চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল



আবুজার বাবলা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪কম, মৌলভীবাজার
চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল

চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে উত্তাল শ্রীমঙ্গল

  • Font increase
  • Font Decrease

চা শ্রমিক জনতা, আমরা সবাই একতা "চা শ্রমিক, চা শ্রমিক, এক হও, লড়াই কর", ৩০০ 'টাকা মজুরি, দিতে হবে দিতে হবে',  মালিক পক্ষের টালবাহানা,  চলবে না,  চলবে না"

শনিবার (১৩ আগস্ট) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জেরিন চা বাগান, ভাড়াউড়া চা বাগান, ফুল ছড়া চা বাগান, সোনাছড়া চা বাগান, রাজঘাট চা বাগান, খেজুরি ছড়া চা বাগান, খাইছড়া চি বাগানসহ ৪২টি চা বাগানে এরকম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল তাল হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল উপজেলা। শুধু শ্রীমঙ্গলে নয় দেশের চট্রগ্রাম সিলেটসহ ২৩১ টি চা বাগানে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার বেশ কয়েক জায়গায় ঘুরে দেখা যায় আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়কে নেমে পড়েন। এমন চিত্র দেখা যায় শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমোহনা চত্বরে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতগাঁও চা বাগান এলাকায় ও ভৈরবগঞ্জ বাজারে। এদিকে ভাড়াউড়া চা বাগানের শ্রমিকরা

সড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এতে সড়কের চারিপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যেতে দেখা গেছে।

সমাবেশে আসা নারী চা শ্রমিক উষা রানী বলেন, আমাদের দুঃখ কেউ বুঝে না। আমরা ৪ দিন ২ ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করেছি। কিন্তু কেউ আমাদের এসে আশ্বাস দিলো না। আমরা এত কষ্ট করে কাজ করি কিন্তু আমাদের নায্য মজুরি দেয়া হয় না।  চাল ডাল, তেল, মসলা সব কিছুর দাম বেড়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ আছে, অসুখ হলে চিকিৎসা করাতে হয়, প্রতিদিনই জিনিসের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের মজুরি বাড়ছে।

জেরিন চা বাগানের আরেক নারী শ্রমিক সাদরমনি বলেন, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অনেক কাজ করি। আমরা রোদে পূড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করি। আমাদের দাবি জানানোর আগেই বাগান মালিকদের উচিত আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে সুযোগ সুবিধা দেয়া। আমরা কাজ ফেলে কেন আন্দোলন করবো। দুই বছর আগে যে জিনিস ১০০ টাকায় পাওয়া যেতো এখন সেটা ২০০ টাকা। আমাদের তো আলাদা কোন রোজীর ব্যবস্থা নাই। এটা তো বাগান মালিকরা জানে। আমরা ছেলেমেদের আশা পুরন করতে পারি না। ভালো জামাকাপড় কিনে দিতে পারি না। যখন ছেলে মেয়ে এসে বলে অমুক ভালো জামা পড়েছে আমাকে কিনে দেও, তখন মনের ভিতর আঘাত পাই। ছেলেমেয়েদের জীবন আমাদের কষ্টের জীবনের সাথে মিশে গেছে। আমরা চাই চা বাগান ভালো থাকুক আমরাও ভালো থাকি। কিন্তু বাগান মালিকরা ভালই আছে, আমরা ভালো নেই। আমাদের দাবি না মানলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না, আন্দোলন চলছে চলবে।

জেরিন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নিতাই গোয়ালা বলেন, একটা ভালো সমাধান দরকার। পৃথিবীর বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়েছে। চা শ্রমিকদের এই দুর্দশার সমাধান কেন হবে না। আন্দোলনের আজ ৫ম দিন। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আমরা গত ৪ দিন ধরে দুইঘণ্টা করে কর্মবিরতি করে আসছি। মালিক পক্ষ থেকে কোন সারা আসেনি, তাদের টনক নড়ে নি। চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা দেয়ার জন্য আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা দুই বছর আগ থেকে দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু ১৯ মাস গত হয়ে গেলেও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী  মালিক পক্ষ মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে গড়িমসি করছে। তারা মাত্র ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত উর্ধগতির বাজারে মাত্র ১৪ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালিশিরা ভ্যালী সভাপতি বিজয় হাজরা বলেন, আমরা গত মঙ্গলবার থেকে ৪ দিন দুইঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে।  কিন্তু মালিক পক্ষ আমাদের এই কর্মবিরতি পাত্তাই দেয় নি। মালিক পক্ষের কোন সারা মিলেনি। আজ আমরা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করছি।  দেশের ২৩১ টি চা বাগানে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। ৩০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোর হবে। আমাদের বিভিন্ন বাগানে চা শ্রমিকরা একত্রিত হয়েছি। সব বাগানে বাগানে সমাবেশ হবে। আমরা  শ্রীমঙ্গল শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করবো।

