ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বেড়েছে হাতপাখার চাহিদা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তাল পাখার গ্রাম আড়োলায় নতুন করে ব্যস্ততা বেড়েছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বাসা বাড়িতে হাতপাখার চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে হাতপাখা বিক্রেতারা ভিড় করছেন কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নে আড়োলা গ্রামে। এই গ্রামের প্রতিটি ঘড়ে ঘড়ে নারী- পুরুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও তালের পাতা দিয়ে তৈরি করে থাকে রকমারি হাতপাখা।

সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাস থেকে হাত পাখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে চলে ভাদ্র মাস পর্যন্ত। জৈষ্ঠ্য মাস পার হলে কাজের চাপ কমতে থাকে। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম।

আড়োলা গ্রামের পাশাপাশি আতালপাড়া, যোগীরভবনসহ আশে পাশের গ্রামগুলোতে বিভিন্ন প্রকারের তালপাতার পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা।

হাতপাখা তৈরির গ্রামগুলে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফাল্গুন মাস থেকে তালপাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু করেছে এখানকার পাখা তৈরির কারিগররা। ঠিক কত বছর আগে এই এলাকায় হাতপাখা তৈরির কাজ শুরু হয় তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে একশ বছর বা তারও বেশি আগে আড়োলা গ্রামে তাল পাতা দিয়ে হাতপাখা তৈরির কাজ শুরু হয়। আর তখন থেকেই গ্রামের পেশা হিসেবে বেছে নেয় হাতপাখা তৈরির কাজ। এক সময় হাত পাখা তৈরির কাজ ছড়িয়ে পড়ে পাশের গ্রামগুলোতে।

গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত বসে নেই। নারী-পুরুষ মিলে সবাই তৈরি করছে বিভিন্ন প্রকারের সৌখিন তালপাতার হাতপাখা।পুরুষেরা কাঁচা বাশের কাজ করছেন। আর নারীরা সুই-সুতা দিয়ে পাখা বাঁধানো ও রঙের কাজ করছেন। পাখার চাহিদা মেটাতে গরম মৌসুমে নারী-পুরুষের নিশ্বাস ফেলার সুযোগ নেই। চুলায় ভাত-তরকারি তুলে দিয়ে পাখা তৈরির কাজ নিয়ে বসেন তারা। শিশু-কিশোরেরাও লেখাপড়া ও খেলাধুলার পাশাপাশি মা-বাবার সঙ্গে পাখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারেরা আসেন পাখা নিতে। আবার অনেকে কারিগরদের আগাম টাকা দিয়ে পাখা তৈরি করিয়ে নেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ভাদ্র মাস পর্যন্ত এখানকার পাখা তৈরি কারিগরদের এই ব্যস্ততা থাকবে জানা গেছে। গরমের তীব্রতা যত বাড়বে ততই বাড়বে পাখা তৈরি কারিগরদের ব্যস্ততা। কারণ এ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানুষজন যখন গরম সইতে না পারে তখন একমাত্র ভরসা এই তালপাতার পাখা। বর্তমানে রোদের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এবং লোডশেডিংয়ের ফলে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। যার ফলে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন পাখা কেনার জন্য। এখানকার ৪/৫টি গ্রামের প্রায় ৫’শ পরিবার তালপাতার পাখা তৈরি করে থাকে। এদের মধ্যে কেউ শ্রমিক হিসেবে আবার কেউ নিজের তহবিলে পাখা তৈরি করেন। আবার স্থানীয় কয়েকজন মহাজন শ্রমিক খাটিয়ে প্রতি মৌসুমে ৩০/৪০ হাজার পাখা তৈরি করে নিয়ে বড় বড় ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকে।

এখানে ৫ প্রকারের পাখা তৈরি হয়। এসব পাখার নাম দেওয়া হয়েছে ডাটা পাখা, হরতন পাখা, ঘুরকি পাখা, পকেট পাখা ও আমান পাখা। এখানে পাখা তৈরির কাজে নারীরা অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি এই পাখা তৈরি করে বাড়তি আয় করে থাকেন। নারীরা বাড়তি আয়ের জন্য বিভিন্ন মহাজনের পাখা তৈরি করে। চুক্তি ভিত্তিক ১’শ পাখা তৈরি করলে তারা পাখার প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পায়। চুক্তিভিত্তিক পাখা তৈরিকারক পারভীন, সহিদা, বৃষ্টি সহ একাধিক মহিলা বলেন, পাখা তৈরি থেকে শুরু করে পাখা তৈরির আনুষঙ্গিক কাজের উপর নির্ভর করে তারা পারিশ্রমিক পায়।

