বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী



আশরাফুল ইসলাম, অতিথি লেখক
বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির, ছবি: সংগৃহীত

বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের ভূমিপটে মিশে আছেন অখণ্ড বাংলা সাহিত্যের একজন উজ্জ্বলতম প্রতিভা। ষোড়শ শতকের 'মনসামঙ্গল' রচয়িতা কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা চন্দ্রাবতী। যিনি বাংলা ভাষার প্রথম মহিলা কবি।

এই কবির রচিত রামায়ণ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে রামায়ণ রচনার মাধ্যমে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূলে প্রথম কুঠারাঘাত করেন তিনি। এছাড়া চন্দ্রাবতীর বিস্ময়কর কাব্যপ্রতিভার পরিচয় মেলে দস্যু কেনারাম এবং মলুয়া পালাসহ তার রচিত অজস্র লোকসংগীতের ছত্রে ছত্রে।

গবেষকদের মতে, তাঁর কবিতা সুরভিত বনফুলের মতো। গভীর ও অর্থবোধক। মধ্যযুগের নিরিখে উপমায়, চিন্তায়, মননে তিনি ছিলেন অগ্রসর ও আধুনিক। এসব কারণেই সমগ্র বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান অমলিন।

চন্দ্রাবতীর নিজের বর্ণনায় তাঁর বংশ পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে কাব্যভাষায়:

'ধারাস্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বহি যায়।

বসতি যাদবানন্দ করেন তথায়।

ভট্টাচার্য ঘরে জন্ম অঞ্জণা ঘরণী।

বাঁশের পাল্লায় তালপাতার ছাউনি।

ঘট বসাইয়া সদা পূজে মনসায়।

কোপ করি সেই হেতু লক্ষী ছাড়ি যায়।

দ্বিজবংশী বড় হৈল মনসার বরে।

ভাসান গাইয়া যিনি বিখ্যাত সংসারে।'

চন্দ্রাবতী মনসামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা। তাঁর মায়ের নাম সুলোচনা। একসময়ের খরস্রোতা ফুলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের পাতুয়াইর (কাচারিপাড়া) গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

পূর্ব মৈমনসিংহ গীতিকা অনুযায়ী, ১৫৫০ সালের দিকে তাঁর জন্ম, আর মৃত্যু ১৬০০ সালে। চন্দ্রাবতী একাধারে কবি এবং সাহিত্যের নায়িকা। বাংলা সাহিত্যের একজন সার্থক ট্রাজিক নায়িকা হিসেবে তিনি কিংবদন্তী হয়ে রয়েছেন। রোমান্টিক মনের অধিকারী চন্দ্রাবতীর বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া প্রেমের বিয়োগান্তক ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায় মৈমনসিংহ গীতিকার নয়ানচাঁদ ঘোষ রচিত চন্দ্রাবতী পালায়। ১২টি অধ্যায়ে ৩৫৪টি ছত্রের এ লোকগাঁথাটি চন্দ্রাবতীর জীবনীর তথ্যভিত্তিক লিখিত প্রামাণ্য দলিল।

নয়ানচাঁদ ঘোষের বর্ণনায়, সুন্দরী চন্দ্রাবতীর সাথে তাঁর বাল্যসখা জয়ানন্দের বন্ধুত্ব যৌবনকালে গভীর প্রেমে পরিণত হয়। ফলে চন্দ্রাবতীর প্রেমিক মন উদ্বেলিত হয়, যা বর্ণিত হয়েছে নিন্মলিখিত ছন্দে:

'তোমারে দেখিব আমি নয়ন ভরিয়া।

তোমারে লইব আমি হৃদয়ে তুলিয়া।

বাড়ীর আগে ফুইট্যা রইছে মল্লিকা মালতী।

জন্মে জন্মে পাই যেন তোমার মত পতি।'

