৬০ বা ২৭০ রান করতে পারলেই ম্যাচটা মুঠোয় থাকতো।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সময়েই সেই প্রমাণটা আরো স্পষ্ঠতর হলো। ২ উইকেটে সেই ম্যাচ হারের পর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুর্জাও মেনে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ওভালের নতুন উইকেট পড়তে ভুল করেছিলো তার দল।
 
এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভুলের শুরু সেখান থেকেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562413061816.png

মুশফিকের সেই রান আউট মিস:

রান আউটের এরচেয়ে সহজ সুযোগ আর কি হতে পারে? রানের জন্য দৌড়ালেন রস টেইলর। ননস্ট্রাইক প্রান্ত থেকে কেন উইলিয়ামসন একটু দেরিতে সাড়া দিলেন। তবুও দৌড়ালেন। মিড অন থেকে বল কুড়িয়ে তামিম দ্রুতগতিতে ছুঁড়লেন মুশফিকের দিকে। মুশফিক একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে ফেললেন। উইকেটের পেছনে দাড়িয়ে বল ধরার চেয়ে সামনে এগিয়ে এলেন। ভুলটা সেখানেই। সেই এগিয়ে আসার সময় তার গ্লাভসের স্পর্শে উইকেট ভেঙ্গে গেলো। বল হাতে জমা হওয়ার আগেই উইকেট ভাঙ্গলেন মুশফিক! উইলিয়ামসন তখনো ক্রিজে এসেই পৌছাননি। কিন্তু ক্রিকেটীয় আইনে এটা রান আউট নয়! নিশ্চিত রান আউট মিস! ভুলের দায়ের পুরোটাই উইকেটকিপার মুশফিকের।

উইলিয়ামসনের রান তখন ৮। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক সেই ম্যাচে শেষপর্যন্ত আউট হলেন ৪০ রানে। তার দল তখন বেশ সুসংহত অবস্থায়।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি হারের জন্য মুশফিককে দায়ি করেননি। জানান-এমন কিছু তো খেলারই অংশ!

ফিনিসার বোলার কই?

ওভালে শেষ ৬ ওভারে ম্যাচ জিততে নিউজিল্যান্ডের চাই ২৫ রান। উইকেট বাকি মাত্র তিনটি। লেজের সারির এই ব্যাটসম্যানরা তখন কাঁপাকাপি করছে। কিন্তু সেই সুযোগটা নিতে পারলো না বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের বুকে আরো কাঁপন ধরিয়ে দিতে পারতো তেজি কোনো বোলার। কিন্তু এমন পরিস্থিতি প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের পেটে প্রজাপতির নাঁচন ধরানোর মতো জোরে কোনো বোলার কই বাংলাদেশ দলে?

দুই পাশ থেকে ফাস্ট বোলার দাড় করিয়ে এমন পরিস্থিতিতে ইয়র্কারে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে চুরে একাকার করে দেয়ার মতো ম্যাচ ফিনিসার বোলারই যে নেই আমাদের!

রুবেল হোসেনের নাম বলছেন? এই ম্যাচে তো রুবেল হোসেন একাদশেই ছিলেন না!

আপনার মতামত লিখুন :

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম
সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে ও তামিম ইকবাল

নতুন মিশনে এখন শ্রীলঙ্কায় তামিম ইকবালের দল। মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে নেতৃত্ব পেয়েছেন তিনি। যদিও তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাচ্ছেন না দলের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানকে। তারপরও ছন্দ ধরে রাখতে প্রস্তুত তামিম। সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই শোনালেন টাইগারদের এই অধিনায়ক।

এই সফরটা নানা কারণে আলোচিত। কারণ গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর অনেকটাই স্থবির হয়ে ছিল দেশটি। ঠিক এমন সময়ে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক দল হিসেবে সফরে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অবশ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই তামিমদের। দুই দিনেই শ্রীলঙ্কার আতিথেয়তায় খুশি দলের ক্রিকেটাররা।

মাঠের লড়াইয়ের আগে কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব প্রসঙ্গটাও এসেছে। কারণ সদ্য শেষ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন তিনি। ছয়শর বেশি রান ও ১১ উইকেটে বিশ্বকাপের সেরা তারকার একজন। তাকে পাচ্ছেন না তামিম। ছুটিতে রয়েছেন সাকিব।

