নাটোরে চাহিদা সত্ত্বেও নেই পর্যাপ্ত মহিষ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, নাটোর
মহিষকে গোসল করানো হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মহিষকে গোসল করানো হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোরে অধিকাংশ মহিষ লালিত-পালিত হয় পদ্মার চর বিধৌত লালপুর উপজেলায়। মূলত কাঁচা ঘাসের সহজলভ্যতা বিবেচনায় স্থানীয় খামারিরা মহিষ লালন-পালন করেন। প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে এখানকার মহিষগগুলো সমগ্র জেলার চাহিদা মেটাতে স্থানীয় হাটগুলোতে বিক্রি করা হয়।

এবার পশু খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিজনিত সংকট ও রোগ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক সহায়তা না পাওয়ায় খামারিরা মহিষ পালনে আগ্রহ হারিয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির হাটগুলোতে। চাহিদা সত্ত্বেও মিলছে না পর্যাপ্ত মহিষ।

কয়েক যুগ ধরে লালপুর উপজেলার কাজিপাড়া, ডেবরপাড়া, বিলমারিয়া, বুধপাড়া, চাঁদপুর, মাধবপুরসহ বেশ কয়েকটি চর সংলগ্ন এলাকায় শতাধিক খামারি মহিষ পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তবে বর্তমানে এসব খামারির সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে গেছে। ফলে কোরবানিতে চাহিদার মাত্র ২০ ভাগ মহিষ মিলছে এসব এলাকা থেকে।

স্থানীয় খামারিদের মতে, গত কয়েক বছরের অকাল বন্যা ও চলতি মৌসুমে বেশ কিছুদিন টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এখানে পশু খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। বিগত বছরগুলোতে বর্ষা ও বন্যার সময় বেশ কিছু মহিষ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২০টি মহিষ মারা যায়। ফলে একদিকে বর্ষার পর পরই যেমনি খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়, তেমনি কমেও যায় মহিষের দাম। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা মহিষ পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

খামারিদের অভিযোগ, পশু চিকিৎসকরা পদ্মা চরের মধ্যে যেতে চান না। ফলে রোগে আক্রান্ত মহিষ সহজেই মারা যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/03/1564815137057.jpg

উপজেলার তিলকপুর গ্রামের মহিষের বাথান মালিক জুয়েল ও কবির জানান, টানা কয়েক বছর তারা কোরবানির আগে স্থানীয় হাটে মহিষ বিক্রি করেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যা আর বৃষ্টির কারণে চরে পতিত জমি থাকে না। ফলে মহিষের জন্য পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না। তাছাড়া অনান্য খাদ্যের দামও চড়া। এসব কারণে মহিষ পালন কমছে।

কাজিপুরের মহিষ বাথান শ্রমিক আলী আক্কাস বলেন, ‘মহিষ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর পশু ডাক্তারদের ডাকা হলেও তারা চরে আসতে চান না। ফলে সময়মত চিকিৎসা না পেয়ে মহিষ মারা যায়। তাছাড়া কোরবানি ঈদ বর্ষা মৌসুমে হওয়ায় বিক্রির সময় মহিষের দামও পড়ে যায়।’

ডেবরপাড়ার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক খাদ্য ছাড়া মহিষ পালন না করতে পারলে পুঁজি থাকে না। বিগত বছরগুলোতে কোরবানির সময় চার থেকে পাঁচটি মহিষ বিক্রি করলেও এবার মাত্র একটি মহিষ বিক্রির জন্য রেখেছি।’

সম্প্রতি সিংড়া উপজেলার ফেরিঘাট পশুর হাট, বড়াইগ্রামের আহমেদপুর ও মৌখাড়া মাদরাসা হাট, লালপুরের গোপালপুর হাট, গুরুদাসপুরের চাচকৈর হাট, নাটোরের তেবাড়িয়া পশুর হাটগুলোতে গরুর তুলনায় মহিষের কম সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকতা মোস্তাফিজুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘উপজেলায় গত প্রায় ১০ বছর ধরে ভ্যাটেরিনারী চিকিৎসক পদসহ মাঠ কর্মীর চারটি পদও শূন্য রয়েছে। ফলে পদ্মার চরে মহিষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরও লোকবল না থাকায় সেখানে কাউকে পাঠাতে পারেন না। এসব কারণে মহিষ পালন কমতে পারে।’

