বদলে যাবে কুষ্টিয়ার পান ও কলা চাষিদের ভাগ্য

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার



এস এম জামাল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
বদলে দেবে কুষ্টিয়ার পান ও কলা চাষীদের ভাগ্য

বদলে দেবে কুষ্টিয়ার পান ও কলা চাষীদের ভাগ্য

  • Font increase
  • Font Decrease

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে বদলে দেবে কুষ্টিয়ার পান ও কলা চাষিদের ভাগ্য। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরে কলার হাটে কৃষক শেখ আবু তাহের মিয়া প্রতি কাঁদি কলা বিক্রি করছিলেন ৭০০ টাকা দরে। কলা চাষি আনারুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ২০ বছর যাবৎ কলার আবাদ করেন। প্রতি বছরই তিনি ২০ থেকে ২২ বিঘা জমিতে চাপা কলার আবাদ করেন। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থায় দূরত্বের কারণে তার চাহিদা অনুযায়ী লাভ হয় না।

কুষ্টিয়া থেকে সহজে কলা নিয়ে পরিবহনে যাওয়ার মতো তার সাধ্য নেই। দূরত্ব অনেক, ঝুঁকিও রয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হলে তিনিসহ কুষ্টিয়ার কলা চাষিরা আগের দিন কলা কেটে পরদিন খুব ভোরে নিজেরাই ট্রাক ঠিক করে রাজধানী ঢাকা ও চট্রগ্রাম এলাকায় নিয়ে যেতে পারবেন এবং লাভও পাবেন অনেক বেশি।

ঠিক এমনি ভাবে কুষ্টিয়ার পান চাষিরা অপেক্ষায় রয়েছেন। কেননা “ষোল চাষে মুলা, তার অর্ধেক তুলা; তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান।” ভেঁড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার পান চাষি আব্দুর রহমান জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরেই পান চাষ করি। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কুষ্টিয়ার মিরপুরে হাটে বসে পান পাইকারী দরে বিক্রি করতে হয়। এতে চাষ দিয়ে খুব একটা লাভ হয় না। পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হলে রাজধানী ঢাকা, চট্রগ্রামে পান নিয়ে যেতে পারলে অনেক বেশি লাভ হতো কিন্তু রাজবাড়ী দৌলতদিয়া, যমুনা সেতু পার হয়ে পান নিয়ে ঢাকা ও চট্রগ্রামে পৌঁছে তা বিক্রি করা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

তিনি এ বছর দুই বিঘা জমিতে “বাংলাপান” জাতের পানের চাষ করেছেন। দুই বিঘা জমিতে তার প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে এ লাভের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতো। কৃষক মহিবুল জানান, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যখানে নিয়ে গেলে অন্তত ১০ থেকে ১২ টাকা হালি পাইকারি ভাবেই বিক্রি করা সম্ভব হবে।


কুষ্টিয়া কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, মধুপুর কলার হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন প্রচুর কলার আমদানি হয় তবে ফড়িয়াদের কারণে তারা ভালো দাম পায় না। যোগাযোগের কারণে নিজেরা কলা রাজধানীতে নিয়ে যেতে পারে না, ফলে হাটে বসেই কলা পাইকারীতে বিক্রি করতে হয়। পদ্মা সেতু চালু হলে কুষ্টিয়ার কলা চাষিরা কুষ্টিয়ার কলা দেশের বাইরে রাজধানী-ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যেতে পারবে এবং লাভবানও হবেন বলে তিনি আশা বাদ ব্যক্ত করেন।

লাভ ছাড়াও ভেষজ গুণের কারণে পানের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এছাড়া বাংলার ঐতিহ্যে বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে ও পূজা-পার্বণেও রয়েছে পানের কদর।

কুষ্টিয়ার মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবং পানের বাজার দর ভালো থাকায় পান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পানে লাভও বেশি হয়। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয়েছিল ভেঁড়ামারা উপজেলায়।

এ বছর ভেঁড়ামারা উপজেলায় ৭২০ হেক্টর, দৌলতপুর উপজেলায় ৫৩৬ হেক্টর, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৬২০ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ১৬০ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ৮২ হেক্টর এবং কুমারখালী উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়।

বাংলা পান, মিঠা পান, দেশি পান, ঝালি পান, সাচি পান, কর্পূরী পান, গ্যাচ পান, মাঘি পান, উজানী পান, নাতিয়াবাসুত পান, বরিশাল পান, উচ্চ ফলনশীল ও বিভিন্ন গুণাবলী সম্পন্ন। স্বাদ ও সুগন্ধিযুক্ত এ জাতের পানের বাজারে রয়েছে বেশ চাহিদা।

