প্রাণের দুধে সাবান!



শাহরিয়ার হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রাণের বিভিন্ন ধরণের দুধ/ ছবি: সংগৃহীত

প্রাণের বিভিন্ন ধরণের দুধ/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণ, মিল্কভিটা, আড়ংসহ বাজারে বিক্রি হওয়া পাস্তুরিত সাতটি কোম্পানির দুধ-ই মানহীন বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার। গবেষকরা বলছেন, পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের নমুনাতে ডিটারজেন্ট আছে কি-না তা পরীক্ষা করা হয়। পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার তিনটিতে ও অপাস্তুরিত দুধের তিনটি নমুনার একটিতে ডিটারজেন্ট বা সাবান শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রাণের দুধ অন্যতম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমার ধারণা, এই দুধগুলো নকল দুধ। আমাদের গোয়েন্দাদের এসব নিয়ে কাজ করা উচিৎ।’

এই গবেষক বলেন, ‘আমার ৪৫ বছরের ফার্মেসি নিয়ে পড়াশোনাকালে, আমি কখনো শুনিনি, দুধে সাবান মেশানো হয়। প্রাণ দুধে যা মিলেছে। দুধ তো পরিষ্কার করার কিছু নেই। ফেনা হওয়ারও কিছু নেই। তাহলে দুধে সাবান কেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি, দুধে সাবান থাকবে। তাই নিশ্চিত হতে একাধিকবার পরীক্ষা করেছি আমরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561477048823.jpg
অধ্যাপক আ ব ম ফারুক/ ছবি: বার্তা২৪.কম

 

দুধে কিভাবে সাবান ব্যবহার করা হতে পারে- জানতে চাইলে অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘সাধারণত মেশিন অয়েল হলো সবচেয়ে কমদামী তেল। এর কোনো গন্ধ নেই। এই তেল পানির সঙ্গে মেশানো হয়, যদিও তেল আর জল এক সঙ্গে মিশে না। কিন্তু জোর করে মিশ্রিত করি। তারপর তাকে ইমালশন বানাই। ইমালশন হলো তেল আর জলের মিশ্রণ। আর এই মিশ্রণটি করার জন্য দুইটা জিনিস লাগে, একটা ডিটারজেন্ট আর একটি ইমাল্টিফাইন এজেন্ট। ঐ কোম্পানি নকল প্রোডাক্ট তৈরি করার জন্য কোনোভাবে এই বিজ্ঞানটি শিখে নিয়েছে।’

এই গবেষক আরও বলেন, ‘এই প্রক্তিয়ায় নকল দুধ বানানো সহজ। এতে খরচ যেমন কম হয়, তেমনি আসল দুধও প্রয়োজন হয় না।’

তিনি বলেন, ‘মেশিন অয়েল ডিটারজেন্ট দিয়ে গলিয়ে হোমোজিনাই নামক একটি মেশিন দিয়ে ভালোভাবে মিশ্রিত করা হয়। খালি চোখে দুই এজেন্ট আলাদা করার সুযোগ থাকে না। রঙটাও আবার সাদা ঘন দুধের মতো। একটু ফ্লেবার মিশালেই দুধ হয়ে যায়।’

প্রাণের এই নকল দুধ খেলে কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক যে, মেশিন অয়েল খেলে মানুষ মারা যাবে না। তবে পাতলা পায়খানা হবে, বমি হবে, খেতে ইচ্ছে করবে না, বদহজম হবে।’

‘ঐ নকল দুধে যদি ডিটারজেন্ট বা সাবানের পরিমাণ বেশি থাকে। সেক্ষত্রে শরীরের জন্য অনেক ক্ষতি হবে। আমরা ওষুধে সাবান ব্যবহার করি, সেগুলো গুণগত মান সম্পন্ন। কিন্তু নকল দুধে নিশ্চয় সেটা মানা হবে না। তাই এই দুধ খেলে লিভার, পাকস্থলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561477091672.jpg

নকল দুধের বিষয়ে প্রাণের কমিউনিকেশন ম্যানেজার তৌহিদুজ্জামান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘এই গবেষণাপত্র আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য।’

এদিকে বাজারে থাকা ১৪ ব্র্যান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক কোনো কিছুই পায়নি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। আদালতে সংস্থাটির জমা দেওয়া প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে এই সরকারি মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় নানা সুবিধার বিনিময়ে পণ্যের মান ও গুণ সম্পর্কে অনুমোদন পাওয়া যায় বলে মনে করেন ঢাবির গবেষক দলের সদস্যরা।

অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার অধিদফতর বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের এই গবেষণাপত্র সম্পর্কে অবগত আছে। সংস্থাটির উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘পণ্যের মানের দিক বিবেচনা করে বিএসটিআই। বিএসটিআই যদি কোনো পণ্য মানহীন বলে, অভিযান পরিচালনা করব।’

