হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী ভেসাল জাল



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
ভেসাল জাল

ভেসাল জাল

  • Font increase
  • Font Decrease

নদীমাতৃক দেশ আমাদের এই সোনার বাংলাদেশ। প্রকৃতির বিচিত্র দানে অপরূপ রুপে সজ্জিত এই দেশ। বাংলা নামের এ জনপদকে অধিক সমৃদ্ধ করে রেখেছে হাজার হাজার খাল-বিল, হাওড়-বিল ও নদী-নালা। আর এ কারণেই বাংলা হয়েছে নদীমাতৃক বাংলাদেশ। মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই মানুষের জীবনযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নদ-নদী।

এমন এক সময় ছিল বাংলার মানুষের জীবনজীবিকার সাথে মাছ ধরা ছিল অন্যতম একটি পেশা। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছিল জেলে সম্প্রদায়। কিন্তু সময়ের আবর্তনের সাথে সাথে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সব। অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে জেলে সম্প্রদায়। ভেসাল জাল পুস্তুকের কথা হলেও স্থানীয় গ্রামের ভাষায় একে বেয়াল জাল বা খেয়া জাল বলে। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এ নামেই বেশি পরিচিত।

একটা সময় দেশের খালে-বিলে বর্ষা মৌসুমে ভেসাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করতো জেলে সম্প্রদায়। প্রতিটি নদ-নদীতেই দেখা মিলত বাঁশ-সুতো দিয়ে তৈরি মাছ শিকারের বিশেষ এই যন্ত্র ভেসাল জাল। ঝাঁক বেঁধে উঠতো দেশীয় প্রজাতির নানা প্রকারের মাছ।

কিন্তু বৈরি আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অবৈধ দখল আর অপরিকল্পিত ভাবে জলাশয় ভরাটের ফলে আজ যেমন মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে দেশের খাল-বিল, নদী-নালা। ঠিক তেমনি বিলুপ্তির পথে ভেসাল জাল। কোন এক সময় ভেসাল জাল সচরাচর চোখে পড়লেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর চোখে পড়েনা বাংলার এক সময়ের মাছ শিকারের জনপ্রিয় এই ভেসাল। নদীর অস্তিত্ব সংকটের সাথে সাথে আজ দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মাছ ধরার বিশেষ এই পদ্ধতিও হারিয়ে যাচ্ছে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নের ভীমনগর গ্রামের জেলে রমেন সেন বার্তা২৪.কমকে বলান, আমার বয়স এখন প্রায় ৮৫ বছর। এমন এক সময় ছিল সারা রাত ধরে চন্দনা নদীতে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরতাম। প্রতি রাতে যে মাছ পেতাম তা দিয়েই চলত আমাদের সংসার। এখন চন্দনা নদীতে পানি থাকে না। ২-৩ মাস বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকলেও আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। নদীতে যদি পানিই না থাকে তাহলে ভেসাল জাল থাকবে কি রে? পানি নেই, মাছ নেই তাই ভেসাল জালও নেই। 


বহরপুর ইউনিয়নের বারুগ্রাম আবাসনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার খালে বেশ কয়েকটা ভেসাল রয়েছে। কথা হয় ভেসালের মালিক আমিরুল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, আবাসনের এই বিলে বর্ষা মৌসুমে একটু পানি থাকে। তখন ভেসাল দেই আমরা। পানি শুকিয়ে গেলেই ভেসাল খুলে বাড়ি নিয়ে যাব। একটি ভেসাল দিতে যে খরচ সে খরচও এখন উঠতে চায়না। বিলে এখন মাছ নেই।

বালিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মান্নাফ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ভেসাল মাছ শিকারের একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। এটি গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবহন করে। মাছ শিকারের এই প্রক্রিয়াটি আজ সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে। আগে গ্রামাঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিলে প্রচুর ভেসাল দেখা যেত। বাস্তবতা এখন ভিন্ন। বৈরি আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অবৈধ দখল আর অপরিকল্পিত ভাবে জলাশয় ভরাটের ফলে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে নদীগুলো। যার কারণে ভেসালও এখন আর তেমন চোখে পড়েনা।

মানসম্পন্ন শিক্ষা না থাকায় ৫ মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, আইন ও নীতিমালা অনুসারে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গার টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে মোট ৭৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুসারে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ৫টি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ১টি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।

