Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

হজরত হাওয়া আ.-এর কবর

হজরত হাওয়া আ.-এর কবর
জেদ্দায় অবস্থিত হজরত হাওয়া আ.-এর কবর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী
অতিথি লেখক
ইসলাম
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জেদ্দা (সৌদি আরব) থেকে: লোহিত সাগরের পাড়ে গড়ে উঠা সুবিশাল এক নগরী জেদ্দা। সৌদি আরবের দ্বিতীয় বড় নগরী, শিল্প নগরী এবং প্রধান সমুদ্র বন্দর। দেশের অর্থনৈতিক রাজধানীও এই জেদ্দা।

জেদ্দা শহরের আল বালাদ এলাকায় বেশকিছু প্রাচীন কবরস্থান আছে। এর মধ্যে একটি কবরস্থানের নাম- মাকবারায়ে হাওয়া বা হাওয়ার কবর। কবরস্থানটির নামফলকে আরবিতে লেখা আছে, মাকবারায়ে হাওয়া। অনেকেই মনে করেন, এই কবরস্থানে মানবজাতির আদি মাতা হজরত হাওয়া (আ.)-এর কবর রয়েছে। কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ‘এটি লাখ লাখ বছরের পুরোনো কবরস্থান এ কথা সত্য। কিন্তু এখানে হজরত হাওয়া (আ.)-এর কবর আছে কিনা আমরা এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।’

সমকালীন সৌদি লেখক মুহাম্মদ সাদিক দিয়াম বলেন, ‘ওখানে হাওয়া (আ.)-এর কবর রয়েছে এ বিষয়ে কোনো যৌক্তিক প্রমাণ নেই। আমি মনে করি এটি একটি কল্পকাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’ এই কবরস্থানে হজরত হাওয়া (আ.)-এর কবর রয়েছে এমন কথাও অনেক ইতিহাসবিদ ও ভ্রমণকারীরা বলেছেন। কেউ কেউ তাদের বইতে কবরের আকার-আকৃতির বর্ণনা, এমনকি নকশাও দিয়েছিলেন। যেমন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মুহাম্মাদ আল-মাক্কি তার 'দ্য ট্রু হিসটোরি অব মক্কা অ্যান্ড দ্য নোবেল হাউজ অব গড' বইতে লিখেছেন, ‘হজের মৌসুমে হাওয়া’র সমাধিতে প্রচুর দর্শণার্থী ভিড় করতো। হজের নিয়ম-কানুনগুলো পালন শেষে তারা সেখানে যেতো। প্রতারকরা তাদের কাছে ওই সমাধির মাটিও বিক্রি করতো।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/27/1564206496483.jpg
কবরস্থানের ভেতরের দৃশ্য, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

তবে এখানে এই কবরস্থানকে আলাদা করে কোনো বিশেষত্ব দেওয়া হয় না। আর সব কবরস্থানের মতোই চারদিকে উঁচু দেয়াল ঘেরা এবং সর্বসাধারণের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি।

জেদ্দা সেই প্রাচীনকাল থেকেই পবিত্র নগরী মক্কার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত। প্রাচীন জেদ্দা শহর সুরক্ষায় চারপাশে বৃত্তাকার দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। সে দেয়ালের চারদিকে ছিল চারটি দরজা। পূর্বদিকের দরজাটির নাম ‘বাবে মক্কা’ তথা 'মক্কার দরজা'। আজও ‘বাবে মক্কা’ নামটি বহাল আছে। এই দরজা থেকে শুরু হওয়া রাস্তার নাম ‘তরিকে মক্কা’ বা 'মক্কা সড়ক'।

অনেক হাজি জেদ্দা অবস্থানকালে হজরত হাওয়া (আ.)-এর কবর পরিদর্শনে যান। অনেকে আবার সেখানে গিয়ে দোয়া করেন। ধর্মীয় কিছু বিধি-নিষেধের কারণে ১৯২৮ সালে হাওয়ার সমাধিটি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে কংক্রিটের চাদরে ঢেকে ফেলা হয় সমাধিটি। তবে কবরস্থানটি যথারীতি চালু আছে এবং অনেক মৃতদেহই এখানে কবরস্থ করা হয়।

বিভিন্ন গ্রন্থের তথ্যমতে, হাওয়ার সমাধির দৈর্ঘ্য ১২০ মিটার, প্রস্থ ৩ মিটার এবং উচ্চতা ৬ মিটার।

কবরস্থানটি জেদ্দার নগরকেন্দ্র বালাদের কাছে এবং জেদ্দার প্রধানতম সড়ক মদিনা রোডের পাশে। ফলে সেখানে যাওয়া বেশ সহজ। গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়া লাগে।

কবরস্থানে গিয়ে দেখা যায় শুধুই সারি সারি কবর। প্রতিটি কররের মাঝখানে কয়েক টুকরো পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা রয়েছে। কবরস্থানে নিরাপত্তার খুবই কড়াকড়ি ছিল।

