Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাসপোর্ট বিড়ম্বনায় হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনে ধীরগতি

পাসপোর্ট বিড়ম্বনায় হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনে ধীরগতি
পাসপোর্ট বিড়ম্বনায় হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনে ধীরগতি, দরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, ছবি: সংগৃহীত
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
বিভাগীয় সম্পাদক
ইসলাম


  • Font increase
  • Font Decrease

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ আগস্ট হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী যাবেন।

বাংলাদেশ থেকে হজপালনে আগ্রহীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ই-হজ পদ্ধতিতে প্রাক-নিবন্ধন থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রাক-নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু তা চলছে খুব ধীরগতিতে। ধীরগতির পেছনে অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান। এর অন্যতম হলো- পাসপোর্টের সঙ্কট ও যথাযথ প্রচারের অভাব।

বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজযাত্রা নিষ্কণ্টক করতে সরকার দ্বিতীয় বারের মতো হজ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। এমতাবস্থায় যথাযথ প্রচারের অভাব আর হজযাত্রীদের যথাসময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ার কারণে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বেসরকারি হজ এজেন্সিসহ হজ পালনেচ্ছুদের প্রত্যাশা, হজযাত্রীদের পাসপোর্ট সহজে ও দ্রুত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর গত ১৯ দিনে মাত্র অর্ধেক কোটা পূরণ হয়েছে। এ কারণে নিবন্ধনের সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (৪ মার্চ) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের সময়সীমা ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত ছিল।

সরকারি নিবন্ধনের মতো ১৭ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ নিবন্ধন চলছে আরও ধীরগতিতে। গত ১৬ দিনে মাত্র চার হাজার জন নিবন্ধন করেছেন। নির্দিষ্ট সময় আগামী ১০ মার্চ পূরণ হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে প্রাক-নিবন্ধনের ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৫ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত হজযাত্রীরা নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। এই ৬ দিনে নিবন্ধন করতে হবে আরও প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ব্যক্তিকে। অর্থাৎ প্রতিদিন নিবন্ধন করতে হবে ১৯ হাজার ৩২৬ জনকে; যা প্রায় অসম্ভব।

সুতরাং সরকারি ব্যবস্থাপনার মতো বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ নিবন্ধনে যে সময় বাড়ানো হবে, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাক-নিবন্ধনের ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৫ নম্বর ক্রমিকের মধ্যে থাকা হজযাত্রীরা আর সুযোগ পাবেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ক্রমিকের মধ্যে থাকা প্রাক-নিবন্ধিতরা যথাসময়ে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে তারা এ বছর হজ পালনে আগ্রহী নন মর্মে বিবেচনা করে পরবর্তী ক্রমিকের প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নিবন্ধনের জন্য আহ্বান জানানো হবে।

তবে বেসরকারি হজ এজেন্সির মালিকরা আশা করছেন, সময়মতো কোটা পূরণ হয়ে যাবে। তারা বলছেন, নিবন্ধনের শুরুতে গতি কিছুটা কম থাকে। নিবন্ধনের ঘোষণার পর হজযাত্রীদের টাকা সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগে। এরপর শেষ দিকে গতি অনেক বেড়ে যায়। আশা করছি, সময়মতো হজযাত্রীরা নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন।

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এ চার লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ তে তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

নিবন্ধনের জন্য যোগ্যতা অর্জনকারী হজ এজেন্সির সংখ্যা ৪১৩টি। এর বাইরে কোনো এজেন্সির সঙ্গে হজের লেনদেন করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সরকারি ও বেসিরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিবন্ধনের জন্য এমআরপি পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং পাসপোর্টের মেয়াদ হজের দিন থেকে পরবর্তী ৬ মাস অর্থাৎ ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিকে আসন্ন হজকে সামনে রেখে হজযাত্রী নিবন্ধন সংক্রান্ত বুলেটিন প্রকাশনা শুরু করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এ বুলেটিন প্রকাশিত হবে। বুলেটিনে হজ নিবন্ধনের সর্বশেষ তথ্য থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা

সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা
সাদা-কালো গিলাফে নতুন রূপে কাবা, ছবি: সংগৃহীত

কালো কাপড়ের আচ্ছাদিত পবিত্র কাবা দেখতে বিশ্ববাসী অভ্যস্ত। এটাই কাবার চিরায়ত রূপ। কিন্তু বছরের তিন সপ্তাহের মতো সময় সেই পুরনো রূপে দেখা যায় না কাবাকে। কারণ, তখন কালো কাপড়ের সঙ্গে কাবার গিলাফের নিচের বেশ কিছু অংশ সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, আর কিছু অংশ খালি রাখা হয়। তখন সাদা-কালোর মিশ্রণে নতুন রূপে দেখা যায় কাবা ঘরকে।

প্রতিবছর হজ মৌসুমে জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফকে মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতে উঠিয়ে খাঁজ করে রাখা হয়। আর কিছু অংশ খোলা রাখা হয়।

কারণ, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজপালনেচ্ছুদের অনেকে বরকত লাভের আশায় নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাবার গিলাফ কেটে নিয়ে যায়। তারা মনে করেন, কাবার গিলাফের টুকরো কাফনের কাপড়ের সঙ্গে দিয়ে দিলে কবরের আজাব হবে না, কিংবা পরকালে এটা তার মুক্তির কারণ হবে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722255398.jpg