এই প্রসঙ্গে সোমবার তামিম ইকবাল বলছিলেন, ‘এই সিরিজের দলে যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই যোগ্য। যারা এই টিমে নেই আমি আসলে তাদের নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। সবাই জানে সাকিব স্পেশাল। দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ খেলে এসেছে ও। কিন্তু এই সফরে নেই। তাই তার বিষয়ে আমরা কথা না বলি। প্রথম ওয়ানডেতে যে ১১ জন খেলার সুযোগ পাবে, আমি নিশ্চিত তারা সুযোগটা কাজে লাগাবে।’

নিরাপত্তা ইস্যুটাও এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। কড়া নিরাপত্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কারণটাও সংগত। গত এপ্রিলেই দেশটিতে বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আড়াইশর বেশি মানুষ। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পেয়ে তামিম জানাচ্ছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে। এখানকার নিরাপত্তা অসাধারণ। দুই মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমাদের ক্রিকেট বোর্ড আর দেশের মানুষ সবাই এ সফর নিয়ে ইতিবাচক ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমরাও পড়েছিলাম। তখন শ্রীলঙ্কা আমাদের সহায়তা করেছিল। দেখুন, আমরা একটা পরিবারের মতো। এমন ঘটনার পর একে অপরের সহায়তা করা খুব দরকার। এখানে আমরা এখন ক্রিকেট ছাড়া কিছু ভাবছি না।’

দল কেমন করবে শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচ ওয়ানডেতে। লক্ষ্যটাই বা কি তামিম ইকবালের? এমন প্রশ্নে টাইগার ক্যাপ্টেন বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ আমাদের জন্য। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার নেই দলে। তবে যারা আছে তাদের সামর্থ্য রয়েছে। এটা জানি শ্রীলঙ্কার মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো করা কঠিন। তবে এখানে সব সিরিজে ভালো করেছিলাম। আশা করি সেই ছন্দটা ধরে নিতে পারব আমরা।’

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কা সফর। এরপর ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই স্বাগতিকদের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১ আগষ্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের
২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শহিদুল

ক্যাপ্টেন কে থিমাপ্পাইয়া সর্বভারতীয় স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দারুণ একটা দিন কাটাল বিসিবি একাদশ। বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন সফরকারী দলের বোলাররা। তিন পেসার শহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক ও ইবাদত হোসেনের দাপটে মাত্র ৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ।

এরপর জবাবে নেমে সাদমান ইসলামের ফিফটিতে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রান তুলেছে বিসিবি একাদশ। চারদিনের ম্যাচে এরইমধ্যে ৫৬ রানের লিড নিয়েছে মুমিনুল হকের দল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সোমবার দিন শেষে জহুরুল ইসলাম ২৮ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে দাপট দেখালেন বোলাররা। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ম্যাচটিতে দেখা যায়নি তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে। তবে তাদের অভাবটা বুঝতে দেননি শহিদুল, ইবাদত ও আরিফুল।

ম্যাচে টস ভাগ্যটাও ছিল বিসিবি একাদশের পক্ষে। বোলাররা আস্থার প্রতিদান নিয়ে প্রতিপক্ষের দলীয় ১৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৪ উইকেট। দলীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান তুলেন কেএস দেবাইয়া। ২০ রানে ৫ উইকেট নেন শহিদুল। ২২ রানে ৩ উইকেট আরিফুলের। ইবাদত শিকার করেন ৩৬ রানে ২ উইকেট।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য বিসিবি একাদশ শুরুতেই হারায় সাইফ হাসানকে। অধিনায়ক মুমিনুলও (১০) তেমন কিছুই করতে পারেন নি। তবে এরপরই তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন সাদমান ও জহুরুল। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৯৩ বলে ৫৯ রান করেন সাদমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪১ ওভারে ৭৯/১০ (অর্জুন ১২, রোহান ১, শিভম ০, নাগা ২, অভিনব ১২, প্রভিন ১৬, বিনয় ৭, কার্তিক ০, দেবাইয়া ১৮, আনন্দ ৮, বিদওয়াথ ১*; শহিদুল ৫/২০, ইবাদত ২/৩৬, আরিফুল ৩/২২)
বিসিবি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৩৫/৩ (সাইফ ৩, সাদমান ৫৯, মুমিনুল ১০, জহুরুল ২৮*, শান্ত ২৭*; দেবাইয়া ১/৩১, বিদওয়াথ ১/৪৫, আনন্দ ১/১৫)

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র