অবশেষে সামাজিকভাবে দুই পরিবারের সম্মতিতে জয়ানন্দ ও চন্দ্রাবতীর বিয়ে ঠিক হয়। সে বিয়ের আয়োজনও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যায় আরেক ঘটনা। আসমানি নামে একটি মুসলমান মেয়ের রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁকেই বিবাহ করে চঞ্চলমতি জয়ানন্দ। এই মর্মান্তিক খবরে চন্দ্রাবতী স্তম্ভিত হয়ে নাওয়া-খাওয়া ত্যাগ করেন। নিদারুণ আঘাতে মুষড়ে পড়া চন্দ্রাবতীকে বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য বংশীদাস কন্যাকে একমনে শিবের নাম জপ করতে আর রামায়ণ লিখতে উপদেশ দিলেন।

এসময় চন্দ্রাবতী পিতা দ্বিজ বংশীদাশের কাছে দুটি প্রার্থনা করেন। একটি ফুলেশ্বরী নদীর তীরে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা এবং অন্যটি চিরকুমারী থাকার ইচ্ছা। চন্দ্রাবতী পালায় তার বর্ণনা রয়েছে:

'অনুমতি দিয়া পিতা কয় কন্যার স্থানে

শিবপূজা কর আর লেখ রামায়ণে।'

দ্বিজ বংশীদাশ তাঁর দু’টি প্রার্থনাই মঞ্জুর করলেন। এভাবেই এক সময়ের খরস্রোতা নদী ফুলেশ্বরীর তীরে স্থাপিত হয় চন্দ্রাবতীর শিবমন্দির। বিরহী প্রেমের স্মৃতিময় সে জীবন চন্দ্রাবতী কাটিয়ে দিয়েছেন সাহিত্যের ভেতর।

কিছুকাল পর জয়ানন্দ অনুতপ্ত হয়ে আবার তার কাছে ফিরে এলেও চন্দ্রাবতী আর তার সাথে দেখা করেন নি। প্রত্যাখাত হয়ে জয়ানন্দ চন্দ্রাবতীর উদ্দেশ্যে মন্দিরের দ্বারে লিখে যা:

'শৈশব কালের সঙ্গী তুমি যৌবনকালের সাথী।

অপরাধ ক্ষমা কর তুমি চন্দ্রাবতী।

পাপিষ্ঠ জানিয়ো মোরে না হইল সম্মত।

বিদায় মাগি চন্দ্রাবতী জনমের মত।'

চন্দ্রাবতী অনেক পরে মন্দির খুলে এ লেখা দেখতে পান। ওই লেখা ধুয়ে ফেলার জন্য চন্দ্রাবতী নদীর ঘাটে জল আনতে গিয়ে দেখেন আত্মঘাতী ও বিরহী জয়ানন্দের মৃতদেহ জলের উপর ভাসছে। জয়ানন্দের মৃত্যু থামিয়ে দেয় চন্দ্রাবতীকেও। নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ফুলেশ্বরীতে ঝাঁপ দিয়ে জয়ানন্দের শেষ যাত্রায় সঙ্গী হলেন তিনি।

অন্যমতে, জয়ানন্দের মৃত্যুর অল্প কিছুদিন পরই শোকাভিভুত চন্দ্রাবতীও দেহত্যাগ করেন। ফলে রামায়ণে সীতার বনবাস পর্যন্ত লেখার পর আর লেখা হয়নি।

চন্দ্রাবতীর রামায়ণ মূলত একটি পালাবদ্ধ গীত। এটি তিনটি খণ্ডে মোট ১৯টি অধ্যায়ে রচিত হয়েছে। প্রথম খণ্ড হলো জন্মলীলা, এখণ্ডে মোট ৮টি অধ্যায় রয়েছে। চন্দ্রাবতী রামায়ণের দ্বিতীয় খণ্ডের আলাদা কোনো নামকরণ করা হয় নি। এই খণ্ডে সীতার কাহিনী প্রাধান্য লাভ করেছে। এই খণ্ডে শেষ দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায়ে বনবাস পূর্ববতী জীবনের কাহিনী এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে সীতার বনবাসের ঘটনা। চন্দ্রাবতীর রামায়ণের তৃতীয় খণ্ডটিও দ্বিতীয় খণ্ডের মতো নামকরণবিহীন। মোট নয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত।

