বিশ্বের বিখ্যাত চার মসজিদ



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বিশ্বের বিখ্যাত চার মসজিদ

বিশ্বের বিখ্যাত চার মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

মসজিদ আল্লাহর ঘর। ‘বায়তুল্লাহ’ তথা আল্লাহর পবিত্র ঘর হিসেবে যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তা পৃথিবীতে মানবেতিহাসের প্রথম গৃহ হিসেবে পরিচিত। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে বিশ্বমানবতার জন্য নির্মিত প্রথম গৃহ যেটি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত এবং এই গৃহ হচ্ছে সমগ্র পৃথিবীর জন্য বরকতমণ্ডিত ও সঠিক পথনির্দেশনার অনন্য নিদর্শন।’ সেই পবিত্র গৃহটির নামই হচ্ছে- কাবা শরিফ। পবিত্র কাবার অবস্থান ও মর্যাদা সম্বন্ধে নাজিলকৃত এ আয়াতে কারিমায় মহিমান্বিত এ গৃহের তাৎপর্য ও কার্যকারিতা স্পষ্টভাবেই বিবৃত হয়েছে; যাতে কাবা শরিফ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ও কর্মপরিধি বিষয়ে আমরা সম্যক অবহিত হতে পারি।

পৃথিবীর সব মসজিদই পবিত্র কাবার অনুসরণে ও একই কার্যপ্রণালির আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। অর্থাৎ মহামহিম প্রভুর ইবাদতের জন্যই মসজিদের সৃষ্টি; পরম স্রষ্টার সুনির্ধারিত অন্যতম হুকুম নামাজ আদায়সহ নানাবিধ ইবাদতের মাধ্যমে আবাদ করাটাই বান্দার কাছে মসজিদের চাওয়া।

‘মসজিদ’ মানে সেজদার জায়গা; যেখানে মহান রবের উদ্দেশে তারই সন্তুষ্টি বিধানের জন্য তাকে ভক্তিভরে সেজদা করা হয় সেটিই মসজিদ। সে অর্থে উম্মতে মোহাম্মদির জন্য গোটা জমিনটাকেই মহান আল্লাহ মসজিদরূপে ছাড়পত্র দিয়েছেন; আর এটি নিঃসন্দেহে তারই প্রেরিত রাসুল (সা.)-এর বরকত! কবির ভাষায়, ‘বিশ্বমানবতার করুণার মূর্তপ্রতীক মহানবী (সা.)-এর শুভাগমনের ফলে মহান আল্লাহ সমগ্র ভূমণ্ডলকেই মসজিদে পরিণত করেছেন।’

দুনিয়ার মুসলমানরা যখনই নামাজের সময় হবে পবিত্র জমিন দেখে সেখানেই নামাজ আদায় করে নিতে পারবে। তার পরেও সুনির্দিষ্ট স্থাপত্য-কাঠামোর আঙ্গিকে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। আর সেই নির্মিত স্থাপনা শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মসজিদ থেকেই সমাজ সংস্কারের নানা কর্মসূচি প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয়। বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অসংখ্য মসজিদ। আজ এমনই তিনটি মসজিদ নিয়ে আলোচনা করা হলো-

খলিফা আল তাজির মসজিদ, দুবাই

 

খলিফা আল তাজির মসজিদ, দুবাই
এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দেইরাতে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ। দুবাইয়ের বন্দর সাঈদ এলাকায় স্থাপিত এই মসজিদ ২০১৪ সালে নামমাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়। খলিফা আল তাজির এই মসজিদ নির্মাণের জন্য ২০ মিলিয়ন দিনার দান করেন। তার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ করা হয়। ৪৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মিত এই মসজিদে তিন হাজার ৫০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

দ্বিতলবিশিষ্ট মসজিদটিতে নারীদেরসহ তিনটি নামাজের স্থান আছে। এখানে ৬০০ নারী একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। তা ছাড়া মসজিদ এলাকায় ইমাম, মোয়াজ্জিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মসজিদের বাইরে বিশাল কার পার্কিং ও উন্মুক্ত সবুজ চত্বর মসজিদের শোভাকে বৃদ্ধি করেছে। আল তাজির মসজিদের দু’টি মিনারের প্রতিটির উচ্চতা ২৫ মিটার। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার যথাক্রমে ২০ ও ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। এ জন্য মসজিদে লাগানো হয়েছে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এলইডি বাতি ও সোলার প্যানেল। দিনে স্বাভাবিক আলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য মসজিদের সব জায়গায় ‘ডেলাইট সেন্সর’ বসানো হয়েছে। সব মিলে এটি একটি সর্বাধুনিক আদর্শ মসজিদ।

মসজিদ আল জিকরা, ইন্দোনেশিয়া

 