মূল ফটকের সঙ্গে বেশ বড় একটি ছাউনি, দু'পাশে কাঠের বেঞ্চ পাতা। এখানে বসে মুসলিম দর্শনার্থীরা কবরবাসীদের জন্য দোয়া করে থাকেন। আরবদের অনেকে পানি ঢেলে দিচ্ছেন নিজ পরিজনের কবরে। অনেকে আবার গম বা ডাল ছড়িয়ে দিচ্ছেন কবরস্থানের কবুতরদের জন্য। ঝাঁকে ঝাঁকে কবুতর সারা কবরস্থানজুড়ে। সারি সারি কবরের মাঝখানে রয়েছে পায়ে চলার পথ। কবরগুলোতে রয়েছে ক্রমিক নম্বর। বিনা পয়সায় পাওয়া যাচ্ছে ঠাণ্ডা পানির বোতল।

এখানে ছবি তোলা একেবারে নিষিদ্ধ। চারপাশে কড়া নজর রাখছে নিরাপত্তা রক্ষী ও কবরস্থান কর্মীরা। ক্যামেরা নিয়ে ঢোকার তো প্রশ্নই আসে না। এতোকিছুর পরেও মুঠোফোনে কেউ হয়তো দু-একখানা ছবি তুলে ফেলেন গোপনে।

আপনার মতামত লিখুন :

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা

হাজিদের ভিড়ে জাগ্রত থাকে মসজিদে আয়েশা
মসজিদে হারামে নামাজ আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করছেন হাজিরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: হজপালন শেষে মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা মক্কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে হারামে আদায়, নফল তাওয়াফ ও সুযোগ বুঝে নফল উমরা আদায় করে কাটাচ্ছেন।

মক্কায় অবস্থানরত হাজিরা উমরার নিয়ত করলে তাদের ইহরাম বাধার জন্য যেতে হয় আয়েশা মসজিদে। সেখানে যেয়ে (ইহরাম আগেও পড়া যায় মসজিদে আয়েশাতে যেয়েও অনেকে পরিধান করেন) দুই রাকাত নামাজ পড়ে তালবিয়া (লাব্বাইক .... ) পড়ে কাবা শরিফে এসে উমরার সব নিয়মনীতি পালন করেন।

মসজিদটি মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। এটাকে মসজিদে তানঈমও বলা হয়। হেরেম এলাকার বাইরে এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবর্তী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা এখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392961853.jpg

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন।

এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা উমরার জন্য এখান থেকে ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরা এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে বিতর্ক আছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566392972633.jpg

মক্কা থেকে এখানে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৫ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল উমরার ইহরামের জন্য আসা হাজিদের ভিড় থাকে মসজিদটিতে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য বিশাল জায়গা রয়েছে। রয়েছেন অজু ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

হজ বা উমরাপালন করতে যারা বিমানযোগে সৌদি আরব আসেন তারা নিজ দেশ থেকে কিংবা নির্দিষ্ট মিকাত থেকে নিয়ত করেন। কিন্তু হজের পর উমরা করতে চাইলে উত্তম হলো- নির্দিষ্ট মিকাতে যেয়ে উমরার নিয়ত করা। এজন্য তায়েফ, রাবেক, মদিনা, আস-সাইরুল খাবির, আস-সাদিয়াত যেতে পারেন। এসব জায়গা থেকে আসার পথে মিকাত পড়বে। সেখান যথা নিয়মে উমরার নিয়ত করে উমরা আদায় করতে পারেন।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হচ্ছে, হজে গিয়ে বেশি বেশি তাওয়াফ করা। এটি সুন্নত এবং সবচেয়ে উত্তম কাজ। কাজেই যারা মক্কায় অবস্থান করেন, তারা বেশি করে তাওয়াফ করবেন এবং আল্লাহর ঘরে গিয়ে বেশি করে নফল নামাজ আদায় করবেন।

আরও পড়ুন: হজপালনে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ চতুর্থ

আরও পড়ুন: হজ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে

বাংলাদেশি আলেমরা উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মসজিদে নববীতে
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা (সৌদি আরব) থেকে: সৌদি আরবে আসা হজযাত্রীদের হজপালন বিষয়ে ধর্মীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আসা ৫৮ আলেমকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মদিনার মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখ দল হজপালন শেষে মদিনার মসজিদে নববী পরিদর্শনে গেলে তারা এ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় মসজিদে নববীর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল খুদায়েরি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের এতো বড় আলেম প্রতিনিধি দল সৌদি আরব বিশেষ করে মদিনায় আসেনি। একসঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের কাছে পেয়ে তারা গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315408680.jpg

এ সময় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরবের সঙ্গেও তিনি সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানাবে বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566315426944.jpg

পরে বাংলাদেশের আলেম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকে সালাম ও দরুদ পেশ এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেন মসজিদে নববী কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, হজযাত্রীদের পরামর্শ দিতে ৫৮ সদস্যের ওলামা-মাশায়েখের একটি দল রাষ্ট্রীয় খরচে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। ২১ আগস্ট তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র