ভেঁড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার পান চাষি আব্দুর রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরেই পান চাষ করি। তবে সরাসরি ঢাকা-চট্রগাম ও সিলেটে নিয়ে যেতে পারি না বলে খুব একটা লাভ হতো না। পদ্মা সেতু চালু হলে আমি নিজেই পান ঢাকা, চট্রগ্রামে নিয়ে যেতে পারবো এবং লাভও পাব বলে আশা করি। আবার যদি ফড়িয়ারাও নেয় পদ্মা সেতুর কারণে এখনকার চেয়ে দাম বেশি দেবে তারা। এখন তাদের খরচ বেশি হয় ফলে আমাদের দাম দেয় কম তখন খরচ কম হবে আমরাও দাম পাবো বেশি।

মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, অর্থকারী ফসলের মধ্যে পান একটি লাভজনক ফসল। কুষ্টিয়ার পান সারা দেশের মধ্যে বিখ্যাত ছিল। তবে গত কয়েক বছর আগে পানের বিভিন্ন রোগের কারণে পান চাষিদের লোকসান হয়। অপরদিকে পরিবহন খাতে ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা ভালো লাভ পায় না। পদ্মা সেতু চালু হলে এখান থেকে সরাসরি ঢাকা-চট্রগ্রামে চাষি ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ে কম খরচে পান নিয়ে যেতে পারবে এতে কৃষক ও পাইকারী ব্যবসায়ী সকলে লাভবান হবেন কুষ্টিয়ার কৃষি অর্থনীতিতে এর একটা সুফল পড়বে বলে তিনি জানান।

এমনি ভাবেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে কুষ্টিয়ার কলা, পান, সবজি, গরু, ছাগল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ায় খরচ কমবে লাভ বেশি হবে। অর্থনীতিতে একটা সুফল পড়বে।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

১০ টাকা দরে চাল, কার্ড নবায়নে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
১০ টাকা দরে চাল, কার্ড নবায়নে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

১০ টাকা দরে চাল, কার্ড নবায়নে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারী জলঢাকায় ডাউয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুলের বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি দরে চালের কার্ড নবায়ন করার জন্য কার্ড প্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এই অভিযোগ জানাতে উপজেলা চত্বরে আসেন ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের শতাধিক কার্ডধারী ভুক্তভোগী।

জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছিল। সাবেক চেয়ারম্যানের অবদানে ডাওয়াবাড়ি ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ এসেছিল সরকারের সেই কর্মসূচির আওতায়। তবে সেই কার্ড নবায়নের জন্য গেলে করলে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম (মুকুল) জন প্রতি ৫০০ টাকা দাবি করেন। এতে ভুক্তভোগীরা দিতে রাজি না হলে বাতিল করার কথা বলে। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায় শতাধিক ভুক্তভোগী নারী পুরুষ জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুব হাসানের কাছে আসে অভিযোগ জানাতে।

ডাওয়াবাড়ি নেকবক্ত এলাকার ভুক্তভোগী শরিফা খাতুন বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের ফ্রি কার্ড করি দিছে। তা হামা ৫ বছর থাকি খাইনো। এখন এয় নয়া চেয়ারম্যান আসি ৫০০ টাকা করি চায়। নইলে বেলে কার্ড বাতিল হইবে। হামা ৫০০ টাকা কোটে পাই।

ষাটোর্ধ্ব মোয়াজ্জেম আলী বলেন, খোকন কার্ড আগোত হামাক ফ্রি করি দেল আগের চেয়ারম্যান। মুকুল আসি ৫০০ করি টাকা চায়।

৮ নং ওয়ার্ডের মনোয়ারা বেগম বলেন, কার্ড নবায়ন করার জন্য কম্পিউটার অপেরাটর মৃনালের কাছে গেলে সে বলে মেম্বাররের অনুমতি লাগবে। নইলে কার্ড হবে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মুকুলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসানের সাথে ফোনে একাধিক বার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

আড়াই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত মোংলার নিম্নাঞ্চল ও সুন্দরবন



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
আড়াই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত মোংলার নিম্নাঞ্চল ও সুন্দরবন

আড়াই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত মোংলার নিম্নাঞ্চল ও সুন্দরবন

  • Font increase
  • Font Decrease

লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবারও স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত আড়াই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে মোংলার নিম্নাঞ্চলসহ পুরো সুন্দরবন এলাকা। অস্বাভাবিক জোয়ারে তলিয়ে গেছে পশুর নদীর পাড়ের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ী।

বিশেষ করে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবনের পশুর নদীর পাড়ের এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ী তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো এখন আশপাশের অন্যের বাড়ীঘর ও রাস্তার উপর আশ্রয় নিয়েছেন। লঘুচাপের এ জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার চিলা, চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের পশুর নদীর পাড়ের বাসিন্দারাই বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছেন। চারিদিকে পানিতে প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই তাদের গবাদী পশু নিয়ে এক ঘরেই বসবাস করছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার বাড়ীঘর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কানাইনগরের বাসিন্দা নার্গিস বেগম বলেন, আমরা পশুর নদীর পাড়ে বসবাস করি। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় এ নদীর পানি বাড়ায় চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে এক ঘরেই থাকছি। কি করবো, গবাদী পশু কোথায় রাখবো আর আমরাও যাবো কোথায়।