প্রথম অধ্যায়ে সীতার বনবাসের পূর্ণ সূচনা, দ্বিতীয় অধ্যায়ে সীতার বিরুদ্ধে কুকুয়ার চক্রান্ত, তৃতীয় অধ্যায়ে রামচন্দ্রের কাছে সীতার বিরুদ্ধে কুকুয়ার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের, চতুর্থ অধ্যায়ে রামচন্দ্রের সীতাকে পূনর্বার বনবাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত, পঞ্চম অধ্যায়ে সীতার বনবাস, ষষ্ঠ অধ্যায়ে সীতাকে বাল্মীকি মুনির আশ্রয় দান ও লব-কুশের জন্ম, সপ্তম অধ্যায়ে সীতার সঙ্গে হনুমানের সাক্ষ্য, অষ্টম অধ্যায়ে রামচন্দের সঙ্গে হনুমানের সাক্ষ্য এবং নবম অধ্যায়ে চন্দ্রাবতী রামায়ণ শেষ। এ অধ্যায়ে সীতার অগ্নীপরীক্ষা ও পাতালে প্রবেশের বর্ণনা রয়েছে।

চন্দ্রাবতীর এই রামায়ণ কাহিনীতে রাম নয় সীতাই হয়ে উঠছেন নায়িকা। সীতার জন্ম কাহিনী দিয়ে শুরু করে, তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো স্থান দিয়ে, তাঁর মানসিকতাকে সুনিপুণ ভাবে ব্যাখ্যা করে তাঁরই পাতাল প্রবেশ দিয়ে এ রামায়ণের ছেদ টেনেছেন কবি। রামায়ণের এই নবতর রূপ কল্পনা করতে গিয়ে নিজস্ব শিক্ষা এবং রুচি অনুসারে কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের চিরাচরিত বহু বিষয়কে যেমন বিমুক্ত করেছেন, তেমনই নতুন বহু বিষয়কে সংযুক্ত করেছেন, যে নবনির্মিতির মূল্য অপরিসীম। নিজের জীবন অভিজ্ঞতা তথা জীবনাদর্শকে জারিত করে চন্দ্রাবতী রামায়ণের গতানুগতিক ধারার মধ্যেই সংযুক্ত করেন তাঁর ব্যতিক্রমী রচনা- রামায়ণের মোড়কে সীতায়ন।

চন্দ্রাবতীর জীবন কাহিনী ও গাঁথার প্রথম আবিস্কার ও আলোচনা করেন মৈমনসিংহ গীতিকা’র প্রখ্যাত সংগ্রাহক চন্দ্র কুমার দে। কিশোরগঞ্জের সন্তান কেদারনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত সৌরভ নামে একটি মাসিক পত্রের ১৩২০ ফাল্গুন সংখ্যায় (১৯১৩) চন্দ্র কুমার দে 'মহিলা কবি চন্দ্রাবতী' শীর্ষক একটি নিবদ্ধ লেখেন। এ নিবন্ধটি পাঠ করে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়ে আগ্রহী হন এবং পরবর্তীতে চন্দ্র কুমার দে’র সহযোগিতায় চন্দ্রাবতীর গাঁথাসহ সম্পূর্ণ জীবন কাহিনী, চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণের পাণ্ডুলিপিসহ অনেক গানই উদ্ধার করেন। চন্দ্রাবতীর লেখা রামায়ণের পান্ডুলিপি বর্তমানে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে।

চন্দ্রাবতীর রচনা আজ সারাবিশ্বে আলোচিত। পৃথিবীর একুশটি ভাষায় তাঁর লেখা অনুদিত হয়েছে। এখানেই থেমে নেই, কবি চন্দ্রাবতীর রচনা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে পৃথিবীর নানা দেশে। ড. আহম্মদ শরীফের মতে, চন্দ্রাবতীর গাথা নারী সমাজেরই সম্পদ, তারাই গায় ও শোনে। এটি অদ্ভুত রামায়ণের স্বাধীন ও সংক্ষিপ্ত অনুস্মৃতি অথবা লোকায়ত রাম-কাহিনী অনুবাদ নয়। ভাষার দিক থেকেও আধুনিক।

