নিজে গোছাচ্ছেন দল আর নেতাদের দিয়ে জোট



মহিউদ্দিন আহমেদ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৩ সালের শেষ কিংবা ২০২৪ সালের শুরুতে বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ যখন নানান ছক আঁকছে এবং বিভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে, সেখানে বিএনপির পরিকল্পনা এখনো অজানা। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে তারা অংশ নিতে আগ্রহী নয়। বিষয়টিকে তারা প্রধান দফা হিসেবে রাজনীতির মাঠে ইতিমধ্যেই জানান দিয়েছে।

২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনগুলো থেকে লব্দ অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে বিএনপি এবার দুটো বিষয়ে বেশ জোর দিয়েছে। একটি হলো সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সরকার বিরোধী জোট গঠন করা এবং আরেকটি হলো নিজ দলকে যতটা সম্ভব গুছিয়ে নেওয়া। তবুও নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছে বিএনপি এমন প্রশ্নে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘অনেকের মনে হতে পারে শেষ মুহূর্তে হয়ত বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে কিন্তু সত্যি হলো নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া বিএনপি কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এবং আওয়ামী লীগ যদি আগের দুইবারের মত সে চেষ্টা করে তাহলে সেটা জনগনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।’

কোন কারণে যদি সরকার অনড় অবস্থানে থেকে নির্বাচন করে ফেলতেও চায় সেক্ষেত্রে বিএনপির ইচ্ছে বৃহত্তর জোট গঠন করে সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলা। সে লক্ষ্যে দলটি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দলকে জোটভুক্ত করার প্রয়াসে একের পর এক দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। জোট গঠনের ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উপরই আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপি একের পর এক সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে এবং আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শেষে তারা গণমাধ্যমকে ব্রিফও করছে। সেই সঙ্গে বৈঠক পরবর্তী বিষয়াদি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকেও সবিস্তারে জানানো হচ্ছে বলেও এক সূত্রে জানা গেছে।

কি লক্ষ্যে এবারের জোট গঠন নিয়ে বিএনপি অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে এমন প্রশ্নে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ আমরা আসলে জোট গঠনের জন্য আলোচনা করছিনা, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়াসে এই আলোচনা। আমাদের দুটো জোট পূর্বেই ছিল যেগুলো আমরা এখনো ভাঙিনি। একটি হল ২০ দলীয় জোট এবং আরেকটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু আমরা এখন ওই দুটি জোটের বাইরের দলগুলোর সাথেও আলোচনা করছি। আগামী নির্বাচনের আগে একটি নির্দলীয় সরকার কিভাবে গঠন করা যায় এবং বর্তমান সরকারকে সেটা করতে বাধ্য করা যায় সেটাই হবে জোটের প্রধান লক্ষ্য।’

জোট বিষয়ে দলের প্রবীণ নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থা রাখলেও নিজের দল বিএনপি পুনর্গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন তারেক রহমান। মূল দল থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করার জন্য একের পর এক কমিটি দিচ্ছেন, কোথাও রদবদল করছেন আবারও কোথাও প্রয়োজন মত সংযোজন বিয়োজন করছেন। কিছুদিন আগেই বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে নতুন মুখ আনয়নসহ কিছু রদবদর করেছেন এবং দফতরে লোকবল বাড়িয়েছেন। মিডিয়া সেল নামে নতুন একটি উইং গঠন করেছেন। নবগঠিত এই উইং এর কাজ সম্পর্কে মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে গণমাধ্যমের ব্যাপ্তি, ক্ষমতা ও প্রভাব অনেকে বেড়ে গিয়েছে। দেশের বৃহত্তর দল হিসেবে দেশের হারানো গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনাই এখন বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিএনপির সামগ্রিক রাজনৈতিক, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে এক নতুন ধারায় প্রবাহিত করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারই একটি অংশ বিএনপির মিডিয়া সেল গঠন। মিডিয়া সেল দেশের প্রচলিত গণমাধ্যম এবং বিকল্প গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক তৎপরতার লক্ষ্য বস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে দলের সামনে অবিলম্বে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব করবে। আর এটিই এখন বিএনপি মিডিয়া সেলের লক্ষ্য।’