মহাজন সালাম জানান, তারা সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন তালপাতা সংগ্রহ করাসহ পাখা তৈরির কাজে। পাখা তৈরির শুরুর ২/৩ মাস আগে থেকে নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তালপাতা কিনে এনে মজুদ করেন। পাখা তৈরি করে বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। সালাম বলেন, এখানকার তৈরি করা তালপাখা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। প্রতি মৌসুমে এখানকার স্থানীয় মহাজনেরা এই ব্যবসায় ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করে।

পাবনা জেলা থেকে পাখা কিনতে আসা ব্যবসায়ী মামুন শেখ ও মিরাজুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে যত তালপাতার পাখা তৈরি হয় তার বেশির ভাগই এখানকার। সালামের মতো আজগর শেখ বলেন, তালপাতার এই সৌখিন পাখাগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বিভিন্ন মেলাতে। আগে শখের বসে এলাকরা নারীরা পাখা তৈরি করতো, সেগুলো কেউ কেউ মেলাতে বিক্রি করতো। আর এখন এই পাখা তৈরির কাজ অনেকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এলাকার লোকজন বলে এই এলাকায় তাল গাছ বেশি। তাদের বাপ দাদার আদি পেশা এই তাল পাতা দিয়ে পাখা তৈরির কাজ। এখানে ৭/ ৮ বছরের শিশু পর্যন্ত পাখা তৈরি করতে পারে।

পাখা তৈরির কারিগররা বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়া সব জায়গাতে ছড়িয়ে পরলেও তাদের তৈরি করা পাখার চাহিদা এখনও কমেনি।

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন

  • Font increase
  • Font Decrease

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকেলে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ এলিগ্যান্ড শপিং কমপ্লেক্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সিলেট অফিস পরিদর্শনকালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, যারা গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের কথা বলে তারাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জামাই আদরে রেখেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দেশের উন্নয়নের নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে সিলেটের উন্নয়নের জন্য ও জনগণের সেবা দিতে আমরা এই অফিস চালু করেছি এবং মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমি না থাকলেও এই অফিসের মাধ্যমে তারা সেবা পাবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেটের পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জিপি এডভোকেট রাজ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি, সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম আহমদ প্রমুখ।

;

দেশের মানুষ শান্তি ও স্বস্তির মধ্যে আছে: রেলমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের মানুষ শান্তি ও স্বস্তির মধ্যে আছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

তিনি বলেন, চলমান করোনা মহামারির মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিকভাবে সারা বিশ্ব অস্বস্তিতে রয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়। কিন্তু এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য একটি দল ষড়যন্ত্র করছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় আয়োজিত ‘প্রাণ হরণ করা যায়, চেতনা নয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র তৈরি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন আ স ম আবদুর রবরা। গণতন্ত্র মঞ্চের নামে তারা আবারও ষড়যন্ত্র করছেন। ৭ দলীয় জোটের নামে তারা ও তাদের দোসররা এক হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাটের গুদামে আগুন দেওয়া, গণবাহিনী প্রস্তুত, রেললাইন উপড়ে ফেলা, ঈদের ময়দানে গুলি করে সংসদ সদস্যকে হত্যা করে ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিলেন।

;

কুষ্টিয়ায় ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড

কুষ্টিয়ায় ফিলিং স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ফিলিং স্টেশনে আগুন লেগে দুই জন দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার দফাদার ফিলিং স্টেশনে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান বলেন, সন্ধ্যার পরে দফাদার ফিলিং স্টেশনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক জানে আলম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার পাম্পে তেল আনলোড করার সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

;

ফেনীতে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১০



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ফেনীতে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১০

ফেনীতে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১০

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেনী জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। আটক করা হয় তিন জনকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শহরের ইসলাম রোড থেকে ফেনী জেলা বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ট্রাংক রোডস্থ জিরো পয়েন্টের দিকে এগোতে থাকে। এ সময় মিছিলটি জিরোপয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকাগুলি ও রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

;