সাহিত্যিক নবনিতা দেব সেন চন্দ্রাবতীর রামায়ণ পাঠ করে বিস্মিত হয়ে বলেন যে, এ রচনাটি দুর্বল তো নয়ই এটি অসমাপ্তও নয়। এ রচনাটিতে রামের জয়গান না করে একজন নারীর দুঃখ ও দুর্দশাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যা তৎকালীন পুরুষশাষিত সমাজের বিরুদ্ধাচারণ হিসেবেও মনে করা যেতে পারে। নবনিতা দেব সেন চন্দ্রাবতী রচিত রামায়ণের ইংরেজি অনুবাদও করেন।

বর্তমানে ফুলেশ্বরী নদীর কোন চিহ্ণ না থাকলেও কালের সাক্ষী হয়ে চন্দ্রাবতীর স্মৃতিবিজড়িত শিবমন্দিরটি দাঁড়িয়ে আছে। মন্দির ও চন্দ্রাবতীর লেখার রামায়ণ সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা, মন্দিরের নির্মাণ শৈলী ও স্থানীয় অনুসন্ধান থেকে অনুমান করা হয়, মন্দিরটি ষোড়শ শতকের শেষ পাদে নির্মিত, যদিও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরটি অষ্ট কোণাকৃতির। এটির উচ্চতা ১১ মিটার। আটটি কোণার প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ ১.৭ মিটার। নিচের ধাপে একটি কক্ষ ও কক্ষে যাবার জন্য একটি দরজা রয়েছে। ভিতরে হয় শিবপূজা। নিচের সরলরেখায় নির্মিত অংশটি দু’টি ধাপে নির্মিত। নিচের ধাপের চারদিকে প্রায় অর্ধ বৃত্তাকার খিলানের সাহায্যে নির্মিত প্রশস্ত কুলুঙ্গী রয়েছে। নিচের ধাপে কার্ণিশ পর্যন্ত উচ্চতা ২.৭০মিটার। কক্ষের ভিতরে সাতটি জানালা সদৃশ কুলুঙ্গি রয়েছে যার প্রস্থ ৫২সেন্টিমিটার এবং দৈর্ঘ ৯৯সেন্টিমিটার। কিছু কারুকাজও আছে। কক্ষের ব্যাস ২.৩৫মিটার। এর কার্ণিশ বরাবর অনুচ্চ ছাদ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপটিও সরলরেখায় নির্মিত। এই পর্যায়েও অর্ধবৃত্তাকারের খিলানের সাহায্যে নির্মিত প্রশস্ত কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গির ভিতরে একদা পোড়ামাটির অসংখ্য চিত্র ফলকের অলংকরণ ছিল যা আজ অবশিষ্ট নেই।

জানা যায়, অনেকদিন মন্দিরটি প্রায়-ভগ্ন অবস্থায় ছিল, কয়েক বছর আগে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ সংস্কার করায় এর প্রাচীন আমেজ আর নেই। মন্দিরের শিবলিঙ্গটিও চুরি হয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালে জাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে ‘মন্দিরটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পত্তি’ এই সাইনবোর্ড টানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এর রক্ষণাবেক্ষণসহ নিরাপত্তার বিষয়টি এখন হুমকির সম্মুখীন। তবে সম্প্রতি চন্দ্রাবতীর স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর উদ্যোগী হয়েছে বলে জানা গেছে। এরই মাঝে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একাধিক প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেও গেছে।

আরোজানা গেছে, এখনো বিষয়টি কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে।

মন্দিরসংলগ্ন স্থানে স্থাপিত হয়েছে কবি চন্দ্রাবতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় মাঠে প্রতি বছর বৈশাখ মাসের এক তারিখে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কবি চন্দ্রাবতীর স্মৃতিকে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এলাকার তরুণদের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে চন্দ্রাবতী স্মৃতি সংসদ।

   

নারীরাই সমাজের স্থপতি



ফাহমিদা নবী
নারীরাই সমাজের স্থপতি

নারীরাই সমাজের স্থপতি

  • Font increase
  • Font Decrease

নারীর জাগরণে অনেক পিছিয়ে আছি বললে ভুল হবে। যদি বলি, তবে প্রযুক্তির যুগে এসে সে কথা বলার কোন মানে হয় না। নারীও তাঁর অধিকারে এগিয়ে যাচ্ছে সাহস এবং শক্তিশালী মানসিকতার বদৌলতে। কেন পিছিয়ে থাকবে?

