Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রক্টরের অপসারণ চেয়ে ধর্মঘটে চবি ছাত্রলীগ

প্রক্টরের অপসারণ চেয়ে ধর্মঘটে চবি ছাত্রলীগ
চবির মূল ফটকে ছাত্রলীগের অবস্থান, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
চট্টগ্রাম
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টর ও হাটহাজারী থানার ওসির প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ।

দাবি আদায়ে রোববার (৭ এপ্রিল) সকালে নগরীর বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের চালককে আটক ও ট্রেনের হুইস পাইপ কেটে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের অপসারণ এবং হাটহাজারী ওসির অপসারণ চেয়ে স্লোগান দেয়। তারা জানান, উপাচার্য স্বয়ং মূল ফটকে এসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের কথা জানান।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বার্তা২৪.কমকে জানান, আমাদের ছয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা অস্ত্র মামলা প্রত্যাহার, প্রক্টর এবং ওসিকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

ছাত্র ধর্মঘটের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবহন ছেড়ে না যাওয়ায় এবং শাটল চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীশূণ্য

ক্যাম্পাসে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

ষোলশহর স্টেশন মাস্টার তন্ময় মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীরা শাটল চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে শাটল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর নামে অস্ত্র  মামলা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃতদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামে বিক্ষুব্ধ দলটির নেতা-কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রশ্ন করা যাবে না জাবি উপাচার্যকে!

প্রশ্ন করা যাবে না জাবি উপাচার্যকে!
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিককে হেনস্থা করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

হেনস্থার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক প্রথম আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাইদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম সীমান্ত।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা বণ্টনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান তারা। পরে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য।

এসময় বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে বণ্টনের অভিযোগ সম্পর্কে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে চান তারা। এ প্রশ্ন করামাত্র উপাচার্য সাংবাদিকদের উপর প্রচণ্ড রেগে যান তিনি। এমন প্রশ্ন করার সাহস কোথায় পেল বলে সাংবাদিকদেরকে ধমকাতে থাকেন তিনি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে জানালে উপাচার্য তথ্যের সোর্স বলতে বলেন। কিন্তু সাংবাদিকরা সোর্সের গোপনীয়তা রক্ষা করার স্বার্থে সোর্সের নাম বলেননি। এতে উপাচার্য আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরকে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ছাত্র-শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এছাড়া উপাচার্য তাদের বিভাগীয় সভাপতিকে ডেকে পাঠান। এক পর্যায়ে উপাচার্য তাদের ছবি তুলে রাখার নির্দেশ দিলে পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফুল আলম তাদের ছবি তুলে রাখেন।

এসময় তাদেরকে নানা হুমকি প্রদান করেন উপাচার্য। এছাড়া উপাচার্যের কার্যালয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষক ও উপাচার্যের সঙ্গে তালমিলিয়ে হুমকি দিতে থাকেন বলে জানান তারা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেকোন অভিযোগ উঠলে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করার পূর্ণ অধিকার সাংবাদিকদের রয়েছে। প্রশ্ন করার কারণে উপাচার্য কোনভাবেই সাংবাদিকদের উপর রেগে যেতে পারেননা।’

এছাড়া তারা অচিরেই প্রশাসনকে এধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

গাছে কাফন পরিয়ে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

গাছে কাফন পরিয়ে জাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
কেটে ফেলা গাছে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিক্ষোভ করছেন জাবি শিক্ষার্থীরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে হল নির্মাণের স্থলে গাছ কাটতে শুরু করলে শিক্ষার্থীদের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। পরবর্তীতে কাটা গাছে কাফনের কাপড় পরিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে নির্মাণ কোম্পানির শ্রমিকরা বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের শতাধিক গাছ কাটার পর শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। গাছ কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিকাল সাড়ে ৩টায় কাটা গাছের গুড়িতে কাফনের কাপড় মুড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566568342456.jpg

মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বিক্ষোভের আগে প্রস্তাবিত হল নির্মাণের স্থানে একটি প্রতিবাদী পথ নাটক প্রদর্শন করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার।

মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন প্রমুখ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566568363516.jpg

প্রতিবাদ সভায় জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘জানতে পেরেছি উন্নয়ন কাজের টাকা ভাগাভাগির ব্যাপারে যখন সাংবাদিকরা জেনে যান, তখন তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শোকের মাসে ছাত্রলীগ এ দেশের গরীবের টাকা লুটপাট করতে উঠে পড়ে লেগেছে।’

দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘যখন এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়, তখন থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার অবস্থানে অটল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বৈরাচারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র