অনেকে আবার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফ স্পর্শ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে আহত হন। ফলে অনেকের জন্য তাওয়াফ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।
মূলত কাবার গিলাফের মূল অবয়ব রক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এটা করা হয়। তখন সাদা-কালোর গিলাফের সংমিশ্রণে কাবা শরিফের নতুন রূপ পরিলক্ষিত হয়। দেখার সৌভাগ্য হয় কাবার দেয়ালের প্রকৃত রূপ।

অবশ্য ৯ জিলহজ আরাফার দিন (হজের দিন) পুরনো এই গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ লাগানো হবে। ফলে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসে হাজি সাহেবর নতুন গিলাফে ঢাকা কাবা দেখতে পাবেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563722287338.jpg

কাবার গিলাফ স্পর্শ করা বা এটা ধরে দোয়া-মোনাজাত করার আলাদা কোনো ফজিলত নেই। তার পরও দেখা যায়, অনেক হজযাত্রী কাবাঘরের দেয়াল স্পর্শ করতে এমনকি তাতে নিজের রুমাল, জামা কাপড় স্পর্শ করাতে। যদিও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা এমন কাজ করা থেকে মানুষকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে

ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী মক্কার পথে
ফ্লাইট মিস করা ৬৭ হজযাত্রী এখন মক্কার পথে, ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করা যাত্রীদের মধ্যে সর্বশেষ ৬৭ জন হজযাত্রী সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় যাচ্ছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় এই হজযাত্রীরা অন্য সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গী হয়ে মক্কায় যাচ্ছেন। বিমানের বিজি ১৩৫ নং ফ্লাইটে বিমানের ৪২০ জন যাত্রীর সঙ্গে এই ফ্লাইটে হজযাত্রী রয়েছেন মাত্র ১০০ জন।

মিনার এয়ার ট্রাভেলসের ৬৭ জন হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় ১৬ জুলাই বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইট মিস করেন। শুধু মিনার এয়ার ট্রাভেলস নয়, এর সঙ্গে আরও তিনটি ট্রাভেলসের মোট দেড়শ’ হজযাত্রী ফ্লাইট মিস করেছিলেন। তবে অন্যান্য ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। কিন্তু মিনার ট্রাভেলসের হজযাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে যেতে রাজি হননি। তাই তাদের সবাইকে অন্য একটি সাধারণ ফ্লাইটে মক্কায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই ফ্লাইটটি (বিজি ১৩৫) রোববার সন্ধা সাড়ে ছয়টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে।

উল্লেখ্য গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সৌদি দূতাবাসের অনলাইন সার্ভারের জটিলতায় সঠিক সময়ে ভিসা হাতে না পেয়ে বিমানের দু’টি ফ্লাইট মিস করেছেন এই হজযাত্রীরা। দু’দিন পরে গত মঙ্গলবার ভিসা হাতে পাওয়ার পর বিমানের অন্য ফ্লাইটেও কোনো শিডিউল পাচ্ছিলেন না তারা। ফলে কবে বা কোন ফ্লাইটে এই ১৫১ জন হজযাত্রী মক্কায় যেতে পারবেন সেটিও অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই ছিল।

রোববার আশকোনাস্থ হজক্যাম্পে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সির মোট ১৫১ জন হজযাত্রী বিলম্বে ভিসা পাওয়ার কারণে তারা বিমানের ফ্লাইট মিস করেছিলেন। নির্ধারিত ফ্লাইটে তারা হজে যেতে পারেননি। এর মধ্যে মিনার এয়ার ট্রাভেলসের (হজ লাইসেন্স নং ১০৩০) তাদের ৬৭ জন হজযাত্রীর ভিসা দূতাবাসের সার্ভারের সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের আগে হাতে পাননি। এই ৬৭ জন হজযাত্রীর যাত্রার নির্ধারিত ফ্লাইট ছিল ১৬ জুলাই মঙ্গলবার (বিজি ৩০৩৩) ফ্লাইটে।

ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীরা বিমান হজ অফিসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভিন্ন ভিন্ন ফ্লাইটে মক্কায় চলে গেছেন। একমাত্র মিনার এয়ার ট্র্রাভেলস ছাড়া অন্যান্য কোনো ট্রাভেলসের ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রী মক্কায় যাওয়ার বাকি নেই। মিনার ট্রাভেলসের যাত্রীরা বিচ্ছিন্নভাবে হজে যেতে রাজি না হওয়ায় এখন তাদের এই ৬৭ জনসহ মোট ১০০ জন হজযাত্রীকে বিমানের সাধারণ ফ্লাইটেই মক্কায় যেতে হচ্ছে।

রোববার দুপুরে আশকোনাস্থ হজ ক্যাম্পের পরিচালক (হজ অফিসার) মো: সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা ফ্লাইট মিস করা হজযাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্য ফ্লাইটে মক্কায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। মিনার ট্রাভেলস ছাড়া আর কোন ফ্লাইট মিস করা যাত্রী ঢাকায় নেই। তারা সকলেই মক্কায় পৌছে গেছেন। রোববার সন্ধায় বিমানের একটি ফ্লাইটে মিনার ট্রাভেলস এর ৬৭ জন হজযাত্রীও মক্কায় যাচেছন।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র