১৯০৮ সালের শ্রম আন্দোলন থেকে উদ্ভূত হয়েছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ধারণাটি। বাংলাদেশে বেগম রোকেয়া আমাদের নারীদের জাগরণের জন্য যখন পথ দেখালেন তখন থেকে অদ্যাবধি অবস্থানকে শক্ত এবং শক্তিশালী করবার দুর্নিবার পথ চলা কিন্তু থেমে নেই। তবুও আমরা আজো পিছিয়ে কেন? যে জাতি নারীদের সম্মান করতে পারে না, সে জাতির উন্নতি অসম্ভব।

নারীরাই সমাজের প্রকৃত স্থপতি। নারীকে চিন্তা চেতনার শর্তে জীবনযাপন করার জন্য যথেষ্ট সাহসী হতে হবে। আমাদের দেশে আত্মসচেতনতার অভাব রয়েছে বলেই নারীদের মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে; সবসময় এবং বারংবার। নারী সমাজকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। এ শক্তি কাজে লাগিয়ে সমাজসেবার সুযোগ করে দিতে হবে। নারীদের মেধা ও শ্রমশক্তিকে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করতে হবে। আর তা করতে হলে সমাজ সম্পর্কে তাঁর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন।

নারী দিবস মানেই আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়া সৃষ্টিতে-কৃষ্টিতে সমতায় সেরা নারী যেন কোনভাবেই ভেঙে না পড়ে।

আমার তো মনে হয় নারী ফিনিক্স পাখি! সে যেভাবে বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাড়ায়। নিজের কিশোরবেলা থেকে শুরু করে সংসার, বিয়ে, সন্তান থেকে পরিবার পুরো সমাজ সংসারে তার চলাচল ভীষণ ইতিবাচক। তাঁর তো সময় নেই নেতিবাচকতায় চোখ রাখবার! থাকুক যতই বাধা তার ধৈর্যের কমতি নাই। হাসিমুখে সব কিছুতে তাঁর অংশগ্রহণ এক বিস্ময়।

সত্যি বলতে কী নারী মানেই “মা”। তাই নারী সব কিছুরই উদাহরণ। মাকে কখনো কঠিন হতে হয়, কখনো কোমল, কখনো বা সংসার কৌশলী, বুদ্ধিমত্তায় পারদর্শী।

নারীদের বলতে চাই জীবনে সংগ্রাম থাকবেই কিন্তু পিছিয়ে পড়া যাবে না। এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কথা বলতে, না বলতে, সাহসে পথ চলতে শিখতে হবে। নিজেকে ভালোবাসতে হবে।

আমাদের দেশে নারীদের অংশগ্রহণ এখন সর্বত্র। শুধু সাহস আর মানবিকতা পথটাকে আরেকটু চিনে চলতে হবে। কারণ অমানবিকতা আনাচেকানাচে চিরকালই দেখি।

আরেকটা বিষয়কে প্রাধান্য দিতেই হবে যা মানবিক আচরণ। কিছু সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যদি সবাই এক সমতায় তবে এখনো পিতার সম্পত্তি বণ্টনে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না কেন? বিশাল সমস্যা এখানেই রয়ে গ্যাছে। এই সমঅধিকারের প্রতিকার যতদিন না হবে বৈষম্যের ফাঁকটা রয়েই যাবে। এবং মেয়েদের উপর অত্যাচার কখনোই কমবে না।

পৃথিবীর কোন দেশে এই বৈষম্যতা নেই বলেই নারীরা অনেক সাহসে এবং সমতার অংশগ্রহণের নিশ্চিত থাকতে পারে।

