প্রশান্ত পশ্চিম



মাহমুদ হাফিজ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্ব ৭

গাড়ি এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রমশ নীবিড় বন ও পর্বতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি তা বোঝা যায়। ম্যাপল গল্পকোর্সকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেলে ম্যাপল ভ্যালি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত বৃক্ষ ম্যাপল এর নামে গড়ে উঠা উপত্যাকাটি দিগন্তজোড়া। রাস্তা ফুরিয়ে ম্যাপল নামের উপত্যাকাটি শেষ হতে চায় না। এই রাস্তায় এগিয়ে যেতে থাকলে চোখে পড়ে ছোট পর্বত পাদদেশের শান্ত নিরিবিলি ছোট ছোট শহর। ক্রমশ বনের নীবিড়তা বাড়ে, লোকালয় কমতে থাকে। ম্যাপল উপত্যকার পর ব্লাক ডায়মন্ড নামে একটি ছোট শহর পাই। ঘনবনের ভেতরে প্রবেশের আগে শেষ শহর বলতে গেলে এনামক্ল। এ শহরে দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও পেট্রাল পাম্প দেখি। শহরের অদূরে ১৬৯ সড়ক মিলিত হয়েছে ৪১০ নম্বরে। দৃষ্টিগ্রাহ্য সেতু না থাকলেও  একটি ছোট নদী পেরিয়ে যাচ্ছি বলে মনে হয়। শহর ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই নদীটি আমাদের সঙ্গী হয়। নাম তার শ্বেত নদী, হোয়াইট রিভার।

শহুরে কোলাহলের পর বনানীময় নির্জন নীরবতা আর ছুটে চলার দুলুনিতে গাড়ির ভেতরেইও স্তব্ধতা নেমে এসেছে। আমি ছাড়া সবাই ঝিমুনিভাবে চুপচাপ। আকস্মিক তুসুর ‘ওয়াও’ বলে চীৎকারে অন্যরা আড়মোড়া ভেঙে বসে। ক্যামেরা বাগিয়ে সে ভিডিও করতে শুরু করেছে। গাড়ির সোজাসুজি  স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মাউন্ট রেইনিয়ার-  পশ্চিমপ্রশান্ত স্টেট ওয়াশিংটনের পাহাড়পুঞ্জের সম্রাজ্ঞী। আকাশমুখো নীরবে মাথা তুলে দাঁড়ানো পর্বত অনায়াসে নজরে আসায় সবাই খুশি। পর্বতকে নজরের সামনে রেখে গাড়ি ছুটতে থাকে। আঁকাবাঁকা রাস্তার জন্য মাঝে মাঝে দৃষ্টিসীমার ডানে বাঁয়ে চলে যায়, কখনো লুকোচুরি খেলৈ গাছে পেছনে।  পরক্ষণেই উদ্ভাসিত হয় উচ্চতার স্বমহিমায়।

পর্বতে তাকিয়ে থাকলে সমুদের মতোই মন উদার হয়

পল বলে, ‘উই আর গোয়িং টু সী হার ফ্রম হার আর্মস। বাট আই এ্যাম এ্যাফ্রেইড

 গন্ডোলা অব ক্রিস্টাল মাউন্টেন ইজ ক্লোজ আর ওপেন।‘

আমি বলি, বহু ভ্রামণিক মনে করে গন্তব্য পৌঁছাই আসল ভ্রমণ। আমার কথা হচ্ছে, এই যে ড্রাইভ করে যাচ্ছি ঘনবনের নীবিড় নির্জনমুখো, সামনে আপাদমস্তক মাউন্ট রেইনিয়ার, এটাও তো এক সফল ভ্রমণ। ভ্রমণের প্রতিটি মূহুর্তই থাই বৃথা নয়।

দেখি আমার এ বক্তব্যে কারও কোন উচ্চবাচ্য নেই। তার মানে, যতোটুকু উপভোগ্য হয়েছে এই ভ্রমণ তাতেই সবাই তৃপ্ত।

এখনও চোখের সামনে বিস্তীর্ণ তৃণভূমি। পাহাড়ের পাদদেশের তৃণলগ্ন বিস্তীর্ণ ক্ষেতে গরু বা ভেড়া চড়ছে। বহুদূর পেরিয়ে যাওয়ার পর দুয়েকটি ফার্ম হাউজ। আমাদের আজকের ক্যাপ্টেন পল বললো-