   

ঈদকে ঘিরে নগর জুড়ে জাল নোট সরবরাহ করতেন তারা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঈদকে ঘিরে তারা নগরের বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট সরবরাহ করতেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম ওবায়দুল হক এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার রাজাখালী ইউনিয়নের গোলাম কাদেরের ছেলে মো. মনিরুল আলম (৪৭), বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজারের মৃত ইউনুছের ছেলে মো. হারুনুর রশিদ (৩৪) এবং বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদন্দী এলাকার মো. নুরুল আলমের ছেলে মো. মাসুদ আলম প্রকাশ চৌধুরী (৩৫)।

পুলিশ জানায়, নগরের নিউ মার্কেট, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও টেরীবাজারসহ আশপাশ এলাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে জাল টাকা সরবরাহ করেন তারা। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা এ ব্যবসায় জড়িত।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম ওবায়দুল হক বলেন, ‘গত ২৩ মার্চ স্টেশন রোড থেকে মনিরুল এবং হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফিরিঙ্গি বাজারে অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

 

;

রাজশাহী রেল ভবনে দুদকের হানা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মালামাল কেনাকাটায় প্রায় ৩ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জিএম কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইনের নেতৃত্বে পাঁচজনের একটি দল এ অভিযান শুরু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কেনাকাটায় কয়েকশ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। বিষয়টি অডিট আপত্তিতেও উঠে আসে। সেই অভিযোগও অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অভিযান শুরু করে। অভিযানে তথ্য উপাত্ত ও নথি বিশ্লেষণ করছে। কেনাকাটার বিভিন্ন নথি ও তথ্য যাচাই শেষে প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। সেখান থেকে তারা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে পশ্চিম রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূত কিছু হয়েছে কিনা দুদক সে বিষয়ে তদন্তে এসেছিলো। আমরা তাদের চাহিদা মত কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি।

;

নড়াইলে সুলতান মেলা শুরু ১৫ই এপ্রিল



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নড়াইল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ববরেণ্য চিত্র শিল্পী এস এম সুলতানের ৯৯তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে ১৫দিন ব্যাপী "এস এম সুলতান মেলা" শুরু হচ্ছে আগামী ১৫ এপ্রিল। জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক ও সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ অশফাকুল হক চৌধূরীর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাশ্বতী শীল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন প্রমূখ। শহরের সুলতান মঞ্চে এছাড়া মেলার উদ্বোধন, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, হা ডুডু, লাঠিখেলা, দড়িটানা, ঘৌড়দৌড়, ষাঁড়ের লড়াইসহ বিভিন্ন গ্রামীন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন থাকবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসময় সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের মেলায় থাকছে এস এম সুলতান ও বরেণ্য চিত্রশিল্পীদের আঁকা চিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব- হাডুডু, কুস্তি, ঘোড়ার গাড়ির দৌড়, ষাঁড়ের লড়াই, দড়ি টানাটানি, ভলিবল খেলা,কাবাডি, শরীর গঠন প্রতিযোগিতা, লাঠিখেলা, কলাগাছে ওঠা, বাঁশের লাঠির দৌড়, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, নাটক, জারিগান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সুলতান স্বর্ণপদক প্রদান ও সুলতানের জীবন ও দর্শন নিয়ে প্রত্যহ সেমিনার।

উল্লেখ্য, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক পান। ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট অব আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা পান। ১৯৪৬ সালে ভারতের সিমলায় তার একক চিত্র প্রদর্শনী, লাহোরে ১৯৪৮, করাচিতে ১৯৪৯, লন্ডনে ১৯৫০, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ১৯৭৬ এবং ঢাকাস্থ জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ১৯৮৭ সালে তার চিত্র প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া দেশ-বিদেশে বহুবার তার ছবি প্রদর্শিত হয়, যা সবার নজর কাড়ে। ১৯৯৪ সালে ১০ অক্টোবর মহান এ শিল্পী দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর যশোর সম্মিলিত হাসপাতালে মারা যান। সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তার নিজ বাড়িতে নির্মিত হয়েছে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা।

;

বরিশালের এবায়েদুল্লাহ মসজিদে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম চকবাজার জামে এবায়েদুল্লাহ মসজিদে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসল্লিরা জোহরের নামাজ আদায় করতে যখন প্রস্তুত হচ্ছিল ঠিক সেই সময় ইমামের কক্ষের এসি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সাথে সাথে আগুন ধরে যায় ইমামের কক্ষে। তাৎক্ষণিক মুসুল্লিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দিলে দ্রুত তারা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইমামের কক্ষে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ইসলামিক বই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রবিউল আলামিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনটি ইউনিট কাজ করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে। তাদেরও ধারণা এসি থেকেই আগুনে সূত্রপাত ঘটে। তবে এই ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

;