আমরা কেন পিছিয়ে থাকব। সমবণ্টন নিশ্চিত হোক। নারীর এগিয়ে যাওয়া আর রুদ্ধ হবে না।

আমি সব সময় মুগ্ধ হই আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে। কী প্রাণবন্ত হয়ে নারীদের অগ্রগতিতে তিনি কতটা ভূমিকা রাখছেন! প্রতি মুহূর্তে তিনি চান মেয়েরা এগিয়ে আসুক সাহসী হোক। তিনি এ ব্যাপারেও কাজ করছেন শুনেছি। আশা করি অবশ্যই পিতার সম্পত্তিতে ছেলেমেয়ের সমঅধিকার হবে। কাজেকর্মে, শিক্ষায় সমাজ সংসার জীবনে এবং রাষ্ট্রীয় কাজে অগ্রণী ভূমিকা রাখুক সমতায়। সেজন্য সুযোগ সুবিধায় নারীদের সম্মানকে বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমরা কেন পিছিয়ে থাকব?

সকল নারীদের জন্য শুভ কামনা; আত্মবিশ্বাসে পথ চলা সফল হোক।

ফাহমিদা নবী: সংগীত শিল্পী

;

‘নারীবাদী’ শব্দের উৎপত্তি এবং এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক



নারীশক্তি ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
নারী ক্ষমতায়নের বিশ্ববাসী / ছবি: বিং এআই

নারী ক্ষমতায়নের বিশ্ববাসী / ছবি: বিং এআই

  • Font increase
  • Font Decrease

‘নারীবাদী কিনা?’ প্রশ্নে পুরুষ কিংবা নারী- অনেককেই অপ্রস্তুত হতে দেখা যায়। কারো উত্তরে থাকে দ্বিধা। হাস্যকর হলেও সত্য, কেউ কেউ উত্তর দেয়,‘আমি নারীবাদী নই, তবে আমি সমতায় বিশ্বাসী।’ সমাজে অধিকাংশ মানুষের কাছে ‘নারীবাদী’ শব্দটার অর্থ সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। বর্তমান সমাজে মানুষ নারীদের সমান অধিকারের দাবীর কথা শুনে হাসে। কিছু মানুষের মতে, নারীরা বরং বেশিই পাচ্ছে। বর্তমান সমাজচিত্র দেখে অনেকে মনে করেন, নারীবাদের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে বরফখণ্ড ভাসতে দেখে, পানির নিচে তার আকার বোঝা যায় না। নারীবাদী  শব্দের সূচনা যখন হয়েছিল, তখন সমাজের চিত্র একদম ভিন্ন ছিল।

নারীবাদ মানেই পুরুষের সমান অধিকার আদায়ের মানসিকতা। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে-মানুষ হিসেবে নারী এবং পুরুষের সমান অধিকার প্রাপ্য, সেই নারীবাদী। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সময়ের অনেক নারীবাদীদের মধ্যে পুরুষ বিদ্বেষী ভাব ফুটে ওটে। এই আচরণ কোনোভাবেই নারীবাদী হওয়ার প্রমাণ নয়!    

উনবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবার ফেমিনিজম বা নারীবাদ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছিল। ফ্রান্সের দার্শনিক চার্লস ফুরিয়ে ১৮৩৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শব্দটির ব্যবহার শুরু করেন। এরপর ১৮৭২ সালে  ফ্রান্স এবং ১৮৯০ সালে নেদারল্যান্ডসে ফেমিনিজম এবং ফেমিনিস্ট শব্দ দু’টির ব্যবহার হয়। পরবর্তীতে যা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যায়।

বিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা ভোটের অধিকার আদায়ে এবং নারী-পুরুষ সমান ক্ষমতায়নের আন্দোলন শুরু করে। এই  আন্দোলন হয়েছিল কারণ, কর্মক্ষেত্রে সম্মান এবং আয়ের দিকে নারীরা ছিল পুরুষদের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে।  সমান অধিকার ছিল না বলেই, তা ছিনিয়ে নিতে বার বার আন্দোলনে নামতে হয়েছে নারীদের ।

স্রষ্টা পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষ-কে পাঠিয়েছেন। অথচ বিবেক-বুদ্ধিবান মানব সমাজেই একপক্ষকে অপর পক্ষ থেকে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হয়েছে। ব্যাপারটা কেমন বেখাপ্পা নয় কি?

