উপকূলের বেড়িবাঁধ নির্মাণ-রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে পরিবেশ ও নাগিরক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বলেছেন, দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে জানমাল রক্ষায় সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে মনিটারিং জোরদার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। সূচনা বক্তব্য তুলে ধরেন বেসরকারী সংস্থা লিডার্সের নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল।

সেমিনারে মূল বক্তব্যে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে ১০০ ফুট, উপরে ৩০ ফুট এবং যার উচ্চতা হবে ৩০ ফুট। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষনের জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ওয়াপদা বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে চিংড়ি বা কাঁকড়ার ঘের তৈরিতে সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি উপকূলের উন্নয়নে পৃথক বোর্ড গঠনের সুপারিশ করা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিনিধিবৃন্দ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে বেড়িবাঁধের ওপর। বাঁধের ক্ষতি হলে তাদের সবকিছু ভেসে যায়। বাড়িঘর নষ্ট ও ফসলের ক্ষতি হয়। তাই ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে জরুরি খাবার না দিয়ে, বাঁধটা শক্ত করে বানিয়ে দেওয়ার দাবিটাই প্রধান। জনগণ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ওই বাঁধ করতে হবে। বাঁধ শুধু নির্মাণের পর বাঁধের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ ও বাঁধের দুপাশে বনায়ন করতে হবে। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, দাতা সংস্থা কেএনএইচ-জার্মানির কর্মসূচী সমন্বয়কারী মনিরুজ্জামান মুকুল, নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল, বিএমএ’র দপ্তর সম্পাদক প্রফেসর ডা. শেখ মো. শহিদুল্লাহ, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক পলাশ আহসান, প্রকৌশলীদের নেতা ইজ্ঞিনিয়ার প্রেম কুমার মণ্ডল, সাতক্ষীরার নাগরিক নেতা আবুল কালাম আজাদ, স্কাস চেয়ারম্যান জেসমিন প্রেমা, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক স্বপন খন্দকার, মংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূর আলম, পরিবেশ সুক্ষায় উপকূলীয় জোট খুলনার সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন বিপ্লব, ভোলার সাংবাদিক নেতা অমিতাভ অপু, ঢাকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ মুয়াজ, বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের জান্নাতুল মাওয়া, ফেইথ ইন অ্যাকশনের নৃপেন বৈদ্য, জলবায়ু আন্দোলনের নেতা শাহীন বিল্লাহ প্রমুখ।

পঞ্চগড়ে ট্রাক্টর চাপায় শিশুর মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় রাজন (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের চরকডাঙ্গি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, নিহত শিশু রাজন একই এলাকার হবিবর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে চরকডাঙ্গি গ্রামের বাড়ি থেকে বেশ দূরে কয়েকজন শিশুর সাথে খেলা করছিল। এদিকে একটি ট্রাক্টর পাশের একটি জমি থেকে মাটি লোড করে নিয়ে যাচ্ছিল। একসময় খেলার ছলে বল ট্রাক্টরের সামনে চলে আসে। এসময় শিশু রাজন বলটি নিতে গেলে মাটিবাহী ট্রাক্টরের নিচে পড়ে। ট্রাক্টরের চাপায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। এসময় স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। পরে চেয়েরম্যান ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক ইসলাম ট্রাক্টর চাপায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

;

ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস আজ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস আজ

ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস আজ

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাকিস্তানী হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত হয়। ঠাকুরগাঁও তখন মহকুমা ছিল। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় জেলার ১০টি থানা মিলে ওই মহকুমা ছিল। এ অঞ্চলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে নভেম্বরের শেষ দিক থেকেই পিছু হটতে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয় আসে আজকের এই দিনটিতে।

আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের কার্যালয় চত্বর হতে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়ে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম বিডি হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাক হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সহজ সরল মানুষের ওপর। এ সময় হানাদাররা গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠণ ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এরপর ১৫ই এপ্রিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকবাহিনীর দখলে চলে যায় ঠাকুরগাঁও। আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে পরিচিত ঠাকুরগাঁওয়ের ইসলামনগর থেকে ছাত্রনেতা আহাম্মদ আলী, ইয়াকুব আলী, মাজারুল, দবিরুল ইসলাম, নুরুজ্জামান ও সিরাজউদ্দীনকে ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনী ঠাকুরগাঁও ক্যাম্পে আটক করে রাখে। পরে তাদের হত্যা করে টাঙ্গন নদীর পারে ফেলে রাখা হয়। যেখানে বর্তমানে বধ্যভুমি গড়ে তোলা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও তখন ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এম খাদেমুল বাশার। এ সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শক্রমুক্ত হয়। পঞ্চগড় হাত ছাড়া হওয়ার পর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর তারা প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁওয়ে। ২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচুর গোলাগুলি শুরু হয়। ওই রাতেই শক্রবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর ভোররাতে ঠাকুরগাঁও শহর শক্রমুক্ত হয়।

সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধার পিতা শেখ শহর আলী ও তার ভাই শেখ বহর আলীসহ ১৯ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে এনে হত্যা করে তাদের মরদেহ আব্দুর রশিদ ডিগ্রি কলেজের পাশের একটি কূপে ফেলে দেয়। হানাদার বাহিনী ও তার দোসররা গণহত্যা চালায় সদর উপজেলার জাঠিভাঙ্গা গ্রামে। সেখানে স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় আশ-পাশের অনেক গ্রামের প্রায় তিন হাজার নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে এনে পাকবাহিনী গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পরে তাদের মরদেহ মাটি চাপা দেয়া হয়।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক স্থানে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী ও তার দোসররা। এরই মধ্যে সুসংগঠিত হতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিকামি মানুষ। তারা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তুলে দুর্বার প্রতিরোধ।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকবাহিনীর পতনের পর এ এলাকার সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে মুক্তির উল্লাস। আনন্দ উদ্বেলিত কন্ঠে ‘জয়বাংলা’ ধ্বনি আর হাতে প্রিয় স্বদেশের পতাকা নিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে তরুণ-যুবক সবাই। এদিন সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও শহরসহ জনপদ ও লোকালয়ে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বের হয় আনন্দের মিছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও শহর।

মুক্তিযোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মজিদ বলেন, এই বধ্যভূমি ১৯৭১ সালে ২৩ এপ্রিল ১৮নং শুকানপুরী ইউনিয়নে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার লোককে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা করে। আমাদের এই শুকানপুকুরী বধ্যভূমি সংরক্ষণ করার দাবি জানাচ্ছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মাহবুবুব রহমান বলেন, জেলার বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া আমরা ঠাকুরগাঁওবাসী ৩ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত যথাযথ মর্যাদায় পালন করেছি।

;

আগামী নির্বাচনে খেলা হবে হাওয়া ভবন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে: কাদের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
আগামী নির্বাচনে খেলা হবে হাওয়া ভবন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে: কাদের

আগামী নির্বাচনে খেলা হবে হাওয়া ভবন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে: কাদের

  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন হুমকি দিয়ে এই সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। আগামী নির্বাচনে খেলা হবে হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। খেলা হবে লুটপাটের বিরুদ্ধে, খেলা হবে এই ডিসেম্বর বিজয়ের মাসে। আন্দোলন হলে রাজপথ, জনপদ, শহর, পাড়া-মহল্লায় ইউনিয়নে ও জেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিবে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমণ হবে কী না তা সময়ই বলে দেবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তায় কয়দিন থাকবে তা আমরা জানি না, তবে রাজপথ আমাদের দখলে থাকবে। কারণ আমরা আকাশ থেকে পড়েনি, জনগণের মাঝে থেকে আমরা এসেছি।