বর্ণিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর এবং বিএমএন্ডডিসি কর্তৃক তদারকি করা হয়। একই সাথে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়/মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তদারকি করা হয়।

তিনি বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২২ এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ (সংশোধিত) অনুযায়ী গঠিত কমিটির মাধ্যমে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান তদারকি করা হয়। বর্ণিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং ১টি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।

ইতিপূর্বে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

যে ৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এগুলো হলো- ঢাকার আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, রংপুরের নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ, ঢাকার আইচি মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ।

;

হেম আশ্রমে লালন সঙ্গীত শুনলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
হেম আশ্রমে লালন সঙ্গীত শুনলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

হেম আশ্রমে লালন সঙ্গীত শুনলেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর হেম আশ্রম পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সসিলেন মিস্টার মুস্তফা উসমান তুরান। এসময় তিনি লালন সঙ্গীত শুনেন।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রাগপুর হেম আশ্রমে আসলে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। প্রবীণ বাউল ফকির নহির শাহ এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা।

বাংলাদেশে বসবাসরত ফরাসি নাগরিক ও লালন সাধক দেবোরাহ কিউকারম্যান জান্নাতের আমন্ত্রণে মোস্তফা ওসমান তুরান হেম আশ্রম পরিদর্শন করেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত আশ্রমে সাধু ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। এরপর বিকেলের দিকে ঢাকার উদ্দেশে দৌলতপুর ত্যাগ করেন।

এদিন বেলা ১১টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে নামেন তিনি। এসময় তাকে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এজাজ আহম্মেদ মামুন ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল জব্বার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

হেম আশ্রমের প্রতষ্ঠাতা ফকির নহির শাহ জানান, লালন সাধক দেবোরাহ কিউকারম্যান জান্নাতের আমন্ত্রণে মোস্তফা ওসমান তুরান হেম আশ্রম পরিদর্শন করেন। এসময় আশ্রমে সাধু ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আমরা লালন সঙ্গীত শুনিয়েছি। পরে আশ্রমে একটি আমের গাছ রোপণ করেন তিনি (রাষ্ট্রদূত)।

মরমি সাধক ফকির লালন শাহকে নিয়ে গবেষণার জন্য সুদূর ফ্রান্স থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম গবেষণার কাজে বাংলাদেশে আসেন দেবোরা কিউকারম্যান। সাধুসঙ্গে এসে লালন দর্শনের প্রেমে পড়ে যান এই নারী। তারপর আর দেশে ফিরে যাননি। এরপর প্রখ্যাত বাউল ফকির নহির শাহের শিষ্য হন। অবিবাহিত দেবোরা গুরুর আস্তানায় বসবাসকারী নহির শাহের আরেক শিষ্য রাজনকে বিয়ে করেন। এখনো গুরুর কাছে আত্মিক শান্তি ও সৃষ্টি রহস্য খুঁজতে দীক্ষা নিচ্ছেন। ফকির লালন শাহকে যতই জেনেছেন ততই তার প্রেমে পড়েছেন তিনি। বেড়েছে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও প্রেমবোধ। বর্তমানে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসবাস করছেন তিনি। মাঝে মাঝে ফ্রান্সে ঘুরতে যান। নাম বদল করে হয়েছেন দেবোরা জান্নাত।

;

শত বছরের ডুবের মেলায় জনস্রোত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ডুবের মেলা

ডুবের মেলা

  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইলের বাসাইলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী ডুবের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বাসাইল সদর এবং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বংশাই নদীর পূর্ব-উত্তর তীরে রাশড়া-সৈয়দামপুর গ্রামে দিনব্যাপী কয়েক হাজার লোকের সমাগমে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

দেবতার (মাদব ঠাকুর) মূর্তিতে প্রণাম স্মরণ করে ভোরে গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে মেলার বা পূজার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পাপ মোচনের লক্ষে ভোরে মানত ও গঙ্গাস্নান পর্ব সমাপন করে।

তবে চলাচলের সুবিধা না থাকায় মেলায় আগতরা মেলাস্থলে যাতায়াত এবং ঠিক সময়ে গঙ্গাস্নানের জন্য পৌঁছাতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, বৃটিশ শাসনামলে বক্ত সাধু নামে খ্যাত এই সন্যাসীর (মাদব ঠাকুর) মূর্তি প্রতিস্থাপন করে মনোবাসনা পূর্ণ করতে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা করা শুরু হয়। ওই সময়ে অনেকে এসব করে সফল হয়েছে বলে লোকমুখে প্রচলিত। তখন থেকে প্রতিবছর মাঘী পূর্ণিমার রাত থেকে গঙ্গাস্নান, পূজাঅর্চনা চলতে থাকে এবং পরে স্থানীয় সনাতনীরা একে মেলা এবং আনন্দ উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। ওই সময় থেকে এটা ডুবের মেলা নামে পরিচিত।