একই এলাকার মনোনিত্য আদিত্য বলেন, জলোচ্ছ্বাসে আমার থাকার ঘরটি তলিয়ে গেছে। তাই দুইদিন ধরে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে রাস্তা ও অন্যের ঘরের বারান্দায় থাকছি। এছাড়া যাওয়া ও থাকার তো কোন জায়গা নেই। 

এছাড়া আড়াই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে পুরো সুন্দরবন এলাকা। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, চলমান বৈরী আবহাওয়ায় প্রচুর পরিমাণ পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আড়াই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের সব জায়গা তলিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন প্লাবিত হওয়ায় এখনও পর্যন্ত বন্যপ্রাণীর তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও তবে সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকা রয়েছে। 

এদিকে বৃহস্পতিবারও মোংলাসহ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। মোংলা আহাওয়া অফিসের ইনচার্জ অমরেশ চন্দ্র ঢালী বলেন, লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। এর প্রভাব ও বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া পূর্ণিমার গোনের কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অতিরিক্ত ২ থেকে ৪ ফুট উচ্চতা কিংবা তারচেয়ে বেশি জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হবে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মোংলায় ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার বিকেল ৩ থেকে ৬টার পর থেকে এ বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও জানান তিনি।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

‘বিশ্বের ১৭০ দেশ দেউলিয়া হলে তবেই বাংলাদেশ হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বিশ্বের ১৭০টি দেশ দেউলিয়া হলে তবেই বাংলাদেশ দেউলিয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজের নির্বাচনি এলাকা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার অমরপুর ধন্দহ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহরিয়ার আলম এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর ১৭০টি দেশ দেউলিয়া হলে তবেই বাংলাদেশ দেউলিয়া হবে, যা অসম্ভব। এতগুলো দেশ একসঙ্গে দেউলিয়া হলে পৃথিবীই টিকে থাকবে না। বাংলাদেশকে যারা পেছনে টেনে নিতে চায়, তারাই এসব বলে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আসলে বাংলাদেশকে পেছন থেকে টেনে ধরাই সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্য।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বর্তমানে দেশে রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৬ বিলিয়ন। শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বের ফলে রিজার্ভ এই পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। আমাদের রেমিটেন্সও ভাল। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে রেমিটেন্স এসেছে, এ বছর ওই সময়ে তা ২০ শতাংশ বেশি হবে। গত বছর আমাদের রপ্তানি আয় ছিল ৫২ বিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। এবার লক্ষ্যমাত্রা ৬০ বিলিয়ন ডলার। এবারও  আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করব।’

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন,  ‘আমরা সময় নষ্ট করতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময় নষ্ট করতে চান না। ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদেরকে উন্নত দেশে রূপান্তর হতে হবে। এ জন্য আমাদের শিক্ষার উন্নয়ন করতে হবে, দক্ষতা বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবান্ধব, ছাত্র-ছাত্রীবান্ধব যে পরিকল্পনা তার-ই অংশ হিসেবে অমরপুর-ধন্দহ উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।’

এদিকে দুপুরে বাঘা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্যান্সার, কিডনী, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগীর অনুদানের ও যুব ঋণের চেক বিতরণ বিষয়ক অপর এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ১৪ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকার ১৪টি ও ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার ৩৭টি যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় বাঘা উপজেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শারমিন আক্তার। অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দীন লাভলু উপস্থিত ছিলেন।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;

ভিপি নুরকে ৭ দিনের ভেতর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে হাজিরের নির্দেশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ভিপি নুরকে ৭ দিনের ভেতর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে হাজিরের নির্দেশ

ভিপি নুরকে ৭ দিনের ভেতর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে হাজিরের নির্দেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়ের করা মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে আগামী ৭ কর্মদিবসে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক আরেফিন আহমেদ হ্যাপি এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে ফেসবুক লাইভে আসেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। সেখানে তিনি সরকার ও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে মানুষকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এছাড়া নুরুল হক নুর নির্বাচন কমিশনকে 'বেহুদা কমিশন' এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিরোধী' ও ছাত্রলীগ নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এছাড়াও মামলার বাদি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেলের নাম উল্লেখ করেও অশালীন মন্তব্য করেন।

এই ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বাদি হয়ে একই বছর ২০ ডিসেম্বর আদালতে সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সেসময় আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সদর মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেন।

এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদন দাখিলের পর আজ শুনানিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতের বিচারক নুরুল হক নূরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন। যদি ৭ কর্মদিবসে যদি সে হাজির না হন তাহলে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হবে।

  ‘স্বপ্ন ছুঁয়েছে’ পদ্মার এপার-ওপার

;