একটা সময় নারীদের নিজ ইচ্ছায় ঘর থেকে বের হওয়ার অধিকারও ছিল না। শিক্ষাগ্রহণ বা কর্মক্ষেত্রে যাওয়া ছিল স্বপ্নাতীত। ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় স্বামীর মৃত্যু হলে, জীবিত নারীদের তাদের সাথে পুড়িয়ে মারা হতো। নারীর ইচ্ছা না থাকলেও পরিবারের সকলে মিলে তাকে এই নিয়ম মানতে বাধ্য করতো। সম্রাট আকবর তার রাজত্বকালে, নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সতীদাহ প্রথা বন্ধ করার উদ্যোগ নেন। এছাড়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে চালু হয়ে বিধবা বিবাহ আইন। ১৮৫৬ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা নারীদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার ছেলেকে এক বিধবা কন্যার সাথে বিয়ে দিয়ে।

তৎৎকালীন এই অসমতার চিত্র, ইউরোপের অনেক লেখকের কলমে ফুটে উঠেছিল প্রাচ্যের বর্বরতা হিসেবে। তারা নারীদের প্রতি আচরণের কারণে, প্রাচ্যকে অনুন্নত বিবেচনা করতো। অথচ পশ্চিমের আচরণ যে নারীদের প্রতি খুব সম্মানজনক ছিল, নাও কিন্তু নয়!

ইংল্যান্ডের বাজারে একসময় বউ বিক্রি হতো। নারীদের লাল লিপস্টিক দিয়ে সাজ ছিল নিষিদ্ধ। কেবল দেহ ব্যবসায়ী নারীরাই লাল লিপস্টিকের ব্যবহার স্বাধীনভাবে করতে পারতেন। ১৮০০ সালের দিকে ঝগড়া করার অপরাধে এক ইউরোপীয়ান তার স্ত্রীর মুখে বেড়ি পড়িয়ে রাস্তায় হাঁটিয়েছিলেন। এমনকি নারী আন্দোলন এবং জাগরণের শুরুই হয়েছিল খোদ পশ্চিমের দেশগুলোতেই।  

সব মানুষেই নিজের জীবন স্বাধীনভাবে কাটাতে চায়। কেউই  পরাধীন থাকতে চায়না বিধায়, কালের বিবর্তনে বিশ্বজুড়ে বার বার বিদ্রোহ এবং আন্দোলন হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েও লড়ে গেছে স্বাধীনতার জন্য। বর্তমান সমাজ নারীর প্রতি যথেষ্ট নমনীয় হলেও, শুরু থেকে এমনটা ছিল না। সেই কারণেই নারীরা আন্দোলন করে অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে।    

;

'রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম ছিলেন মানবিকতার প্রতীক'



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
'রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম ছিলেন মানবিকতার প্রতীক'। বার্তা২৪.কম

'রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম ছিলেন মানবিকতার প্রতীক'। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম ছিলেন মানবিকতার প্রতীক। তিনি ছিলেন উদার, অসাম্প্রদায়িক ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। কিশোরগঞ্জের সমাজ প্রগতি ও জনসেবায় তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মরণোত্তর সম্মাননা পদক প্রদানকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কিশোরগঞ্জের সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য বিষয়ক মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবী নূরজাহান বেগমকে ১ম শাহ্ মাহ্তাব আলী ফাউন্ডেশন পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী অষ্টবর্গ শাহ্ বাড়িতে নবনির্মিত নান্দনিক স্থাপত্য শাহ্ মাহ্তাব আলী কালচারাল কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

পদকপ্রাপ্ত সমাজসেবী নূরজাহান বেগমের পক্ষে তাঁর বড় ছেলে, মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর, বার্তা২৪.কম এর অ্যাসোসিয়েট এডিটর ড. মাহফুজ পারভেজ পদক গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি ‘জীবনের ধ্রুবতারা: আমার মা নূরজাহান বেগম ও কিশোরগঞ্জের স্মৃতি’ শীর্ষক পাবলিক লেকচার প্রদান করেন।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ্ মাহতাব আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লাইজু আক্তার। এতে পদক প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ ইস্কান্দার আলী স্বপন। পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. গোলাম হোসেন।

