পরিমাপে তেল কম, ২ ফিলিং স্টেশনকে লাখ টাকা জরিমানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
পরিমাপে তেল কম, ২ ফিলিং স্টেশনকে লাখ টাকা জরিমানা

পরিমাপে তেল কম, ২ ফিলিং স্টেশনকে লাখ টাকা জরিমানা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

চট্টগ্রাম নগরীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় ৮ টি স্টেশনের তেলের পাম্প পরীক্ষা করে দুটিতে পরিমাপে কম পাওয়ায় ১ লক্ষ টাকা জমিমানা করা। এর মধ্যে একটিকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।

সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে দিকে এ অভিযান পরিচালনা করেছেন চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা।

এসময় অতুরার ডিপু এলাকার আমিন জুট মিলস্ ফিলিং স্টেশনে প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ৩৮০ মিলি ও অকটেনের প্রতি ১০ লিটারে ৪৪০ মিলি পরিমানে কম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সাময়িক বন্ধ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে অক্সিজেন এলাকার হাজী এ ওয়াজেদ এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে প্রতি ১০ লিটার অকটেনে ১৭০ মিলি কম পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে বিএসটিআই ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন।

জেলা প্রশাসন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ রানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, নগরীর  ৮ টি ফিলিং স্টেশনের তেলের পাম্প পরীক্ষা করে দুটি পাম্পে পরিমাপে কম পাই। প্রতিষ্ঠান দুইটিকে ৫০ হাজার করে ২ মামলায় ১ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়।

জেলা প্রশাসক মুমিনুর রহমানের নির্দেশে জনভোগান্তি রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।

যশোরে কাভার্ডভ্যান হোটেলে উঠে গিয়ে শিশুসহ নিহত ৫



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, যশোর
যশোরে কাভার্ডভ্যান হোটেলে উঠে গিয়ে শিশুসহ নিহত ৫

যশোরে কাভার্ডভ্যান হোটেলে উঠে গিয়ে শিশুসহ নিহত ৫

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের যশোরের মনিরামপুরে কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে ঢুকে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় হোটেলের মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মনিরামপুরের ব্যাগারিতলা বাজারে আবু তালেবের খাবারের হোটেলে ট্রাক ঢুকে পড়লে তারা নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যশোর থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবু তালেবের হোটেলের ভেতরে ঢুকে যায়। এ সময় হোটেলে নাস্তা করার সময় স্থানীয় টুনিয়াঘরা গ্রামের শামসুর রহমান (৬২), তহিদুল ইসলাম (২৫), হাবিবুর রহমান পঁচা (৫৫), তার ছেলে তৌহিদুর রহমান (৮) ও জয়পুর গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় ৩ ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে উভয়পাশে কয়েক শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে।

খবর পেয়ে মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কবীর হোসেন পলাশ, সহকারী ভূমি কমিশনার আলী হাসান এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার বিক্ষুব্ধ জনগণের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান জানান, কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। লাশগুলো উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

;

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ১০ হাজার পদ বাড়ছে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ১০ হাজার পদ বাড়ছে

