প্রসূতির মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
হাইকোর্ট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হাইকোর্ট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অবহেলার কারণে কেন তিন বিবাদীকে দায়ী করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদলত।

স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের সেক্রেটারি জেনারেল সালাউদ্দিন আহমেদ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক এবং ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের অতিথি চিকিৎসক ডা. দিলরুবা জেবা ও ওই হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জনস্বার্থে করা একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও ব্যারিস্টার এম মইনুল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি আ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্ত।

আদেশের পর আইনজীবী এম মইনুল ইসলাম জানান, অন্তত তিনজন গাইনোকোলজি ও অবস বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক আহমেদ জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে একটি দৈনিক পত্রিকায় গত ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘ফরিদপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ’ শীর্ষক প্রতিবেদন যুক্ত করেন তিনি।

পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। ৩০ আগস্ট শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর হালিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক প্রসূতি খায়রুন্নাহার তানি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাশিশুর জন্ম দেন। এরপর ৩১ আগস্ট শনিবার সকাল ৭টায় হাসপাতালে মারা যান তানি। তানির স্বামী হাইকোর্টের আইনজীবী সফওয়ান করিম অভিযোগ করেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক দিলরুবা জেবা নির্ধারিত সময়ের আগেই রোগীর সিজারিয়ান অপারেশন করায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর শিশু হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ডেকে পাওয়া যায়নি।

ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক মো. সালাহউদ্দীন ফরিদ জানান, ডা. জেবা শিশু হাসপাতালে অতিথি চিকিৎসক হিসেবে সিজারিয়ান অপারেশন করে থাকেন। আমাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ প্রসূতির চিকিৎসা সেবায় গাফিলতি করেনি।

আর ডা. দিলরুবা জেবা বলেন, ‘রোগী যথেষ্ট জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পূর্ব নির্ধারিত সময়েই অপারেশন করে তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছি আমরা। তার প্রেসার বেশি ছিল এবং তিনি প্রি-একলামশিয়ায় ভুগছিলেন। হার্ট ফেইলিওর বা ব্রেন হেমারেজে তার মৃত্যু হয়েছে।’

   

নাশকতার ১২ মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর বিভিন্ন থানার দায়ের হওয়া নাশকতার ১২ মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সিনিয়র সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ফয়সাল আতিক বিন কাদেরের আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন।

১২ মামলার মধ্যে পল্টন থানার ছয়টি, রমনা থানার তিনটি, মতিঝিল থানার দুটি ও ওয়ারী থানার একটি মামলা রয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এসব মামলায় ইশরাক হোসেন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মামলার নথিপ্রাপ্তি সাপেক্ষে তার স্থায়ী জামিন বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির জন্য রেখেছেন।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি নাশকতার ১২ মামলায় ইশরাক হোসেনকে ছয় সপ্তাহের জামিন দেন হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজি এবাদত হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ।

জানা যায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় নাশকতার অভিযোগে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়।

;

ঢাকার নিম্ন আদালতের ১০৭ বিচারকের ৫২ জনই ছুটিতে



মবিনুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও নববর্ষের টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটিয়ে আদালত খুললেও বিচারক, আইনজীবীর উপস্থিতি ছিল নিতান্তই কম। চিরচেনা ব্যস্ত ঢাকার নিম্ন আদালত পাড়া সোমবার (১৫ এপ্রিল) দেখা যায়নি।