এতে সমাজসেবী নূরজাহান বেগমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সি‌নিয়র আইনজীবী বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা না‌সির উ‌দ্দিন ফারুকী, সিনিয়র আইনজীবী, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, জেলা পাব‌লিক লাই‌ব্রে‌রির সাধারণ সম্পাদক মু আ ল‌তিফ, সি‌নিয়র সাংবা‌দিক আলম সা‌রোয়ার টিটু, সহকারী অধ্যাপক মো. সেলিম, ফ্রন্টিয়ার্স রিপোর্টার্স সোসাইটির সভাপতি মিনহাজ শিহাব ফুয়াদ, সমাজকর্মী লুৎফু‌ন্নেছা চিনু প্রমুখ। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সমাজকর্মী, শিক্ষাবিদ এবং বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সমাজসেবী নূরজাহান বেগমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রসঙ্গত, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, কিশোরগঞ্জের বরিষ্ঠ চিকিৎসক ডা. এ.এ. মাজহারুল হক ও সমাজসেবী নূরজাহান বেগম প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জের সমাজ-সংস্কৃতি-সাহিত্য বিষয়ক সমীক্ষাধর্মী মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবন কীর্তির ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা ছাড়াও বিভিন্ন জনহিতকর ও সমাজসেবামূলক কাজ করছে।

এছাড়া সমাজসেবী নূরজাহান বেগম বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসাসহ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। গত ১০ জানুয়ারি এই মহীয়সী নারী পরলোকগমন করেন। তাঁর কর্ম ও স্মৃতিকে অম্লান রাখার জন্য শাহ্ মাহ্তাব আলী ফাউন্ডেশন তাঁকে মরণোত্তর পদকে ভূষিত করেছে।

;

‘প্রতিবন্ধী নারীদের বাধা দূর করতে একসঙ্গে সাইরেন বাজাতে হবে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), অ্যারো ও সিএনএস এর যৌথ উদ্যোগে ‘প্রতিবন্ধী নারী ও কিশোরীদের প্রতি সহিংসতা রোধ’ বিষয়ক একটি কর্মশালা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডিআরইউ সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিবের সঞ্চালনায় বেলা ১১টায় ডিআরইউ’র নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

এ সময় তিনি বলেন, বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন প্রতিবন্ধী নারীরা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকারসহ শীর্ষ পর্যায়ে নারী ক্ষমতায় থাকলেও নারীরা এখনও তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। এই নারীরাই যখন প্রতিবন্ধী হয় তখন তারা আরো নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হন।


নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না এমন মন্তব্য করে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, রাস্তাঘাটসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্ট থাকলেও মানুষের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো মেগা প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিবন্ধীদের নিয়েও পর্যাপ্ত পরিমানে প্রকল্প নেই। আমার মনে হয়, রাষ্ট্র একটা ভুল মডেলের দিকে যাচ্ছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে একসঙ্গে বাঁশি এবং সাইরেনটা বাজাতে হবে, আওয়াজ এক সঙ্গে করতে হবে।

এসময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, একটি সমন্বিত চেষ্টার মাধ্যমে সরকার, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ এগিয়ে আসলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

কর্মশালাটিতে প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশ প্রকল্প সমন্বয় বিশেষজ্ঞ তুশিবা কাশেম মূল বিষয়ের উপরে আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন ডিআরইউ’র তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক কামাল মোশারেফ।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র যুগ্ম সম্পাদক শাহনাজ শারমীন, অর্থ সম্পাদক এস এম এ কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি, নারী বিষয়ক সম্পাদক তাপসী রাবেয়া আঁখি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল উদ্দিন সুমন, আপ্যায়ন সম্পাদক মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান ও কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু, কার্যনির্বাহী সদস্য সোলাইমান সালমান, সুশান্ত কুমার সাহা, মো: আল-আমিন, এসকে রেজা পারভেজ ও মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (মেজবাহ) উপস্থিত ছিলেন।

;