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ১০ হাজার পদ বাড়ছে

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বাড়ানো হচ্ছে পদের সংখ্যা। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ হাজার ৫৭৭ জনের নিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে শূন্যপদের সংখ্যা বিবেচনায় এই সংখ্যা আরো প্রায় ১০ হাজার বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূলত সে কারণেই গত সপ্তাহে এই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না করে আর দুই সপ্তাহ সময় নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পদের সংখ্যা বাড়িয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রাথমিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদের সঙ্গে আরো ১০ হাজার পদ যুক্ত করা হতে পারে। সে জন্যই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল আগামী ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ জানান, আমরা স্টাডি করছি, কত সংখ্যক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। তার ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদের চাইতে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। তিনি আরো জানান, এ নিয়োগ পরিচালনায় গত দুই বছর সময় পার হয়েছে। শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেকে বিভিন্ন জায়গায় ভালো চাকরি করছেন। সবগুলো বিষয় নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করছি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের সংখ্যা নির্ণয় করে শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ শূন্য সব পদে নিয়োগ দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এ বিষয়ে আমরা স্টাডি করছি। আমরা শূন্য পদ ধরবো, না কী চলতি বছরের ২২ জুন ধরবো, নাকি জানুয়ারি পর্যন্ত ধরবো তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ওপরে সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় কত সংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে এগুলো নিয়ে কাজ করছি। আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ হবে। ১৪ ডিসেম্বর শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এ দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষকের পদসংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে এ সংখ্যা কমিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। সে কারণে নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করা প্রার্থীরা আন্দোলনে নামে। দফায় দফায় তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ঘেরাও করে আন্দোলন চালিয়ে যায়। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সব শূন্য পদে নিয়োগ দিতে বলা হয়। তার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য পদ বাড়ানো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফলাফল প্রকাশের সময় পিছিয়ে দেয়।

ডিপিই সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯-এর ৮ ধারার ২ নম্বর উপধারার (ঘ)-তে বলা হয়েছে, নির্ধারিত কোটার শিক্ষকদের মধ্যে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে (নারী ৬০ শতাংশ, পোষ্য ২০ শতাংশ ও অবশিষ্ট পুরুষ) অবশ্যই ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে শর্ত থাকে, এভাবে ২০ শতাংশ কোটা পূরণ না হলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া যাবে।

জানা গেছে, এ নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা তিন ধাপে নেয়া হলেও চূড়ান্ত ফল একবারেই প্রকাশ করা হবে। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪০ হাজার ৮৬২ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন। ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সহকারী শিক্ষকের ৩২ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। এ নিয়োগ পরীক্ষায় মোট আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ জন প্রার্থী।

বর্তমানে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৬২০টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৩০ এবং নারী শিক্ষক ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৬ জন।

;

সিরাজগঞ্জে  দ্বিতীয় দিনে চলছে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিরাজগঞ্জ
 সিরাজগঞ্জে  দ্বিতীয় দিনে চলছে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

 সিরাজগঞ্জে  দ্বিতীয় দিনে চলছে পরিবহন ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বিতীয় দিনের মত সিরাজগঞ্জসহ রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ১০ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ এম এ মতিন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী রুটের সকল বাস বন্ধ রয়েছে।

জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা গামী বাস চলাচল করছে। এদিকে ১০ দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জে ৩ দিনের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ার কারণে যাত্রী সংখ্যা তেমন দেখা মিলছে না। জেলার অভ্যন্তরীণ চলাচলের জন্য যাত্রী এখন একমাত্র ভরসা সিএনজি অটোরিকশা। যে কারণেই গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ভাড়া বেড়েছে সিএনজি অটোরিকশার।

সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সমিতির সভাপতি সুলতার মাহামুদ জানান, ১০ দফা দাবিতে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। আমাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩ দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে দাবি মানা না পর্যন্ত এ আন্দোলন চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সড়কে থ্রি-হুইলার ও নসিমন-করিমন ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

;

রক্তস্নাত পাহাড়ের নীড়ে ফেরেনি শান্তির পায়রা



আলমগীর মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পার্বত্য চুক্তির বর্ষপূর্তি আজ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পাহাড়ের বিরাজমান সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধে অত্রাঞ্চলের জনগণের পক্ষে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় গিয়ে শান্তিচুক্তি করেন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর মাধ্যমে পাহাড়ে প্রায় আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে চলা শান্তিবাহিনী নামক গেরিলা বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যদিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটানোর প্রত্যাশাই ছিল চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। কাগজে কলমে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি নাম হলেও দেশ বিদেশের পর্যবেক্ষকরা এই চুক্তির নাম দিয়েছিল শান্তিচুক্তি।