বিএনপির শক্তিশালী অঙ্গ সংগঠন হিসেবে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। নিয়মিত স্কাইপে বৈঠক করছেন । মহানগর, জেলা, থানা থেকে শুরু ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। ছাত্রদল কমিটি গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিভাবে ভূমিকা রাখছেন এমন প্রশ্নে ছাত্রদল সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ জানান, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দ্রুত সময়ে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। কমিটি দেওয়া সব সংগঠনেরই একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে উনি এবার যেটাতে জোর দিয়েছেন সেটা হলো কার্যকরি কমিটি গঠন করা। যে কমিটিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখবে। আরেকটি বিষয় আমরা উনার কাছে উপস্থাপন করেছি এবং তাতে উনি সায় দিয়েছেন। সেটা হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিটিগুলো যেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় এবং তাতে যেন অভিজ্ঞরা স্থান পায়।’

জোট গঠনের প্রক্রিয়া এবং দল পুনর্গঠনে তারেক রহমান কিভাবে সমন্বয় করছেন বা ভূমিকা রাখছেন সে বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তিনি প্রতিনিয়ত টেলিফোন ও স্কাইপের মাধ্যমে সবার সঙ্গে কথা বলছেন। এছাড়া জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় টিমের সসদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। জোটের বিষয়ে যারা তত্বাবধান করছেন সেগুলোর বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এছাড়া নিয়মিতভাবে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্কাইপে মিটিং করে যাচ্ছেন।’

‘নির্বাচন প্রতিহতের নামে বিশৃঙ্খলা করলে প্রতিরোধের মুখে পড়বে বিএনপি’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন প্রতিহতের নামে দেশে কোন বিশৃঙ্খলা করলে দেশের জনগণের প্রতিরোধে বিএনপিকে আগুনের মুখে পড়তে হবে।

শনিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর হাজারীবাগে থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিএনপি- জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

বিএনপির ইচ্ছায় নয়, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে কথা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নাকি আগামী নির্বাচনে ৩০ আসনও পাবে না, তাহলে কি বিএনপি মহাসচিব জ্যোতিষবিদ হয়ে গেছেন?

তিনি বলেন, ২০০৮ সালেও বিএনপির নেত্রী বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ৩০ আসনও পাবে না, কিন্তু ভোটে দেখা গেলো উল্টো বিএনপিই ৩০ আসনও পাইনি। আগামী নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও দেশের জনগণ জানে, বিএনপি মহাসচিবের কথায় হবে না বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

গতবারও বিএনপি নির্বাচনে আসবে না বলে জানায় কিন্তু গাধা পানি ঘোলা করে খায় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, পরে ঠিকই নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি

ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলে বিএনপির কপাল পুড়বে তাই তারা এর বিরোধীতা করছে এমন দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি হচ্ছে ভোট ডাকাতের সর্দার, তাই বিএনপি ভোট ডাকাতি করার জন্য ইভিএমের বিরোধিতা করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে আসা না আসা বিএনপির একান্ত নিজস্ব ব্যাপার, আওয়ামী লীগও চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক, কিন্তু কাউকে জোর করে নির্বাচনে আনার কোন দরকার নাই।

হাজারীবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরাজি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির ও সাংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নুরুল আমিন রুহুল।

;

আল্লাহ নিজের রহমতের চাদরে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে চলেছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা এমপি’র ৭৬ তম শুভ জন্মদিন পালনে কৃষক লীগের আয়োজন

প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা এমপি’র ৭৬ তম শুভ জন্মদিন পালনে কৃষক লীগের আয়োজন

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, অন্ধকার দূর হবে, আলোর বিচ্ছুরণ হবে, এই হল জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মের তাৎপর্য। নেত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমাদের একটাই স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে এনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শূন্যতা পূরণ করব। বাঙালির বাঁধভাঙা কান্না এবং প্রকৃতির কান্নায় একাকার হয়ে ঝড় উঠেছিল জনমনে, পাগলে মত ছুটেছিল মানুষ সরকার-পুলিশ-বিএনপি-জামাত সন্ত্রাসীদের বাধা উপেক্ষা করে জন সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ, বিমান বন্দর থেকে সর্বত্র। আল্লাহ নিজের রহমতের চাদরে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে চলেছেন। ২১ আগস্টসহ এখনো আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বুলেট-বোমা উপেক্ষা করে নেত্রীর সুরক্ষায় প্রাচীর হয়ে অবস্থান করছে।