আদালত পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও চিরচেনা সেই ভিড় নেই। ঢাকার নিম্ন আদালত তথা ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধিকাংশ এজলাসই ফাঁকা ছিল। অফিস স্টাফগণ থাকলেও আইনজীবী বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল একদমই নগণ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে ১০৭ জন বিচারক কর্মরত। কিন্তু সোমবার উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫৫ জন। ৫২ জন আছেন ছুটিতে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মোট বিচারকের সংখ্যা ৩৬ জন। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে জানান, ঢাকা জেলা জজশিপে ৪২টি বিচারকের পদের মধ্যে ৬টি ফাঁকা। বর্তমানে ৩৬ বিচারক কর্মরত আছেন। সোমবার ৩৬ বিচারকের মধ্যে ২৫ জনই উপস্থিত থেকে বিচারকাজ চালাচ্ছেন। ১১ বিচারক ছুটিতে আছেন। ছুটিতে আদালতসমূহের দায়িত্ব উপস্থিত বিচারকদের মাঝে বণ্টন করা হয়েছে। তাই বিচারকাজের কোন বিঘ্ন হবে না।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির শাহ্ মো. মামুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, মহানগর জজশিপের ২৪ বিচারকের মধ্যে মহানগর দায়রা জজসহ ১৪ জনই ছুটিতে আছেন। ১০ জন বিচারককে সকল কোর্টের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্তকর্তা মো. আব্দুল খালেককে তার কক্ষে না পেয়ে ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন জানান। তবে উক্ত আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনোয়ারুর কবির বাবুল বার্তা২৪.কমকে জানান, ঢাকা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাসফিকুল ইসলামসহ ৫ জন ছুটিতে আছেন। তাদের মধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাসফিকুল ইসলাম অসুস্থ ও অপর একজন প্রশিক্ষণজনিত কারণে ছুটিতে আছেন।

তিনি আরও জানান, ৫ বিচারক ছুটিতে থাকলেও বিচারকাজ ঠিকই চলছে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, হাজিরা, জামিন শুনানি সবই সময়মতো হচ্ছে। কোন অসুবিধা হয়নি।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির ৩৭ ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরীসহ ২২ ম্যাজিস্ট্রেট ছুটিতে আছেন। তবে বিচারে যেন কোন বিঘ্ন না ঘটে এবং বিচারপ্রার্থীরা যাতে হয়রানি না হন সেজন্য উপস্থিত ১৫ ম্যাজিস্ট্রেটকে সকল কোর্টের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। এতে করে মামলায় কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হবে না।

আ্ইনজীবী গোপাল দত্ত জানান, ঈদের ছুটির সাথে সকলে হয়তো ২/১ দিন করে বাড়তি ছুটি নেওয়ায় বিচারকের উপস্থিতি কম। তবে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবীর সংখ্যাও অনেক কম। তাই বিচারের ওপর এর কোন প্রভাব পড়বে না। সব কিছু স্বাভাবিক হতে আরও ২/১ দিন সময় লাগবে।

;

লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রীর মৃত্যু: ৫ জন রিমান্ডে



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চের দড়ি ছিঁড়ে পাঁচ যাত্রী নিহতের ঘটনায় করা মামলায় দুই লঞ্চের চার মাস্টার ও এক ম্যানেজারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা চৌধুরী হিমেলের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডকৃতরা হলেন- এমভি তাসরিফ-৪ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. মিজানুর রহমান ও দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. মনিরুজ্জামান এবং এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের প্রথম শ্রেণির মাস্টার মো. আব্দুর রউফ হাওলাদার, দ্বিতীয় শ্রেণির মাস্টার মো. সেলিম হাওলাদার ও ম্যানেজার মো. ফারুক খান।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট নৌ থানার সাব-ইন্সপেক্টর নকীব অয়জুল হক আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।

আসামিদের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে সদরঘাট ১১ নং পন্টুনের সামনে এমভি তাশরিফ-৪ নামে একটি লঞ্চ ও এমভি পূবালী-১ নামে আরও একটি লঞ্চ রশি দিয়ে পন্টুনে বাঁধা ছিল। এ দুটি লঞ্চের মাঝখান দিয়ে ফারহান নামে আরেকটি লঞ্চ ঢুকানোর সময় এমভি তাশরিফ-৪ লঞ্চের রশি ছিঁড়ে গেলে পাঁচ যাত্রী লঞ্চে ওঠার সময় গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা) ইসমাইল হোসাইন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

;

ঈদের ছুটিতে আদালতে কার্যক্রম চলবে যেভাবে



মবিনুল ইসলাম, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ঈদের ছুটিতে আদালতে কার্যক্রম চলবে যেভাবে