মসজিদ আল জিকরা, ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পাহাড়ি শহর সেনটুলে আল জিকরা মসজিদ অবস্থিত। এই মসজিদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, নির্মাণসামগ্রী, ভবনের অভ্যন্তরস্থ স্বাস্থ্য পরিবেশ সবই পরিবেশবান্ধব কৌশলে স্থাপিত হয়েছে। মসজিদটির উচ্চতা ও বায়ুচলাচল ব্যবস্থার কারণে সতেজ বায়ু সহজে ভেতরে প্রবেশ করে এবং আলো ও শীতাতপের জন্য বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- পানির পুনর্ব্যবহারোপযোগী ব্যবস্থা। এতে পানির অপচয় যেমন কমেছে, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারও হ্রাস পেয়েছে।

মসজিদের বাইরে ৪০ শতাংশ এলাকা উন্মুক্ত এবং সবুজ ঘাসে ঢাকা। এতে মসজিদের শোভা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পরিবেশ দূষণ কমেছে অনেকাংশে। পরিবেশবান্ধব এই মসজিদের উদ্যোক্তা হাইউ প্রাভোউ। মসজিদটি নির্মাণের পর ২০১৭ সালে নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এর উদ্বোধনকালে ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশে ২০২০ সালের মধ্যে আরও এক হাজার পরিবেশবান্ধব মসজিদ নির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ডিজনি বড় মসজিদ, মালি

 

ডিজনি বড় মসজিদ, মালি
মালির ডিজনি মসজিদ আফ্রিকার একটি বিস্ময়। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বৃহত্তম মাটির তৈরি মসজিদ। মসজিদটি মাটি ও গাছের ডাল দিয়ে নির্মিত। এটি হাতে তৈরি মাটির মসজিদ হওয়ায় পরিবেশ দূষণের পরিমাণ এখানে প্রায় শূন্য। স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত ১০ ফুট উচ্চতার এই মসজিদের ভিত্তি মাটির তৈরি। মসজিদের দেয়াল মাটি, বালু, ধানের তুষ এবং পানির মিশ্রণে তৈরি ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর এতে সেঁটে দেওয়া হয়েছে কাঠ। মসজিদে তিনটি মিনার আছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ডিজনি বড় মসজিদটি তিনবারে নির্মিত হয়ে বর্তমান অবস্থায় এসেছে। ডিজনির ২৬তম মুসলিম শাসক কওই কুনবরো ১৩ শতকে প্রথমবার এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদটি একটি নদীর তীরে অবস্থিত। ষোলো শতকে এক প্রলয়ঙ্করী বন্যায় ডিজনি শহরসহ বড় মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। তখন মসজিদটি দ্বিতীয়বারের মতো পুনর্নির্মাণ করা হয়। তৃতীয়বার বর্তমান মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯০৭ সালে।

কেমব্রিজ কেন্দ্রীয় মসজিদ, যুক্তরাজ্য

 

কেমব্রিজ কেন্দ্রীয় মসজিদ, যুক্তরাজ্য
এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় পরিবেশবান্ধব মসজিদ। কেমব্রিজ শহরের রোমসি এলাকার মিল রোডে স্থাপিত এই মসজিদ ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল জনসাধারণের নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের লেকচারার ড. টিমোথি উন্টার ২০০৮ সালে এই মসজিদ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং এর জন্য তহবিল জোগাড় করার চেষ্টা চালান। ২০০৯ সালে চার মিলিয়ন ইউরো খরচ করে মসজিদের জন্য এক একর জায়গা ক্রয় করা হয়।

স্থাপত্য প্রকৌশলী মার্কস বারফিল্ড, প্রফেসর কেইথ ক্রিটিচলো এবং প্রখ্যাত ইসলামিক গার্ডেন ডিজাইনার ইমমা ক্লার্ক মিলে মসজিদের ডিজাইন তৈরি করেন। অপূর্ব সুন্দর এই মসজিদে এক হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। তা ছাড়া মসজিদে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য আলাদা একটি জায়গা আছে। রয়েছে শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা। মসজিদে স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এবং অন্যান্য শক্তি ক্ষয়রোধক ব্যবস্থা। এলইডি বাতিসহ মসজিদের ছাদে বৃষ্টির পানির জলাধার এবং পানির পুনর্ব্যবহারোপযোগী প্রযুক্তিও এতে সংযুক্ত হয়েছে। এর অনবদ্য নির্মাণশৈলীর কারণে বছরজুড়ে সূর্যের আলো মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। সব মিলিয়ে এটি ইউরোপের একটি বিরল পরিবেশবান্ধব মসজিদ। প্রতিনিয়ত অনেক পর্যটক এই অসাধারণ মসজিদটি দেখার জন্য ভিড় করেন।

বেসরকারিভাবে হজে যেতে লাগবে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারিভাবে চলতি বছর হজে যেতে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা লাগবে বলে ঘোষণা করেছে হজ্জ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ( হাব)।  এর আগে গতকাল সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে  ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা লাগবে বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারিভাবে হজ প্যাকেজ-২০২৩ ঘোষণা করেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন,'ঘোষিত প্যাকেজের” এর হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরীফের বাহিরের চতুরের সীমানার সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটার দুরত্বে আবাসনের

