এখন থেকে ইউপি নির্বাচনেও প্রার্থীদের হলফনামা দিতে হবে: হাইকোর্ট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও প্রার্থীদের সাতটি তথ্য সম্বলিত হলফনামা দাখিল করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। রায়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধতা ঘোষণা করেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম এবং আইনজীবী মো. জাহেদ উল আনোয়ার।

শুনানি শেষে আইনজীবী এম এস আজম বলেন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বক্তপুর ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী ফারুকুল আজমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তিনি ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে রিট করেন। রিটের পর হাইকোর্ট ওই বছর ৩১ অক্টোবর ফারুকুল আজমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তাকে প্রতীক বরাদ্দেরও নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে অপর প্রার্থী আপিল করলে আদালত আপিল স্থগিত করে ওই বছর ৬ মার্চ রুলটি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল যথাযথ বলে ঘোষণা দেন। ফলে ফারুকুল আজমের প্রার্থিতা বৈধ আছে। আদালত ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অন্যান্য নির্বাচনে নমিনেশন পেপারের সঙ্গে সাতটি তথ্য সম্বলিত হলফনামা দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হলফনামা দেওয়া হয় না। যদিও ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯-এর ২৬ (৩) এ হলফনামা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিতে শুধুমাত্র প্রত্যায়নপত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হলফনামা দেওয়ার কথা নেই।

তিনি বলেন, আদালত বলেছেন যেহেতু বিধিমালার ওপরে আইন প্রাধান্য পাবে; সে কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল করতে হবে। এরপর থেকে সব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল করতে হবে। ফলে এখন থেকে সব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলাদা ফরমে হলফনামার তথ্য দাখিল করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

বিএনপি নেতা শিমুল বিশ্বাস-সালাউদ্দিন টুকুর জামিন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি মো. শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন দেন। একই সঙ্গে তার নিয়মিত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে শিমুল বিশ্বাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। টুকুর পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও জহিরুল ইসলাম সুমন। জামিন আদেশের ফলে শিমুল ও টুকুর মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানান তাদের আইনজীবীরা।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশের ওপর হামলা, হামলায় পরিকল্পনা ও উসকানির অভিযোগে ৮ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলায় করে পুলিশ।

;

জাপানি মায়ের কাছেই থাকবে ২ শিশু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

জাপানি মা নাকানো এরিকোর জিম্মায় দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসাথে মেয়েদের নিয়ে জাপান যেতে পারবেন মা। এছাড়া বাবা ইমরান শরীফ যে মামলা করেছিলেন তা খারিজ করে দেন আদালত।

নাবালিকা দুই শিশু কোথায় থাকলে কল্যাণ হবে সে দিক বিবেচনায় রেখে এ রায় দেয়া হয়। রোববার দুপুরে রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান।

এর আগে ২২ জানুয়ারি দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন একই আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রায় দেয়া হলো। তারও আগে ১৫ জানুয়ারি তাদের বক্তব্য শুনে তা রেকর্ড করেন আদালত।

২০০৮ সালে জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকোর সাথে বাংলাদেশী প্রকৌশলী ইমরান শরীফের বিয়ে হয়। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২০ সালের শুরুতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এরিকো। এরপর ইমরান স্কুলপড়ুয়া বড় দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। আর ছোট মেয়ে থেকে যান জাপানে মা এরিকোর সাথে।

তবে ওই দুই মেয়েকে জিম্মায় পেতে মহামারীর মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আসেন এ জাপানি নারী। তিনি হাইকোর্টে রিট করলে তাদের সমঝোতায় আসতে বলেন বিচারক। তবে ওই দম্পতি সমঝোতায় না আসায় কয়েক মাস ধরে শুনানির পর হাইকোর্ট দুই সন্তানকে বাবার হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত দেন। পাশাপাশি মা যাতে সন্তানদের সাথে দেখা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাবাকে খরচ দিতে বলা হয়।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নাকানো এরিকো। পরে আপিল বিভাগ এক আদেশে শিশু দুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিলেও বাবা তা না মানায় বিচারকরা উষ্মা প্রকাশ করেন। পরে আদালত শিশু দুটিকে বাবার হেফাজত থেকে এনে তাদের সাথে কথা বলেন এবং পরে মায়ের হেফাজতে দেয়ার আদেশ দেন।


এরপর এই দুই মেয়ে কার জিম্মায় থাকবে তার নিষ্পত্তি পারিবারিক আদালতে হবে এবং তার আগ পর্যন্ত দুই শিশু তাদের মায়ের কাছেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি এই আদেশ দেয়া হয়। এরপর আপিল বিভাগ থেকে মামলাটি পারিবারিক আদালতে যায়।

এসব ঘটনার মধ্যে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাতে দুই সন্তান নিয়ে জাপানে যাওয়ার জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান এরিকো নাকানো। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাকে বিমানবন্দর থেকে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর দুই সন্তানের বাবা ইমরান শরিফ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

;

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়া শহরের মোস্তাফিজুর রহমান কর্নেলকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরের কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর ঝাউতলা এলাকার ইউসুফ হোসেন ওরফে মুক্তারের ছেলে পারভেজ হোসাইন ওরফে সৌরভ, পূর্ব মজমপুর খন্দকার বাড়ি এলাকার খন্দকার হামিদুজ্জামান মলিনের ছেলে খন্দকার মিহিরুজ্জামান ও কুমারখালী উপজেলার বাড়াদি বানিয়াপাড়া এলাকার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে সাজ্জাদুল বারী সবুজ।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পরই তাদের পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় নাঈমুর সাদিক পার্থ নামে এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতা ও প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে কুষ্টিয়া শহরের কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের মন্ডল ফিলিং স্টেশনের উত্তর পাশে মাঠে মোস্তাফিজুর রহমান কর্নেলকে কুপিয়ে হত্যা করেন আসামিরা। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসাদুর রহমান বাবু বাদী আসামিদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত মোস্তাফিজুর রহমান কর্নেল পূর্বমজমপুর এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৯ জুন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, পূর্বশত্রুতা ও প্রেমঘটিত বিষয়ের জেরে হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার অপর এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

;

হাইকোর্টের রায়ে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হাইকোর্টের রায়ে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি

হাইকোর্টের রায়ে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি

  • Font increase
  • Font Decrease

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব ধরনের ফরম পূরণে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মাকেও স্বীকৃতি দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার লিপি ও অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মা স্বীকৃতি পাবেন কিনা—এ বিষয়ে শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

রায়ের পর অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, পিতৃপরিচয়হীন সন্তান, যৌনকর্মীদের সন্তান যাদের বাবার পরিচয় নেই, তারা শুধু মায়ের নাম দিয়েই ফরম পূরণ করতে পারবেন। সংবিধানে সমতার কারণে বাবা অথবা মায়ের পরিচয় থাকলেই যে কোনো ফরম পূরণ বা রেজিস্ট্রেশন পূরণ করার অধিকার পাবে।

অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার বলেন, আজকের রায়ের ফলে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ, পাসপোর্টের ফরম পূরণসহ সব ফরম পূরণে বাবা অথবা মা অথবা আইনগত অভিভাবকের নাম লেখা যাবে। এই রায়ের ফলে বাবা-মায়ের উভয়ের নাম লেখার বাধ্যবাধকতা থাকল না। শুধু মায়ের নাম লিখেও ফরম পূরণ করা যাবে।

;