‘কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা নীবিড় বনানীতে ঢুকে যাবো। সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান। সেখানে বনপাহাড়ি কটেজ, কেবিন আর ক্যাম্পগ্রাউন্ড ছাড়া  কোন লোকালয় নেই।‘

বলতে না বলতে গাড়ি এক নীবিড় জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে যায়। আশ্চর্য গাড়ির ভার্চুয়াল প্লেয়ার তার প্লেলিস্ট থেকে বাজিয়ে দিয়েছে মেঘদল ব্যান্ডের গান-

‘চেনা অচেনা আলো আধারে/ চলতি পথে কোন বাসের ভিড়ে/কালো ধোঁয়া ধোঁয়ার এই শহরে/হাঁটচি আমি একা রোদ্দুরে/ আমি এক দিকভ্রান্ত পথিক/হারাই্ শুধু হারাই তোমার অরণ্যে’…।

হারাই শুধু হারাই অরণ্যে, হারাই শুধু হারাই অরণ্যে রিদমের মধ্যে গাড়ি হারিয়ে  যাচ্ছে পাহাড়ি অরণ্যে, বনের নির্জন পথ ধরে শহর থেকে দূরে। পরের গান-

‘ভীষণ গন্ধ ডুমুর ফুলে,মাকালের লাল মেখে/ শুকনো নদী বুকে,রাতের রোদ্দুরে’।

মাউন্ট রেইনিয়ার ও হোয়াইট রিভারের উৎসমুখ

আশ্চর্য টেলিপ্যাথি, আশপাশে বুনোফুলের গন্ধ। আমাদের চলার সঙ্গী হোয়াইট রিভার বরফগলা নদী বলে এই শরতে শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। বুকে জেগে আছে কেবল পাহাড়ি নুড়ি ও পাথর।

প্লেয়ারে বাজতেই থাকে- ‘শহরবন্দী মেঘ, ঘুরে ঘুরে একা/ আমাদের এই সুবর্ন নগরে/ আমিও পেতেছি কান, শুনি বৃক্ষের ক্রন্দন/ ধূসর রাজপথের প্রান্তরে’….।

বৃক্ষবৃন্দের মধ্য দিয়ে ছুটছি  নি:সঙ্গ মৃসণ সড়কে। কর্ণকুহরে ‘মেঘদল’ এর এই শহর, মেঘ, বৃক্ষের গান।

দু’ধারে পাইনবনের সারি, ট্রেকারদের কেবিন, আরভি স্টেশন, ক্যাম্পিং গ্রাউন্ড,,পাহাড়ি বাঁক। বন ঘন হয়ে আসে কোথাও, কোথাও আবার ফাঁকা ফাঁকা। পাহাড়ের পাদদেশে কোথাও সবুজক্ষেত ও বুনোফুল উপত্যকা।  পাহাড়ি সড়কটি এতোটাই বনানীময়, একটি সরলরেখায় আকাশটিই শুধু দেখা যায়। কোথাও কোথাও ভিউপয়েন্ট। নদী ও ঝর্ণা দেখা আড়ম্বর। গ্রিনওয়াটার পেরিয়ে আমরা আরও ঘনবনে  ঢুকে যাই। রেইনারকে কেন্দ্র করে অজস্র পাহাড় নিয়ে গঠিত এই্ ক্যাসেকেড অরণ্যে অজস্র বৃক্ষ। শুনেছি পাইন ও স্প্রূস  ফ্যামিলির বৃক্ষই আছে ১৩ প্রজাতির। এগুলো চিরসবুজ, কখনো পাতা ঝরে না।  মাপল, ডগউড, বার্চ, রোজ ও উইলো ফ্যামিলির বৃক্ষের প্রজাতিও সমসংখ্যক। এগুলো ঋতুভেদে রঙ বদলায় ও পাতা ফেলে ও নতুন পাতা ধারণ করে।