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বেলাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘জেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ৪ লাখ পশু হৃষ্টপু্ষ্টকরণ করা হয়েছে যা মোট চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। কোরবানিতে মহিষের একটা আলাদা চাহিদা আছে। তবে মহিষ পালন কমলেও জেলায় কোরবানির পশুর অভাব হবে না।’

   

গড়াই নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি প্রতীকী

ছবি প্রতীকী

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে ডুবে সুমন (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে খোকসা উপজেলার গনেশপুর অংশে গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সুমন কুমারখালী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, সকালের দিকে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে যান সুমন। মাছ ধরার এক পর্যায়ে নদীতে ডুবে যান তিনি। বিকেলের দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

;

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুমিল্লা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে সাফায়েত হোসেন (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সালাউদ্দিন (২২) নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হন।

রোববার (৫ এপ্রিল) এই বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ি দক্ষিণপাড়া স্কুল বাড়ির আবদুল আউয়ালের ছেলে সাফায়াত হোসেন এদিন বিকেলে সহপাঠীদের সাথে পার্শ্ববর্তী ঘোড়াময়দান গ্রামের একটি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। বিকাল ৫টার দিকে খেলা চলা অবস্থায় আকস্মিক বজ্রপাতে সাফায়েতের পুরো শরীর ঝলসে যায়। তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে লাকসামের একটি ক্লিনিকে নেয়া হলে সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এছাড়া বজ্রপাতে ওই ঘোড়াময়দান গ্রামের নুরুল হকের ছেলে সালাউদ্দিন (২২) গুরুতর আহত হয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব ঘটনার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

;

লক্ষ্মী ভাইয়েরা বাসায় যান, নিজেসহ দেশকে বাঁচান



নাহিদ রেজা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ওসি তানভিরুল ইসলাম।

ওসি তানভিরুল ইসলাম।

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার লক্ষ্মী ভাইয়েরা দয়া করে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে বাসায় যান। নিজে বাঁচেন, পরিবারকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান। সচেতন হোন।

ঠিক এসব কথা বলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে এভাবে সচেতন করায় সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি ওষুধ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে এসেছিলাম। কিছুক্ষণ পর থানার একটি গাড়ি বাজারের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং ওসি তানভিরুল সবাইকে বাসায় থাকার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে কখনো জনগণের সঙ্গে পুলিশের এমন ভালো আচরণ দেখি নাই।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চৌড়াস্তা মোড়ে কথা হয় জয়নাল নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জেলার পুলিশ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে। তাদের ভাই বলে বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে। ওসিসহ পুলিশের সদস্যরা নিজেদের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য এ কাজটি করে যাচ্ছেন। তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সাহাদত হোসেন নামে একজন বলেন,‘তানভিরুল ভাই একজন মানবিক পুলিশ অফিসার। তার জন্য শুভকামনা ও দোয়া রইল।’

ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকার যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে। জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে কাজও হচ্ছে।’

;

ডিবি পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই, যুবক গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
গ্রেফতার আবেদ আলী।

গ্রেফতার আবেদ আলী।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীতে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার অপরাধে আবেদ আলী (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবেদ আলী সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জেলা সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামে মোকছেদুল ইসলামসহ কয়েক যুবক মোবাইলে ভিডিও গেম খেলছিলেন। এ সময় আবেদ আলী নিজেকে সৈয়দপুর থানার ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে যান। পরে এ বিষয়ে মোবাইলের মালিক মোকছেদুল ইসলাম সদর থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর রোববার ভোরে আবেদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি খেলনা পিস্তল ও ওয়্যারলেস সেট, একাধিক মোবাইল সিম এবং দুটি পরিচয়পত্র জব্দ করে পুলিশ।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয়ে মোবাইল ছিনতাই করার সত্যতা স্বীকার করেছেন আবেদ আলী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

;