শনিবার ( ১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা এমপি’র ৭৬ তম শুভ জন্মদিন পালনে কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শেখ হাসিনা আলোকবর্তিকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে জাগরিত করে নানা রকমের হামলা জয় করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতন করে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিএনপি-জামাত বাংলাদেশ কে পাকিস্তানী ভাবার্দশে একটি সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করতে চায়। পাকিস্তান প্রেমী মির্জা ফখরুল এবং তারেক জিয়া’রা বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা ১৬ কোটি মানুষ এবং আওয়ামী লীগের সকল সংগঠনকে সাথে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করব।

কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ বলেন, ১৯৮১ সালে কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে জাতির পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যান, হাল ধরেন বাঙালি জাতির, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সহ তলা বিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেন এবং শিক্ষাঙ্গণকে সন্ত্রাস মুক্ত ও সেশনজট মুক্ত করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করেন। আজকের এই মঞ্চে নেত্রীর শুভ জন্মদিন উপলক্ষে একটি কথাই বলব, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং  ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবেলা করতে হবে। তিনি কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা’র দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। কারণ তিনি সুস্থ থাকলে বাংলাদেশ থাকবে, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

সভা সঞ্চলনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শরীফ আশরাফ আলী, আলহাজ্ব শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এস.এম আকবর আলী চৌধুরী, হোসনে আরা এমপি, কৃষিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, মোঃ আবুল হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু, এ্যাড. শামীমা শাহরিয়ার এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা, নূরে আলম সিদ্দিকী হক, অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম পানু,  অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নাজির মিয়া, আইন সম্পাদক এ্যাড. জহির উদ্দিন লিমন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।

সভা শেষে  প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

;

বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা করছে পুলিশ!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা করছে পুলিশ!

বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা করছে পুলিশ!

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি-জামায়াতের মদদদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করছে পুলিশ। বিএনপি, জামায়াত-ই-ইসলামী এবং অন্যান্য বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে অর্থদাতা, জনবল সংগঠক ও সহযোগীসহ যারা আড়ালে থেকে যারা কাজ করছেন তারাও পুলিশের এই তালিকায় রয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) রাজনৈতিক শাখা থেকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও মহানগরের পুলিশ কমিশনারের কাছে বিএনপিসহ অনান্য বিরোধীদলের কর্মসূচি সফল করতে যারা কাজ করছে তাদের নাম-ঠিকানা, ভোটার আইডি কার্ড এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনার আলোকে, এসপি এবং কমিশনাররা সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি এবং বেতার বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে বিরোধী দলগুলির কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতাকারী ব্যক্তিদের তালিকা চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের সব জেলার থানাগুলোকে বিএনপি-জামায়াত এবং সরকার বিরোধী পৃষ্টপোষকদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং এনআইডি কার্ড নম্বর সংগ্রহ করতে হবে।

বরিশাল রেঞ্জের একজন জেলা এসপি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চিঠি পেয়েছি এবং আমরা যারা দলীয় কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে তাদের খতিয়ে দেখছি। সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করার পরে একটি প্রতিবেদন জমা দেব তবে এটি একটি নিয়মিত তদন্ত। এই বিষয়ে ব্যক্তিদের হয়রানি, জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করা হবে না।

এ প্রসঙ্গে স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপ-মহাপরিদর্শক (রাজনৈতিক) এজেডএম নাফিউল ইসলাম বলেন, কোন নেতা-কর্মী মারা গেছে বা তাদের অবস্থান ছেড়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রতি দুই-তিন মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থা আপডেট করি। এছাড়া দলগুলোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্যও আমাদের হালনাগাদ করতে হবে। এটা রুটিন ওয়ার্ক। আমরা এটা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত বা অন্য দলের জন্য করে থাকি।

এসবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে প্রতিবারই এই তালিকা করা হয়। নির্বাচনের আগে এসব লোক যাতে সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আগাম নজরদারিতে রাখা হয়। তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও নজরদারিতে রাখা হয়। সর্বোপরি আইন রক্ষায় তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের একজন জেলার এসপিও বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিএনপি-জামায়াত দাতাদের তালিকা তৈরির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বর্তমান নেতাদের আলাদা তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে ১৬টি থানায় তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি এনআইডি কার্ড নম্বরও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জুলাই মাসে একটি অপরাধ পর্যালোচনা সভায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামও ডিএমপির আওতাধীন ৫০টি থানাকে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা এখন আমাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে একটি তালিকা তৈরি করছে।

;

বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোন টানাপোড়েন নেই: কৃষিমন্ত্রী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক

  • Font increase
  • Font Decrease

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কোন টানাপোড়েন নেই। আমরা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত শহর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দাম নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। তবুও আমরা মনিটরিং করছি। খুব জোরালোভাবে এটা তত্বাবধান করা হচ্ছে। আমরা দেখছি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্তিম ঘাটতি সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা সেটা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ খুব সচেতন। তারা জানে দেশে কোন দুর্ভিক্ষ নাই। খাদ্য শস্যের দাম বাড়ছে, মানুষের কষ্ট হচ্ছে, একথা আমরা বারবার বলছি। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি বিনামূল্যে খাদ্য দেওয়ার জন্য। কম মূল্যে খাদ্য দেওয়ার জন্য। দেশে খাদ্যের হাহাকার নাই, কোন সমস্যা নাই, কোন দুর্ভিক্ষ নাই। তবে মানুষের কিছু কষ্ট আছে। যারা গরিব মানুষ, নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশা ও ভ্যানওয়ালা তাদের সমস্যা আছে। সেটা যতটা সম্ভব মোকাবিলা করার জন্য আমরা কাজ করছি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফ দিয়ে, বিনামূল্যে খাদ্য দিয়ে আমরা যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করছি।

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যে কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মৌলিক অধিকার আছে জাতীয় সমস্যা নিয়ে সমাবেশ, মিছিল ও আন্দোলন করার। কিন্তু আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্ট বলা আছে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ সুশৃঙ্খল হতে হবে এবং শান্তি বজায় রাখতে হবে। কোনক্রমেই মানুষের জীবন ও জানমালের উপর কোন হুমকি সৃষ্টি করা যাবে না। জীবনমানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যাবে না। কিন্তু আমরা দেখছি বিএনপি ঠিকই সমাবেশ করছে। এই সমাবেশ থেকে পুলিশের ওপর আক্রমণ করছে। যখন পুলিশের ওপর আক্রমণ করে, তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে তা নিভৃত করার। পুলিশ তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং মাঝে মধ্যে গুলি পর্যন্ত করে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে মিটিং করেন, তাতে কেউ বাধা দেবে না।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি মিথ্যাচার করে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাচ্ছে। তারা ২০১৩ সালে আবার ফিরে যেতে চাচ্ছে। তারা নিবার্চনে যাবে না, গাড়িতে আগুন দিবে, বিদ্যুতের লাইন তুলে ফেলবে, ট্রেনে আগুন দিবে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারবে। আমরা এটা করতে দিব না। এখনকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সক্ষম, অনেক সুশৃঙ্খল। আমাদের দায়িত্ব পুলিশকে সহযোগিতা করা। জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের।

তিনি বলেন, আমরা সারা পৃথিবীর মতামতকে সম্মান করি। বিশ্বের সকল সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমরা সম্মান করি। কিন্তু তারা যেটা বলছে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার। কিন্তু তাদের একটা বিষয় মনে রাখতে হবে আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে লেখা আছে বাংলাদেশে আর কোন দিন তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা হবে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়েও রয়েছে তত্বাবধায়ক সরকারের আইনটা অবৈধ।

ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ প্রমুখ। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকমীরা উপস্থিত ছিলেন।

;