মাউন্ট রেইনিয়ার ন্যাশনাল পার্কের দিকে না গিয়ে বামে ক্রিস্টাল মাউন্টেন বুলুভার্ডের শেষপ্রান্তে ক্রিস্টাল মাউন্টেন রিসোর্টে গিয়ে গাড়ি পার্ক করি। পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র। একে ঘিরে গড়ে উঠেছে টিকে টঘর, গন্ডোলা স্টেশন, স্যুভেনির শপ, রেস্তোরা, বাথরুম। বরফের মৌসুমে তা দিবারাত্রি ভরে থাকে স্কিইআর তুষার স্পোর্টসম্যানদের ভিড়ে। এখন শরৎ  পার্কিং লটগুলো ঝিমু্চ্ছে অলস অপরাহ্নে। আমাদের মতো মৌসুমী পর্যটকদের আনাগোনার অবশ্য বিরাম নেই।

ক্রিস্টাল মাউন্টেনের চূড়ায় বসে মাউন্ট রেইনিয়ার দর্শন

কয়েকটি ছোট পাহাড় ও পাহাড়ি উপত্যকা পেরিয়ে ক্রিস্টাল মাউন্টেনের চূড়ায় উঠতে গন্ডোলায় চড়ি।  লাল ও সবুজ রঙের ৩০টি গন্ডোলা ঘূর্ণায়মান।  ২৮ নম্বরটিতে  চেপে মিনিট দশেকে সাতহাজার ফুট উঁচুতে উঠে যাই। গন্ডোলাগামী পর্যটক ও পাহাড়পুঞ্জের দূর্গম ট্রেইলে হাইকিংশেষে সামিটজয়ী পর্বতপ্রীতদের খাবার পাণীয় সেবায় উন্মুখ সামিট হাউজ রেস্তোরা। এই সামিটে চড়েছি ওয়াশিংটন স্টেটের প্রকৃতিসম্ভারের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মুকুট মাউন্ট রেইনিয়ারের অপরূপ শোভার আকর্ষণে। জীবন্ত আগ্নেয়িগিরিময় মাউন্ট রেঞ্জে স্কিইং,হাইকিং, ফিশিং, স্নোবোর্ডিং, হর্স রাইডিং, ক্যাম্পিংয়ের মতো নানা ট্যুরিস্ট এ্যাক্টিভিটি করা যায়।  ১৪ হাজার ৪১১ ফুট উচ্চতার পর্বতটির কোমর সমান্তরাল থেকে পুরোটা দৃষ্টিগোচরে আনতে হলে স্ফটিক পর্বতে ওঠা ছাড়া উপায় নেই। ক্রিস্টাল পর্বতের চূড়ায় উঠে কেউ রেস্তোরা চত্ত্বরের টেবিলে বসে পাহাড়টি উপভোগ করে, কেউ সামনের ইজিচেয়ার বা বেঞ্চে অদূরের মাউন্ট রেইনেয়ারে দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে, কেউ আরেকটু নিচে নেমে হাইকিং করে। গন্ডোলার ল্যান্ডিং স্টেশনের দু’দিকে চেয়ারলিফটও আছে। তা খোলা হয় অন্য মৌসুমে।

আমরা ক্রিস্টাল মাউন্টেনের চুড়া থেকে নিচে স্নোর্টিং এল্ক বোওল এর দিকে ও উল্টো দিকে পাউডার পাসের দিকে সামান্য হাইকিং করে আবার সামিট হাউসের সম্মুখে গন্ডোলা লোডিং স্টেশনে ফিরে এসে গন্ডোলায়।

আকস্মিক আবার দেখা হয় সেই শ্রশ্মগুম্ফমন্ডিত রেস্তোরাকর্মীর সঙ্গে। সে তখন আবর্জনার ব্যাগ ফিতেয় বেঁধে একাই এক গন্ডোলায় চেপে নিম্নগামী হচ্ছে। আমার মনে হয়, সে এ জগতে বসে এক ভিন্নজগতের বাসিন্দা। জীবনের কোন একটি লগ্নে পাহাড়প্রেমে মত্ত মানুষটি এসে উঠেছে এই সাতহাজার ফুট্ উচ্চতায়।

ভিসা-টিকিট, ভ্রমণ সংক্রান্ত সব সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গ্লোবাল ট্র্যাভেলস



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
গ্লোবাল ট্র্যাভেলস ও এর কর্ণধর সাদ্দাম হোসেন