শ্রমিক নেতারা আরো বলেন, আজ বাংলাদেশের চা শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলন করছেন। আমাদের দাবি না মানলে আমরা ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করবো। আমরা ঢাকা শহরে চা শ্রমিকরা অবস্থান নিবো।

সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি পংকজ কন্দ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা  রোববার ও আগামী সোমবার (জাতীয় শোক দিবস) উপলক্ষে আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামীকাল সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল হবে না। রোববার ও সোমবার চা বাগানে ছুটি থাকায় কাজ বন্ধ থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে আবারও ধর্মঘট চলবে।

বাংলাদেশিয় চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, মালিক পক্ষের সাথে শ্রমিকপক্ষের আলোচনা কালে এভাবে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন করা বেআইনি, এ আন্দোলন শ্রম আইনের পরিপন্থী। আমরা আশা করছি তারা আন্দোলন বন্ধ করে কাজে যোগ দিবে। এখন চা বাগানে ভরা মৌসুম। কাজ বন্ধ রাখলে সবার ক্ষতি। তারাও এই সিজনে কাজ করে বাড়তি টাকা উপার্জন করেন।

আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থানে ছিলেন শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

সীমান্তে অস্থিরতা কমাতে নেপিদোকে বার্তা দেবে বেইজিং: চীনা রাষ্ট্রদূত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, সীমান্তে অস্থিরতা কমাতে নেপিদোকে বার্তা দেবে বেইজিং।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব অ্যাডমিরাল (অব.) খুরশেদ আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের উপায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে সাম্প্রতিক ঘটনা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে।

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিয়ানমার-সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আসিয়ান কূটনীতিক ও ঢাকায় অবস্থানরত অন্যান্য বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে পৃথক ব্রিফিং করে এবং মিয়ানমারের বারবার সীমান্ত আইন লঙ্ঘন বন্ধে তাদের হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই বৈঠকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

খুরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গত সপ্তাহে বিদেশি কূটনীতিকদের সীমান্ত পরিস্থিতি জানিয়েছি। যেহেতু চীনা দূতাবাসের কেউ সেখানে ছিল না, তাই আমরা আজ তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের সঙ্গে জড়িত ত্রিপাক্ষিক প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে চীনের নতুন উদ্যোগের অনুরোধ করেছি। ২০১৭ সালে সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশের পর থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের এখনো প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, 'লি জিমিং আশ্বাস দিয়েছেন- চীন মিয়ানমারের সীমান্ত বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নেপিডোর কাছে উত্থাপন করবে। আমাদের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা। এখানকার পরিস্থিতি ভালো নয়, তাই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার।

;