তিনি আরও বলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে রহস্য পুরুষ কামাল হোসেন ও তারেক রহমানসহ সবার অর্থের উৎস খোঁজা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের মাস্টার মাইন্ড তার ছেলে হাওয়া ভবনের যুবরাজ ২১ আগস্টের প্রধান নায়ক।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন মধ্যে দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের পরপরই প্রধান অতিথির বক্তব্য ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত রয়েছেন- দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম এমপি, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সংস্কৃতি সম্পাদক বাবু অসীম কুমার উকিল এমপি, সদস্য মারুফা আক্তার পপি, রেমন্ড আরেং প্রমুখ।

;

অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে ওষুধ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে ওষুধ

অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে ওষুধ

  • Font increase
  • Font Decrease

 

অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা ধরে রাখতে খুচরা বিক্রি বন্ধ করতে হবে। দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে ওষুধের কার্যকারিতা হারাচ্ছে। ফলে ওষুধ সেবন করেও রোগ সারছে না। এটি রোধ করতে অ্যান্টিবায়োটিকের খুচরা বিক্রি বন্ধ করা জরুরি। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সমস্যা : প্রতিরোধ করি সবাই মিলে’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স (ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু) সমস্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে। মূলত বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে এসব ওষুধ প্রয়োজনীয় কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই স্বল্প তীব্রতার অসুস্থতাতেও প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক রোগী। এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের খামারসহ বিভিন্ন খাদ্যে নানাভাবে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধের যথেচ্ছ প্রয়োগেও মানবদেহে নানা ধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রবেশ করছে। যা সঠিকভাবে নির্ণয় করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, দেশের মানুষ জ্বর হলেই সাধারণ ওষুধের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট ২-৩টা নিয়ে যাচ্ছে। এটি মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের বড় কারণ। এ জন্য নিয়ম করা প্রয়োজন-কেউ অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে ফুল ডোজ কিনতে হবে, না হয় কেনা যাবে না।

তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে আইন প্রয়োজন, সঙ্গে আইন প্রয়োগকারীও প্রয়োজন। দেখা যায়, ওষুধ কোম্পানি ডাক্তারকে সুবিধা দিচ্ছে, সঙ্গে কোয়াকদেরও দিচ্ছে। আমরা ডাক্তারদের বন্ধ করলেও কোয়াককে আইনের আওতায় আনা যাবে না। এজন্য শুধু আইন দিয়েও ব্যবস্থা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যে স্ট্যান্ডার্ড মেনে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা ঠিক হচ্ছে কি না সেটিও একটি বড় ইস্যু। আমরা যদি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে আমাদের অপারেশন থিয়েটার, রোগীর বিছানা থেকে সংক্রামিত হওয়ার কথা না। এর কারণ রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। অপারেশনের যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত না করে বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু সেটি এখানে হচ্ছে। আমাদের রোগী বেশি, হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা কম।

ইউএসএআইডি’র গ্লোবাল হেলথ সিকিউরিটি এজেন্ডা (জিএইচএসএ) স্পেশালিস্ট ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স সমস্যা সারাবিশ্বে এতটাই বেড়েছে যে, জাতিসংঘ ২০১৬ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে সন্নিবেশিত করেছে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী একত্রে কাজ করার জন্য ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্স’ গঠিত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাইক্রোবায়োলজি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা, ওষুধ প্রশাসন আধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. সালাউদ্দিন, আইইডিসিআর-এর চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন হাবিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, ফ্লেমিং ফান্ড কান্ট্রি গ্র্যান্ট বাংলাদেশ এর টিম লিড অধ্যাপক নীতিশ দেবনাথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল অফিসার মোহাম্মাদ রামজি ইসমাইলম, ইউএসএইআইডির এমট্যাপ্স প্রোগ্রামের কান্ট্রি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল্লাহ, এমট্যাপ্স প্রোগ্রামের টিম লিড ডা. এসএম জাহিদ প্রমুখ।

;