চুক্তির ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ-বিদেশে প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি নানা পুরস্কার ও উপাধী অর্জন করেন।

শান্তির আশায় চুক্তি করে সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন ও সেনাক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়ার আজ ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু সবুজ-শ্যামল ছায়া সুনিবিড় পার্বত্য চট্টগ্রামে আজও শান্তি অধরা। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় ইতিমধ্যেই পাহাড়ের অভ্যন্তরে বিরাজ করছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বারুদের গন্ধ। প্রতিনিয়তই স্থানীয় ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের বলি হওয়া মানুষের রক্তের রক্তিম হচ্ছে পাহাড়ের পরিবেশ।

গত বুধবারও (৩০ নভেম্বর) রাঙামাটির সাজেকে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন জেএসএসের কর্মী সজীব চাকমা (২২)। গতবছরও ঠিক একই তারিখে রাঙামাটি সদর উপজেলায় আবিস্কার চাকমা নামের একজনকে হত্যা করেছিলো পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা।

সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল সরকারি একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত থাকা সন্ত্রাসীদের হাতে চুক্তির পূর্ববর্তী সময়ে ১৯৭৪ থেকে পাহাড়ে ব্যাপকহারে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করে সে সময়কার শান্তিবাহিনীর সদস্যরা। এই পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে নিহত, আহত ও অপহরণ/নিখোঁজের শিকার হয়েছে অন্তত ৮১৪০ জন। তার মধ্যে পাহাড়ি ১১৩৮, বাঙালি ১৪৪৬ নিয়ে নিহত হয়েছে সর্বমোট ২৫৮৪ জন। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছে (উপজাতীয়-৮২০, বাঙালি-১৭৯৮) ২৬১৮ এবং অপহরণের শিকার হয়েছে (উপজাতীয়-১৮০০,বাঙালি-১১৩৬ জন) সর্বমোট ২৯৩৬ জন।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের রক্ষাসহ অত্রাঞ্চলের ভূখণ্ড রক্ষায় দায়িত্বপালন করতে গিয়ে উপজাতীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় একাত্তর থেকে চলতি ২০২২ এর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বমোট ৩৮০ জন সদস্য শহীদ হয়েছে। তারমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭১, বিজিবি’র ১১১, পুলিশের ৩২ ও আনসার ব্যাটালিয়নের রয়েছে ৩৮০ জন। এই সময়ের মধ্যে আহত হয়েছে ৪৪৬ জন। আহতদের মধ্যে ২৪১ জন সেনা সদস্য, বিজিবি’র ১০২, পুলিশের ৯০, আনসার বিডিপির রয়েছে ১৬ জন।

শান্তিচুক্তি

পাহাড়ের মানুষের আত্মসামাজিক উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বমোট ৪৬০০ কিলোমিটার সড়ক পথ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চুক্তির পূর্বে ১৯৭২ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ছিলো ১১৬০ কিমি, আর চুক্তির পরবর্তীতে চলতি ২০২২ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ৩৪৪০ কিলোমিটার সড়ক। এছাড়াও সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ১০৩৬ কিলোমিটার সড়ক। আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন এই প্রকল্পটি শেষ হবে বলে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন সূত্রে জানাগেছে।