ব্যবস্থা করা হবে।  কোন এয়ারলাইন্স এ বছর Dedicated ফ্লাইট ব্যতিত সিডিউল ফ্লাইটে কোন হজযাত্রী বহন করতে পারবে না। প্যাকেজ ঘোষণার পর রাজকীয় সৌদি সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত কোন ফি আরোপ করা হলে তা প্যাকেজ মুল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখ থেকে বেসরকারি হজযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হবে।  প্রত্যেক হজযাত্রী হজ প্যাকেজের অন্তর্ভূক্ত সুযোগ সুবিধার বিষয়ে অবগত হয়ে এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হবেন।  হজযাত্রীগণ তাদের হজ প্যাকেজের সমুদয় অর্থ শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির ব্যাংক একাউন্ট অথবা সরাসরি এজেন্সিতে জমা দিয়ে মানি রশিদ সংরক্ষণ করবেন। কোনক্রমেই মধ্যস্বত্বভোগীদের নিকট কোন প্রকার লেনদেন করবেন না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রী হজ প্যাকেজের সমুদয় অর্থ আগামী ১৫ মার্চ ২০২৩ তারিখের মধ্যে অবশ্যই স্ব-স্ব এজেন্সীর ব্যাংক হিসাবে জমা করে অথবা এজেন্সির অফিসে জমা দিয়ে মানি রিসিট গ্রহণ করবেন।

তসলিম বলেন, হজযাত্রীদেরকে নিজ উদ্যোগে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। যার মেয়াদ ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত থাকতে হবে। পাসপোর্ট করার জন্য আবেদন করার সময় হজযাত্রীকে প্রাক-নিবন্ধনে ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর/জন্মনিবন্ধনের নম্বর হুবহু লিপিবদ্ধ করতে হবে। সৌদি ভিসা লজমেন্টে জটিলতা দূর করার জন্য পূর্ণাঙ্গ নামে পাসপোর্ট করতে হবে। পাসপোর্টের তথ্য পাতা স্ট্যাপলার পিন দিয়ে গাঁথা যাবে না বা অন্য কোনভাবে ছিদ্র করা যাবে না। হজযাত্রীর বয়সসীমা: এ বছর ৬৫ বা তদুর্ধ বয়সের হজগমণেচ্ছুগণও পবিত্র হজে গমণ করতে পারবেন।  কোরবানী খরচ প্রত্যেক হজযাত্রীকে পৃথকভাবে নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে। হজযাত্রীগণকে সৌদি আরবে সবসময় গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

প্লেন ভাড়া নিয়ে হাব সভাপতি বলেন, যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও কম হওয়া উচিত ছিল, আরও সহনীয় পর্যায়ে থাকা উচিত ছিল। আমি মনে করি হজ যাত্রীদের প্লেন ভাড়া নির্ধারণ করার এখতিয়ার যদি শুধু উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে, তারা বাণিজ্যিক সংগঠন, তারা নিজেরাই যদি নিজেদের ভাড়া নির্ধারণ করে- তাহলে এটা ন্যায় হলো না। টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে প্লেন ভাড়া নির্ধারণ করলে আরও কম হতো। আমি প্রস্তাব করেছি যে এ বছর ডেডিকেটেড ফ্লাইট ছাড়া হজযাত্রী বহন করতে পারবে না। তা সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে গত ৯ জানুয়ারি সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন।

এ বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে গমনকারী শতভাগ হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন 'মক্কা রোড চুক্তি' অনুযায়ী  বিমানবন্দরেই অনুষ্ঠিত হবে।

;

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে জনপ্রতি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় সরকারিভাবে এ হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদুল হক খান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে যেতে পারবেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ করার সুযোগ পাবেন।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুন হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যেতে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর জন্য ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

;

'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস‘ রজব



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী জীবনধারা ও সংস্কৃতিতে রজব মাসের ফজিলত অপরিসীম, মর্যাদা অতুলনীয়। রজব মাস হলো আমলের মৌসুম এবং রমজানের প্রস্তুতিকাল। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অশেষ দয়া ও করুণায় মুসলিম উম্মাহর সামনে হিজরি ১৪৪৪ সনের পবিত্র রজব মাসের সূচনা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’, যার অর্থ 'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস'। রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’। আর রজব মাসের পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’।

রজব মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসের উল্লেখ সর্বজনবিদিত। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

রজব মাসের মর্যাদার আরও মর্যাদা এজন্য যে, এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)

রজব মাস মুসলমানদের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের অধিকতর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে এই দোয়া পড়তেন, যা তিনি তাঁর উম্মতকেও শিখিয়েছেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলিত একটি মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের রমজানের জন্য প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উল্লেখিত হয়েছে।

রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)

রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। রজব মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি।

সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের কর্তব্য, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। যথাযথ আমল করা। পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

;

পবিত্র শবে মেরাজ ১৮ ফেব্রুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) শুরু হবে হিজরি সনের রজব মাস। সেই অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস শুরু হবে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মিরাজ উদযাপিত হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

ফারসি ‘শব’ এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’ এর অর্থ- ঊর্ধ্বারোহণ। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন।

;