গ্লোবাল ট্র্যাভেলস ও এর কর্ণধর সাদ্দাম হোসেন

  • Font increase
  • Font Decrease

ভ্রমণে বের হলে সাধারণত মানুষ নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। ভিসা প্রসেস করো, টিকিট কাটা, হোটেল বুকি এসব ঝামেলাও নিতে চান না। এমন ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ও প্রবাসীদের ভ্রমণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ট্র্যাভেল এজেন্সি 'গ্লোবাল ট্র্যাভেলস’। তরুণ উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্কেটে এক বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্লোবাল ট্র্যাভেলস অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের টিকিট বুকিং সেবা, হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং, ট্যুর প্যাকেজ, কার সার্ভিস, হেলিক্পটার সার্ভিসসহ ভ্রমণসংক্রান্ত সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে।  


ট্র্যাভেল এজেন্সি ব্যবসার প্রায় ৭ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে গ্লোবাল ট্র্যাভেলসের যাত্রা শুরু করেছেন মো. সাদ্দাম হোসেন। ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের ওপর পড়াশুনা শেষ করে ট্র্যাভেল এজেন্সির চাকরি পেশা হিসেবে বেঁচে নেন সাদ্দাম হোসেন। ইনোভা সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি এজেন্সিতে এক্সিকিউটিভ হিসেবে ভিসা সেকশনে যোগ দেন। সেখানে ৫ বছর কাজ করার পর তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে ট্র্যাভেল আইল্যান্ড নামে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। সেখানে দুই বছর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত এপ্রিল থেকে গ্লোবাল ট্র্যাভেলসের যাত্রা শুরু করেছেন।


গ্লোবাল ট্র্যাভেলসে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, শেনজেন, সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড কোরিয়া জাপানসহ বিভিন্ন দেশের ট্যুরিস্ট ভিসা প্রসেস করে দেওয়া হয়। এছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং মেডিকেল ট্যুরিজমের ভিসাও প্রসেস করে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্লোবাল ট্র্যাভেলসে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমি আমার প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকদের মান সম্মাত সেবা প্রদান করতে চাই। এখন থেকে টিকিট বুকিং সেবা, হোটেল বুকিং, ভিসা প্রসেসিং, ট্যুর প্যাকেজসহ ভ্রমণসংক্রান্ত সব ধরনের সেবা এখানে পাওয়া যাবে।


গ্লোবাল ট্র্যাভেলসের ওয়েবসাইটে একই সঙ্গে সব এয়ারলাইন্সের ভাড়াসহ অন্য তথ্য পেয়ে যাবেন, যার কারণে আপনি টিকিট সংগ্রহের ব্যাপারে সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

গ্লোবাল ট্র্যাভেলসের মাধ্যমে সেবা পেতে যে কোনো তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন....01810-766664 অথবা ভিজিট করুন http://globaltravelsbd.com/.

;

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো



তৌফিক হাসান, কন্ট্রিবিউটিং এডিটর-ট্রাভেল এন্ড ট্যুর, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

বাংলাদেশি পর্যটক আকর্ষণে ঢাকায় ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার রোড শো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর  চলতি বছরের ১ এপ্রিল সীমান্ত খুলে দেয় মালয়েশিয়া। মূলত ওইদিন থেকে দেশটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এর ফলে ফের পর্যটক টানতে নানা উদ্যোগ নেয় মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ‘ট্যুরিজম মালয়েশিয়া’ ২ থেকে ৭  জুন বাংলাদেশের  গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে প্রথমবারের মতো রোডশো’র আয়োজন করছে।

ঢাকায় রোববার (৫ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য  রোডশো’র আয়োজন করে মালয়েশিয়া পর্যটন উন্নয়ন বোর্ড- ট্যুরিজম মালয়েশিয়া।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম, ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শিবলুল আজম কোরেশী সহ স্বনামধন্য সকল ট্রাভেল এজেন্ট এবং ট্যুর অপারেটররের শীর্ষকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এবং ‘দ্য বাংলাদেশ মনিটর’র সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুর আলম।

এদিকে রোডে শো উপলক্ষে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার সিনিয়র পরিচালক (কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগ) সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান এর নেতৃত্বে একটি মালয়েশীয় প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মালয়েশিয়ার ৫টি ট্রাভেল এজেন্সি এবং দুটি স্বাস্থ্যশিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরাও।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার হাজনা এমডি. হাশিম বক্তব্য রাখছেন