এখন পর্যন্ত পার্বত্যাঞ্চলের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারি ৪৩টি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ১৬টি, সরকারি ৩৮৫টি ক্লিনিক, বেসরকারি ৫১ নিয়ে সর্বমোট ৪৯৫টি হাসপাতাল/ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই তিন পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ সর্বমোট ৭৩২৯টি শিল্প-কলকারখানা স্থাপন করা হয়েছে। তারমধ্যে কল-কারখানা সরকারি ৮টি, বেসরকারি ৩২টি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সরকারি ১১টি ও বেসরকারি ৭২৮৮টি রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বমোট ১২৮টি গুচ্ছগ্রাম রয়েছে। এই গুচ্ছগ্রামগুলোতে বাঙালি ৪৪৯২৮ ও পাহাড়ি পরিবার রয়েছে ২৬৭৭টি। এতে করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার বসবাস রয়েছে। এই জনসংখ্যার মধ্যে কর্মহীন বেকার অবস্থায় রয়েছে ৯৪ হাজার ৬৩৪ জন বাঙালি ও ৬ হাজার ৮৪৯ জন উপজাতি।
পার্বত্য চুক্তির পর হতে ২০২২ এর অধ্যবদি পর্যন্ত পার্বত্য তিন জেলায় নতুন করে ১৪৭টি কিন্ডারগার্ডেন, ৮১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০৪টি হাইস্কুল, কলেজ ২৫টি, মাদ্রাসা ১৩৩টি, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ১১টি, নার্সিং ইন্সটিটিউট ১টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৩টি (সরকারি ১), একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে।

পাহাড়ের মানুষের ধর্মপালনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৬৬০টি বৌদ্ধ কিয়াং, ৭১৪ টি গীর্জা, ৪৪৬টি মন্দির ও ১৪৩৪টি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বলে সামরিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এতকিছুর পরেও পার্বত্য চট্টগ্রামে থেমে নেই হত্যার রাজনীতি। অত্রাঞ্চলে বিগত ২৫ বছরে ৯০১ জন পাহাড়ি,৩৯০ বাঙালিসহ সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর মোট ১৩০৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সর্বমোট ১৮২৩ জন। চুক্তির পরবর্তী সময়ে ২৫ বছরে পাহাড়ে অপহরণের শিকার হয়েছে সর্বমোট ২১৯৮ জন।

এতোগুলো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতিস্বত্তার কথা বলে নিজেদের স্বার্থের জন্য বিপুল অংকের অর্থের জন্য দেশদ্রোহী জঙ্গিগোষ্ঠিদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে পাহাড়ি উপজাতীয় আঞ্চলিকদলগুলো। এতে করে পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন মোটেও সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চুক্তি সম্পাদনকারী কমিটির অন্যতম সদস্য রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদার।

তিনি বলেন, চুক্তির পর থেকেই সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস এর সন্ত্রাসীদের হাতে ব্যাপকহারে মার খাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি চুক্তির বিরোধীতাকারী সংগঠন ও রাজনৈতিকগুলোর সঙ্গে প্রকাশ্যে জোট করে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজি, সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত থাকাদের নিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ মোটেও সম্ভব নয়। তিনি সকলকে তাদের ভুল পথ পরিহার করে একই মঞ্চে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ চুক্তি করেছে আওয়ামী লীগই এটার বাস্তবায়ন করবে কিন্তু আস্থার জায়গাটা সৃষ্টিতে সকলের এক হতে হবে। অন্যথায় কিছুই হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে পার্বত্য চুক্তির পর পাহাড়ে হতাহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্যোগজনক। চুক্তির ২৫ বছর পর আজও প্রশ্ন উঠছে আসলেই কি পাহাড়ে শান্তি ফিরেছে? প্রশ্নটির উত্তরে যে কেউ বিনা বাক্যে বলতে বাধ্য যে, শান্তিতো আসেইনি বরং খুন-চাঁদাবাজির ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। সে সময়ে জনসংহতি সমিতি নামে একটি মাত্র আঞ্চলিক সংগঠন ছিল; যাদের সশস্ত্র শাখা ছিল শান্তি বাহিনী। আর চুক্তির পর এই সংগঠন থেকেই জন্ম হয়েছে ইউপিডিএফ থেকে শুরু করে গুন্ডুস বাহিনীসহ আরও ছয়টি সশস্ত্র সংগঠনের। যাদের আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব প্রতিনিয়ত বিষিয়ে তুলছে পাহাড়ের পরিবেশ।

এদিকে চুক্তির কারণে পাহাড় থেকে সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়ার কারণে দিনে দিনে পাহাড়-সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়ে উঠেছে।

;