ঈদের ছুটিতে আদালতে কার্যক্রম চলবে যেভাবে

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের নিম্ন আদালতে সাধারণত দুই ধরণের ছুটি হয়। এক ধরণের ছুটি দুই ঈদসহ নানান দিবসের। আরেক ধরণের ছুটি হয় পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে। এ ধরণের ছুটিকে বলা হয় অবকাশকালীন ছুটি। এ ধরণের ছুটিতে আদালতে কার্যক্রম চলে কিনা, চললে কীভাবে চলে? জামিন শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ কিংবা অন্যান্য শুনানি কীভাবে হয়? বার্তা২৪.কমের পাঠকদের জন্য বিষয়টি তুলে ধরা হলো।

ঈদ বা অন্যান্য দিবসের ছুটিগুলো সাধারণত একদিন থেকে সর্বোচ্চ ৩ দিন পর্যন্ত বন্ধ থাকে। যদিও এবারই প্রথম ঈদে ৫ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশের নিম্ন আদালতসমূহ। এসব ছুটি দেশের সব আদালতসমূহ ভোগ করে থাকে। এসব ছুটিতে দেশের কনো আদালতে কোনো প্রকার সাক্ষ্যগ্রহণ কিংবা অন্য কোনো ধরণের শুনানি হয় না। এমনকি ডিসেম্বর মাসজুড়ে দীর্ঘ মেয়াদে ছুটির সময়ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ছাড়া কোনো আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ কিংবা অন্যান্য কোনো প্রকারের শুনানি হয় না।

ঢাকার ফৌজদারি মামলার আইনজীবী মো. শাহিনুর ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, জামিন চাওয়া একজন আসামির আইনগত অধিকার। সে কারণে ডিসেম্বর মাসের দীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে দেশের জেলা জজ আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতসমুহে আসামির জামিন শুনানির জন্য ডিসেম্বরের বিভিন্ন তারিখে অবকাশকালীন আদালত চলে। আদালত অঙ্গনে এ ধরনের আদালত “ভ্যাকেশন কোর্ট” নামে পরিচিত। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে জামিন বঞ্চিতরা এসব আদালতে জামিনের আবেদন করলে আদালত সেসব শুনানি গ্রহণ করেন।

তিনি আরও বলেন, তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ডিসেম্বর মাসের অবকাশকালীন ছুটির সুবিধা পায় না। দেশের জজ আদালত বন্ধ থাকলেও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়মিত জামিন, রিমান্ড শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণসহ সকল কার্যক্রম অন্যান্য সময়ের মতোই চলে।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার ক্ষমতাবলে আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ৯টি কারণে পুলিশ যে কাউকে বিনা পরোয়ানায় বা আদেশ ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারে।

এমন ৯টি কারণে আটককৃত ব্যক্তির অধিকার সমন্ধে বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকার অধ্যায়ের ৩৩ (১) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘গ্রেফতারকৃত কোনো ব্যক্তিকে যথাসম্ভব গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার হতে বঞ্চিত করা যাবে না।’

৩৩ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করতে হবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ব্যতীত তাকে তদতিরিক্ত প্রহরায় আটক রাখা যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৬০ ধারায় আটককারী পুলিশ কর্মকর্তা আটককৃত ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অর্পণ এবং ৬১টি ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ব্যতীত আটককৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আটক না রাখার বিধান বর্ণিত হয়েছে।

সমাজী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির হলে অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খোলা থাকতে হবে। তাই ঈদ, পূজা, বড়দিন অন্যান্য যে কোনো দিবস এমনটি ঝড় বৃষ্টি সাইক্লোন কিংবা মহামারির মধ্যেও অর্থাৎ বছরে ৩৬৫ দিনই ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খোলা রাখতে হয়। তবে এসব ছুটিতে সব ম্যাজিস্ট্রেটকে ডিউটি করতে হয় না। ২/১জনকে পুরো জেলার শুনানি গ্রহণের এখতিয়ার দেওয়া হয়। এসব আদালতে শুধুমাত্র রিমান্ড ও জামিন আবেদনের উপর শুনানি গ্রহণ করা হয়। আর জামিন না মঞ্জুরের ক্ষেত্রে ওই সকল আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াস গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কম-কে জানান, এ বারের ঈদে ৫ দিন ছুটি হলেও দেশের কোনো আদালতে ভ্যাকেশন কোর্ট থাকবে না। তবে ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য দুইজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন।

;