অনুষ্ঠানে রোড শো’র আয়োজন প্রসঙ্গে বক্তরা জানান, মালয়েশিয়া ভ্রমণে বাংলাদেশিদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করার সাথে সাথে এই রোডশো’র লক্ষ্য হলো ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যার মাধ্যমে তারা পর্যটনকে পূর্বাবস্থায় বা আরো ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।

সৈয়দ ইয়াহিয়া সৈয়দ ওথমান বলেন, বাংলাদেশে ফিরে আসার এটি একটি দারুণ সময় এবং রোডশো আয়োজনের জন্য যথার্থ। বাংলাদেশে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় শুরু এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য মালয়েশিয়ার সীমান্ত উন্মুক্তকরণ বলতে গেলে একই সময়ে সংঘঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের মালয়েশিয়ায় স্বাগত জানানোর সূযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই রোমাঞ্চিত। পর্যটকরা এখন মালয়েশিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রোমাঞ্চকর আকর্ষণগুলো সাশ্রয়ী খরচে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ দুবছর পর পর্যটকরা এখন অনেক কিছুই এক্সপ্লোর করতে পারবেন যার মধ্যে রয়েছে সম্প্রতি চালু হওয়া আউটডোর থিমপার্ক, গেন্টিং স্কাইওয়ার্ল্ড, কুয়ালালামপূরে নতুন সাজে সজ্জিত সানওয়ে রিসোর্ট এবং জাকজমকপূর্ণ নতুন আকর্ষণ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উঁচু অট্টালিকা ‘মারদেকা ১১৮’। অনিন্দ্য সুন্দর সমূদ্রতট, চিত্তাকর্ষক পর্বতমালা ও বনোরাজিসহ বিভিন্ন আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর কর্মকান্ড আপনার ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।

উল্লেখ্য, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যার হিসেবে মালয়েশিয়ার তালিকায় বাংলাদেশের স্থান প্রথম দিকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজারের বেশি বাংলাদেশি মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেছেন; যা মোট সংখ্যার ১৯.৩০ শতাংশেরও বেশি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ণ কোর্স কোভিড টিকাপ্রাপ্ত বিদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া ভ্রমণে কোন কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজন নেই। আসার আগে ও যাওয়ার পর  পর্যটকদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা লাগবে না। ১৭ বছর বা তার নিচের বয়সী শিশুদের জন্যও করোনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। বর্তমানে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাটিক এয়ার এবং এয়ার এশিয়া ঢাকা এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে ভ্রমণের জন্য সপ্তাহে ৩ হাজার ৯১০ টির বেশি আসন অফার করছে।

;

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে মালয়েশিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

দুই বছর পর পুরোদমে ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করার ঘোষণা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য সীমানা সম্পূর্ণরূপে খুলে দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দর্শনার্থীদের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে ফেরত আসা কর্মী যারা দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন তারা খুব সহজেই মালয়েশিয়ায় ঢুকতে পারবেন। তাদের কোয়ারেনটিনে থাকার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের অবশ্যই যাত্রার দুই দিন আগে একটি আরটি-পিসিআর পরীক্ষা এবং পৌঁছানোর পরে একটি দ্রুত পরীক্ষা (আরটিকে) করতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের সীমানা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। মালয়েশিয়ার প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।

;

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

করোনা টেস্ট ছাড়াই ভ্রমণ করা যাবে মালদ্বীপ

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনার টিকার দুই ডোজ সম্পন্ন করলেই যাওয়া যাবে মালদ্বীপ। বিশ্বের যেকোনো দেশের পর্যটকরাই এ সুযোগ নিতে পারবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের পর্যটন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা গত শনিবার থেকে কার্যকর হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো যাত্রী যদি করোনা প্রতিরোধ টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ (বুস্টার ডোজ প্রয়োজন নেই) নিয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ৫ মার্চ থেকে সেসব যাত্রীর মালদ্বীপ ভ্রমণের আগে আরটি-পিসিআর টেস্টের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করা হলো। সূত্র: লয়ালটিলবি ডটকম

;