করতোয়ায় নৌকাডুবি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনভর পঞ্চগড় জেলার মাড়েয়া, দেবীগঞ্জ, দিনজপুরের বীরগঞ্জ, খানসামা থেকে ২৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদী নৌকা দিয়ে পার হতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে নারী ২৫ জন, শিশু ১৩ জন এবং পুরুষ ১২ জন। নিহতদের অধিকাংশ সনাতন ধর্মাবলম্বীর। এদিকে এ ঘটনায় ২৫ থেকে ২৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দিতীয় দিনে উদ্ধার নিহতরা হলেন, হাতেম আলী (৭০) শ্যামলী রানি (১৪), লক্ষী রানি (২৫), অমল চন্দ্র (৩৫) শোভা রানি (২৭), দিপঙ্কর (৩) পিয়ন্ত (২.৫) রুপাালি ওরোফে খুকি রানি (৩৫), প্রমিলা রানি (৫৫) অনবালা (৬০) সুনিতা রানি (৬০), ফাল্গুনী (৪৫) প্রমিলা দেবী (৭০), জ্যোতিশ চন্দ্র (৫৫), তারা রানি (২৫), বিষ্ণু (৩), সফলতা রানি (৪০), বিলাশ চন্দ্র (৪৫), শ্যামলী রানি ওরফে শিমুলি (৩৫), উশোশি (৮), তনুশ্রী (৫), শ্রেয়সী, প্রিয়ন্তী (৮), সনেকা রানী (৬০), ব্রজেন্দ্র নাথ (৫৫), ঝর্ণা রানী (৪৫), দীপ বাবু (১০), সূচিত্রা (২২), কবিতা রানী (৫০), বেজ্যে বালা (৫০), দিপশিখা রানী (১০), সুব্রত (২), জগদীশ (৩৫), যতি মিম্রয় (১৫), গেন্দা রানী (৫০), কনিকা রানী (৪০), সূমিত্রা রানী (৪৫), আদরী (৫০), পূষ্পা রানী (৫০), প্রতিমা রানী (৫০), সূর্যনাথ বর্মন (১২), হরিকেশর বর্মন (৪৫), নিখিল চন্দ্র (৬০), সুশীল চন্দ্র (৬৫), যুথি রানী (০১), রাজমোহন অধিকারী (৬৫), রূপালী রানী (৩৮), প্রদীপ রায় (৩০) এবং পারুল রানী (৩২) ও প্রতিমা রানী (৩৯)।

জানা যায়, হিন্দু সম্প্রাদয়ের বড় উৎসব মহালয়া। এ উপলক্ষ্যে রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বোদা উপজেলার মাড়েয়া বাজার এলাকার আউলিয়া ঘাট থেকে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ১০০ জনের বেশি যাত্রী বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরে (নদীর অপর পাড়ে) যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে মাঝ নদীতে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় কয়েকজন সাঁতরে তীরে ওঠেন। ঘটনাস্থলেই ২৫ জনের মৃত্যু হয়।

;

কলড্রপে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ, ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কল ড্রপ হলে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রমনায় বিটিআরসি কার্যালয়ে কল ড্রপ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনলাইনে যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোবাইলের কলড্রপ বন্ধসহ নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, গ্রাহকগণ অর্থের বিনিময়ে যে সেবা গ্রহণ করেন তার পুরোটা পাওয়ার অধিকার তাদের আছে। অন্যদিকে কলড্রপের ক্ষতিপূরণ যাতে অপারেটরদেকে দিতে না হয় সেজন্য অবশ্যই অবকাঠামোর যথাযথ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান হাজার হাজার বিটিএস সাইটে ধারণ ক্ষমতার বেশি গ্রাহক বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সুস্থ ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় মোবাইল অপারেটরসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

গ্রাহকের কলড্রপের ভোগান্তি টাকা ফেরত দিলেই ক্ষতিপূরণ হবে তা ঠিক নয় বরং যে সেবার জন্য গ্রাহক তার অর্থ পরিশোধ করছে অপারেটরসমুহ তা দিতে না পারার জন্য তাকে তার টাকা ফেরত দিচ্ছে এটা গ্রাহকের অধিকার এবং বিষয়টি একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রী জানান।

তিনি আরও বলেন, কলড্রপের জন্য টাকা ফেরত চাই না, ভাল সেবা দিন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। মন্ত্রী কলড্রপ বন্ধে বিটিআরসি‘র নিরলস ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মো: খলিলুর রহমান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

;

দুর্গাপূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইজিপির নির্দেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজা নিরাপদে উদযাপনের লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন, ও পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

আইজিপি বলেন, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং বিট পুলিশ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সকল পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আইজিপি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং বাংলাদেশ পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় সকল পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হ্যান্ডহেল্ড মেটাল ডিটেকটর ও আর্চওয়ে গেট স্থাপন, মণ্ডপে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা, পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর, চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা, আজান ও নামাজের সময় উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার না করার জন্য পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। যে কোন জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি পুলিশ সেবা-৯৯৯-এ কল করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম খুরশীদ হোসেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জে. এল. ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক রমেন মন্ডল, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী কল্পেশানন্দ প্রমুখ এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সকল মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারগণ ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন।

উল্লেখ, এ বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

;