মেলায় বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবার, বাঁশবেতের তৈজসপত্র, মাটির তৈরি খেলনা, হাঁড়িপাতিল, বড় মাছ এবং চিড়া-দই, খইসহ বিভিন্ন দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসে। মেলায় আসা দোকানি সাধুকর বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে এত লোকের সমাগম হয় এটা অবিশ্বাস্য। বেচাকেনাও ভালো।

মিষ্টি দোকানি দীপক বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১০ মণ মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বিক্রি করি। কোন বাকি নেই । নগদ বিক্রি হয় বলে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের এই মেলায় দোকান দেবার বেশি আগ্রহ দেখা যায়।

ডুবের মেলার আয়োজক জীবন মন্ডল বলেন, প্রায় দেড়’শ বছর ধরে মাঘীপূর্ণিমার সময় আমার পূর্বপূরুষেরা এই মেলার আয়োজন করে আসছে। আমি এই মেলায় ষাট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী সখিপুর, মিজার্পুর, ভালুকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের কয়েক হাজার লোকজনের সমাগম হয়। ভোর স্নানের মাধ্যমে শুরু করে দিনব্যাপী এই মেলা চলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় জমির আইল ধরে পায়ে হেঁটে এই মেলায় আসতে হয় দর্শনার্থীদের। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় গতবছর অনেক পূর্ণার্থী গঙ্গাস্নানে আসতে পারেনি।

কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আল মামুন জানান, শুনতে পেরেছি ডুবের মেলা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ, জমির আইল ধরে দর্শনার্থীরা যাতায়াত করছে। চেষ্টা করছি এবছর নিজ উদ্যোগে বা প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তা করে দেবো।

;

ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অভিভূত ২৮ বিদেশি পর্যটক



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বাগেরহাট
ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অভিভূত ২৮ বিদেশি পর্যটক

ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অভিভূত ২৮ বিদেশি পর্যটক

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ, মসজিদের কমপাউন্ডে অবস্থিত জাদুঘর ঘুরে দেখলেন ২৮ বিদেশি পর্যটক।

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ২৭ জন সুইস ও একজন জার্মান পর্যটক বাগেরহাটের মোংলা থেকে ষাটগম্বুজ মসজিদে আসেন।এ সময় বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান।

বিকেলে ষাটগম্বুজ মসজিদে পৌঁছানোর পর মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দিন অতিথিদের বাগেরহাট জাদুঘর ও ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরিয়ে দেখান। অতিথিদের ষাটগম্বুজের ইতিহাস ও বাগেরহাট সম্পর্কে বর্ণানা দেন। অতিথিরাও মুসলিম স্থাপত্যের এই প্রাচীন নিদর্শন সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। মসজিদের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব জেনে বিষ্ময় প্রকাশ করেন পর্যটকরা।

ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘুরে দেখে মুগ্ধ হয়ে একাধিক পর্যটক বলেন, এটির স্থাপত্যশৈলী সত্যিই অসাধারণ। আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি। তবে এই মসজিদের স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ। আমি বিশ্বের পর্যটকদের অনুরোধ করব, এই স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখার জন্য।

এমভি গঙ্গা বিলাসের ট্যুর অপারেটর জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান বলেন, গত ১৩ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বেনারাসে এর উদ্বোধন করেন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে লং ট্যুর রিভার ক্রুজ। এটি ৩২০০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দেবে। বাংলাদেশ-ভারতের ২৭টি নদী ও ৫০টি পর্যটন কেন্দ্রে যাবে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মোংলা বন্দরে এসে পৌছায়। এরপর রোববার যাবে সুন্দরবন। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভ্রমণ শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারী হয়ে ভারতের আসামে ঢুকবে।

আগামী ১ মার্চ আসামের ধুপড়ি হয়ে আসামের শেষ সীমান্তের দিপড়ুগড়ে গিয়ে ৫১ দিনের ট্যুর শেষ হবে পর্যটকদের।

;